৬. আরো বিস্তারিত বিবরণের জন্য দ্রষ্টব্য : E. Regnault’s Histoire politique et sociale des Principautes Danubiennes,” Paris, 1855.
৭. সাধারণ ভাবে এবং কয়েকটি সীমা-সাপেক্ষ, নিজ নিজ প্রজাতির মধ্যম আকার ছাড়িয়ে যাওয়াটা হল জৈব সত্তার সংবৃদ্ধি সাক্ষ্য। মানুষের ক্ষেত্রে, তার দেহের ওজন কমে যায়, যদি তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রাকৃতিক বা সামাজিক অবস্থাবলীর দ্বারা ব্যাহত হয়। ইউরোপের যে যে দেশে বাধ্যতামূলক সৈন্য-সংগ্রহ প্রচলিত আছে, সেগুলির সব কয়টিতেই বয়স্ক মানুষের গড় উচ্চতা এবং সামরিক কার্যের জন্য তাদের যোগ্যতা হ্রাস পেয়েছে। বিপ্লবের আগে (১৭৮৯), পদাতিক বাহিনীর ন্যূনতম উচ্চতা ছিল ১৬৫ সেন্টিমিটার; ১৮১৮ সালে (১০ই মার্চের আইন ) তা দাড়াল ১৫৭ সেমি; ১৮৩২ সালের ২১শে মার্চ, ১৫৬ সে-মি; গড়ে ফ্রান্সে অর্ধেকেরও বেশি বাতিল হয়ে যায় দৈহিক উচ্চতা বা দৌর্বলের কারণে। স্যানিতে ১৭৮০ সালে সামরিক মান ছিল ১৭৮ সেমি। এখন তা ১৫৫ সেমি। প্রুশিয়ায় ১৫৭ সে-মি। ব্যাভারিয়ান গেজেট ই মে, ১৮৬২-এ ডঃ মেয়ার-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৯ বছরে গড়ের ফলে দেখা যায় বাধ্যতামূলক ভাবে সংগৃহীত ১০০০ সৈন্যের মধ্যে ১৬ জনই সামরিক কাজের অনুপযুক্ত-৩১৭ জন উচ্চতায় হ্রস্থতার কারণে এবং ৩৯৯ জন্য অন্যান্য দৈহিক ক্রটির কারণে।…..১৮৫৮ সালে বার্লিন তাব দেয় সৈন্যসংখ্যা সরবরাহ করতে পারেনি। ১৫৬ জন কম সরবরাহ করেছিল।” J. von Liebig : Die Chemie in ihrer Anwendung auf Agrikultur und Physiologie, 1862, 7th Ed. vol. I pp. 117, 118
৮. ১৮৫০ সালের কারখানা-আইনের ইতিহাস এই অধ্যায়ে পাওয়া যাবে।
৯. ইংল্যাণ্ডে আধুনিক শিল্পের সূচনা থেকে ১৮৪৫ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত যে যুগ তারই সম্পর্কে এখানে কিছু কিছু বলছি। এই যুগের ইতিহাসের জন্য আমি পাঠককে ১৮৪৫ খ্রীষ্টাব্দে লিপ জিগ থেকে প্রকাশিত ফ্রেডরিক এঙ্গে রচিত “Die Lage der arbeitenden klasse in England” পডতে বলি। ধনতান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতির প্রকৃতি সম্পর্কে এঙ্গেল-এর ধারণা যে কতটা সঠিক ছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায় ১৮৪৫ খ্রীষ্টাব্দের পরে প্রকাশিত কারখানা, খনি প্রভৃতির রিপোর্ট থেকে এবং সমগ্র অবস্থার কী আশ্চর্য ছবি দিয়েছিলেন তা বোঝা যায় যখন ভাসাভাসা ভাবেও তার রচনার সঙ্গে আঠারো থেকে বিশ বছর পরে (১৮৬৩-১৮৬৭) প্রকাশিত শিশু এম নিয়োগ কমিশনের সরকারি রিপোর্টগুলি তুলনা করি। এইগুলি শিল্পের সেইসব শাখা সম্পর্কে যেগুলিতে ১৮৬২ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত কারখানা-আইন প্রবর্তিত হয়নি বস্তুতঃ এখনও পর্যন্ত