মহারাজা রাজ্যপাল নারী লোভী। রাজিয়া খুবই সুন্দরী যুবতী। ইসলাম ধর্ম প্রচারের নামে সে রাজপ্রাসাদে যাবে এবং সুযোগ মতো মহারাজার খাস কামরায় ঢুকে পড়বে। যেহেতু রাজিয়া কমান্ডার যুলকারনাইনের স্ত্রী এজন্য তাকে দেখে মুগ্ধ হলেও মহারাজা তার প্রতি হাত বাড়াবে না। কিন্তু রাজিয়াকেই উদ্যোগী হয়ে নিজের রূপ সৌন্দর্য দিয়ে মহারাজাকে তার প্রতি আকৃষ্ট করে তুলতে হবে, যাতে মহারাজা বুঝে যে, রাজিয়া নিজেই স্বেচ্ছায় মহারাজাকে সঙ্গ দিয়ে ধন্য হতে চাচ্ছে। তাহলে একান্তে মিলনের জন্য রাজাই এগিয়ে আসবে।
রাজিয়া তার শাড়ীর আঁচলে একটি ধারালো খঞ্জর লুকিয়ে রাখবে। সুযোগ মতো সেই খঞ্জর দিয়ে রাজাকে হত্যা করে ঘরে এসে স্বামীকে হত্যা করবে। উভয়ের হত্যাকাণ্ড সমাপ্ত হলে সোজা মন্দিরে চলে আসবে। মন্দিরে এলে পুরোহিত তাকে দূরে কোথাও নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন।
ঋষি মহারাজ! আমি কি এতোটা সাহসী হতে পারবো? কীভাবে খুন করবো আমি? আমার তো হাত কাঁপবে! বললো রাজিয়া।
সন্ন্যাসী তার পাশে রাখা একটি বাক্স হাতড়িয়ে একটি কৌটা বের করল এবং তা থেকে কিছুটা তুলার মতো বের করে একটি কাপড়ের টুকরোতে বাঁধতে বাঁধতে বললো- তুমি যখন রাজাকে হত্যার উদ্দেশ্য ঘর থেকে বের হবে তখন এক গ্লাস পানিতে এই তুলাটি ভিজিয়ে পান করে নেবে। দেখবে তোমার মধ্যে সাহস এসে যাবে। কোনরূপ ভয়-ভীতি থাকবে না।
সেই দিন রাতের বেলায় গোবিন্দ রাড়ির প্রধান মন্দিরে বসা ছিল। তার সামনে দু’জন হিন্দু মহিলা তাকে বলছিল- রাজিয়া দিনের বেলায় তাদের সাথে নদীতে যাওয়ার পরিবর্তে ঘরে ফিরে এসেছিল।
সে আমাকে কোনরূপ সন্দেহ তো করেনি? জিজ্ঞেস করল গোবিন্দ।
আরে আমরা তো আপনাকে আগে থেকেই জানতাম, তার পরও আমাদেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না যে, সেই সন্ন্যাসীরূপী লোকটি আপনিই বললো এক মহিলা।
আপনার এই সন্ন্যাসীরূপ ধারণ ছিল অকৃত্রিম। আপনার কাজে আপনি শতভাগ উত্তীর্ণ হয়েছেন। এরপর আমরাও রাজিয়াকে কয়েকটি কাহিনী শুনিয়ে এ কাজে সম্মত করিয়ে ফেলেছি- বললো অপর মহিলা।
রাজিয়াকে এই হত্যাকাণ্ডে রাজি করানোর জন্যে এতো জল ঘোলা করার প্রয়োজন ছিল না। কারণ ধর্মান্তরিত হওয়ার অনুশোচনায় সে এমনিতেই দগ্ধ হচ্ছিল। সে খুঁজে ফিরছিল স্বধর্মে ফিরে গিয়ে পাপ স্খলনের একটা উছিলা। সন্ন্যাসীরূপী গোবিন্দের কথার মধ্যে সে পাপ স্খলনের উছিলা দেখতে পাচ্ছিল।
