২১. ‘অ্যান এসে’ ইত্যাদি, পৃঃ ১৫, ৪১, ৫৫, ৫৭, ৫৯,৫৬, ৯৭-জ্যাকব ভ্যাণ্ডারলিন্ট ১৭৩৪ খ্রীষ্টাকেই বলেন শ্রমিকদের আলস্যের বিরুদ্ধে ধনীদের চীৎকারের গূঢ় রহস্য হচ্ছে তারা চার দিনের মজুরিতে ছয় দিন খাটাতে চান।
২২. l.c. পৃঃ ১:২।।
২৩. তিনি বলেন যে ফরাসীরা আমাদের স্বাধীনতা সম্পর্কে উচ্ছ্বণপূর্ণ ধারণার কথায় হাসে 1… পৃ: ৭৮।
২৪ তার বিশেষ করে শ্রম-দিবসকে বারো ঘণ্টার চেয়ে বেশি করতে আপত্তি জানায় কারণ এই আইনটি সাধারণতন্ত্রের একমাত্র ভাল আইন যা তখনও বেঁচে ছিল। ( ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টর রিপোর্ট ৩১শে অক্টোবর, ১৮৫৬ পৃঃ ৮০!) ১৮৫০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বরে ফরাসী দেশের বারো ঘণ্টা শ্রমের বিলটি ছিল ১৮৪৮ সালের ২রা মার্চের অস্থায়ী সরকারের আদেশের বুর্জোয়া সংস্করণ এবং এইটি সমস্ত কারখানার উপর প্রযোজ্য ছিল। এই আইন প্রবর্তনের আগে ফরাসী দেশে শ্রম-দিবসের কোন নির্দিষ্ট সীমা ছিল না। বিভিন্ন কারখানায় শ্রম-দিবস ১৪, ১৫ অথবা ততোধিক ঘণ্টা পর্যন্ত ছিল। ব্লাস্কির ‘১৮৪৮ সালে ফ্রান্সের শ্রমজীবী শ্রেণীগুলি পড়ুন। অর্থনীতিবিদ ব্লাস্কি, ইনি বিপ্লবী স্ল্যাক্তি নন, একে সরকার শ্রমিকশ্রেণীর অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান করবার ভার দিয়েছিলেন।
২৫. শ্রম দিবসের নিয়ন্ত্রণ ব্যাপারে বেলজিয়াম হচ্ছে আদর্শ ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ১৮৬২ সালের ১২ই মে ব্রাসেলস-এ ইংল্যাণ্ডের রাষ্ট্রদূত লড’ হাওয়াদ পররাষ্ট্র দপ্তরে রিপোর্ট করছেন। মন্ত্রী জিয়ার আমাকে জানালেন যে ওদেশে কোন সাধারণ আইন অথবা কোন স্থানীয় আদেশ অনুযায়ী শিশুদের শ্রম সীমাবদ্ধ করা হয়নি; বিগত তিন বছরে প্রত্যেকটি অধিবেশনে সরকার এই বিষয়ে আইন তৈরি করতে চেয়েছে কিন্তু প্রত্যেকবারই এরূপ আইনের বিরুদ্ধে শ্রমের পূর্ণ স্বাধীনতার নীতির ভিত্তিতে বিরোধিতা অলঙ্ঘনীয় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে।
.
.
