.
তারপর একজন শিক্ষক বলল, আমাদেরকে শিক্ষাদান সম্পর্কে বলুন।
এবং তিনি বললেন :
কোনো মানুষই তোমাদেরকে কিছুমাত্র দেখতে পারে না, যা ইতিমধ্যেই তোমাদের জ্ঞানের ভোরবেলায় আধা-ঘুমন্ত অবস্থায় আছে।
যে শিক্ষক মন্দিরের ছায়ায় তার শিষ্যদের ভেতরে হেঁটে বেড়ায়, সে দান করে না তার স্বাধীনতা বরং সে দান করে তার বিশ্বাস ও স্নেহশীলতা।
বস্তুতপক্ষে সে যদি জ্ঞানী হয় তাহলে সে তোমাদের আমন্ত্রণ জানায় না তার স্বাধীনতার গৃহে প্রবেশ করতে, বরং তোমাদেরকে নেতৃত্ব দেয় তোমাদের মনের প্রবেশপথে ঢুকে যেতে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানী তোমাদেরকে মহাশূন্যবিষয়ক জ্ঞান সম্পর্কে বলতে পারে কিন্তু সে তার নিজের উপলব্ধি তোমাদেরকে দান করতে পারে না।
সমগ্র মহাশূন্যে যে ছন্দ রয়েছে সংগীতজ্ঞ সেই ছন্দে গান গাইতে পারে কিন্তু সে তোমাদেরকে দান করতে পারে না সেই বাতাস যা ছন্দকে বন্দি করে রাখে, দান করতে পারে না সেই কণ্ঠস্বর যা প্রতিধ্বনিত হয়।
এবং সংখ্যার বিজ্ঞান সম্পর্কে যে অভিজ্ঞ সে-ই বলতে পারে ওজন ও পরিমাপের এলাকা সম্পর্কে কিন্তু সে পারে না তোমাদেরকে যত্রতত্র পরিচালনা করতে।
কারণ একজন মানুষের দূরদৃষ্টি অন্য মানুষের কাছে তার দূরদৃষ্টির পাখাগুলি ধার করে না।
এমনকি তোমাদের প্রত্যেকেই ঈশ্বরের জ্ঞানের ভেতরে একাকী দাঁড়াও, সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে অবশ্যই একা হবে প্রত্যেকের ঈশ্বর-সম্পর্কিত জ্ঞান এবং মাটি সম্পর্কিত উপলব্ধির ভেতরে।
.
একজন যুবক বলল, আমাদেরকে বন্ধুত্ব সম্পর্ক বলুন।
এবং তিনি উত্তরে বললেন :
তোমাদের বন্ধু হচ্ছে তোমাদের নিরুত্তর প্রয়োজনগুলি।
বন্ধু হচ্ছে তোমাদের মাঠ যেখানে তোমরা ভালোবাসার সঙ্গে বীজ বপন করো এবং ফসল পাকাও ধন্যবাদের সঙ্গে।
এবং সে হচ্ছে তোমাদের ভোজসভার টেবিল এবং তোমাদের চুলার পার্শ্বদেশ।
কারণ তোমরা তোমাদের ক্ষুধা নিয়ে তার কাছে আসো এবং শান্তির জন্য তোমরা অন্বেষণ কর তাকে।
যখন তোমাদের বন্ধু তার মন থেকে কথা বলে তখন তোমরা নিজের মনের ‘না’-কে ভয় পাও না, এমনকি ‘হ্যাঁ’-কেও আটকে রাখতে পারো না।
এবং যখন সে নীরব থাকে তখনও তোমাদের হৃদয় বিরত হয় না তার হৃদয়ের কথা শোনা থেকে,
কারণ কথাহীন বন্ধুত্বের ভেতরে সব চিন্তা, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা জন্মগ্রহণ করে এবং ভাগাভাগি হয় আনন্দের সঙ্গে যা করতালিযোগ্য নয়।
যখন তোমরা তোমাদের বন্ধু থেকে বিচ্ছিন্ন হও তখন তোমরা দুঃখ পাও না, কারণ যেজন্য তোমরা তাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসো হয়তো তার অনুপস্থিতিতে তা অধিক স্পষ্ট, যেমন অধিক স্পষ্ট আরোহীর কাছে সমতলভূমির চেয়ে বিশাল পাহাড়।
