কিন্তু তারা কেমন আছে যাদের কাছে জীবন সমুদ্র নয় এবং মানুষের তৈরি আইন নয় কোনো বালির সৌধ,
তাদের কাছে জীবন হল একটি পাথরখণ্ড এবং আইন হচ্ছে একটি বাটালি, যা দিয়ে সেই পাথরটাকে তারা নিজের ইচ্ছামতো খোদাই করে?
পঙ্গু লোকটির খবর কী, যে নৃত্যশিল্পদের ঘৃণা করে?
সেই ষাঁড়টি কেমন আছে যে তার জোয়াল ভালোবাসে এবং বিশ্বাস করে অরণ্যের এলক ও হরিণেরা পথভ্রষ্ট এবং ছন্নছাড়া প্রাণী?
সেই বৃদ্ধ সাপটি কেমন আছে যে তার নিজের খোলস বদলাতে পারে না কিন্তু অন্য সবাইকে নগ্ন ও নির্লজ্জভাবে আহ্বান জানায়?
এবং সেই ব্যক্তি কেমন আছে যে বিয়ের ভোজপর্বে আগেভাগে আসে এবং অতিভোজন ও ক্লান্তি যখন তার পথে চলে যায় তখন সে বলে প্রতিটি ভোজপর্বই এক-একটি নিয়মভঙ্গের অনুষ্ঠান এবং যারা ভোজ খায় প্রত্যেকেই আইনভঙ্গকারী?
আমি তাদের সম্পর্কে কী বলব যারা সূর্যের দিকে পিঠ দিয়ে সূর্যালোকে দাঁড়িয়ে থাকে?
তারা শুধুমাত্র নিজের ছায়া দেখতে পায় এবং তাদের ছায়াই হচ্ছে তাদের আইন।
এবং সূর্য কি তাদের কাছে একটি ছায়া ধারণকারী ধাতব পাত্র?
এটা কি আইনের সত্যতা স্বীকার করা নিম্নমুখী হতে এবং তাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করতে মাটির ওপরে?
কিন্তু তোমরা যারা সূর্যের মুখোমুখি হাঁটো, কী প্রতিমূর্তি মাটিতে অঙ্কিত হয় যা তোমাদেরকে ধরে রাখতে পারে?
তোমরা যারা বাতাসের সঙ্গে পর্যটনে যাও কোন্ পক্ষিমূর্তি তোমাদের গতি পরিচালনা করবে?
কোন মানুষের আইন তোমাদের বন্ধনে আবদ্ধ করবে যদি তোমাদের জোয়াল তোমরা ভেঙে ফ্যালো কিন্তু তা কোনো কারাবন্দির দরজার ওপরে নয়।
কোন্ সেই আইন যার জন্য তোমরা নাচতে ভয় পাবে, তবে নাচতে নাচতে কোনো মানুষের লোহার শিকলে হোঁচট খেও না?
এবং কে সে, যে তোমাদেরকে বিচারের জন্য নিয়ে আসবে যদি তোমরা তোমাদের পোশাক ছিঁড়ে ফ্যালো, যদিও তা পরিত্যক্ত হয় না মানুষের পথের ওপর?
হে অর্ষালিজবাসী, তোমরা এখন ঢোলের শব্দ থামাতে পারো এবং ঢিলে করতে পার বীণার তার, কিন্তু কে এখন গান না গাইতে আদেশ দেবে ভরতপাখিকে?
.
