২৬. ফ্রেডরিক এঙ্গেলস, l.c. pp. 253, 254।।
২৭. স্বাস্থ্য বোর্ডের পরামর্শদাতা চিকিৎসক ডাঃ লেখেবী ঘোষণা করেন : “একজন পূর্ণবয়স্কের জন্য শোবার ঘরে ৩০০ এবং থাকার ঘরে ৫০০ ঘনফুট হাওয়া থাকা দরকার।” লণ্ডনের একটি হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসক ডাঃ রিচার্ডসন বলেন : “সব রকম সূচী-শিল্পী মেয়েদের মধ্যে যাদের মধ্যে পড়ে টুপি-নির্মাতা, পোশাক প্রস্তুতকারী ও সাধারণ দরজী—এদের তিন রকমের কষ্ট আছে–অতিরিক্ত খাটুনি, অল্প হাওয়া এবং হয় অল্প পুষ্টিকর খাদ্য অথবা অল্প হজমশক্তি সেলাইয়ের কাজটি মুখ্যতঃ পুরুষের চেয়ে মেয়েদের পক্ষে সর্বতোভাবে বেশি উপযোগী, কিন্তু বিশেষ করে রাজধানীতে এই শিল্পটির অনিষ্টকর দিকটি হচ্ছে এই যে, এটি মোটামুটি ছাব্বিশ জন ধনিকের একচেটিয়া দখল আছে যারা নিজেদের মূলধনের সুযোগ নিয়ে শ্রম থেকে যথাসাধ্য নিঙড়ে নেবার জন্য মূলধন খাটায়। মুলধনের এই ক্ষমতা গোটা শ্ৰেণীকেই নিয়ন্ত্রিত করে। যদি কোন পোশাক-বিক্রেতা কয়েকজন ক্রেতা যোগাড় করতে পারে; তাহলে প্রতিযোগিতা এত তীব্র যে তার নিজের বাড়িতে তাকে টিকে থাকার জন্য মৃত্যু পর্যন্ত ঘাটতে হয় এবং যে-কেউ তাকে সাহায্য করে তাকেও অতিরিক্ত খাটতে হয়। সে অকৃতকার্য হলে অথবা স্বাধীনভাবে চলতে না চাইলে তাকে কোন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে হয়, যেখানে তাকে পরিশ্রম কম করতে হলেও টাকাটা নিশ্চিত। এখানে এসে সে হয়ে পড়ে নিছক একজন গোলাম, যার খাটুনির ওঠানামা সমাজের রুচি-পরিবর্তনের উপর নির্ভর করে। হয় বাড়িতে একটিমাত্র ঘরে অনাহারে বা অর্ধাহারে থাকতে হয় অথবা ১৫/১৬, এমনকি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে হয় এমন এক জায়গায় যেখানকার হাওয়ায়ও নিঃশ্বাস নেওয়া শক্ত এবং খাদ্য ভাল হলেও বিশুদ্ধ হাওয়ার অভাবে হজম করার শক্তি থাকে না। এইসব হতভাগ্যকে আশ্রয় করে ক্ষয় রোগ যা নিছক দূষিত হাওয়া থেকেই আসে। ডাঃ রিচার্ডসন্ : ১০৬৩ সালের ১৮ জুলাই “সমাজ বিজ্ঞান রিভিয়ু”-তে প্রকাশিত “ওয়ার্ক অ্যাণ্ড, ওভার-ওয়ার্ক।
২৮. মর্নিংস্টার’, ২৩শে জুন, ১৮৬৩: ‘দি টাইমস পত্রিকা ব্রাইট প্রভৃতির বিরুদ্ধে আমেরিকার দাস-মালিকদের সমর্থনে এই ঘটনাটি ব্যবহার করেন। ৮৬৩ সালের ২রা জুলাই একটি সম্পাদকীর প্রবন্ধে বলা হয় “আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে, যখন আমাদের নিজেদের দেশের নাবালিকাদের খাটিয়ে মেরে ফেলি এবং বাধ্যতার হাতিয়ার হিসেবে চাবুক না উচিয়ে অনাহারের তাড়নার সুযোগ নিই তখন সেইসব পিরবার যারা দাস-মালিক রূপেই জন্মেছে এবং যারা অন্ততঃ দাসদের ভাল করে খাওয়ায় এবং কম খাটায় তখন তাদের আক্রমণ করবার নৈতিক অধিকার আমাদের সামান্যই থাকে।” ঐ একই সুরে একটি রক্ষণশীল পত্রিকা, ‘দি স্ট্যাণ্ডাড’ রেভারেণ্ড নিউম্যান হলকে আক্রমণ করেন। “ইনি দাস মালিকদের ধর্মচ্যুত করেছেন কিন্তু সেইসব সাধু ব্যক্তিদের সঙ্গে একত্রে বসে প্রার্থনা করতে একে বিবেকে বাধে না, যারা লণ্ডনে বাস-ড্রাইভার ও কণ্ডাক্টার প্রভৃতিদের কুকুরের মোগ্য মজুরি দিয়ে দিনে ১৬ ঘণ্টা খাটায়। সর্বশেষে বাণী উচ্চারণ করলেন বাগ্মী টমাস কার্লাইল যার সম্বন্ধে আমি ১৮৫৩ সালে লিখেছিলাম, “Zum Teufel ist der Genius, der kultus ist geblieben” uploatarea দিয়ে তিনি সমসাময়িক ইতিহাসের একটি বৃহৎ ঘটনা, আমেরিকার গৃহযুদ্ধকে এই স্তরে নামালেন যে তাঁর কথামতো উত্তরাঞ্চলের পিটার সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে দক্ষিণাঞ্চলের পল এর মাথা ভাঙ্গতে চাইছে এইজন্য যে, উত্তরের পিটার রোজ হিসেবে শ্রমিক ভাড়া করে এবং দক্ষিণের পল সারা জীবনের মত শ্রমিক ভাড়া করে। (ম্যাকলিমান ম্যাগাজিন আগষ্ট, ১৮৬৩।) এইভাবেই শহরের শ্রমিকদের প্রতি ( গ্রামের মজুরদের ওপর মোটেই নয় ) রক্ষণশীল সহানুভূতির বুদবুদ ফুটে গেল। মোদ্দা কথা হচ্ছে গোলামি।
২৯. : Foottha, “Work and over work” In Social science Review July 18, 1863
.
