৬। ইয়েমেন, আরাবিয়া ফেলিক্সের আরবী নাম-উঁচু মালভূমির উপরে অবস্থিত-দক্ষিণে এবং পশ্চিমে হঠাৎ উপকূল প্রান্তরে এসে নেমেছে। গ্রীষ্মকালের মৌশুমী বৃষ্টি বাধাপ্রাপ্ত হয় পর্বত মালায়, ফলে প্রধানতঃ কৃষি-নির্ভর। সর্বদা বিপুলভাবে সংস্কৃতি উপভোগ করেছে সমস্ত উপদ্বীপের অন্যদের চেয়ে বেশী। পুরাতন এবং বর্তমান রাজধানী সানা অভ্যন্তরভাগের পর্বতমালায় অবস্থিত। তাইজ অবস্থিত পাহাড়ের ধারের নিকট ৪,০০০ ফিট উপরে। রসুলিয়া রাজত্ব, যার পঞ্চম নরপতি ছিলেন আলী (১৩২১-৬৩ রাজত্ব কাল), নিজেদের মুক্ত করেছিলেন ১২৩৯ খ্রীষ্টাব্দে মিশর থেকে-এবং পনেরো শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত ইয়েমেন শাসন করেছেন।
৭। মুসলিম শাসকগণের মধ্যে একটি প্রথা প্রচলিত ছিল যে তারা বিদেশী দূত এবং গুণবান পর্যটকদের আহারের ব্যবস্থা করতেন কিম্বা তাঁদের খরচের পরিমাণ অর্থ দৈনিক দিতেন। সতেরো শতাব্দীতে চার্ডিন তার পারশ্য ভ্রমণ বৃত্তান্তে উল্লেখ করেছেন যে, “ইস্পাহানে শার। নিজ বাড়ীর সংখ্যা ছিল তিন শ’র উপরে। সেগুলি খুব বড় এবং সুন্দর এবং প্রায়ই খালি-যথেষ্ট সংস্কারের অভাবে ধ্বংসে নিপতিত। এগুলি বিদেশী দূত এবং সে সব বিশিষ্ট লোককে দেওয়া হয় যারা ইস্পাহানে আসে।” এর বদলে কতকগুলি ধর্মীয় সংস্থানের মধ্যেও স্থান সঙ্কুলান করা হয়েছে।
৮। ইসলাম জগতে এরূপ প্রথা প্রচলিত ছিল যে নরপতি একটি খোদাই কাঠের পর্দা ঘেরা স্থানে উপাসনা করতেন–একে বলা হত মাকসুরা কিম্বা ঘেরা স্থান। এ প্রথাটি গ্রহণ করা হয়েছিল নরপতির জীবনকে ঘাতকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য।
৯। আস্ সাওয়াহিল (উপকুল ভূমি’), এটা আরবদের প্রদত্ত উপকুলের একটি অংশের নাম, এ অংশটি এখন কেনিয়া এবং টাঙ্গানিয়া অঞ্চলে নামে পরিচিত- সোয়াহিলি ভাষা থেকে। এর উৎপত্তি। জাজ শব্দটির উৎপত্তি অজ্ঞাত–মধ্যযুগে এটা ব্যবহৃত হতো পূর্ব আফ্রিকার নিগ্রোদের বুঝার জন্য–এখনো জাঞ্জিবার নামে এটা রক্ষিত রয়েছে।
১০। এটার অর্থ মনে হয় প্রধান ভূখণ্ড থেকে দ্বীপটিতে যেতে দু’দিনের পথ নয় (এর থেকে এটা বিচ্ছিন্ন হয়েছে কেবল একটি সংকীর্ণ প্রণালী দ্বারা) বরং সোয়াহিল ভূমি দক্ষিণ দিকে শুরু করেছে দুদিনের পথ।
১১। পরিচ্ছেদ এগারোর ১৫ টীকা দ্রষ্টব্য।
১২। সাধারণ আয়ের এবং সাধারণ ব্যয়ের অন্তর্গত করার পরিবর্তে-যা প্রায়ই বার করা হতো।
১৩। ধোপারের পেছনে রয়েছে একটি উঁচু পাহাড় এতে এসে পড়ে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমী বৃষ্টি এবং তার ফলে স্থানটি ট্রপিক্যাল উদ্ভিদে আবৃত হয়। এর চারপাশের জনতা আরব নয়, সুদানি শ্রেণীর।
১৪। কুরিয়া-মুরিয়া শ্রেণীর একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ।
১৫। মুসলিম আইন অনুসারে মৃত্যুর পূর্বে জবেহ্ করা না হলে কোনো পশু খাদ্যের জন্য হালাল নয়।
