৮. চতুর্থ বিপোর্ট ইত্যাদি ১৮৮৫, ৭৯ পৃঃ xvi।
৯. i. c. ৮০ পৃঃ xvi
১০. 1 c. ৮২ পৃঃ xvii
১১. আমাদের এই যুক্তি ও বিচার-বিবেচনার যুগে যদি কোন মানুষ প্রত্যেকটি ব্যাপারে, তা সে যতই খারাপ অথবা খেয়ালীই হোক না কেন, তার কারণ দেখাতে না পারে তাহলে তার কোন মোগ্যতা নেই। পৃথিবীতে যত খারাপ কাজ হয়েছে সেই সবগুলিই হয়েছে ভাল কারণের জন্য। (হেগেল, Zyklopadie der philosophischen Wissenschaften, Berlin-140 পুঃ ২৪৯)।
১২. 1. c. 85, p. xvii। শিশুদের জন্য নিয়মিত খাবার সময় বেঁধে দেওয়া অসম্ভব কেননা তা করলে ফার্নেসে কিছু পরিমাণ তাপের “নিছক ক্ষতি” বা “অপচয়” ঘটবে-কাচ কারখানার মালিকদের এই সকাতর আপত্তির জবাব দিয়েছেন কমিশনার হোয়াইট তঁার জবাব উরে সিনিয়র এবং তাদের রশার-মার্কা জার্মান ছিচকে লেখা চোরদের জবাবের মত নয় যারা সোনা খরচের ব্যাপারে ধনিকদের “মিতাচার” “আত্ম সংবরণ” ও “সঞ্চয় বৃত্তির দ্বারা এবং মানুষের প্রাণ খরচের ব্যাপারে তাদের তৈমুর লঙ্গ-সুলভ অমিতাচারের দ্বারা অভিভূত! “এই সব ক্ষেত্রে খাবারের সময় বেঁধে দিলে কিছু পরিমাণ তাপের অপচয় হতে পারে কিন্তু সেই অপচয় সারা রাজ্য জুড়ে কাচ-শিল্পের বাড়তি বয়সের ছেলেদের নির্বিঘ্নে খাবার মত এবং তার পরে সেটা হজম করাবার মত কিছুটা সময় না দেবার দরুন যে জৈব শক্তির অপচয় হয়, তার আর্থিক মূল্যের সমান নয়।” (l. c; p, xly) এবং এই ঘটনা ১৮৬৫ সালের প্রগতিশীল। যুগের সময়কার। ভারি জিনিস তোলা ও বয়ে নিয়ে যাওয়ায় যে শক্তিক্ষয় হয় তার হিসেব বাদ দিয়েও যেসব কারখানায়, ঘরে বোতল ও ফিল্টের কাচ তৈরি হয় সেখানে এই রকম একটি বালক ও শিশু তার কাজ উপলক্ষে প্রতি ছয়ঘণ্টায় পনের থেকে রিশ মাইল হাঁটে। এবং কাজ করতে হয় প্রায়ই চোদ্দ অথবা পনের ঘণ্টা। এসব কাচ কারখানায় অনেক ক্ষেত্রে যেমন সুতা কারখানায় ছঘন্টা পালার ব্যবস্থা আছে। “সপ্তাহে কাজের সময়ের মধ্যে যেকোন সময়ে একসঙ্গে সর্বাধিক বিশ্রামের সময় হচ্ছে মাত্র ছ’ঘণ্টা এবং এই ছ’ঘণ্টার মধ্যেই কাজের জায়গায় যাতায়াত শৌচক্রিয়া ও স্নানাদি বেশভূষা ও আহারের সময় ধরতে হবে যাতে বিশ্রামের জন্য অতি অল্প সময়-ই পাওয়া যায় এবং খোলা বাতাসে থাকা অথবা খেলাধূলা করার কোন সময়ই পাওয়া যায় না; অবশ্য যদি না এরকম উত্তপ্ত আবহাওয়ায় ও ক্লান্তিকর কাজের পর ছোট ছেলেরা -ঘুমিয়ে খোলা হাওয়ায় বসতে চায় ……এই অল্প সময়ের নিদ্রাও মাঝে মাছে ভেঙ্গে যেতে বাধ্য যদি রাত্রির মধ্যে বালকটিকে আবার জাগাতে হয় অথবা দিনমানে গোলমালের জন্যই তার ঘুম ভেঙ্গে যায়।” মি হোয়াইট দৃষ্টান্ত দিয়েছেন যেখানে একটি বালক একাদিক্রমে ছত্রিশ ঘণ্টা কাজ করে; অপর কয়েকটি দৃষ্টান্তে তিনি দেখিয়েছেন যে বারো বছরের বালকেরা রাত্রি দুটো পর্যন্ত কাজ করে চলে এবং তারপর কারখানার ঘরেই সকাল পাঁচটা পর্যন্ত (মাত্র তিন ঘণ্টা!) ঘুমিয়ে আবার কাজ শুরু করে। ট্রেমন-হিয়ায় ও ট্রাফনেল যারা রিপোর্টটি লিখেছেন তারা বলেছেন যে, নাবালক ও নাবালিকা ও নারী-শ্রমিকরা দিনে বা রাতে কার্যকালে যে পরিশ্রম করে, সেটি নিশ্চয়ই অত্যন্ত বেশি। (l, c. xiii ও xliv।) ঠিক যে সময় সম্ভবতঃ একটু বেশি রাতেই আত্মত্যাগী কঁাচ নির্মাতা ধনীরা মদে চুর হয়ে তাঁদের ক্লাব থেকে বেরিয়ে টলতে টলতে বাড়ি যাবার পথে নির্বোধের মত গুনগুন করে গান করেন, বৃটেন কখনো হবে না গোলাম।”
.
