এবং এখন তোমরা মন থেকে জিজ্ঞাসা করো, ‘কীভাবে আমরা পার্থক্য করব আনন্দের ভেতরে কী ভাল এবং কী ভালো নয়?’
তোমরা তোমাদের বাগান ও শস্যক্ষেতে যাও এবং তোমরা শিখবে যে, এটা হচ্ছে মৌমাছিদের ফুলের মধু সংগ্রহ করার আনন্দ,
কিন্তু এটা ফুলেরও আনন্দ মৌমাছির জন্য ফুলে মধু উৎপন্ন করা।
কারণ মৌমাছির কাছে একটি ফুল হচ্ছে জীবনের ঝর্ণা,
এবং ফুলের কাছে একটি মৌমাছি হচ্ছে ভালোবাসার একজন বার্তাবহনকারী,
এবং ফুল ও মৌমাছি উভয়ের কাছে আনন্দের দান ও গ্রহণ হচ্ছে একটি চাহিদা এবং একটি পরমানন্দ।
হে অর্ষালিজবাসী, তোমাদের আনন্দের ভেতরে তোমরা পুষ্পদল ও মৌমাছির মতো হয়ে ওঠো।
.
একজন কবি বলল, আমাদেরকে সৌন্দর্য সম্পর্কে বলুন।
এবং তিনি উত্তরে বললেন :
কোথায় এবং কীভাবে তোমরা সৌন্দর্য অন্বেষণ করবে যদি সৌন্দর্য নিজেই না হয় তোমাদের পথ এবং পথপ্রদর্শক?
এবং কীভাবে তোমরা তার সম্পর্কে বলবে তাকে তোমাদের কথার বয়নকারী হওয়া ছাড়া?
অত্যাচারিত ও আহতেরা বলে, ‘সৌন্দর্য হচ্ছে দয়ালু এবং বিনয়ী।
আধা-লাজুক যুবতী মাতার মতো আপন মহিমায় সে আমাদের মাঝে হেঁটে বেড়ায়।’
এবং আবেগপ্রবণেরা বলে, ‘না, সৌন্দর্য হচ্ছে প্রবল ক্ষমতা ও আতঙ্কের বস্তু।
প্রবল ঝড়ের মতো সে নাড়া দেয় আমাদের তলার মাটি ও ওপরের আকাশকে।’
ক্লান্ত ও পরিশ্রান্তেরা বলে, ‘সৌন্দর্য হচ্ছে একটি কোমল ফিসফিসানি এবং সে আমাদের উদ্দীপনার ভেতরে কথা বলে।
তার কণ্ঠস্বর আমাদের নীরবতা উৎপাদন করে, দুর্বল আলোর মতো যা কাঁপতে থাকে ছায়ার ভয়ে।’
কিন্তু ক্লান্তিহীনেরা বলে, ‘আমরা পাহাড়ের ভেতরে সৌন্দর্যের চিৎকার শুনেছি এবং তার কান্নার সঙ্গে এসেছিল খুরের শব্দ, পাখার আঘাত এবং সিংহের গর্জন।’
রাতে নগরের পাহারাদার বলে, ‘সৌন্দর্য ভোরবেলার সঙ্গে উদিত হবে পূবদিকে থেকে।’
এবং মধ্যদুপুরে কঠোর পরিশ্রমী ও পথিকেরা বলে, ‘আমরা তাকে দেখেছি সূর্যাস্তের জানালা থেকে নেমে এসে মাটিতে হেলান দিয়ে আছে।‘’
শীতকালে প্রচুর তুষারপাতের ফলে ভ্রমণে অক্ষম ব্যক্তিরা বলে, ‘বসন্তের সঙ্গে সঙ্গে সৌন্দর্য আসবেই এবং লাফিয়ে পড়বে পাহাড়ের ওপরে।‘’
এবং গ্রীষ্মের দাবদাহের ভেতরে যারা ফসল কাটে তারা বলে, ‘শরৎকালে গাছের পাতার সঙ্গে তাকে আমরা নাচতে দেখেছি এবং তখন আমরা তার চুলে বরফের এটা স্রোত। দেখতে পেয়েছিলাম।’
সৌন্দর্য সম্পর্কে এই সবকিছুই তোমরা বলেছ, যদিও সত্যের ভেতরে তোমরা তার সম্পর্কে বলো নাই যতটা বলেছ অতৃপ্ত বাসনা সম্পর্কে।
এবং সৌন্দর্য একটি চাহিদা নয়, সৌন্দর্য একটি পরমানন্দ।
এটি নয় মুখের তৃষ্ণা, নয় সামনে প্রসারিত একটি শূন্য হাত,
বরং সৌন্দর্য হচ্ছে একটি উত্তপ্ত হৃদয় ও একটি মন্ত্রমুগ্ধ আত্মা।
এটা নয় সেই প্রতিমূর্তি যা তোমরা দেখে থাকো, নয় এটা সেই সংগীত যা তোমরা শ্রবণ করো,
