————
১. Child Emp. Commission, Third Report, 1864, p. iv, v, vil
২. “স্ট্যাফোর্ডশায়ার এবং সাউথ ওয়েলস—উভয় জায়গাতেই শিশু ও নারীদের নিযুক্ত করা হয় খাদের পাডে ও কয়লার চিবিতে, কেবল দিনেই নয় রাতেও। পার্লামেন্টের কাছে পেশকা রিপোর্টগুলিতে দেখা যায় যে, এই ব্যবস্থার ফলে বিপুল ও দারুণ অনাচার ঘটে। পোষাকে-আশাকে পুরুষ থেকে পার্থক্য করা দুঃসাধ্য ধুলোয় ও ধোয়ায় কালিমালিপ্ত এই মেয়েরা কাজ করে এমন পেশায়, যা আদৌ নারী-সুলভ নয়; স্বভাবতই তাদের মর্যাদাবোধ নষ্ট হয়ে যায় এবং তাদের চারিত্রিক-অধঃপতনের পথ খুলে যায়।” ১ম খণ্ড, ১৯৪, পৃঃ xxvi. ৪র্থ রিপোর্ট—(১৮৬৫)-৬১, xiii দেখুন)। কঁচের কারখানাগুলিতেও অবস্থা একই রকম।
৩. রাতের কাজে শিশুদের নিয়োগ করেন, এমন একজন ইস্পাত-কারখানার মালিক মন্তব্য করেন : “এটা স্বাভাবিক বলে মনে হয় যে রাতের বেলায় যে-বালকেরা কাজ করে, তারা রাতে ঘুমোতে পারে না এবং দিনের বেলাতেও উপযুক্ত বিশ্রাম পায় না। (l.c. Fourth Report, 63, p. xiii). দেহের পোষণ ও পরিপুষ্টির জন্য সূর্যালোকের গুরুত্ব প্রসঙ্গে, একজন চিকিৎসক বলেন, “দেহ-কলাগুলিকে দৃঢ়তর করতে এবং সেগুলির স্থিতিস্থাপকতাকে পুষ্ট করতে আলো সরাসরি সেগুলির উপরে কাজ করে। আলোর উপযুক্ত পরিমাণ থেকে বঞ্চিত হলে প্রাণীর পেশীগুলি নরম ও অস্থিতিস্থাপক হয়ে পড়ে। ত্রুটিপূর্ণ উদ্দীপনের দরুন স্নায়বিক শক্তি ক্ষুন্ন হয় এবং দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ……. শিশুদের ক্ষেত্রে দিনের বেলায় প্রচুর পরিমাণ আলোর নিরন্তর (সুলভতা) এবং দিনের একটা অংশে সরাসরি সূর্যকিরণের সংস্পর্শ স্বাস্থ্যের পক্ষে সবচেয়ে জরুরী। আলো রক্তে ভাল প্লাজমা গঠনে সহায়তা করে এবং শরীরের তন্তুগুলিকে শক্ত করে। দর্শনেন্দ্রিয় সম্পর্কে আলো উদ্দীপকের কাজ করে এবং, ফলতঃ, মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে আরো সক্রিয় করে। ওরসেস্টার জেনারেল হাসপাতাল’ এর সিনিয়র ফিজিসিয়ান ডাঃ ডবল স্ট্রেঞ্জ-এর লেখা ‘হেলথ’ নামক বই থেকে উদ্ধৃত অনুচ্ছেদটি নেওয়া হয়েছে। অন্যতম কমিশনার মিঃ হোয়াইটকে তিনি লেখেন, “ল্যাংকাশায়ারে থাকাকালে শিশুদের উপরে নৈশ শ্রমের ফলাফল লক্ষ্য করার সুযোগ আমার হয়েছিল এবং কোন কোন মালিক বলে থাকেন, তার প্রতিবাদে আমার একথা বলতে দ্বিধা নেই যে, রাত্রে যে শিশুদের দিয়ে কাজ করানো হয়, অচিরেই তাদের স্বাস্থ্যহানি হয়।” (l.c. 285, p. 55 )। এমন একটি প্রশ্নে যে এমন বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে তা থেকেই বোঝা যায় ধনতান্ত্রিক উৎপাদন ধনিকদের এবং স্তাবকদের মাথার কাজকেও কেমন প্রভাবিত করে।
৪. l.c. 57, p. xii.
৫. l.c, Fourth Report (1865 ), 58, p. xii.
