গণক : শাহান শাহ! ফাল ভাল নয়। শিশু-কিশোরদের বদ দোয়া তাড়াতাড়ি কবুল হয়। ঐ সত্তা যিনি সবাইকেপয়দা করেছেন সবার ইনসাফ করেন।
রডারিক : আমি জানি তোমার হাতে এ ক্ষমতা রয়েছে যে তুমি সে বদ ফলকে প্রতিহত করতে পারবে। এটা তো ঐ জাদুর প্রভাব যার স্রষ্টা ইহুদীরা আর তুমি কেবল ইহুদীদের গুরুই নও, গণকও বটে। আমি তোমাকে মহলে যে মর্যাদা দান করেছি তার উপযুক্ত কোন ইহুদীকে আমি মনে করি না। তুমি কেবল একক ইহুদী ব্যক্তিত্ব যাকে আমি এত সম্মান দান করেছি।
গণক : এ গোলাম কি এ সম্মান পাওয়ার উপযুক্ত নয়? এতটুকু ইজ্জত কি তার হক নয়?
রডারিক : নিশ্চয় রয়েছে। আমি তোমাকে এর চেয়েও বেশী ইনয়াম দেব… তুমি ফাওরান এক কাম করে দাও। এমন তদবীর কর যাতে ঐ লাড়কী স্বপ্নে যেন আমার কাছে না আসে, আর আমার অন্তর হতে যেন তার ভয় বিদূরিত হয়, এমন যেন না হয়, যে আমি হামলাকারীদের মুকাবালায় গেলাম আর আমার অন্তরে ভীতি সঞ্চার হলো।
এ ঘটনা যে ঐতিহাসিকরা বর্ণনা করেছেন তারা লেখেন, রডারিক একজন অত্যন্ত সাহসী বাদশাহ ছিল। যুদ্ধের ময়দানে ছিল বীরবাহাদুর। কিন্তু ঐ কিশোরীকে হত্যা করার পর হতে তার মাঝে ভয় বাসা বেঁধে ছিল আর সে হয়ে পড়েছিল ভীতুর ডিম। ঐগণক জাদুতে পারদর্শী ছিল তাছাড়া ভবিষ্যৎ সম্পকে যে খবর দিত এ কারণে রডারিক তাকে মহলে রেখেছিল।
ইহুদীগণক রডারিকের মাথা হতে মুকুট উঠিয়ে নিজের কোলের ওপর রাখল এবং তার মাথাকে দুহাতে ধরে একটু উঁচু করে বাদশাহর চোখে চোখ রাখল তার পর তার হাতের দুটো আঙ্গুটি বাদশাহর মাথায় বুলাতে লাগল। এ রূপ কয়েক মিনিট করে রডারিকের মাথা ছেড়ে দিল। বাদশাহ্ ডানে-বামে ফিরে দেখল।
রডারিক : আমি বিশেষ একটা কিছু অনুভব করছিলাম।
গণক : আমি জানি শাহানশাহ্! আপনি তা করবেন। এখন আর ঐ লাড়কী বাদশাহ্ নামদারের খাবে আসবে না, চিন্তা-চেতনাতেও না, আর দিল থেকে তার ভয় বিদূরিত হবে।
রডারিক : বাকী কাজ? তুমি বলেছিলে এ ফাল ভাল নয় তার প্রতিকার কিভাবে করবে?
গণক : বাদশাহ নামদার! আপনি কি আমাকে নব যৌবনা লাড়কী ব্যবস্থা করে দিতে পারেন?
রডারিক : একজন নয় একশ জন দিতে পারব। বল বয়স কত হতে হবে?
বৃদ্ধ গণক : একুশ বছরের কম বয়স হতে হবে। আর ঐ লাড়কী আমার জন্যে নয়। তাকে জীবিত রাখা যাবে না। আজ রাত হবে তার জীবনের শেষ রাত। তার কলিজাসহ শরীর হতে আরো কিছু বের করে তার ওপর জাদুর আমল করব।
রডারিক তাৎক্ষণিকভাবে মেরীনাকে আহ্বান করল।
রডারিক : তুমিএক, লাড়কীর কথা বলেছিলে, বলেছিলে তার বয়স কম অর্ধ ফোঁটা কলি,তার বয়স কত?
