৭. যারা অতিরিক্ত খাটে তারা ‘অদ্ভূত তাড়াতাড়ি মারা পড়ে। কিন্তু যারা মারা পড়ে তাদের জায়গা তৎক্ষণাৎ পূরণ হয়ে যায় এবং মানুষের এই নিয়ত স্থান পরিবর্তনের দরুন পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন ঘটে না।” (ইংল্যাণ্ড ও আমেরিকা, লণ্ডন, ১৮৩৩, ১ম ভলুম, পৃঃ ৫৫, ই. জি. ওয়েকফিল্ড-এর রচনা।)
৮. জনস্বাস্থ্য : ১৮৬৩ সালের প্রিভিকাউন্সিলের মেডিক্যাল অফিসারের ষষ্ঠ রিপোর্ট’ দ্রষ্টব্য। লণ্ডনে ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত এই রিপোর্টে বিশেষতঃ কৃষি শ্রমিক সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সাদার্নল্যাণ্ডকে সাধারণত একটি অত্যন্ত উন্নত কাউন্টি বলা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে প্রকাশ পেয়েছে যে সেখানেও যে অঞ্চল একদা সুঠাম চেহারা ও সাহসী সৈনিকদের জন্য বিখ্যাত ছিল সেখানকার বাসিন্দারাও অধোগামী হয়ে কৃশ ও খর্বকায় মানুষে পরিণত হয়েছে। সমুদ্রের উপকূলে পাহাড়ের ধারে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর এলাকাগুলিতে এদের ক্ষুধার্ত শিশুদের মুখগুলি লণ্ডনের কোন গলির দূষিত আবহাওয়ার ভিতরকার শিশুদের মুখ যতটা রক্তহীন হওয়া সম্ভব, ঠিক ততটাই। (ডব্লিউ থনটন। “ওভার পপুলেশন অ্যান্ড ইটস রেমিডি” ১ম খণ্ড, পৃঃ ৭৪, ৭৫।) বস্তুতঃ এদের সাদৃশ্য আছে সেই ৩০, ৩০. ‘বীর হাইল্যাণ্ডারদের সঙ্গে যাদের গ্লাসগোতে অস্বাস্থ্যকর জায়গায় চোর ও বেশ্যাদের সঙ্গে শুওরের পালের মত রাখা হয়।
৯. যদি জনসংখ্যার স্বাস্থ্য হচ্ছে জাতীয় মূলধনের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার তবু আমাদের এই কপ বলতে হচ্ছে যে মালিক-শ্রেণী এই সম্পদকে রক্ষা ও লালন পালন করতে তেমন আগ্রহী নয়….. শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের যত্ন নেবার জন্য কারখানা মালিকদের বাধ্য করতে হয়েছে। ( ‘টাইমস পত্রিকা ৬ই নভেম্বর, ১৮৬১1) ‘ওয়েষ্ট-রাইডিং-এর লোকের। সারা পৃথিবীর লোককে কাপড় যোগায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবলি দেওয়া হচ্ছিল এবং সমগ্র জনসংখ্যা অল্প কয়েক পুরুষের মধ্যে নিশ্চয়ই সর্বনাশের পথে যেত। কিন্তু একটা প্রতিক্রিয়া এল। লড’ শ্যাফটবেরির বিল শিশুদের শ্রমের ঘন্টা সীমাবদ্ধ করে দিলে।’ ইত্যাদি। (রেজিস্ট্রার জেনারেল-এ রিপোর্ট অক্টোবর, ১৮৬১।)
১০. এইজন্য আমরা দেখতে পাই, যেমন ১৮৬৩ সালে গোড়ার দিকে, স্টাফোড় শায়ারের ছাব্বিশটি প্রতিষ্ঠান, যাদের অধীনে ছিল বড় বড় পটারি কারখানা, বিশেষ করে আবার তাদের মধ্যে “জোশিয়া ওয়েজউড অ্যাণ্ড সন্স, একটা কিছু আইন প্রণয়নের জন্য স্মারকলিপির আকারে একটা দরখাস্ত করছে। অন্যান্য ধনিকের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য তাদের পক্ষে স্বেচ্ছামূলকভাবে শিশু প্রভৃতির শ্রমের ঘণ্টা কমান সম্ভব নয়। উল্লিখিত অনিষ্টকর ব্যাপারগুলির অমিরা