.
১০.৪ দিন ও রাত্রির কাজ
পালা–দৌড় প্রথা
উদ্বৃত্তমূল্য সৃষ্টির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, স্থির মূলধনের তথা উৎপাদন-উপায় সমূহের কাজ হল কেবল এমকে, এবং শ্রমের প্রতিটি বিন্দুর সঙ্গে উদ্ব-মূল্যের একটি আনুপাতিক পরিমাণকে, আত্মীকৃত করা। যখন তারা তা করতে ব্যর্থ হয়, তখন তাদের নিছক অস্তিত্বই ধনিকের পক্ষে হয়ে ওঠে একটি আপেক্ষিক লোকসন, যখন তারা ‘পতিত পড়ে থাকে, তখন তারা অগ্রিম-প্রদত্ত অকেজো মূলধনের প্রতিনিধিত্ব করে মাত্র এবং যখনি তাদের কর্মকালীন অন্তর্বর্তী বিরতির পরে পুনরায় কাজ শুরু করার জন্য অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়, তখনি এই লোকসান হয়ে ওঠে ধন্যাত্মক ও অনাপেক্ষিক। প্রাকৃতিক দিবাভাগের সীমা ছাড়িয়ে রাত পর্যন্ত কর্ম দিবসের বিস্তার সাধন কেবল এই ক্ষতির আংশিক উপশম হিসাবে কাজ করে; শ্রমের জীবন্ত রক্তের জন্য ধনিকের রক্তপায়ী বাদুড়-সুলভ তা কিঞ্চিৎ পরিমাণে তৃপ্ত করে। সুতরাং দিনের ২৪ ঘণ্টা জুড়েই শ্রম আত্মস্মাৎ করাটা হচ্ছে ধনতান্ত্রিক উৎপাদনের প্রবণতা। কিন্তু যেহেতু একই ব্যক্তির শ্রমশক্তিকে দিন এবং রাত্রি উভয় বেলাতেই নিরন্তর শোষণ করা শারীরিক ভাবে অসম্ভব, সেই হেতু সেই বাধাটিকে অতিক্রম করার জন্য যেসব কাজের লোকের শক্তি দিনের বেলায় নিঃশেষিত করা হয়—এবং যে সব। কাজের লোকের শক্তি রাতের বেলায় নিঃশেষিত করা হয়—এই দু-ধরনের কাজের লোকদের মধ্যে পালাবদলের প্রয়োজন হয়। এই পালাবদল নানা ভাবে করা যেতে পারে, যেমন, ব্যাপারটা এমন ভাবে বন্দোবস্ত করা যেতে পারে যে শ্রমিকদের এক অংশকে এক সপ্তাহে নিযুক্ত করা হয় দিনের কাজে এবং পরের সপ্তাহে রাতের কাজে। এটা সুপরিজ্ঞাত যে, এই পালা-দৌড় প্রথা ( ‘রিলে-সিস্টেম) দুই প্রস্ত শ্রমিকের এই পালাক্রমে কাজে নিয়োগ—এটাই ছিল ইংল্যাণ্ডের বস্ত্র শিল্পের ভরা-যৌবন সব-ব্যাপক ব্যবস্থা, এবং আজও পর্যন্ত এটা প্রচলিত আছে, অন্যান্য ক্ষেত্রের মধ্যে, মস্কো জেলার সুতো-কলের ক্ষেত্রে। প্রথা হিসাবে এই ২৪ ঘণ্টার উৎপাদন-প্রক্রিয়া এখনো গ্রেট ব্রিটেনের এমন অনেক শিল্প-শাখায় চালু আছে, যেগুলি স্বাধীন-ইংল্যাণ্ড, ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ডের স্লট-ফানেস’, ‘ফোর্জ’, ‘প্লেট-রোলিং মিল এবং অন্যান্য ধাতব শিল্পের প্রতিষ্ঠান। এখানে কাজের সময়ের মধ্যে কেবল সপ্তাহের ছ দিনে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা করেই কেল নয়, তার উপরে আবার রবিবারেও একটা বড় অংশও অন্তভুক্ত। শ্রমিকদের মধ্যে থাকে নারী-পুরুষ এবং বয়স্ক ও নাবালক ছেলে-মেয়ে সকলেই। শিশু ও তরুণ-তরুণীরা ৮ বছর থেকে ( কোন কোন ক্ষেত্রে ৬ বছর থেকে শুরু করে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সব বয়সেরই হয়। [১০
