৪. কৃষককে শুধু তার নিজের শ্রমের উপর নির্ভর করলে চলে না এবং যদি সে তা করে তাহলে আমি বলব যে সে এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার কাজ হওয়া উচিত সমগ্র ব্যাপারটির উপর সাধারণভাবে নজর রাখা, ঝাড়াই যে করছে তার উপর চোখ রাখতে হবে, অন্যথায় আ-ঝাড়া শস্য থেকে গিয়ে সে মজুরির দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যারা নিড়েন দিচ্ছে ধান কাটছে, ইত্যাদি তাদের উপরেও নজব রাখতে হয়। তাকে সর্বদা বেড়ার চারধারে ঘুরে বেড়াতে হয়। তাকে দেখতে হয় যে কোথাও কোন গাফিলতি হচ্ছে কি না। যদি সে কোন একটি বিশেষ জায়গায় আটক থাকে তাহলে এইসব আর করা যায় না। (“খাদ্যদ্রব্যের বর্তমান দাম এবং কৃষি প্রতিষ্ঠানের আয়তনের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে একটি তদন্ত, রচয়িতা একজন কৃষক। লণ্ডন, ১৭৭৩, পৃ: ১২)। এই পুস্তকটি খুবই চমকপ্রদ। এতে “ধনিক কৃষক অথবা ‘ৰণিক কৃষক” এইভাবেই স্পষ্টত যাদের অ্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এদের জন্মবৃত্তান্ত আলোচনা করা হয়েছে এবং যে ছোট কৃষক শুধুমাত্র নিজের ভরণ-পোষণের জন্য কাজ করে তার তুলনায় এই নূতন কৃষক আত্মগরিমা ফলিয়েছেন। ধনিকের শেষ পর্যন্ত শ্রেণীগতভাবে কায়িক পরিশ্রমের প্রয়োজন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হন।” ( টেস্ট বুক অব লেকচার্স অন দি পলিটিক্যাল ইকনমি অব নেশনস—লেখক রিচার্ড জন, হাডফোট ১৮৫২ লেকচার ৩য়—পৃঃ ৩৯)
৫. আধুনিক বসায়ন-বিজ্ঞানের মলিকিউলার তত্ত্বকে সর্বপ্রথম বৈজ্ঞানিক রূপ দেন লরেন্ট ও গেরহাড’ আর এই তত্ত্বটি উক্ত নিয়মের উপরেই প্রতিষ্ঠিত। তৃতীয় সংস্করণের সংযোজন। যারা রসায়ন বিজ্ঞানে অনভিজ্ঞ তাদের কাছে এ বিষয়টা বোধগম্য নয়; তাই আমি দু-একটা কথা যোগ করে দিচ্ছি। এখানে লেখক উল্লেখ করেছেন ‘homologous series of carbon compounds’ সম্পর্কে। যে নামকরণ ১৮৪৩ সালে গেরহাই প্রথমে করেন, প্রত্যেক সারি যৌগিক পদার্থের নিজস্ব সাধারণ বীজগণিতের সূত্র আছে। এইভাবে প্যারাফিন্ জাতীয় যৌগিক পদার্থগুলি : CNAN+২; স্বাভাবিক অ্যালকোহলগুলি CNHN+২০; সাধারণ ফ্যাটি অ্যাসিডগুলি CNHNO এবং অন্য আরও অনেক। উল্লিখিত দৃষ্টান্তগুলিতে পরমাণগতভাবে মলিকিউলার সূত্রের সঙ্গে শুধু CHংকৈ যোগ করলে প্রতিবারই গুণগতভাবে একটি পৃথক পদার্থ দেখা দেয। লরেন্ট ও গেরহাড়ের এই গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব নির্ধারণে যে ভূমিকা (মার্কস একটু বাড়িয়ে দেখেছেন, সে সম্পর্কে দ্রষ্টব্য : kopp, “Entwicklung der chemie,” Munchen 1873 পৃ: ৭০৯, ৭০৬ ) 47 Schorlemmer” The Rise and Devlopment of Organic Chemis try, Lond. 1879. পৃঃ ৫৪ –ফ্রেরিক এঙ্গেলস।