এবং বন্ধুত্বের ভেতরে কোনো উদ্দেশ্যকে প্রশ্রয় দিও না উদ্যমের গভীরতাকে রক্ষা করতে।
কারণ, ভালোবাসাই যা কিছু অন্বেষণ করে কিন্তু এর রহস্য উন্মোচন করা ভালোবাসা নয়, তবে একটি জাল যা সম্মুখে জড়ো হয়
এবং কেবলই অলাভজনক এই জালে ধরা পড়ে যাওয়া।
এবং তোমাদের উত্তম অংশকে তৈরি হয় উঠতে দাও তোমাদের বন্ধুর জন্য।
যদি নিশ্চিতই সে তোমাদের জোয়ারের ভাটা সম্পর্কে জানে তবে তাকে তোমাদের প্লাবন সম্পর্কেও জানতে দাও।
কারণ, তোমাদের বন্ধু কি তা তোমাদের অন্বেষণ করে দেখা উচিত তাকে হত্যার সময়? বেঁচে থাকার সময়সহ সারাক্ষণ অন্বেষণ করো তাকে।
কারণ তার এইসব তোমাদের চাহিদাকে পূর্ণ করে কিন্তু তোমাদের শূন্যতাকে ভরে তোলে না।
এবং বন্ধুত্বের মধুরতার ভেতরে তাদেরকে হাসিতে পরিণত হতে দাও এবং ভাগাভাগি করতে দাও আনন্দ।
কারণ ক্ষুদ্র জিনিসসমূহের শিশিরের ভেতরে হৃদয় অন্বেষণ করে এর সকাল এবং প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
.
তারপর একজন বিদ্বান বলল, কথোপকথন সম্পর্কে আমাদেরকে বলুন।
এবং তিনি উত্তরে বললেন :
যখন তোমরা কথা বলো তখন তোমরা চিন্তায় শান্তিতে পরিণত হওয়া থেকে বিরত থাকো এবং তোমরা যখন তোমাদের আত্মার চূড়ায় দীর্ঘ সময় বসবাসের জন্য যেতে পারো না তখন তোমরা ঠোঁটের ওপর জীবনধারণ করো এবং শব্দ হচ্ছে তখন একটি বিনোদন ও একটি অতিক্রান্ত সময়।
এবং তোমাদের অধিকাংশ কথোপকথনের ভেতরে চিন্তা হচ্ছে অর্ধমৃত।
কারণ চিন্তা হচ্ছে মহাশূন্যের একটি পাখি, যে কথার খাঁচায় বসবাস করে,
বস্তুতপক্ষে সে তার পাখা খুলতে পারে কিন্তু উড়তে পারে না।
তোমাদের মধ্যে সেখানে তারাই আছে যারা বাঁচালকে অন্বেষণ করে একা হওয়ার ভয়ে।
একাকিত্বের নীরবতা তাদের চোখের সামনে প্রকাশ করে তাদের নগ্ন সত্তা এবং তারা পালিয়ে যায়।
এবং সেখানে তারাই আছে যারা কথা বলে এবং পূর্বজ্ঞান অথবা কোনো জ্ঞান ছাড়াই প্রকাশ করে একটি সত্যকে যা তারা নিজেই বোঝে না।
এবং সেখানে তারাই আছে যাদের সত্য থাকে তাদের ভেতরেই কিন্তু তারা তা প্রকাশ করতে পারে না কথায়।
হৃদয়ের ভেতরে এই সবকিছুর মতো উদ্দীপনাও ছন্দময় নীরবতার ভেতরে বসবাস করে।
যখন রাস্তার পাশে অথবা বাজার-এলাকায় বন্ধুর সঙ্গে তোমাদের দেখা হয় তখন তোমাদের ভেতরের উদ্দীপনাকে দাও তোমাদের ওষ্ঠগুলি সচল রাখতে এবং পরিচালনা করতে তোমাদের জিভ।
তোমাদের কণ্ঠস্বরের ভেতরের কণ্ঠস্বরকে দাও তার কর্ণকুহরের কর্ণকুহরে কথা বলতে, কারণ তার আত্মা তোমাদের হৃদয়ের সত্যকে রক্ষা করবে যেভাবে পুরোনো মদের স্বাদ স্মরণে আসে।
যখন রঙ বিস্মৃত হয় তখন আর কোনো জলযান নেই।