১০.৬ স্বাভাবিক শ্রম–দিবসের জন্য সংগ্রাম
আইন মারফৎ কালের ঘন্টা বাধ্যতামূলক ভাবে নিয়ন্ত্রণ, ১৮৩৩ থেকে ১৮৬৪ সাল পর্যন্ত ইংল্যাণ্ডের কারখানা আইন সমূহ।
শ্রম-দিবসকে তার স্বাভাবিক উচ্চতম সীমা পর্যন্ত প্রসারিত করতে এবং তার পরে সেই সীমা অতিক্রম করে তাকে স্বাভাবিক দিনের বারো ঘণ্টা[১] পর্যন্ত বিস্তৃত করতে ধনতন্ত্রের কয়েক শতক লেগেছিল, কিন্তু তারপর আঠারো শতকের শেষ দ্বিতীয়াংশে আধুনিক যন্ত্রবাদও আধুনিক শিল্পের প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এল এক প্রচণ্ড আক্রমণ তীব্রতা ও ব্যাপকতার দিক থেকে যা হিমবাহের সঙ্গে তুলনীয়। নৈতিক বাধার অর্গল ভেঙ্গে পড়ল, বয়স অথবা স্ত্রীপুরুষের তারতম্য থাকল না, দিন ও রাত্রির পার্থক্য ঘুচে গেল। এমন কি দিন ও রাতের ধারণা পর্যন্ত যা পুরান আইনগুলিতে সরলভাবে ব্যক্ত ছিল, সেটি এমনই গুলিয়ে গেল যে এমনকি এই ১৮৬০ সালেও ইংরেজ বিচারককে আইনগতভাবে দিন ও রাত্রি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছিল।[২] ধনতন্ত্র তার তাণ্ডবনৃত্যে মত্ত হল।
নোতুন উৎপাদন হৈ-হুল্লোড়ে প্রথমে কিছুটা বিমূঢ় হলেও যেমনি শ্রমিক শ্রেণী কিছু পরিমাণে সম্বিৎ ফিরে পেল, তখন প্রতিরোধ শুরু হল এবং সর্বপ্রথমে শুরু হল যন্ত্রশিল্পের জন্ম ভূমি ইংল্যাণ্ডেই কিন্তু ত্রিশ বছর ধরে শ্রমিক শ্রেণীর অজিত সুবিধাগুলি কেবল নামেই ছিল। ১৮০২ থেকে ১৮৩০ সাল পর্যন্ত পালমেন্ট পাঁচটি শ্রমআইন প্রবর্তন করে কিন্তু ঐ আইনগুলি কার্যকরী করবার জন্য অফিসার নিয়োগের ব্যাপারে এক পাই খরচও বরাদ্দ করেনি।[৩]
তাই এই আইনগুলি শুধু খাতাপতেই থাকল। “বাস্তব ঘটনা হচ্ছে এই যে ১৮৩৩ সালের আইনের আগে পর্যন্ত তরুণ বয়স্ক এবং শিশুদের কাজ করান হত সারারাত, অথবা সারাদিন, অথবা দিন ও রাত উভয় বেলাতেই।”[৪]
আধুনিক শিল্পের জন্য স্বাভাবিক শ্রম-দিবসের সূচনা হল ১৮৩৩ সালের কারখানা আইনে যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয় বস্ত্র, পশম, শন ও রেশমের কারখানাগুলি। ১৮৯৩ থেকে ১৮৬৪ সাল পর্যন্ত কারখানা আইনের ইতিহাসে তুলনায় মূলধনের চরিত। বৈশিষ্ট্য আর কোথাও প্রকট নয়।
:৮৩৩ সালের আই ঘোষণা করল যে সাধারণভাবে কারখানার শ্রম-দিবস স্থায়ীভাবে সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে আটটা পর্যন্ত এবং এই সীমার মধ্যে, এই পনের ঘণ্টার মধ্যে দিবে যে কোন সময়ে ভিতরেই তৰুণ ব্যক্তিদের (অর্থাৎ তেরো থেকে আঠালো বছর বয়স্ক ব্যক্তিদেব !) নিয়োগ করা যাবে। অবশ্য বিশেষ ককেটি অনুমোদিত ক্ষেত্র ছাড়া, দিনে বার ঘণ্টা বেশি কেউ কাজ করবে না। আইনে ষষ্ঠ ধারায় আছে এই ধারার নির্দেশগুলির সীমার মধ্যে প্রত্যেকটি তরুণ ব্যক্তিকে প্রতিদিন আহাবের জন্য কমপক্ষে দেড় ঘণ্টা সময় দিতে হবে। নয় বছরের কম বয়সের শিশুদে নিয়োগ নিম্নোক্ত ব্যতিক্রম ছাড়া নিষিদ্ধ করা হয়; নয় থেকে তেরো বছর বয়সের শিশুদের দৈনিক শ্রম আট ঘণ্টায় নিদিষ্ট হয়, রাত্রের কাজ অর্গীং আইন অনুযায়ী রাত্রি সাড়ে আটটা থেকে সকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত নয় থেকে আঠারো বছর বয়সের তরুণ ব্যক্তিদের পক্ষে নিষিদ্ধ করা হয়।
পূর্ণবয়স্ক শ্রমিকদের শোষণ করবার ব্যাপারে ধনিকদের স্বাধীনতায় অথবা তারা যাকে বলেন “শ্রমের স্বাধীনতা তাতে হস্তক্ষেপ করতে আইন প্রণেতারা এত পরান্মুখ ছিলেন যে তারা এমন একটি বিশেষ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করলেন যাতে কারখানা আইনগুলি মারাত্মক কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না কবে।