একজন বক্তা বলল, আমাদেরকে স্বাধীনতা সম্পর্কে বলুন।
এবং তিনি উত্তরে বললেন : নগর-তোরণের সামনে এবং তোমাদের অগ্নিকুণ্ডের পাশে আমি দেখেছি নিজেদেরকে মাটিতে উপুড় করে তোমরা শুইয়ে দাও এবং উপাসনা করো নিজস্ব স্বাধীনতার।
যেমন দাসেরা নিজেদের বিনয়ী করে তোলে একজন প্রজাপীড়ক শাসকের সম্মুখে এবং তার মহিমাকীর্তন করে, যদিও তার হাতেই তারা খুন হয়।
হ্যাঁ, মন্দিরের কুঞ্জবনে এবং নগরদূর্গের ছায়ায় আমি দেখেছি তোমাদের মাঝে সবচেয়ে স্বাধীন মানুষ নিজের স্বাধীনতা হিসেবে জোয়াল ও হাতকড়া পরিধান করে আছে।
এবং আমার হৃদয়ের ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়, কারণ তোমরা তখনই শুধুমাত্র স্বাধীন হতে পারবে যখন স্বাধীনতা রক্ষার আকাঙ্ক্ষা পরিণত হবে তোমাদের কাছে একটি ভারবাহী পশুর সাজপোশাকে এবং যখন তোমরা লক্ষ্য ও পরিপূর্ণতা হিসেবে স্বাধীনতা সম্পর্কে বলাবলি থেকে বিরত থাকবে।
তোমরা প্রকৃতঅর্থেই স্বাধীন হবে যখন তোমাদের দিনগুলি পরিচর্যাহীন নয়, রাত্রিগুলি নয় অভাব ও দুর্দশামুক্ত।
কিন্তু এই সবকিছুই তোমাদের জীবনকে ঘিরে রাখে এবং তা সত্ত্বেও তোমরা তাদের ওপরে বেড়ে ওঠো উলঙ্গ ও বন্ধনহীন।
এবং কীভাবে তোমরা বেড়ে উঠবে তোমাদের দিন ও রাত্রির ওপরে যদি-না তোমরা শৃঙ্খল ভেঙে ফ্যালো, যা তোমাদের বোঝাবুঝির ভোরবেলায় একত্রিত করেছ তোমাদের পুরোটা দুপুর জুড়ে।
সত্যের ভেতরে তোমরা যাকে স্বাধীনতা বলে ডাকো তা হচ্ছে এসব শৃঙ্খলের সর্বোচ্চ শক্তি, যদিও এই শক্তি সূর্যালোকে ঝকমকিয়ে ওঠে এবং তীব্র আলোতে তোমাদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়।
.
এবং এটা কি কেবলই তোমাদের নিজস্ব আত্মার সুগন্ধ যা আগ্রাহ্য করে তোমরা স্বাধীন হতে পারো? যদি এটা হয় একটা অন্যায় আইন যা তোমরা বিলোপ করেছ কিন্তু আইনটি লেখা হয়েছিল তোমাদের নিজের হাতে নিজের ললাটের ওপর।
তোমরা তা মুছে ফেলতে পারো না তোমাদের আইনগ্রন্থগুলো পুড়িয়ে ফেলে, ধৌত করতে পারো না তোমাদের বিচারকদের ললাট, যদিও তোমরা তাদের ওপর সমুদ্র ঢেলে দাও।
এবং এটা যদি হয় একজন স্বৈরশাসক, তোমরা যাকে সিংহাসনচ্যুত করো, লক্ষ্য করো, তার সিংহাসন তোমাদের ভেতরে উত্থিত হয়েই আবার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
একজন অত্যাচারী শাসক কীভাবে শাসন করতে পারে স্বাধীন এবং গর্বিতদের, যদি তাদের নিজস্ব স্বাধীনতার ভেতরে নিপীড়ন এবং নিজস্ব গর্বের ভেতরে লজ্জা না থাকে?
এবং এটা যদি হয় পরিচর্যা তোমরা যা প্রত্যাখ্যান করো, সেটাই তোমরা পছন্দ করেছ তোমাদের ওপর আরোপিত পরিচর্যার চেয়ে।
এবং এটা যদি ভীতি হয় যা তোমরা দূর করে দাও, তাহলে সেই ভয়ের আসন হচ্ছে তোমাদের হৃদয়ে, যা ভীত মানুষের হাতে নয়।
প্রকৃতঅর্থে সবকিছুই তোমাদের অস্তিত্বের ভেতরে চলাচল করে- অপরিবর্তনীয় অর্ধ-আলিঙ্গন, আকাঙ্ক্ষিত ও আতঙ্কিত, বেমানান ও যত্নে লালিত, অভিযুক্ত এবং সে কারণেই তোমরা মুক্ত হও।
এ সবকিছুই তোমাদের ভেতরে চলাচল করে আলো এবং ছায়ার মতো পরস্পরের সঙ্গে সেঁটে থেকে জোড়ায় জোড়ায়।
এবং যখন ছায়া বিবর্ণ হতে হতে আর ছায়া থাকে না তখন সেই আলো অন্য আলোর কাছে তাকে ছায়ায় পরিণত হতে বিলম্ব ঘটায়।
এবং এইভাবে তোমাদের স্বাধীনতা যখন তার শৃঙ্খল হারায় তখন নিজেই সে বৃহত্তর স্বাধীনতার শৃঙ্খলে পরিণত হয়।
