কারণ প্রার্থনা কি কেবলই জীবন্ত ইথারের ভেতরে তোমাদের সত্তার বিস্তার?
এবং যদি এটা হয় তোমাদের আয়েশের জন্য মহাশূন্যে তোমাদের অন্ধকারকে ঢেলে দেওয়া, তাহলে তা তোমাদের আনন্দের জন্যও তোমাদের হৃদয়ের ভোরবেলাকে তোমাদের সামনে ঢেলে দেয়।
এবং যদি তোমরা না পারো তাহলে কেঁদে ওঠো যখন তোমাদের আত্মা তোমাদেরকে প্রার্থনা করতে ডেকে পাঠায়, যদিও তোমরা কাঁদছ তবু তার উচিত তোমাদেরকে বারবার তাড়িত করা যতক্ষণ তোমরা না হাসবে।
যখন তোমরা প্রার্থনা করো তখন তোমরা বেড়ে ওঠো বাতাসের ভেতরে তাদের সঙ্গে মিলিত হতে যারা সেই বিশেষ সময়ে প্রার্থনা করছে এবং প্রার্থনার ভেতরে তোমাদেরকে যে রক্ষা করে তার সঙ্গে দেখা নাও হতে পারে।
সুতরাং তোমাদের সেই মন্দির পরিদর্শনকে অদৃশ্যে পরিণত হতে দাও কোনোকিছু না থাকার জন্য, তবে তা যেন হয় পরমানন্দ এবং সুমধুর আলাপন।
কারণ যা তোমার গ্রহণ করতে পারবে না তা জিজ্ঞাসা করার চেয়ে অন্যকোনো উদ্দেশ্যে তোমাদের মন্দিরে প্রবেশ করা উচিত নয়,
এবং তোমরা উত্তোলিত হবে না যদি তোমরা বিনয়ের সঙ্গে মন্দিরে প্রবেশ করো।
এমনকি তোমরা কিছুই শুনতে পাবে না যদি তোমরা অন্যের ভালোর জন্য মন্দিরে প্রবেশ করো ভিক্ষা করতে।
এটাই যথেষ্ট যে তোমরা মন্দিরে প্রবেশ করো অদৃশ্য হয়ে।
কথার ভিতরে কীভাবে প্রার্থনা করতে হয় তা আমি শিক্ষা দিতে পারি না।
ঈশ্বর তোমাদের কথা শুনতে পান না কিন্তু তোমাদেরকে রক্ষা করেন যখন তার কথা তিনি উচ্চারণ করেন তোমাদের ঠোঁটে।
আমি তোমাদেরকে পাহাড়, বনভূমি ও সমুদ্রের প্রার্থনা সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারি না।
কারণ তোমাদের ভেতরে যারা পাহাড়, সমুদ্র ও বনভূমিতে জন্মেছে তারা তাদের প্রার্থনাকে খুঁজে নিতে পারে তোমাদের হৃদয়ে।
এবং তোমরা যদি রাত্রির নিস্তব্ধতার ভেতরে এসব শুনতে পাও তাহলে শুনতে পাবে তারা নিরবতার ভেতরেও কথা বলছে :
‘আমাদের ঈশ্বর যিনি আমাদের পাখাযুক্ত আত্মা সৃজন করেন এটা হচ্ছে তাঁর ইচ্ছা আমাদের ভেতরে, যা ইচ্ছাকৃত।’
‘এটা হচ্ছে তাঁর আকক্ষা আমাদের ভেতরে যা আকাক্ষিত।’
‘এটা হচ্ছে তাঁর তীব্র বাসনা আমাদের ভেতরে যা রাত্রিতে পরিণত হয়, যে রাত্রি ও দিনের ভেতরে মিহি রাত, শুধু মিহি রাত।’
‘আমরা আপনাকে যা ইচ্ছা তাই জিজ্ঞাসা করতে পারি না, কারণ আমাদের চাহিদা সম্পর্কে আপনি সবচেয়ে বেশি জানেন, আমাদের ভেতরে চাহিদাগুলি জন্ম নেওয়ার আগেই।’
‘আমাদের চাহিদা আপনি সৃজন করেন এবং আমাদের যা দান করা হয় তার ভেতরে আপনিই অধিক, আপনিই আমাদের প্রত্যেকের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা।’
.