রাজিয়ার স্বামী যুলকারনাইন তাকে হিন্দু মেয়েদের মধ্যে ইসলাম প্রচারের দায়িত্ব দিয়েছিল। কিন্তু অপরিপক্ক রাজিয়া যখন হিন্দু মেয়েদের সাথে মিশতে শুরু করল, তখন হিন্দু মেয়েরা তার মধ্যে বাপদাদার ধর্মকেই পুনরুজ্জীবিত করল। রাজিয়া তার পৈতৃক ধর্মমতকেই পুনরায় আবিষ্কার করল এবং হিন্দু ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হলো। ইসলাম ধর্ম প্রচার দুরের কথা, ইসলামের কোন কথাই সে কোন দিন হিন্দু মহিলাদের কাছে উচ্চারণ করতে পারেনি।
পরদিন নানা কাজের চাপে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত যুলকারনাইন রাতে ঘরে ফিরে ক্লান্তির কারণে শুয়ে পড়লো। অল্পক্ষণের মধ্যেই সে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। রাজিয়ার প্রতি ঘুনাক্ষরেও কোন দিন যুলকারনাইনের মধ্যে সন্দেহের উদ্রেক হয়নি। ফলে তার আস্থা পরীক্ষার কোন প্রয়োজনও সে কোন দিন বোধ করেনি।
কিন্তু দিনের বেলায় সন্যাসীর ভবিষ্যদ্বাণী রাজিয়াকে অস্থির করে তুলে ছিল । যুলকারনাইন ঘুমিয়ে পড়তেই রাজিয়ার মধ্যে জেগে উঠলো রত্মার বৈশিষ্ট্য। সে পাপ স্খলনের জন্যে মরিয়া হয়ে উঠলো।
সন্তর্পণে বিছানা ছেড়ে উঠে সন্ন্যাসীর দেয়া তুলা পানিতে ভিজিয়ে পান করল রাজিয়া।
এতক্ষণ তার মধে, যে ভয়, আতংক ও জড়তা ছিল তুলা ভেজানো পানি পান করার পর তার মন থেকে সব ভয় শংকা ও জড়তা দূর হয়ে গেল। এরপর রাজিয়া ঘর থেকে বেরিয়ে চাঁদের আলোয় পায়চারী করছিল সে। তখন নিজের মধ্যে একটা পাশবিক শক্তি উন্মাদনা টের পেলো সে। রাজিয়া অনুভব করছিল, যেন সে গযনী আক্রমণ করে সুলতান মাহমুদকে খুন করে ফেলবে।
এই ঘটনার এক দিন আগে রাজিয়া তার স্বামী যুলকারনাইনের সাথে বলেছিল, আগামী কাল থেকে সে রাজমহলে যেতে চায়, যাতে সেখানকার মহিলাদের মধ্যে ইসলাম প্রচার করতে পারে। রাজিয়ার কথা শুনে কমান্ডার যুলকারনাইন এই ভেবে খুবই খুশী হয়েছিল যে, তার প্রিয় স্ত্রী তার কথামতো হিন্দু মেয়েদের মধ্যে নিজ দায়িত্বে ইসলাম প্রচার করছে।
পরদিন যথারীতি রাজিয়া রাজমহলে গেল। রাজমহলের সবাই জানতো রাজিয়া কমাণ্ডার যুলকারনাইনের স্ত্রী। রাজিয়া মেয়েদের এঘর সে ঘর ঘুরতে ঘুরতে সুযোগ বুঝে মহারাজা রাজ্যপালের কক্ষে চলে গেল। রাজা তাকে দেখে খুব খুশী হলেন। খুশীর কারণ এই নয় যে, রাজিয়া তার উপদেষ্টা কমান্ডার যুলকারনাইনের স্ত্রী। খুশীর মূল কারণ রাজিয়া যুবতী এবং অস্বাভাবিক সুন্দরী। রাজা রাজিয়াকে পরম আগ্রহে ও সম্মানে তার পাশে বসাল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা উভয়ে একে অন্যের সাথে এমন অন্তরঙ্গ ভাবে কথাবার্তা বলতে লাগল যেন অনেক দিন থেকে তারা পরস্পরের পরিচিত। রাজিয়ার মধ্যে অপরিচিতের দূরত্ব দূর হয়ে যাওয়ার বড় কারণ হলো সে ছিল মূলত হিন্দু। আর মনে প্রাণে সে হিন্দুই থেকে গিয়েছিল। ফলে একজন জাত হিন্দুর সাথে তার হৃদ্যতা তৈরী হতে বেশী সময় লাগেনি। তাছাড়া রাজিয়া ছিল
