৫। ফুতুয়া’ নামীয় প্রতিষ্ঠানগুলির ইতিহাস এখনো প্রচ্ছন্ন রয়েছে। বিন্নি আকারে এদের প্রথম দেখতে পাওয়া যায় বারো শতাব্দীতে-এর উৎপত্তি বলা যেতে পারে সূফী কি দরবেশ সম্প্রদায়। ফুতুয়া”পৌরুষেয় শব্দটি বহুকাল ধরে প্রয়োগ করা হয়েছে দরবেশদের ব্যাপারে। এর নৈতিক অর্থ হচ্ছে ক্ষতি থেকে নিরস্ত থাকা-বিনা দ্বিধায় দান করা এবং কোনো অভিযোগ না করা। আর সূফীর নিদর্শন তালীযুক্ত জামাকে তারা লেবাস আল-ফুতুয়া পৌরুষেয় পোশাক। এটা খুব কড়াভাবে প্রয়োজিত করা হতো “ধর্মযোদ্ধা” দলের ব্যাপারে। বিশেষ করে এ “ধর্মযোদ্ধাগণ যখন অধপতিত হয়ে পড়েন, নিদর্শন দ্বারা এবং হজরত আলী থেকে এবং উৎপত্তির দাবীর দ্বারা সেটা সম্ভবতঃ সেই দলের নির্দশন যেটা কল্পণাপ্রবণ খলিফার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আনাতোলিয়ার অবশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি মনে হয় স্থানীয় ব্যবসায়ী দল। এতে ছিল সূফিবাদের খুব একটি প্রবল সংমিশ্রণ। আর এতে ছিল স্থানীয় স্ব-শাসনের এবং তুর্কি সুলতানদের অত্যাচার প্রতিরোধের একটি প্রবণতা (সাধারণভাবে বর্ণিং, তুর্কি বিরলিওথেক, ব্যাও ১৬, বার্লিন ১৯২৩)। এবং ওয়াসিফ বাওট্রস মালী ল্য ট্রেডিশন শেভালেরেস্ কদা আরাবিস্ (প্যারিস্ ১৯৯১ সন পৃঃ ১-৩৩)।
৬। এ অংশটির মানে হচ্ছে এই যে এসারদিরগু এবং কিরিলি-গুল পাড়ী দিয়ে নৌকা যোগে (বেশাহরের হ্রদ, এটা এগারদিরগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলে ইনে বতুতা মনে করেন) আকশাহর এবং বেশাহর-এ পৌঁছানো যায় দু দিনে। ডেফ্রিসেরি মনে করেন যে এই আকাশাহর আশাহর নয়, এটা হচ্ছে আওশার শহর বা আশার এগারদিরগুলোর নিকটবর্তী।
৭। ডেফ্রিমেরির মতে গুল-হিসার ছিল একটি ক্ষুদ্র দূর্গ। পরে এটা ধ্বংস করা হয়। বুলছুর হ্রদের প্রাণে এটা অবস্থিত ছিল। অন্যদিকে লা ষ্ট্রেজ এর অবস্থান স্থল নির্দিষ্ট করেছেন ইষ্টনোজের পশ্চিমে সগু-গুলের ধারে।
৮। উপরে উল্লেখিত ৫ টীকা দ্রষ্টব্য
৯। এটা হচ্ছে সুপরিচিত মেলেডি ভ্রাতৃত্ব বা “নৃত্যপর দরবেশের দল”। এটা সংস্থাপন। করেছিলেন জালালউদ্দীন তার গুরু শাসি তাবুরিজের (ইব্নে বতুতার গল্পের মিষ্টি বিক্রেতা) স্মৃতির উদ্দেশ্যে। জালালউদ্দীনের মৃত্যু হয় ১২২৩ খ্রীষ্টাব্দে কোনিয়াতে। সাধারণতঃ তাকে ডাকাত দলে তখন এদের বেলায়ও এটা ব্যবহার করা হয়েছে। বারো শতাব্দীর মাঝামাঝি বাগদাদের এমনি একটি ডাকাত দলে ভর্তি হওয়ার অনুষ্ঠানে পায়জামার উল্লেখ করা হয়েছে। “লেবাসে আল ফুতুয়া” বলে (ইব্নে আখির ১১,৪১)। কিছু বছর পরে দামাস্কাসে ইব্নে জুবেইর নুবুইয়া নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। এ প্রতিষ্ঠানটি সিরিয়ার শিয়া সম্প্রদায়ের গোড়ামীর বিরুদ্ধে সগ্রাম করেছে। এই যোদ্ধাদলের নিয়ম ছিল যে, এর কোনো সদস্য যে কোনো প্রকার বিপদেই পতিত হোক না কেন তিনি কারো সাহায্যে নেবেন না। দলের মধ্যে উপযুক্ত লোক নেওয়া হতো এবং ভর্তি হওয়ার সময় দেওয়া হতো পায়জামা।
