১৩। অটোম্যান সাম্রাজ্যের যে সব বিবরণ আমরা পেয়েছি তন্মধ্যে ইনে বতুতার বিবরণ হচ্ছে প্রথম শ্রেণীর। ১৩২৬ খ্রীষ্টাব্দে ক্ৰসা তুর্কিদের হাতে সমর্পিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটা ছিল হজরত ওসমানের মৃত্যুর বহুর-এবং নাইসিয়ার পতন ঘটে ১৩২৯ খ্রষ্টাব্দে। কিন্তু উভয় নগরের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয় আরো অনেক আগে (এইচ, এ, গিবসের ফাউন্ডেশন অব দি অটোম্যান এম্পায়ার, ৪৬-৮ দ্রষ্টব্য)। ওসমানকে ওসমান চুক নাম দেওয়া হয়েছে এ সম্বন্ধে প্রফেসর ক্রেমার্স বলেছেন যে এটা আরবী নাম ওসমান থেকে আসেনি–এসেছে কিজিল আরমাক তীরে অবস্থিত ওসমানজি দূর্গের নাম থেকে (জে ডি, এস, জি, ৮১, LXI f.)।
১৪। মূল গ্রন্থে যে বাক্যটি নেওয়া হয়েছে, যেমন আমরা তার প্রতি সদয় ব্যবহার করেছি” এর স্থানে আমি শ্রেষ্ঠ পাণ্ডুলিপির এ লেখাটি পছন্দ করি।
১৫। ডেফ্রিমেরী বালুকে কাষ্টামুনির দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বয়ালুর সঙ্গে একত্র করছেন।
১৬। অধিক সাধারণভাবে বলা হয় সলঘট, এখন ক্রিমিয়ার অভ্যন্তরে ষ্টারিক্রিম। এ সময়ে এটা ছিল ক্রিমিয়ার মোঙ্গল শাসনকর্তার আবাসস্থান। এর পরে এটা হয়েছিল স্বাধীন বানাতের বাসস্থান।
১৭। কিপচাকের কিম্বা গোল্ডেন হোর্ডের খানাত ছিল চারটি প্রধান খানাতের সর্ব পশ্চিমে অবস্থিত। স্থাপিত হয়েছিল তেরো শতাব্দীতে-এবং এ সময়ে এটা ভাগ হয়েছিল র হোর্ড এবং হোয়াইট হোর্ড নাম দুই ভাগে। যদিও পরবর্তী ব্লু হোর্ড প্রকৃতপক্ষে অধিক শক্তিশালী ছিল এবং এদের অধিকার বিস্তৃত ছিল কি এবং ককেশাস থেকে আরাল সমুদ্র খিতা পর্যন্ত। সুলতান মোহাম্মদ উজবেগ যিনি ১৩১২ থেকে ১৩৪০ পর্যন্ত রাজত্ব করেছেন তিনি ছিলেন বু হোর্ডের খানদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।
১৮। কাফা এখন ফিও ডোসিয়া নামে পরিচিত। তেরো শতাব্দীর শেষ দিকে জিওনিগণ কৃষ্ণ সাগরের উত্তর তীরবর্তী প্রধান বাণিজ্য ঘাঁটি রূপে পুননির্মাণ করেছিল।
১৯। মুসলিমগণ ঘণ্টাধ্বনিকে মহাপাপ কার্য বলে ঘৃণা করেন। এবং এ কথা পয়গম্বরের উপদেশ বলে মনে করেন যেঃ “যে গৃহে ঘন্টা বাজে সেথানে ফিশতাগণ প্রবেশ করেন না।”
২০। এটাকে আমি গ্রহণ করছি মিয়া নদীর মোহনা বলে। এটা ত্যাগানরগের পশ্চিমে। ২১। ধর্মীয় খয়রাত্ বা জাকাত হচ্ছে শতকরা আড়াই টাকা।
২২। মাজারের ধ্বংসাবশেষ (এখন বার্গোমাজ ডারি) কুমা নদীর তীরে অবস্থিত, আখানের দক্ষিণ-পশ্চিমে, জার্জওয়াস্কের ১১০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ৪৪.৫০ উত্তরে, ৪৪.২৭ পূর্বে।
২৩। বেশতো হচ্ছে ককেশাশের অন্যতম পাদ-পবর্ত। এটা একটি অরণ্যময় পর্বত, ১৪০০ মিটার উঁচু পিয়াতিগরকের ঠিক উত্তরে, জর্জিয়কির প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।