যতই নিন্দা করি না কেন, কারখানা মালিকদের মধ্যে কোন আপস-চুক্তি করে ঐগুলি রদ করা যায় না…এই দিকগুলি বিবেচনা করে আমরা এই সিদ্ধান্তেই পৌছেছি যে কিছু একটা আইন প্রণয়ন করা দরকার (শিশু নিয়োগ কমিশন’, রিপোর্ট ১নং, ১৮৬৩, পৃঃ ৩২২) খুব সম্প্রতি আর একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত পাওয়া গিয়েছে। দারুণ তেজী বাজারে তুলোর মূল্য বৃদ্ধির দরুন ব্ল্যাকবোর্ণের কারখানা-মালিকেরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত করে একটি নির্দিষ্ট কালের জন্য নিজ নিজ কারখানায় শ্রমের সময় কমান। ১৮৭১ সালের নভেম্বরে এই নির্দিষ্ট কাল শেষ হয়। ইতিমধ্যে অধিকতর ধনবান মালিকেরা যারা সুতো কাটার সঙ্গে কাপড়ও বোনেন, তারা এই চুক্তি-জনিত উৎপাদন হ্রাসের সুযোগে নিজেদের কারবার বাড়ালেন এবং ছোট মালিকদের উপর দিয়ে এইভাবে প্রচুর লাভ করলেন। শেষোক্তর তাই শ্রমিকদের কাছে বিপন্ন হয়ে আবেদন করলেন এবং এইজন্য নয় ঘণ্টা প্রবর্তনের আন্দোলনে নিজেরাই চাদা দেবেন বলে স্বীকার করলেন।
১১. উৎপাদন-পদ্ধতিতে পরিবর্তনের দরুন শ্রম-আইনগুলি অকেজো হয়ে যাবার দীর্ঘকাল পরে ১৮১৩ সালে সেগুলিকে ইংল্যাণ্ডে খারিজ করে দেওয়া হয়। এই ধরনের আইন ফ্রান্স, নেদারল্যাণ্ড এবং অন্যত্রও প্রবর্তিত হয়েছিল।
১২. বারো বছরের কম বয়সের কোন শিশুকে কারখানায় দৈনিক দশ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো চলবে না। ম্যসাচুনেটের সাধারণ, আইন ৫৩, অধ্যায় ১২। (এই আইনগুলি ১৮৫৬ থেকে ১৮৫৮ সালের মধ্যে প্রবর্তিত হয়।) “যেকোন একটি দিনে দশ ঘণ্টার শ্রমকেই সর্ববিধ সুততা, পশম, রেশম, কাগজ, কঁাচ ও শনের কারখানায় অথবা লোহা ও পিতলের কারখানায় আইন-অনুমোদিত বলে বিবেচনা করা হবে। এবং বিধিবদ্ধ করা হয় যে আজ যে তরুণ বয়স্ক ( নাবালক)-কে দৈনিক দশ ঘণ্টা অথবা সপ্তাহে ষাট ঘণ্টার বেশি কাজ করানো হবে না এবং অতঃপর দশ বছরের নীচে কোন নাবালককে এই রাজ্যে কোন কারখানায় নিযুক্ত করা চলবে না।” নিউজার্সি অঙ্গরাজ্য। শ্রমের ঘন্টা সীমাবদ্ধ করার আইন ইত্যাদি অনুচ্ছেদ ১ ও ২। (১,৫১ সালে ১৮ই মার্চের আইন। কোন নাবালক, যার বয়স বারো বছরের উপরে ও পনের বছরের নীচে, তাদের কোন কারখানায় নিযুক্ত করে দৈনিক এগারো ঘণ্টার বেশি কাজ করানো, অথবা সকালে পাঁচটার আগে এবং সাড়ে সাতটার পরে কাজ করানো চলবে না।” (বিভাইজভ স্টাটিউটস’ ইত্যাদির, ১৩৯ অধ্যায় অনুচ্ছেদ ২০ ১লা জুলাই, ১৮৫৭।)
১৩. সফিজমস অব ফ্রি ট্রেড’ সপ্তম সংস্করণ, লণ্ডন, ১৮৫৩ পৃঃ ২৫, নবম সংস্করণ পৃঃ ২৫৩। ঐ একই রক্ষণশীল ব্যক্তিটি আরও স্বীকার করেন যে শ্রমিকের বিরুদ্ধে ও মালিক পক্ষে প্রবর্তিত মজুরি বিষয়ক পার্লামেন্টের আইনগুলি দীর্ঘ ৪৬৪ বৎসর চলে। জনসংখ্যা বেড়ে গেল। তখন দেখা গেল যে এই আইনগুলি বাস্তবক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় এবং বোঝা স্বরূপ হয়ে উঠেছে। (1,c. পৃ ২৬০ )
