৩৫. ‘রিপোর্ট ইত্যাদি’, ৩০শে এপ্রিল, ১৮৫৩।
৩৬. শীতকালে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এর বিকল্প হতে পারে।
৩৭, বর্তমান আইনটি (১৮৫০ সালে) একটি আপোষ-মীমাংসার ফল যাতে শ্রমিকেরা দশ ঘণ্টা আইনের সুবিধা ছেড়ে দিল এইজন্য যে, যাদের শ্রমের ঘণ্টা নির্দিষ্ট তাদের শ্রমেরও শুরু এবং শেষ যাতে একই সময়ে হয়।” ( বিপোর্ট, ইত্যাদি ৩০শে এপ্রিল, ১৮৫২ সালে, পৃঃ ১৪)।
৩৮. ‘রিপোর্ট ইত্যাদি’, সেপ্টেম্বর, ১৮৪৪, পৃঃ ১৩।
৩৯. l.c.
৪০. l.c.
৪১. রিপোর্ট ইত্যাদি, ৩১শে অক্টোবর, ১৮৪৬, পৃঃ ২০।
৪২. রিপোর্ট ইত্যাদি, ৩১শে অক্টোবর ১৮৬১, পৃ: ২৬।
৪৩. মোটামুটি কারখানা-আইনের অধীনস্থ শ্রমজীবী জনসংখ্যা শারীরিক দিক দিয়ে অনেকটা উন্নত হয়েছে। সমস্ত ডাক্তারি সাক্ষ্য প্রমাণ এই বিষয়ে একমত এবং বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত অনুসন্ধানে আমারও এই বিশ্বাস হয়েছে। তৎসত্বেও এবং জীবনের সূচনায় ভয়াবহ শিশু-মৃত্যুর হারের কথা ছেড়ে দিলেও ডাঃ গ্রীনহাউ-এর সরকারি রিপোর্ট থেকে স্বাভাবিক স্বাস্থ্য-সম্পন্ন বিভিন্ন কৃষিপ্রধান অঞ্চল-এর তুলনায় শিল্প প্রধান অঞ্চলগুলিতে স্বাস্থ্যের প্রতিকূল অবস্থা দেখা যায়। প্রমাণ স্বরূপ ১৮৬১ সালের রিপোর্ট থেকে পরপৃষ্ঠার সারণীটি দেওয়া যায় :
৪৪. সকলেই জানেন যে, ‘অবাধ ব্যবসার পুজারী’ ইংরেজ ব্যাপারীরা রেশম শিল্পের উপর প্রতিবোধ-ব্যবস্থা তুলে দেবার সময় কী রকম অনিচ্ছা দেখায়। ফরাসী পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে রক্ষাকবচের বদলে এখন কার্যকরী হল কারখানায় নিযুক্ত ইংরেজ শিশুদের রক্ষাকবচের অভাব।
৪৫. ১৮৫৯ এবং ১৮৬০ সালে ইংল্যাণ্ডের বস্ত্রশিল্প যখন শীর্ষে উঠেছে, তখন কযেকজন কারখানা-মালিক বাড়তি খাটুনির জন্য বাড়তি মজুরি লোভজনক টোপ ফেলে বয়স্ক পুরুষ শ্রমিকদের দিয়ে শ্রম-সময়ের বৃদ্ধি মানিয়ে নেবার চেষ্টা করলেন ! যন্ত্র-ব্যবহারকারী কাটুনিরা এবং অপরাপর শ্রমিকগণ মালিকদের কাছে একটি আর্জি করে এই পরীক্ষাটি শেষ করে দিলেন, আর্জিতে তারা বললেন, ‘সোজা কথা বলতে গেলে, আমাদের কাছে আমাদের জীবনযাত্রা বোঝা স্বরূপ; এবং দেশের অন্যান্য শ্রমিকদের চেয়ে যখন আমরা সপ্তাহে প্রায় দু’দিন বেশি কারখানার মধ্যে আবদ্ধ থাকি, তখন আমাদের মনে হয় যে আমরা আমাদের দেশের গোলাম এবং আমরা এমন একটি প্রথাকে স্থায়ী করছি যেটি আমাদের পক্ষে এবং ভবিষ্যৎ-বংশীয়দের পক্ষে ক্ষতিকর….. অতএব এতৎদ্বারা আপনাদের কাছে বিজ্ঞপিত করছি যে ক্রিস ও নববর্ষের ছুটির পরে যখন আমরা আবার কাজ শুরু করব; তখন আমরা সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টা কাজ করব এবং তার বেশি করব না। অথবা সকাল ছটা থেকে সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত, মাঝে দেড় ঘণ্টা ছুটি।” (রিপোর্ট ইত্যাদি, ৩০শে এপ্রিল, ১৮৬০, পৃ: ৩০)।