প্রবর্তিত হয়নি। অতএব এইখানে এঙ্গেলস-এর আঁকা চিত্র থেকে সরকারি কর্তৃপক্ষের চেষ্টায় কিছুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি অথবা সামান্য পরিবর্তন ঘটেছে। আমি আমার দৃষ্টান্তগুলি প্রধানতঃ ১৮৪৮ খ্ৰীষ্টাব্দের পরবর্তী স্বাধীন ব্যবসায়ের যুগ থেকে নিয়েছি, এটি সেই স্বর্গরাজ্যের যুগ যার সম্পর্কে স্বাধীন ব্যবসায়ে অন্তভুক্ত রসিকরা রূপকথা রচনা করেছেন। অধিকন্তু এখানে ইংল্যাণ্ডকেই সামনের সারিতে আনা হয়েছে এইজন্য যে ইংল্যাণ্ড হচ্ছে ধনতান্ত্রিক উৎপাদনের সর্বপ্রথম প্রতিনিধি এবং কেবলমাত্র সেখানেই আমাদের আলোচ্য বিষয়গুলি থেকে ধারাবাহিক সরকারী তথ্য পাওয়া যায়।
১০. “কারখানা-ইন্সপেক্টর মিঃ এল. হারের অভিমত প্রভৃতি কারখানা নিয়ন্ত্রণ আইনের অন্তর্ভুক্ত। হাউস অব কমন্স-এর হুকুমে মুদ্রিত, ৯ই আগষ্ট ১৮৫, পৃষ্ঠা ৪,৫।
১১. কারখানা-ইন্সপেক্টরের ষান্মাসিক রিপোর্ট, অক্টোবর ১৮৫৬, পৃষ্ঠা ৩৫।
১২. রিপোর্ট ইত্যাদি, ৩০শে এপ্রিল, ১৮৫৮, পৃষ্ঠা ৯;
১৩. রিপোর্ট ইত্যাদি পৃষ্ঠা ১০।
১৪. রিপোর্ট ইত্যাদি, ১ম খণ্ড পৃষ্ঠা ২৫।
১৫. ১৫৬১ খ্রীষ্টাব্দের ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত ৬ মাসের রিপোর্ট ইত্যাদি। দ্বিতীয় পরিশিষ্ট দেখুন; রিপোর্ট ইত্যাদি; ৩১শে অক্টোবর, ১৮৬২, পৃষ্ঠা ৭, ৫২, ৫৩। ১৮৬৩ খ্রীষ্টাব্দের শেষ অর্ধে অনেক বেশি সংখ্যায় এই আইনগুলি ভঙ্গ হয়। ১৮৬৩ খ্ৰীষ্টাব্দের ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত রিপোর্ট, পৃষ্ঠা ৭ দেখুন।
১৬. রিপোর্ট ইত্যাদি, ৩১শে অক্টোবর, ১৮৬৩, পৃষ্ঠা ২৩। আদালতে কারখানা মালিকদের সাক্ষ্য থেকে দেখা যায় যে কি রকম একগুয়েমির সঙ্গে তারা কারখানার
১৭. রিপোর্ট ৩১শে অক্টোবর, ১৮৫৬, পৃঃ ৩৪।
১৮. 1. c. পৃ. ৩৫
১৯. রিপোর্ট ৩১শে অক্টোবর, ১৮৫৬, পৃঃ ৪৮।
২০. রিপোর্ট ৩১শে অক্টোবর, ১৮৫৬, পৃঃ ৪৮।
২১. রিপোর্ট ৩১ অক্টোবর, ১৮৫৬, পৃঃ ৪৮।
২২. রিপোর্টস-পূঃ ৪৮।
২৩. ইন্সপেক্টরের রিপোের্ট ইত্যাদি, ৩০শে এপ্রিল, ১৮৬০ পৃঃ ৫৬।
২৪. এটাই হচ্ছে কারখানা ও রিপোর্টে ব্যবহৃত সরকারি ভাষা।
.
.
১০.৩ ইংল্যান্ডের শিল্পে সেইসব শাখা যেখানে যেখানে শোষণের কোনো আইনগত সীমা নেই
এ পর্যন্ত আমরা আলোচনা করেছি শ্রম-দিবসকে প্রসারিত করার প্রবণতা নিয়ে, এমন একটা বিভাগে নর-নেকড়েদের ক্ষুধা নিয়ে যেখানকার শোষণকে—যে-কথা জনৈক বুর্জোয়া অর্থনীতিবিদ পর্যন্ত বলেছেন—এমনকি আমেরিকার রেড ইণ্ডিয়ানদের উপর অনুষ্ঠিত স্পেনিয়াড়দের নৃশংসতাও ছাড়িয়ে যেতে পারেনি,[১] এবং তারি ফলে যেখানে শেষ পর্যন্ত মূলধনকে বাঁধা পড়তে হল আইনের শৃংখলে। এখন আমরা দৃষ্টি নিক্ষেপ করব উৎপাদনের এমন কয়েকটি শাখার উপরে, যেখানে শোষণ আজও পর্যন্ত অবাধ রয়েছে কিংবা গতকাল পর্যন্তও অবাধ ছিল।
