ধনতান্ত্রিক উৎপাদন-পদ্ধতি (বিশেষ করে উদ্ব-মূল্যের উৎপাদন, উদ্বৃত্ত শ্রমের শোষণ এইভাবে শ্রম-দিবসকে বাড়িয়ে শুধু যে মানুষের স্বাভাবিক নৈতিক ও শারীরিক উন্নতি ও প্রক্রিয়ার সুযোগ-সুবিধা হরণ করে মানুষের শ্রমশক্তির অবনতি ঘটায, তাই নয়-পবন্তু এর দ্বারা শ্রমশক্তিকেও অকালে নিঃশেষ করে তার মৃত্যু ঘটায়।[২] এতে একটি নির্দিষ্ট সমযের মধ্যে উৎপাদনের কাজে শ্রমিকদেব খাটুনির সময় বাড়িয়ে তার সত্যকার আয়ুষ্কাল কমিয়ে ফেলা হয়।
কিন্তু শ্রমশক্তির মূল্যের মধ্যে অন্তভুক্ত রয়েছে শ্রমিকের পুনরুৎপাদন অথবা শ্রমিক শ্রেণীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য দরকারি পণ্যগুলির মূল্য। অতএব যদি শ্রম দিবসকে অস্বাভাবিকরূপে বাড়ানো হয় যে কাজটি ধনিকের। অত্মপ্রসারের সীমাহীন লালসার জন্য অবশ্য কর্তব্য বলে মনে করে, এতে ব্যক্তিগতভাবে শ্রমিকের আয়ুষ্কাল কমে যায়, ফলত শ্রমশক্তির আয়ুষ্কালও কমে, যার এলে অনেক দ্রুতগতিতে ক্ষয় পাওযা শক্তিগুলিব স্থানপূরণ করতে হয় এবং শ্রমশক্তির পুনরুৎপাদনের খরচের অঙ্ক বাড়ে; ঠিক যেমন একটি যন্ত্রের ক্ষেত্রে বেশি তাড়াতাড়ি ক্ষয় হলে তার জন্যে প্রতিদিন বেশি মূল্যের পুনরুৎপাদন প্রয়োজন হয়ে পড়ে। অতএব এইটাই প্রতিভাত হয় যে মূলধনের স্বার্থেই একটি স্বাভাবিক শ্রম-দিবসের দিকে এগোতে হয়।
দাস-মালিক ঠিক যেমন নিজের ঘোডা কেনে, তেমনি নিজের শ্রমিককেও কেনে। যদি তার দাস মারা যায় তাহলে তার মূলধনের ক্ষতি হয় যে ক্ষতি দাস-বাজাবে আবাব নোতুন বিনিয়োগ কবে পূরণ করতে হয়। কিন্তু জর্জিয়ার ধানের ক্ষেত অথবা মিসিসিপির জল। অঞ্চল মানুষেব স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক হতে পারে; এইসব অঞ্চলে চাষ করতে হলে মনুষ্য-জীবনের অপচয় অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে কিন্তু এই অপচয় এত বেশি নয় যা ভার্জিনিয়া ও কেন্টাকির ঘন বসতি থেকে পূরণ করা যায় না। অধিকন্তু যে-কোন একটি স্বাভাবিক অবস্থায় খরচ বাঁচাবার প্রয়োজন থেকে প্রভুর স্বার্থের সঙ্গে শ্রমিককে বাঁচিয়ে রাখার যে সমতা আসে, তারজন্য কিছুটা সদয় মানবিক ব্যবহারের আশ্বাস পাওয়া যায়। কিন্তু-দাস বিক্রির ব্যবসা প্রবর্তিত হবার পরে দাসকে শেষ বিন্দু পর্যন্ত খাটিয়ে নেবার যুক্তি এসে যায়; কারণ যখন বিদেশের দাস-সংগ্রহের কেন্দ্র থেকে তার