১৪. এই আইন সম্পর্কে মিঃ জে. ওয়েড ঠিকই মন্তব্য করেছেন, “উল্লিখিত বক্তব্য থেকে ( অর্থাৎ আইনটি সম্পর্কে) এটি প্রতীয়মান হয় যে ১৪৯৬ সালে খাদ্য ছিল একজন শিল্পীর আয়ের একতৃতীয়াংশ এবং একজন মজুরের আয়ের অর্ধেক যাতে মনে হয় যে তখনকার দিনে শ্রমজীবীদের এখনকার চেয়ে বেশি স্বাধীনতা ছিল; কারণ বর্তমানে শিল্পী ও শ্রমিকের খাদ্যের দাম দিতে মজুরি আরও বেশি লেগে যায়। ( ওয়েড, হিসট্রী অব দি মিডল অ্যাণ্ড ওয়াকিং ক্লাসেস পৃঃ ২৪, ২৫ ও ৫৭৭)। এই পার্থক্য যে তখনকার সঙ্গে এখনকার খাদ্য ও পোশাকের দরুন দামের পার্থক্য জনিত সেই অভিমতটি ক্রনিকন প্রেসিওসাম ইত্যাদি রচনাটি একটু চোখ বুলালেই চলে যাবে। পুস্তকটির রচয়িতা বিশপ ফ্লিটউড, প্রথম সংস্করণ, লণ্ডন, ১৭০৭, ২য় সংস্করণ লণ্ডন, ১৭৪৫।
১৫. ডবল পেটি ‘অ্যানাটমি অফ আয়ার্লণ্ড’ .১৬৭২; ১৬৯১ সংস্করণ, পৃঃ ১।
১৬. “এ ডিসকোর্স অন দি নেসেসিটি অব এনকারেজিং মেকানিক ইণ্ডাষ্ট্রি”, লণ্ডন, ১৬৯০ পৃঃ ১৩। মেকলে, যিনি হুইগ এবং বুর্জোয়াদের স্বার্থে ইতিহাসকে বিকৃত করেন, লেখেন : “শিশুদের অকালে কাজে নিযুক্ত করার রেওয়াজ ….. সপ্তদশ শতাব্দীতে এতটা মাত্রা পর্যন্ত প্রচলিত ছিল যে তাকে কারখানা ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করলে প্রায় অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়। বস্ত্রশিল্পের প্রধান কেন্দ্র নরউইচে ছ বছরের একটি ছোট্ট প্রাণীকে শ্রমের উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা হত। ঐ আমলের অনেক লেখক যাদের মধ্যে কয়েকজন বিশিষ্ট সদাশয় ব্যক্তিও ছিলেন সোল্লাসে এই ঘটনার উল্লেখ করেন যে একমাত্র সেই শহরটিতেই খুব কোমল বয়সের ছেলে-মেয়েরা তাদের নিজেদের গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য যতটা প্রয়োজন তার চেয়ে বছরে বারো হাজার পাউণ্ড বেশি ধন সম্পদ সৃষ্টি করে থাকে। যতই সযত্নে আমরা অতীতের ইতিহাস পাঠ করি, ততই আমরা এমন যুক্তি বেশি বেশি করে পাই যার ভিত্তিতে, যারা বলেন যে আমাদের এই যুগটা নোতুন নোতুন সামাজিক অনাচারের জন্ম দিয়েছে আমরা তাদের বক্তব্যের বিরোধিতা করতে পারি।…… যেটা নোতুন সেটা হচ্ছে এমন বুদ্ধিমত্তা ও মানবিকতা যা সেগুলির প্রতিকার সাধন করে।” “হিস্ট্রি অব ইংল্যাণ্ড, খণ্ড ১, পৃঃ ৪১৭। মেকলে আরো জানাতে পারতেন যে সপ্তদশ শতাব্দীতে “পরম সদাশয়” amis du confierce’ কেমন সোল্লাসে বর্ণনা করেন কি ভাবে হল্যাণ্ডে একটি দরিদ্র-নিবাসে একটি চার বছর বয়সের শিশুকে কাজে নিযুক্ত করা হয়েছিল এবং “vertunise et Prutique”-এর এই দৃষ্টান্তটি মেকলে-মার্কা সমস্ত