৬. মার্টিন লুথার এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের নাম দেন “কোম্পানি মনোপলিয়া” (একচেটিয়া কোম্পানি)। কারখানা পরিদর্শকের রিপোর্ট, ৩০শে এপ্রিল, ১৮৪৯, পৃঃ ৫৯
৭. কারখানা পরিদর্শকের রিপোর্ট পৃ: ৬০। কারখানা পরিদর্শক স্টয়ার্ট নিজে একজন স্কচ এবং ইংরেজ পরিদর্শকের থেকে পৃথক। ধনতান্ত্রিক চিন্তাজালে বন্দী হয়ে তিনি এই চিঠি সম্পর্কে তার রিপোর্টে মন্তব্য করেন যে “পালাপ্রথা চালু আছে। এমন কারখানার মালিকদের কাছ থেকে যত চিঠি পাওয়া গেছে এটি হচ্ছে সেগুলির মধ্যে সবচেয়ে দরকারি যারা ঐ একই ব্যবসা চালান তাদের মন থেকে শ্রমের ঘণ্টা পুনর্বিন্যাস সম্পর্কিত কুসংস্কার কাটিয়ে দেবার পক্ষে এটাই সবচেয়ে উপযোগী।
১২. আপেক্ষিক উদ্বৃত্তমূল্যের ধারণা
চতুর্থ বিভাগ — আপেক্ষিক উদ্বৃত্ত-মূল্যের উৎপাদন
দ্বাদশ অধ্যায় — আপেক্ষিক উদ্বৃত্তমূল্যের ধারণা
শ্রম-দিবসের যে-অংশটি কেবল ততটা মূল্যই উৎপাদন করে, যতটা মূল্য ধনিক তার শ্রমশক্তির জন্য দিয়ে থাকে, সেই অংশটিকে এই পর্যন্ত আমরা একটা স্থির রাশি বলেই গণ্য করে এসেছি এবং উৎপাদনের বিশেষ অবস্থায় ও সমাজের অর্থ নৈতিক বিকাশের এক বিশেষ পর্যায়ে ব্যাপারটা বাস্তবিকই তাই থাকে। আমরা দেখেছি, এম দিবসের এই অংশটির অতিরিক্ত তথা তার আবশ্যিক শ্রম-সময়ের অতিরিক্ত, শ্রমিক ২, ৩, ৪, ৬ কিংবা আরো বেশি ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে পারে। উত্তমূল্যের হার ও শ্রম-দিবসের দৈর্ঘ্য নির্ভর করে কাজের ঘন্টা কতটা দীর্ঘতর করা যায়, তার উপরে। আমরা দেখেছি আবশ্যিক শ্রম-সময় স্থির রেখেও কিন্তু সমগ্ৰ শ্ৰম-দিবসের দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করা যায়। এখন ধরা যাক, আমাদের সামনে আছে এমন একটি এম-দিবস যার দৈর্ঘ্য এবং আবশ্যিক শ্রম ও উত্ত-শ্রমের মধ্যে যার ভাগাভাগি সুনির্দিষ্ট। দৃষ্টান্ত হিসাবে ধরা যাক, ক গ তথা ক —গ এই গোটা লাইনটি হচ্ছে একটি ১২ ঘণ্টাব্যাপী এম-দিবসের রেখা-রূপ এবং তার মধ্যে ক অংশটি ও গ অংশটি হচ্ছে যথাক্রমে ১০ ঘণ্টাব্যাপী আবশ্যিক শ্রমের ও দু ঘণ্টাব্যাপী উওএমের রেখারূপ। এখন ক গ-কে দীর্ঘতর না করে তথা নিরপেক্ষ ভাবে উত্ত মূল্যের উৎপাদন কিভাবে বাড়ানো যেতে পারে অর্থাৎ কিভাবে উত্তমকে দীর্ঘায়িত করা যেতে পারে?
যদিও ক গ-এর দৈর্ঘ্য নির্দিষ্ট রয়েছে, তবু খ গ-কে দীর্ঘায়িত করা সম্ভব, প্রান্ত-বিন্দু গ-এর বাইরে যদি তাকে সম্প্রসারিত করা না-ও যায়, তবু সর্বক্ষেত্রেই তার সূচনা-বিন্দু থেকে এ-কে ক-এর দিকে ঠেলে পিছিয়ে দিয়ে তা করা সম্ভব। ধরা যাক, — রেখায় এখন অর্ধেক খ গ-এর সমান।