জায়গা পূরণ করা চলে, তখনি তার বেঁচে থাকার সময়ের কার্যকারিতার চেয়ে তার আয়ুষ্কালের পরিমাণের গুরুত্ব কমে যায়। অতএব দাস-ব্যবস্থাপনার এটি একটি মূল কথা এই যে, যে-সব দেশে দাস আমদানি করা হয় সেখানে সবচেয়ে কার্যকরী আর্থিক হিসেব হচ্ছে এই কম সময়ে গোলামকে নিঙড়ে কত বেশি কাজ পাওয়া যায়। গ্রীষ্ম-প্রধান অঞ্চলের কৃষিতে যেখানে বার্ষিক মুনাফার পরিমাণ প্রায় গোটা বাগিচার সমগ্র মূল ধনের সমান হয়, সেখানে নিগ্রোর সেীবনকে একেবারে যথেচ্ছভাবে বলি দেওয়া হয়। ওয়েস্ট-ইণ্ডিজ-এর কৃষি যেখানে বহু শতাব্দী ধরে রূপকথার মত ধনদৌলত সৃষ্টি হয়েছে সেখানে আফ্রিকার লক্ষ লক্ষ সন্তানের সমাধি হয়েছে। বর্তমান সম (উনিশ শতক) কিউবার আয়ের পরিমাণ কোটি কোটি টাকা দিয়ে হিসাব করা হয় এবং যেখানে বাগিচার মালিকরা হচ্ছে সবাই নবাব, সেখানেই আমরা দেখি দাস শ্রেণী সবচেয়ে খারাপ খেয়ে সর্বাধিক ক্লান্তিকর ও বিরামহীন পরিশ্রম করে এবং এমনকি প্রতি বছর তাদের একটি অংশ ধ্বংস বরণ করে।[৩]
Mutato nomine de te fabulu narratur.-93 Enfoco 777-712911 জায়গায় লিখুন শ্রমের-বাজার, কেন্টাকি ও ভার্জিনিয়ার জায়গায় লিখুন আয়াাণ্ড এবং ইংল্যাণ্ড, স্কটল্যাণ্ড ও ওয়েস্-এর কৃষিপ্রধান জেলাগুলি, আফ্রিকার বদলে লিখুন জার্মানি। আমরা দেখেছি যে, কিভাবে অতিরিক্ত খাটুনির জন্য লণ্ডনের রুটি-সেঁকা মজুরেরা বিলুপ্ত হচ্ছে। তবু রুটির কারখানায় মৃতের জায়গা নেবার জন্য জার্মান ও অপরাপর জায়গাৰ কৰ্ম প্রার্থীদের দিয়ে লণ্ডনের শ্রমের-বাজার সদা সর্বদা ঠাসা। আমরা আরো দেখেছি যে পটারি-শিল্পে পরমাযু সবচেয়ে কম। তাতে কি পটারি-কর্মীব কোন হনটন হয়েছে? আধুনিক পটারি-শিল্পের আবিষ্কারক যোশিয়া ওয়েজউড, যিনি শুরুতে নিজে একজন সাধারণ শ্রমিক ছিলেন, তিনি ১৮৭৫ সালে কমন্স-সভায় বলেন যে সমগ্র শিল্পে পনের থেকে বিশ হাজার লোক কাজ করে। ১৮৬১ সালে গ্রেটব্রিটেনে শুধু এই শিল্পের শহর-কেন্দ্রগুলির জনসংখ্যা দাড়ায় ১০১,৩০২। বস্ত্রশিল্প নব্বই বছর ধরে চলেছে….. এটি ইংরেজ জাতির তিন পুরুষ থেকে আছে এবং আমি বিশ্বাস করি যে অনায়াসে একথা বলা যায় যে এই সময়ের মধ্যে এই শিল্প কারখানা-মজুরদের নটি পুরুষ ধ্বংস করেছে।”[৪]