২৪। বাইজেন্টাইন ঐতিহাসিকদের বিবরণে তৃতীয় এড্রোনিকাসের (১৩৩১ সালে এর বয়েস ছিল পঁয়ত্রিশ বছর) মেয়েকে গোল্ডেন হোর্ডের একজন খানের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনার কোন উল্লেখ নেই। তবে এর পূর্বের অন্ততঃ দুটি দৃষ্টান্ত রয়েছে। সন্তানের অবৈধ কন্যাদেরকে তারত্তার প্রধানদের কাছে বিয়ে দেওয়া হতো।
২৫। বুলঘারের ধ্বংসাবশেষ অবস্থিত রয়েছে ভলগা নদীর বাস তীরে কামা জংশনের ঠিক নিম্নে। এটা ছিল মধ্যযুগের গ্রেট বুলগেরিয়া রাজ্যের রাজধানী। তেরো শতাব্দীতে মোঙ্গলগণ এটা নিজেদের অধিকারে সংযোজিত করে নেয়। রাশিয়ান এবং সাইবেরিয়ান উৎপন্ন দ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জন্য এ স্থানটির যথেষ্ট গুরুত্ব ছিল। এ কথা বুঝা খুব শক্ত যে মাজার থেকে বুগার। পর্যন্ত ইব্নে বতুতা কি করে দশদিন সময়ে পর্যটন করেছিলেন-কারণ এ দুটি স্থানের মাঝখানের পথ ৮০০ শত মাইল।
২৬। এ শব্দটি উত্তর সাইবেরিয়া সম্বন্ধে ব্যবহৃত হয়। ইউসের মার্কোপলোর ২য় খণ্ড, ৪৮৪-৬ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
২৭। ইউসের মার্কোপলোর (২ খণ্ড, ৪৮৮) একটি টীকায় বলা হয়েছে যে মধ্যযুগীয় লেখকগণ যে প্রসিদ্ধ শহরের নামটি বারংবার উল্লেখ করেছেন সেটা এই ইউকাক শহর নয়। এটা ভগার তীরে সারাটোভের ছয় মাইল নিয়ে অবস্থিত ছিল। কিন্তু এটা লোকাচি কিম্বা লোেকাক রূপে উল্লেখিত আজব সমুদ্র তীরে একটি ক্ষুদ্র স্থান। এখানকার রূপার খনি সম্বন্ধে ইব্নে বতুতা বলেছেনঃ “মিয়াস নদীর নিকটে বিশেষ নকল রূপার খনি (আজব সমুদ্রে পতিত একটি নদী। এটা টেগানরগের ২২ মাইল পশ্চিমে)….এই খনি থেকে তোলা রূপায় রাশিয়ার রুব প্রস্তুত হতো।
২৮। ক্রিমিয়ার অন্তর্গত সুরদা সুরদা বা সুলদায়া, এখন সুদাক। এ স্থানটি কাফার (টীকা ১৮ দ্রষ্টব্য) অভ্যুত্থান কাল পর্যন্ত ইউসিনের উত্তর উপকুলের প্রধান বাণিজ্য বন্দর ছিল। দলটি “কেন যে ক্রিমিয়ার ভিতর দিয়ে ঘুর পথে গিয়েছিল সেটা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে না। খুব সম্ভব ইব্নে বতুতা তার পথের বিবরণে গোলমাল করে ফেলেছেন এবং স্ট্যারি ক্রিমে অবস্থানকালে সুরদাকে গিয়েছিলেন।
২৯। মন্দিরটির অবস্থান স্থলের কোনো সুনির্দিষ্ট আভাস নেই। ইব্নে বতুতার বর্ণনা অনুসারে স্থানটি ছিল নিপার এবং ক্রিমিয়ার মাঝখানে কোনো এক জায়গায়। বলা হয়েছে এই বাবা সালতুক (১৩৮৯ সালে মার্জিয়ার অন্তর্গত বাবা দাঘে নির্বাসিত হয়েছিলেন) থেকে সারি সাতিক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়েছিল। বেশী সম্প্রদায়ের সঙ্গে এর সংযোগ ছিল (এফ, ডরিও, হ্যাঁলাকের Ann. Brit. Sch. Athens XIX, ২০৩-৬; XX, ১০৭, টীকা ১ দ্রষ্টব্য)।