.
১০.৫ ন্যায্য শ্রম–দিবসের অন্য সংগ্রাম। চৌদ্দ শতকের মধ্যভাগ থেকে সতেরো শতকের শেষ পর্যন্ত শ্রম–দিবসকে দীর্ঘতর করার জন্য বিবিধ বাধ্যতামূলক আইন।
“একটি এম-দিবস কাকে বলব? শ্রমশক্তিকে দৈনিক ক্রয় করে ধনিক তাকে কতটা শোষণ করতে পারে? শ্রম শক্তির মূল্য পুনরুৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম সময় ছাড়িয়ে শ্রম-দিবসকে কতদূর পর্যন্ত বাড়ানো যায়?” আমরা দেখেছি যে এইসব প্রশ্নের উত্তরে ধনিক বলে : শ্রম-দিবসের মধ্যে পড়ে পুরো চব্বিশ ঘণ্টা, তার মধ্যে শুধু সেই কয় ঘণ্টা বিশ্রামের জন্য বাদ রাখতে হবে যেটুকু না করলে স্বয়ং শ্রমশক্তির পুনরুৎপাদনই একেবারে অসম্ভব হয়। অতএব এটি সুস্পষ্ট যে সারাজীবন ধরে শ্রমিক তার শ্রমশক্তি ছাড়া আর কিছুই নয় এবং সেইজন্য তার হাতের সমস্ত সময়-ই প্রকৃতি ও আইন নির্দেশে শ্রম-সমমরূপে মূলধনের আত্মপ্রসারের কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষা, মানসিক উন্নতি, সামাজিক কর্মানুষ্ঠান ও সামাজিক মেলামেশা, শরীর ও মনের স্বচ্ছন্দ বিকাশ এমনকি রবিবারের বিশ্রামের সময় পর্যন্ত (এবং যে-দেশে রবিবার পবিত্র ছুটির দিন বলে গণ্য)[১] সবই বাজে ! কিন্তু নিজের অন্ধ অসংযত আবেগ, উদ্ধত্ত শ্রমের জন্য রক্তপিপাসু নেকড়ের ক্ষুধা নিয়ে মূলধন শুধুমাত্র নৈতিকতার সীমাই লঙ্ঘন করে না,পরন্তু শ্রম-দিবসের নিছক শারীরিক সীমা অতিক্রম করে। মানুষের শরীরের বৃদ্ধি, উন্নতি ও সুস্থ অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সময়ও সে আত্মসাৎ করে। টাটকা হাওয়া ও সূর্যের আলো পাবার জন্য যেটুকু সময় দরকার সেটুকুও সে চুরি করে। এরা খাবার সময় নিয়ে টানাটানি করে, ঐ সময়টুকুকে যেখানেই সম্ভব উৎপাদন-প্রক্রিয়ার মধ্যে অন্তভূক্ত করার চেষ্টা করে, যাতে শ্রমিকদের খাদ্য হয়ে ওঠে মাত্র উৎপাদনের একটি উপকরণ ঠিক যেমন বয়লারে কয়লা সরবরাহ করা হয় এবং যন্ত্রপাতিতে চর্বি ও তেল প্রয়োগ করা হয়। যাতে ক্ষতিপূরণের পরে সতেজ হয়ে আবার শরীরের শক্তি ফিরে আসে তার জন্যে যে গভীর নিদ্রার দরকার ধনিকেরা পরে তার জায়গায় শুধু কয়েক ঘণ্টা মূহমান অবস্থায় বেহুস হয়ে পড়ে থাকতে দেয়, যা একেবারে পরিশ্রান্ত দেহ-যন্ত্রের পক্ষে আবার কাজ করতে হলে অপরিহার্য। শ্রমশক্তির স্বাভাবিক সংরক্ষণ দিয়ে শ্রম-দিবসের সীমা নির্ধারণ করা হয় না; পরন্তু প্রতিদিন শ্রমশক্তির সর্বাধিক ব্যয়, সেটা স্বাস্থ্যকে যত-ই নষ্ট করুক, যতই পীড়ন-মূলক ও কষ্টকর হোক, তাই দিয়েই নির্ধারিত হয় শ্রমিকদের বিশ্রামের সময় কিভাবে সীমাবদ্ধ করা যায়। শ্রমিক কতদিন বাঁচবে অথবা শ্রমশক্তির জীবনের মেয়াদ নিয়ে ধনিক মাথা ঘামায় না। তাদের চিন্তা কেবল এবং একমাত্র এই নিয়ে যে কিভাবে শ্রমশক্তিকে সর্বাধিক শোষণ করা যায়, শ্রম দিবসের কতখানি জুড়ে তাকে সচল রাখা যায়। এই উদ্দেশ্য পূরণ করতে হলে ধনিক শ্রমিকের আয়ু কমিয়ে দেয়, যেমন একজন লোভী কৃষক বেশি ফসল পাবার লোভে তার চাষের জমির উর্বতা নষ্ট করে ফেলে।