একথা নিঃসন্দেহ যে অত্যন্ত কর্মচঞ্চল কোন কোন সময়ে বাজারে তাৎপর্য পূর্ণ অনটন দেখা গিয়েছে, যেমন ১৮৩৪ সালে। কিন্তু তখন শিল্প মালিকরা গরিব আইন কমিশনারদের কাছে প্রস্তাব করেছিলেন যে, তাদের উচিত কৃষিপ্রধান জেলাগুলি “বাড়তি জনসংখ্যাকে উত্তরাঞ্চলে পাঠানো, তার সঙ্গে এই ব্যাখ্যা ছিল যে “শিল্প মালিকেরা তাদের সকলকে কাজ দেবেন এবং উজার করে ফেলবেন।[৫] গরিব আইন’ কমিশনারদের সম্মতি নিয়ে এজেন্টদের নিযুক্ত করা হল…ম্যাঞ্চেষ্টারে একটি অফিস খুলে সেখানে কৃষিপ্রধান জেলাগুলির কর্মপ্রার্থী শ্রমিকদের তালিকা পাঠানো হতে থাকলে এবং ঐ নামগুলি রেজিষ্টার-ভুক্ত হল। শিল্প-মালিকরা এইসব অফিসে আসতেন এবং পছন্দ মাফিক লোক বাছাই করতেন, তাদের দরকার-মত লোক বেছে তারা এদের ম্যাঞ্চেষ্ট’রে চালান করবার জন্য নির্দেশ দিতেন এবং ঠিক মালের বস্তার মত টিকিট এটে তাদের খালপথে অথবা গাড়িতে পাঠানো হত, কিছু কিছু লোক রাস্তায় হেঁটে রওনা হত এবং তাদের অনেককে রাস্তায় অর্ধাহারে পথ হারিয়ে যাওয়া অবস্থায় দেখা যেত। এই প্রথাটি একটি নিয়মিত ব্যবসা হয়ে ওঠে। পার্লামেন্ট হয়ত বিশ্বাস করতে পারবে না, কিন্তু আমি তাদের বলতে পারি যে মানুষের রক্ত-মাংস নিয়ে এই ব্যবসা ভালভাবেই চলছিল, কার্যতঃ ম্যাঞ্চেস্টারের শিল্প-মালিকদের কাছে এদের তেমন-ই নিয়মিতভাবে বিক্রি করা হত যেমন যুক্তরাষ্ট্রে তুলা-বাগিচার মালিকদের কাছে দাসদের বিক্রি করা হয় ….. ১৮৬০ সালে, “বস্ত্রশিল্পের চূড়ান্ত উন্নতির সময়।” …শিল্প-মালিকরা আবার দেখলেন যে শ্রমিকের অভাব হচ্ছে তারা তখন আবার মাংস বিক্রেতাদের’ (এদের এই নামেই ডাকা হয়। কাছে আবেদন করলেন। এই এজেন্টরা ইংল্যাণ্ডের দক্ষিণাঞ্চলে, ডরসেটশায়ারের চারণভূমিতে, ডিভনশায়ারে তৃণাঞ্চলে, উইল্টশায়ারের গো-পালকদের মধ্যে গেলেন, কিন্তু অনুসন্ধান বৃথা হল। অতিরিক্ত জনসংখ্যা উজার হয়ে গিয়েছিল। ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তিসম্পন্ন হবার পর ‘বেরি গার্ডিয়ান পত্রিকা লিখেছিল যে “ল্যাঙ্কাশায়ারে দশ হাজার বাড়তি শ্রমিক কাজ পেতে পারে এবং ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজারের দরকার হবে।” কৃষিপ্রধান জেলাগুলিতে ব্যর্থ খোঁজাখুঁজির পর একটি প্রতিনিধিদল লণ্ডনে আসেন এবং গণ্যমান্য ভদ্র ব্যক্তি ( গরিব অইন পর্ষং-এর সভাপতি ভিলিয়ার্স ]র কাছে এই উদ্দেশ্যে ধর্ণা দেন যাতে তিনি ল্যাঙ্কাশায়ারের মিলগুলির জন্যে দরিদ্র-নিবাস থেকে গরিব ও অনাথ শিশুদের সংগ্রহ করে দেন।[৬]