১১৮২ সালে একজন সূফি শেখ খলিফা আল নাসিরকে লেবাস বা পয়েতবম প্রদান করেন। সাহসী বীর ব্যক্তিদের একটি দল গঠনের ব্যাপারে তিনি ফুতুয়া সংগঠন করার ধারণা গ্রহণ করেন। (সম্ভবতঃ ফ্রাঙ্কিস আদর্শের উপরে)। তিনি নিজেকে স্থাপন করেন এ দলের প্রধান নায়ক এবং তার সময়ের শাসনকারী নরপতি এবং অন্য সব ব্যক্তিদের লেবাস প্রদান করতো দলের নির্দশন রূপে। এর সংস্থাপন অনুষ্ঠানে এই পবিত্র পায়জামা পরা হতো এবং “পৌরুষ পান পাত্রে” করা হতো “কাস্ আল-ফুতুয়া-এতে কোনো শারাব থাকতো না-থাকতো নিমক মিশানো পানি। এ দলটি তার সূফি পূর্ববর্তীদের কাল্পনিক বংশধারা গ্রহণ করেছিলেন যার প্রথম পুরুষ হিসেবে ধরা হয় খলিফা হজরত আলীকে (২ পরিচ্ছেদ ৪ টীকা দ্রষ্টব্য) এবং নাসিরের রাজত্বের কিছুকাল পর পর্যন্ত তারা টিকে থাকেন একটি অবসন্নকর অবস্থাতে। (কানিয়োতে ইব্নে বতুতা যে ভ্রাতৃসংঘ দেখেছিলেন যেটা আনাতোলিয়ার অন্য দল থেকে পৃথক করে দেখা। হয়েছে তার পায়জামার বিশেষ পার্শিয়ান সরজী কবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয়। (আর, এ নিকলসন সঙ্কলিত “সিলেটেড পোয়েস্ অব ফ্রম্ দিওয়ানই শামসি তাবরিজের ভূমিকা দ্রষ্টব্য)।
১০। বিরগী হচ্ছে পুরাকাহিনী পিজিয়ন। এটা কেষ্টার উপত্যকার অন্তর্গত। এখানে ইব্নে বতুতার বর্ণনার একটি সুস্পষ্ট ফাঁক রয়েছে। কতকগুলি শহর–পরিদর্শন ব্যতীত তিনি রচিত সমগ্র আনাতোলিয়া অতিক্রম করতে পেরেছেন–এমন কি যদি তিনি মধ্য মালভূমির ভিতর দিয়ে সিভাস থেকে সোজা পথ ধরেও চলতেন। খুব সম্ভব তিনি তার গতিপথ গ্রহণ করেন কিছু কোনিয়ার দিকে এবং সেখান থেকে এগারাদর ভিতর দিয়ে।
১১। এখানে ১৩৪৪ খ্রীষ্টাব্দে স্বার্ণা দখলের উল্লেখ করা হয়েছে (ইব্নে বতুতার পর্যটনের অনেক বছর পরে)। স্মার্ণা দখল করে ছিলেন ক্রুসেড সৈন্যগণ নাইটস্ অব্ সেন্ট জনের সাহায্যে।
১২। ফুজা (ফুগিয়া, পুরাকালীন ফুগিয়া) স্থানটি প্যালায় ব্রজিগণ জাকারিয়ার জিনোইজ পরিবারকে ছেড়ে দিয়েছিল। এটা ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ঘাঁটি। সেখানকার য়্যালুমিলস্ এবং কিয়োজের মাষ্টিক ব্যবসাতে জাকারিয়া পরিবারের পূর্ণ অধিকার কায়েস ছিল (এটা তারা দখল করেছিল ১৩০৪ খ্রীষ্টাব্দে)। এ সময়ের ফুজা পুরানো ফোসিয়া (এসৃকি ফুজা) ছিল কিম্বা নতুন ফোসিয়া (ইয়েনি ফোজা) ছিল সেটা সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়।