১৬। মাসিরা দ্বীপ, পেরিপ্লাসের অজ্ঞাত লেখকের সারাপিস্ তখনকার দিনে এর কচ্ছপের জন্য প্রসিদ্ধ এবং তখনকার মতো এখনো “মাছ খেকো এক প্রকার দূর্ধর্ষ জাতির দ্বারা। অধ্যুসিত। এদের ভাষা আরবী এবং এরা খেজুর পাতার কোমর-বন্দ ব্যবহার করে। (স্যর, এ, টি, ওইস, জিজ, এফ, ৯,২৩৬-৩৭’ স্কফের পেরিপ্লাস্ থেকে উধৃত)।
১৭। সুর এবং কালহাট স্থান দুটি ওমানের দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত থাকার জন্য গুরুত্ব পেয়েছে। রাস-আল্-হাডের ঠিক উত্তরে আরবের প্রথম স্থান। ভারত থেকে আগত জাহাজ এখানে প্রথম ভিড়ে। কালহাট হচ্ছে মার্কোপলোর “কালাটু–এক সম্ভ্রান্ত নগর। বন্দরটি খুব বড় এবং ভাল, ভারতের মালবাহী বহু সংখ্যক জাহাজ এখানে আসে।” পতুর্গীজ যুগেও এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল।
১৮। খাস্ ওমান অভ্যন্তর ভাগে জেবেল আদারের ঢালুতে অবস্থিত।
১৯। স্থানীয় ঐতিহাসিকদের বিবরণ অনুসারে নাওয়ায় শাসনকারী ওমানের আজদাইত ইমামগণের অনুক্রমে ১১৫৪ এবং ১৪০৬ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে ছেদ পড়ে। এ সময়ে ধাহিরার অন্তর্গত মানিয়াতের একটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠি বানু নাভানগণ দেশের প্রভূ হয়ে বসেন। ইবনে বতুতার বিবরণ থেকে একথা সুস্পষ্ট যে নাওয়ায় আজদাই ইমাম বর্তমান ছিল কিম্বা ১৩৩২ খ্রীষ্টাব্দের পূর্বে পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল। (জি,পি, বেজার, ওমানের ইমাম এবং সিআইদ, ৩৭,৪১; ওয়েলষ্টে আরব ভ্রমণ ১ম খণ্ড, ২১৫)।
২০। ওরমুজের দ্বীপ, বন্দর আব্বাসের দক্ষিণ-পূর্বে। ১৫১২ খ্রীষ্টাব্দে, পর্তুগীজগণ এ বন্দরটি দখল করেন এবং ১৬২২ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত তাদের অধিকারে থাকে–তারপর ইংরেজদের সাহায্যে পার্শিয়ানগণ এটা পুনর্দখল করেন।
২১। “এই ভীষণ সংক্রামক ঝঞ্ঝাকে তারা বাদ সামাউন্ বলে। এর অর্থ হচ্ছে বিষাক্ত বাতাস। এই বাতাস প্রবাহিত হয় ১৫ই জুন এবং ১৫ই আগস্টের মাঝামাঝি। এই সময়টা গালফের নিকটে অত্যন্ত উত্তপ্ত। এ রকম তুফান আকাশে হু হু করে চলে। আকাশ তখন লাল এবং অগ্নিজ্বালা হয়। এ ঝড় লোকজন মেরে ফেলে এবং তাদের উড়িয়ে নেয়। একটি বিশেষ রকমে মানুষকে আঘাত করে, যেন তাদের শ্বাস রুদ্ধ করে এবং এটা বিশেষভাবে দিনের বেলা। ঘটে। এর অদ্ভুত ক্রিয়া ঠিক সাধারণ মৃত্যু নয়। যেটা অত্যন্ত বিস্ময়কর সেটা হচ্ছে এই যে, এর আক্রমণে দেহটা আলগা হয়ে যায়–কিন্তু তাতে বাহ্যিক আকারের কিছু হানি হয় না। মনে হয় যেন লোকটি ঘুমিয়ে রয়েছে। কিন্তু যখনি এই ঝড়ে নিহত লোকটির শরীরের কোনো অংশ হাতে ধরবেন তখন সে অংশটা আপনার হাতেই থেকে যাবে।” (চার্ডিন, পারস্য ভ্রমণ (১৯২৭)-১৩৬)।