৪৬, এই আইনের শব্দ-বিন্যাসের মধ্যে একে লঙ্ঘনের যে সুযোগ-সুবিধাগুলি ছিল তার জন্য কারখানা নিয়ন্ত্রণ আইন (৬ই আগস্ট, ১৮৫৯) সম্পর্কে পার্লামেন্টের রিটার্ণ দেখুন, এবং এর মধ্যে বিশেষ করে লির্ড হর্ণারের ‘অবৈধ কাজকর্ম, অধুনা। যার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে সেগুলি বন্ধ করবার জন্য পরিদর্শকদের হাতে ক্ষমতা দেবার উদ্দেয়ে কারখানা আইনগুলির সংশোধনের প্রস্তাবাবলী’ দেখুন।
৪৭. ‘আমার জেলায় গত ছয় মাসে আট বছর বয়স ও তদূর্ধ বয়সের শিশুদের সত্যসত্যই সকাল ছয়টা থেকে রাত্রি নয়টা পর্যন্ত নিয়োগ করা হয়েছে। ( “রিপোর্ট” ইত্যাদি, ৩১শে অক্টোবর, ১৮৫৭, পৃ: ৩৬)।
৪৮. স্বীকার করা হয়েছে যে ছাপাখানা আইনটি তার শিক্ষামূলক এবং রক্ষণমূলক উভয়বিধ ব্যবস্থার দিক দিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। {“রিপোর্ট” ইত্যাদি ৩১শে অক্টোবর, ১৮৬২, পৃঃ ৫২)।
৪৯. এইজন্য উদাহরণস্বরূপ ই. পটার ১৮৬৩ সালের ২৪শে মার্চ টাইমস পত্রিকায় লেখেন। পত্রিকাটি তাকে ১০ ঘণ্টা আইনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে শিল্পপতিদের বিদ্রোহের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
৫০. অন্যান্য ব্যক্তির মধ্যে মি. ডবলু নিউমার্ক যিনি ‘টুকে’ (Tooke) প্রণীত “দামের ইতিহাস গ্রন্থের সহযোগী এবং সম্পাদক ছিলেন, তিনি বলেন : জনমতের কাছে কাপুরুষের মত আত্মসমর্পণকে কি বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি বলা যায়?
৫১. ১৮৬০ সালের আইনটিতে বলা হল যে ডাইং এবং ব্লিচিং কারখানাগুলিতে ১৮৬১ সালের ১লা আগষ্ট থেকে অস্থায়ীভাবে বারো ঘণ্টা শ্রম-দিবস চালু হবে এবং চূড়ান্তভাবে ১৮৬২ সালের ১লা আগষ্ট দশ ঘণ্ট! প্রবর্তিত হবে। অর্থাৎ অন্যান্য দিনে সাড়ে দশ ঘণ্টা এবং শনিবারে সাড়ে সাত ঘণ্টা। কিন্তু যখন ঐ বিপজ্জনক ১৮৬২ সাল এল, তখনই পুরানো প্রহসনের পুনরাবৃত্তি হল। উপরন্তু শিল্পপতিরা পালামেন্টের কাছে দরখাস্তে জানালেন যে আরও এক বছর নাবালক ও স্ত্রীলোকদের বারো ঘণ্টা খাটানো হোক। “ব্যবসা-বাণিজ্যের বর্তমান অবস্থায় ( তথন তুলো সংকট চলছে) বারো ঘণ্টার কাজ শ্রমিকেরই পক্ষে যায় যতদিন সম্ভব তারা কিছু বেশি রোজগার করুক-না-কেন, এই মর্মে একটি বিলও অনা হয় কিন্তু প্রধানতঃ স্কটল্যাণ্ডের ব্লিচিং শ্রমিকদের আন্দোলনের ফলে বিলটি পরিত্যক্ত হয়। (“রিপোর্ট” ইত্যাদি ৩১শে অক্টোবর, ১৮৬২, পৃঃ ১৫-১৬) এইভাবে যে শ্রমিকদের স্বার্থের ধুয়ো ধরে ধনিকের দাবি করছিলেন, তাদেরই দ্বারা পরাজিত হয় এখন তারা উকিলের চোখ দিয়ে লক্ষ্য করলেন যে পালামেন্টের অন্যসব আইনের মতো ১৮৬০ সালের আইনটিও তার আওতা থেকে ফিনিশিং ও ক্যালেণ্ডারিং শ্রমিকদের বাদ রেখেছিল। মূলধনের চিরকালের বিশ্বস্ত ভৃত্য, ব্রিটিশ আইন-প্রণালী সাধারণ আদালতে ধূর্ততাকে অনুমোদন করল ‘শ্রমিকরা খুবই হতাশ হয়েছে তার অতিরিক্ত খাটুনির অভিযোগ করে এক খুবই পরিতাপের বিষয় যে আইনের ভুল সংজ্ঞার জন্য তার সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে। (1.c. পৃ: ১৮)।