মানবিকতাবাদীদের রচনায় অ্যাডাম স্মিথের কাল পর্যন্ত উত্তীর্ণ হয়ে এসেছে। একথা ঠিক, হস্তশিল্পের জায়গায় কারখানা-শিল্পের প্রচলনের ফলে শিশুদের শোষণের বিভিন্ন চিহ্নগুলি প্রকট হয়ে ওঠে। কৃষকদের মধ্যে এই শোষণ সব সময়ই কিছু পরিমাণে চালু ছিল, এবং কৃষি-কর্তার উপরে চাপ যত বেশি পড় ত এই শোষণের ভারও তত গুরুতর হত। মূলধনের প্রবণতা সেখানে নিভুল ভাবেই ‘ছল, কিন্তু তেমন ঘটনাগুলি ছিল দু-মাথা-ওয়ালা শিশুদের মতই বিরল ও বিচ্ছিন্ন। আর এই কারণেই দূর-দশী amis du commerce সেগুলিকে “সোল্লাসে” মন্তব্য ও বিস্ময় প্রকাশের জন্য বিশেষ ভাবে উপযুক্ত বলে বিবেচনা করেছিলেন এবং তাদের নিজেদের জন্য ও বংশধরদের জন্য আদর্শ হিসাবে সুপারিশ করেছিলেন। এই একই স্কচ মোসাহেব ও বাক্যবাগীশ মেকলে সাহেব বলেন, “আমরা এখন শুনি কেবল পাশ্চাদগতির কথা, কিন্তু দেখি কেবল অগ্রগতি।” আহা, কী চোখ, আর বিশেষ করে, কী কান !
১৭. শ্রমজীবী জনগণের বিরুদ্ধে অভিযোগ কারীদের মধ্যে সবচেয়ে ক্রুদ্ধ হচ্ছেন “অ্যান এসে অন ট্রেড অ্যান্ড কমার্স…….. অবজার্ভেশনস অন ট্যাক্সেস ইত্যাদি লণ্ডন, ১৭৭০ নামক গ্রন্থটিতে যাকে উদ্ধৃত করা হয়েছে, সেই অনামী লেখকটি। “কনসিডারেশনস অন ট্যাক্সেস লণ্ডন, ১৭৬৫, নামক তার আগেকার বইটিতে তিনি বিষয়টি নিয়ে আগেই আলোচনা করেছিলেন। তারই পক্ষভুক্ত হচ্ছেন পলিনিয়াস আর্থার ইয়ং, সেই অকথ্য সংখ্যা তথ্যের বাকৃপটু পরিবেশক। শ্রমজীবী শ্রেণীগুলির সমর্থকদের মধ্যে পুরোধা হলেন জ্যাকব ভাণ্ডারলিন্ট (“মানি অ্যান্ডারস অল থিংস’, লণ্ডন ১৭০৪); রেভারেণ্ড নাথানিয়েল ফস্টার ডি-ডি (“অ্যান এনকুইরি ইনটু দি কজেস অব দি প্রেজেন্ট হাই প্রাইস অব প্রভিন্স লণ্ডন ১৭৬৭; ডঃ প্রাইস এবং বিশেষ করে, পোস্টলেথওয়েট (“ইউনিভার্সাল ডিকসনারি অব ট্রেড অ্যান্ড কমার্স”, ২য় সংস্করণ, ১৭৭৫)। অন্যান্য অনেক লেখকও ঘটনাগুলিকে সমর্থন করেন, যাদের মধ্যে আছেন জোসিয়ার টাকার।
১৮. পোষ্টলেথওয়েট ফাস্ট প্রিলিমিনারি ডিসকোর্স lc. (প্রথম সমীক্ষা) পৃ ১৪
১৯. “অ্যান এসে”, ইত্যাদি। ৯৬ পৃষ্ঠায় তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন ১৭০ সালে ইংরেজ কৃষি শ্রমিকের “সুখ” বলতে কি ছিল। তাদের শক্তি-সামর্থ্য ছিল সব সময়েই চাপের মধ্যে, যত অল্প খরচে তারা জীবন কাটাতে তার চেয়ে অল্প খরচে তা করা যায় না, যত কঠোর কাজ তারা করত তার চেয়ে বেশি কঠোর কাজ কর। যায় না।
২০. প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্ম প্রায় সব চিরাচরিত ছুটির দিনকে কাজের দিনে পরিণত করে মূলধন সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে।