মেরীনা : মোল-সতের বছর শাহানশাহ!
রডারিক : তাকে আজ রাতে এ গণকের কাছে অর্পণ করবে।
মেরীনা : আমাকে বাদশাহ্ নামদার তার সাথে যাবার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
রডারিক : আমার সাথে তোমার যাবার প্রয়োজন নেই। গণকের নির্দেশ মুতাবেক রাত্রি বেলা ঐ লাড়কীকে নিয়ে উপস্থিত হবে। তারপর রডারিক বৃদ্ধ গণককে লক্ষ্য করে বলল ঐ লাড়কীকে সাথে নিয়ে যাও তাকে ভাল করে বুঝিয়ে দেবে সে কি করবে।
মেরীনা বৃদ্ধ ইহুদীর অনুগামী হলো।
***
রাতের প্রথম প্রহর কিছুটা অতিবাহিত হয়ে গেছে। মেরীনা এক খুব সুরত লাড়কীকে নিয়ে বৃদ্ধ ইহুদীর কামরায় প্রবেশ করল। মেরীনা রডারিকের নির্দেশ মুতাবেক যখন ঐ বৃদ্ধ ইহুদীর সাথে মহলে এসেছিল তখন সে বৃদ্ধকে বলেছিল বাদশাহ আপনাকে অত্যন্ত মূল্যবান ইনয়াম দিয়েছে। এ লাড়কীকে তো সে শাহানশাহর জন্যে নির্ধারণ করেছিল আর বাদশাহর সাথে তাকে যাবার কথা ছিল।
বৃদ্ধ গণক : তুমি কি কখনো কোন আওরতকে আমার কামরায় যাতায়াত করতে দেখছো? আমিএ বয়সে নওজোয়ান লাড়কী কি করব। এ লাড়কীকে আমার অন্য কাজে প্রয়োজন। তা রাতে বলল, তোমাকে সতর্ক থাকতে হবে কারো কাছে তা ফাস করা যাবে না। এ গোপন খবরের মূল্য তোমার জীবন। নিশ্চয় তুমি তোমার জীবন খতম করতে চায়বে না।
ঐ লাড়কী যখন মেরীনার সাথে জাদুকর ইহুদীর কামরাতে প্রবেশ করল তখন ভয়ে চমকে উঠে মেরীনাকে জড়িয়ে ধরল। সম্মুখে একটা টেবিলে তিনটি মাথার খুলি পড়ে ছিল। আর দেয়ালে ছিল মানুষের কংকাল ঝুলান। বৃদ্ধ ইহুদী একটা বাক্সের ঢাকনা খুললে তার মাঝে দুটো সাপ ফনা পেতে উঠলে কিশোরী চিৎকার দিয়ে উঠল।
কামরার মাঝে লাশ পচা দূর্গন্ধ। তবে সেখানে কোন লাশ ছিল না। এ দুর্গন্ধ রসায়নিক দ্রব্যাদির ছিল। সে কামরাতে নানা ধরনের জিনিস পত্র পুড়ান হতো। কামরার সার্বিক অবস্থা ছিল ভীতিকর। মেঝেতে কিছু পুটলা এলোমলো ভাবে পড়েছিল। এ কামরার বৃদ্ধই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাপড়-চোপড় পরে সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে বাহিরে বের হয়। সে এ কামরাতে প্রবেশ করা মাত্র তার রূপ পাল্টে গেল। তাৎক্ষণিকভাবে হিংস্র রূপ ধারণ করল।
বৃদ্ধ ইহুদী আরো একটা কামরা খুলে দিয়ে মেরীনাকে বলল, ঐ লাড়কীকে এ কামরাতে বসিয়ে তুমি চলে এসো। মেরীনা কিশোরীকে ঐ কামরাতে নিয়ে গেল। কামরাটা তুলনামূলক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিল। একটা পালং, তাতে মূল্যবান ও অত্যন্ত সুন্দর বিছানা বিছান। ফ্লোরে মূল্যবান কার্পেট পাতা। ছাদের সাথে রওশন ফানুস লাগান। তবে অন্য কামরার দূর্গন্ধ এ কামরাতেও রয়েছে।