তারপর এক সন্ন্যাসী যে-বছরে একবার এই নগর পরিদর্শন করে সে সামনে এগিয়ে এল এবং বলল, আমাদের আনন্দ সম্পর্কে বলুন।
এবং তিনি উত্তরে বললেন :
আনন্দ হচ্ছে একটি স্বাধীনতা-সংগীত, কিন্তু তা স্বাধীনতা নয়। এটা হচ্ছে তোমাদের। আকাঙ্ক্ষাগুলির ফুটে ওঠা, কিন্তু এগুলি আকাঙ্ক্ষার ফল নয়।
এটি একটি গভীরতা যা উঁচুতে উঠতে আহ্বান জানায়, কিন্তু এটা গভীরও নয় উঁচুও নয়।
এটা হচ্ছে খাঁচাবদ্ধ আকর্ষণীয় পাখা, কিন্তু এই পাখা মহাশূন্য পরিবেষ্টন করে না। হ্যাঁ, সত্যের ভেতরে আনন্দ হচ্ছে একটি স্বাধীনতা-সংগীত।
এবং আমি আনন্দিত হয়েছি যে তোমরা এই গান গাও হৃদয়ের পরিপূর্ণতাসহ, যদিও এই গানের ভেতরে তোমাদের হারিয়ে যাওয়া হৃদয় আমি খুঁজে পাব না।
তোমাদের কিছু কিছু যুবক আনন্দ অন্বেষণ করে যেন এটাই ছিল সবকিছু এবং তারা প্রত্যেকেই রায়প্রাপ্ত এবং তিরস্কৃত।
আমি তাদের বিচার করব না আবার তিরস্কারও করব না, আমি তাদেরকে খুঁজে নেব।
কারণ তারা আনন্দ অন্বেষণ করবে তবে শুধুই আনন্দ নয়। আনন্দের সাত বোন এবং সবচেয়ে ছোটটি আনন্দের চেয়েও অধিক সুন্দরী।
তোমরা কি সেই মানুষের কথা শোনো নাই যে মাটি খুঁড়েছিল শিকড়ের জন্য এবং পেয়েছিল একটি ধনভাণ্ডার?
এবং তোমাদের কোনো-কোনো বায়োজ্যেষ্ঠ অনুতাপের সঙ্গে আনন্দকে স্মরণ করে। মাতাল অবস্থায় ভুল করার মতো।
কিন্তু অনুতাপ হচ্ছে মনের একটি মেঘাচ্ছন্ন অবস্থা এবং এটা শাস্তিযোগ্য নয়।
তাদের উচিত কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাদের আনন্দকে স্মরণ করা, যেমন করে তারা গ্রীষ্মকালে ফসল কাটার সময়।
এটা যদি তাদেরকে দুঃখ করতে আয়েশ দেয় তাহলে তাদেরকে আয়েশি হতে দাও।
এবং তোমাদের ভেতরে সেখানে তারাই আছে যারা অন্বেষণের জন্য যুবক নয়, আবার বৃদ্ধও নয় স্মৃতিচারণের জন্য।
এবং তাদের অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণের ভয়ের ভেতরে তারা সমস্ত আনন্দ পরিহার করে, এজন্য তারা উদ্দীপনাকে উপেক্ষা করে অথবা লঙ্ঘন করে এর নিয়ম।
এমনকি তাদের অগ্রবর্তী হওয়ার ভেতরেই রয়েছে তাদের আনন্দ।
এবং তারাও তা খুঁজে পায় এবং সংরক্ষণ করে যদিও তারা কম্পিত হাতে মাটি খনন করে শিকড়ের জন্য।
কিন্তু আমাকে বলো কে সেই ব্যক্তি যে পারে উদ্দীপনাকে মর্মাহত করতে?
নাইটিংগেল* কি রাত্রির প্রশান্তিকে ভেঙে চুরমার করে দেবে অথবা জোনাকি অপমান করবে নক্ষত্রকে?
[* গায়ক পাখি। তীক্ষ্ণ কণ্ঠে গান গায়।]
এবং তোমাদের আগুনের শিখা অথবা এর ধোয়া কি বোঝা হবে বাতাসের ওপর?
তোমরা কি ভাবো উদ্দীপনা হচ্ছে একটি স্রোতহীন জলাশয় যেখানে তোমাদের ছড়ি নিয়ে তোমরা অসুবিধায় পড়তে পারো? প্রায় সময়ই আনন্দের ভেতরে তোমরা নিজেদেরকে অগ্রাহ্য করো কিন্তু আকাঙ্ক্ষাগুলিকে সংরক্ষণ করো তোমাদের সত্তার দীর্ঘ অবকাশের ভেতরে।
কে জানে যে, আজ যা অসম্পন্ন মনে হয়, তা অপেক্ষা করে আগামীকালের জন্য?
এমনকি তোমাদের শরীর জানে তার উত্তরাধিকার ও এর ন্যায়সম্মত চাহিদা এবং সে প্রতারিত হবে না।
এবং তোমাদের শরীর হল তোমাদের আত্মার বাদ্যযন্ত্র এবং এই বাদ্যযন্ত্র থেকে সুমধুর। সংগীত অথবা দ্বিধান্বিত ধ্বনিগুচ্ছকে সামনে নিয়ে আসাই হল তোমাদের কাজ।