৬. l.c. রিপোর্ট।
৭. l.c. পৃ: xiii এই শ্রমশক্তিগুলির সংস্কৃতির মাত্রা স্বভাবতই কতটা তা একজন কমিশনারের সঙ্গে নীচের কথােপকথনে ফুটে উঠেছে : জেবমিয়া হেনেস, বয়স ১২-“চারকে চার গুণ করলে আট হয়; চারবার চার যোগ করলে ১৬ হয়। রাজা হচ্ছে এমন একজন যার কাছে সমস্ত অর্থ ও সোনা আছে। আমাদের একজন রাজা আছে (সে বলল যে তিনি একজন বাণী ), সকলে তাকে রাজকুমারী আলেকজান্দ্রা বলে। বলল যে ইনি রাণীর ছেলেকে বিয়ে করেছেন। রাণীর ছেলেই হচ্ছে প্রিন্সেস্ আলেকজান্দ্রা। একজন প্রিন্সে হচ্ছে পুরুষ মানুষ। উইলিয়ম টার্ণর বয়স বারো: “আমি ইংল্যাণ্ডে থাকি না মনে হয় ঐটি একটি দেশ কিন্তু আগে জানতাম না।” জন্ মরিস বয়স চোদ্দ : “শুনেছি যে ভগবান পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং একজন ছাড়া সব লোক ডুবে মারা যায়।” “শুনেছি সেই লোকটি ছিল একটি ছোট্ট পাখি।” উইলিয়ম স্মিথ, বয়স পনের : “ভগবান মানুষ সৃষ্টি করলেন, মানুষ স্ত্রীলোক সৃষ্টি করল।” এডওয়ার্ড টেলর বয়স পনের : লণ্ডন জানি না।” হেরি ম্যাথিউম্যান বয়স, সতের : “চ্যাপেলে গিয়েছি কিন্তু সম্প্রতি প্রায় যাওয়া হয় না। একটি নাম সেখানে প্রচার করা হত, সেটি হচ্ছে যিসাস ক্রাইষ্ট কিন্তু আমি আর কারো কথা বলতে পারি না এবং যিসাস সম্পর্কেও কিছু বলতে পারি না। তাকে হত্যা করা হয়নি, অন্যান্য লোকের মতোই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি কোন কোন ব্যাপারে অন্য সব লোক থেকে ভিন্ন ছিলেন, কারণ তিনি কোন কোন ব্যাপারে ধার্মিক ছিলেন, অপর লোকেরা তা নয়।” (পৃ: vx) “শয়তান ভাল লোক। সে কোথায় থাকে জানি না।” “ক্রাইস্ট ছিলেন দুষ্ট লোক।” এই বালিকা গড় বানান -এর মত করল, সে রাণীর নাম জানে না।” (শিশু-নিয়োগ কমিশন ৫ম রিপোর্ট, ৮৬৬,পৃঃ ৫৫, n. ২৭৮)। ধাতুশিল্পে ইতিপূর্বে যা যা উল্লেখ করা হয়েছে ঐ একই ব্যাপার কাচ ও কাগজ শিল্পে চলে। কাগজের কারখানাগুলি যেখানে যন্ত্রের সাহায্যে কাগজ প্রস্তুত হয়, সেখানে ছেড়া কাপড়-কম্বল গোছানো ছাড়া আর সব কাজ রাত্রে করাই নিয়ম। কোন কোন ক্ষেত্রে পালাক্রমে রাতের কাজ অবিরাম সারা সপ্তাহ চলে, সাধারণতঃ রবিবার রাত থেকে পরবর্তী শনিবারের মধ্যরাত্রি পর্যন্ত। যারা দিনে কাজ করে; ১২ ঘণ্টা করে ৫ দিন এবং ১৮ ঘণ্টা করে ১ দিন যারা রাতে কাজ করে তারা পাঁচ রাত বারো ঘণ্টা কাজ করে এবং প্রতি সপ্তাহে একরাত ছ’ঘণ্টা কাজ করে। অপরাপর ক্ষেত্রে, প্রত্যেক দল একাদিক্রমে চব্বিশ ঘণ্টা একদিন অন্তর কাজ করে, একটি দল সোমবারে ছঘণ্টা ও শনিবারে আঠারো ঘণ্টা কাজ করে চব্বিশ ঘণ্টা পূর্ণ করে। কোন কোন ক্ষেত্রে একটি মাঝা-মাঝি ব্যবস্থা থাকে যাতে সব শ্রমিকই, যার যন্ত্রের সাহায্যে কাগজ তৈরি করে, তারা সপ্তাহে প্রতিদিন পনের কিম্বা ষোল ঘণ্টা কাজ করে। এই পদ্ধতিতে, কমিশনার লর্ড বলেছে : “১১ ঘণ্টা ও ২৪ ঘণ্টা পালা-দৌড়-প্রথার সমস্ত খারাপ দিক জড়ো হয়েছে।” তেরো বছরের কম বয়সের বালক-বালিকা, আঠারো বছরের নীচে তরুণ-তরুণী এবং নারীর এই প্রথায় তাদের বদলির হাজির না হলে পর পর দুই শিফটে তার চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণে দেখা যায় যে বালক-বালিকার প্রায়ই অতিরিক্ত সময় খাটে এবং মাঝে মাঝে চব্বিশ ঘণ্টা অথবা এমনকি ছত্রিশ ঘণ্টা অবিরাম কাজ করে। কাচ তৈরির একটানা ও একঘেয়ে কাজ দেখা যায় যে বারো বছরের বালিকারা সারা মাস দৈনিক চৌদ্দ ঘন্টা করে কাজ করে। “খাবার জন্য দুবার বা বড়জোর নিবার আধঘণ্টা মাত্ৰ ছুটি ছাড়া আর কোন নিয়মিত বিশ্রাম বা কর্মবিরতি পাওয়া যায় না। কোন কোন কারখানায় যেখানে রাতে কাজ একেবারে পরিত্যক্ত হয়েছে, যেখানে দারুণভাবে অতিরিক্ত খাটুনি চলে, এবং প্রায়ই এটি চলে সবচেয়ে নোংরা ও সবচেয়ে উত্তপ্ত এবং সবচেয়ে একঘেয়ে যে প্রক্রিয়া তাতে (শিশু facutat fata fatto iv, bye’, : xxxviii 47. xxxix 1 )