বরং এটা এমন একটা প্রতিচ্ছবি যা তোমরা দ্যাখো, যদিও তোমরা বন্ধ করে রাখো তোমাদের চোখ এবং এমন একটি সংগীত যা তোমরা শ্রবণ করো, যদিও তোমরা বন্ধ করে রাখো তোমাদের কান।
এটা নয় কোনো গুপ্তপরিখা যার ভেতরে হলরেখার গর্জন,
নয় এটা একটা পাখা যা নখরযুক্ত পায়ের সঙ্গে সংযুক্ত।
বরং সৌন্দর্য হচ্ছে একটি বাগান যা চিরকালের জন্য ফুটে আছে এবং যেখানে একদল দেবদূত চিরকালের জন্য উড়ে বেড়ায়।
হে অর্ফালিজবাসী, সৌন্দর্য হচ্ছে জীবন, যখন জীবন তার পবিত্র মুখমণ্ডল অনাবৃত করে।
কিন্তু তোমরাই জীবন এবং তোমরাই হলে অবগুণ্ঠন।
সৌন্দর্য হচ্ছে অনন্তকাল, দর্পণের ভেতরে যা স্থিরদৃষ্টিতে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকে।
কিন্তু তোমরাই হলে অনন্তকাল এবং তোমরাই হলে দর্পণ।
.
এবং একজন বৃদ্ধ যাজক বলল, আমাদেরকে ধর্ম সম্পর্কে বলুন।
এবং তিনি বললেন :
আমি এ সম্পর্কে কিছুমাত্র বলেছি কী?
ধর্ম কি নয় সমস্ত কর্মকাণ্ড এবং সবকিছুর প্রতিফলন এবং যা প্রতিফলনও নয় আবার কর্মকাণ্ডও নয় কিন্তু আত্মার ভেতরে চিরকালীন একটি বিস্ময় এবং একটি চমক উদ্ভূত হয়, এমনকি যখন হাতগুলি টুকরো করে ফেলে পাথর অথবা যত্ন নেয় তাঁতের?
কে পারে তার কাজ থেকে বিশ্বাসকে আলাদা করতে অথবা পেশা থেকে বিশ্বাসকে?
কে তার নিজের সামনে সময়কে এই বলে বিস্তৃত করতে পারে, এটা হচ্ছে ঈশ্বরের জন্য এবং এটা আমার জন্য, এটা আমার আত্মার জন্য এবং আমার শরীরের জন্য অন্যটি?
তোমাদের সময়গুলি হচ্ছে পাখাবিশিষ্ট যা মহাশূন্যের ভেতরে সত্তা থেকে সত্তায় আঘাত করে থাকে। সে পরিধান করে তার নৈতিকতা যার উত্তম পোশাক ছিল নগ্নতা, যা অধিকতর ভালো।
বাতাস এবং সূর্য তার চামড়ায় কোনো গর্তই তৈরি করবে না।
এবং যে নিজের চরিত্র নির্ধারণ করে নৈতিকতা দিয়ে আবার সে-ই তার গায়ক পাখিকে বন্দি করে রাখে খাঁচার ভেতরে।
সবচেয়ে স্বাধীন সংগীত নদীর মোহনার স্রোত এবং তারের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে না।
এবং সে যার উপসানা করে সে হচ্ছে একটি জানালা যা খোলা যায় আবার বন্ধও হয়, যদিও তা পরিদর্শন করেনি তার আত্মার গৃহ যার জানালাগুলি ভোরবেলা থেকে ভোরবেলায় বিস্তৃত।
তোমাদের প্রাত্যহিক জীবন হচ্ছে তোমাদের মন্দির এবং তোমাদের ধর্ম।
যখন তোমরা এর ভেতরে প্রবেশ করে তখন তোমাদের সবকিছুই তোমরা সঙ্গে নাও।
তোমরা সঙ্গে নাও লাঙল, কামারের হাপর, হাতুড়ি এবং বীণা। এসব জিনিস তোমরা সঙ্গে নাও তোমাদের প্রয়োজনকে অলংকৃত করতে অথবা আনন্দের জন্য।
কারণ দিবাস্বপ্নের ভেতরে তোমরা বেড়ে উঠতে পারো না তোমাদের অর্জনের ওপরে, নামতে পারো না তোমাদের ব্যর্থতার নিচে।
এবং তোমরা সব মানুষকে তোমাদের সঙ্গে নাও :
কারণ, ভক্তির ভেতরে তোমরা তার প্রত্যাশার চেয়েও ওপরে উড়াল দিতে পারো না, পারো না বিনয়ের সঙ্গে নিচে নামতে তাদের হতাশার চেয়েও।
