১৫। কারাবাগ অবস্থিত ছিল আরাস্ নদীর ওপারে তাবরিজের উত্তরে পার্বত্য জেলার মধ্যে (ক্লাভিজোর এই গ্রন্থমালার দ্বিতীয়ম্যাপ)। গ্রীষ্মকালে উচ্চভূমিতে গমন করার যাযাবর আভাস মংগল সুলতানগণ রক্ষা করে চলতেন।
১৬। ইব্নে বতুতা দেখা যাচ্ছে ১৩৪৭ খ্রীষ্টাব্দে তার প্রত্যাবর্তন কালে শিরাজ ভ্রমণের সঙ্গে প্রথম ভ্রমণকে জড়িত করে ফেলেছেন। নিচের উক্তি সমূহ অনুসারে ইনজু পরিবারের শেখ আবু ইসাক ১৩৩৫ খ্রীষ্টাব্দের পরবর্তী কাল পর্যন্ত শিরাজ অধিকার করেন নি-যখন তার আত্মীয় এবং পূর্ববর্তী শারাফ উদ্দীন শাহ মাহমুদ ইনজু মংগলদের হাতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ১৩৪৭-তে তিনি তার ক্ষমতার উচ্চস্তরে ছিলেন এবং ১৩৫৬ কি ১৩৫৭ খ্রীষ্টাব্দে তার প্রতিদ্বন্দ্বী পরিবার মুজাফাবিদগণ তাকে গ্রেফতার করেন এবং মেরে ফেলেন।
১৭। পারশ্যের সেসিষ্ণুনে সাসানিদ নরপতিগণের ইসলাম পূর্ব যুগের বিরাট প্রাসাদ-এর ধ্বংসাবশেষ এখনো দেখা যায় বোগদাদের কয়েক মাইল নিম্নে।
১৮। প্রসিদ্ধ গোলাপকুঞ্জের (গুলিস্তান) এবং অন্যান্য কবিতা গ্রন্থের রচয়িতা–মৃত্যু ১২৯১ খ্রীষ্টাব্দে।
১৯। জেডানকে বিকৃত করা হয়েছে একটি গ্রাম রূপে। আরাজান (এখন বিহুবিহান) এবং দায়রাকের (এখন ফালাহিয়া) মাঝখানে অবস্থিত। পরবর্তী স্থান থেকে এক দিনের পথ এবং আরাজান থেকে তিন দিনের কম (শওয়ার্জের ‘ইরাণ” গ্রন্থ ৪’ ৩৮৪)। হয়েজা হচ্ছে আধুনিক হইজা, মুহামারা থেকে ৭০ মাইল উত্তরে অবস্থিত।
কুফা (নজফ থেকে কয়েক মাইল উত্তরে) ছিল বসরার সঙ্গে অন্যতম দূর্গ বেষ্টিত নগর, ৬৩৮ খ্রীষ্টাব্দে আরবগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত তাদের ইরাক বিজয়ের সময়। হযরত আলীর স্বল্পকালীন রাজত্ব কালে (টীকা ৪ দ্রষ্টব্য) এটা ছিল খলিফার বাসস্থান।
২০। এই উপাধির এবং পরবর্তী অনুষ্ঠানের ব্যাখ্যার জন্য উপক্রমণিকা দ্রষ্টব্য।
২১। পরিচ্ছেদ ১, টীকা ২২ দেখুন।
২২। প্রকৃত পক্ষে এ সময়ে (১৯১৮ পর্যন্ত) বোগদাদ একটি প্রাদেশিক শহর ছাড়া আর কিছুই ছিল না। এর উচ্চ পদবী আহরিত হয়েছিল ৭৫৭-১২৫৮ পর্যন্ত খেলাফতের কেন্দ্র রূপে-অতঃপর এ নগর মংগলদের হাতে বিপুলভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল।
২৩। দামাস কাসের হাম্মামখানায় গোসলকারীগণ ছয় থেকে দশখানা তোয়ালে পর্যায়ক্রমে পেয়ে থাকে।
২৪। পারস্যের মগেল কি তাতার ইল খানগণের বংশের শেষ ব্যক্তি।
২৫। দিলশাদ ছিলেন জুবানের (চুবান) পুত্র দিমাশক বাজার মেয়ে–একে আবু সাইদ মেরে ফেলেছিলেন।
২৬। মাহাব্বা হচ্ছে চলন্ত শিবির-এতে থাকতো রাজকীয় পার্শ্বরী এবং সৈন্য। এরা সুলতানের সঙ্গে অভিযানে যেতো।
২৭। তারিজ-মার্কোপলো এবং অন্য সব পশ্চিমী লেখকদের তাওরিজ ছিল পাশ্যে মংগলদের রাজধানী। এ সময়ে এটা পশ্চিম এশিয়ার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র রূপে বোগদাদের স্থান দখল করেছিল এবং এখানে আসতেন বহু সংখ্যক ইউরোপীয় সওদাগর।
২৮। ৮৩৬ এবং ৮৮৩ খ্রীষ্টাব্দের মাঝখানে সামারা ছিল খলিফাদের অধিস্থান এবং তাদের সময়ে শোভিত হয়েছিল বহু জমকালো এবং সাধারণের অট্টালিকা রাজী দিয়ে, সে সবের। চিহ্ন এখনো রয়েছে। মাতকের দূর্গ সম্ভবতঃ সেই এক নামের প্রাসাদের স্থান দখল করে আছে (আল্ মাশুক, অর্থ প্রিয়তম)-তৈরি করেছিলেন খলিফা মুতামিদ (৮৭০-৮৯২ খ্রীষ্টাব্দ রাজত্বকাল)।
২৯। ক্যারিয়া শব্দটি বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, “একটি সাধারণ স্থান যেখানে বাজার বসে “ কিম্বা একটি চৌকোণ অট্টালিকা যাতে কামরা রয়েছে, মালগুদাম রয়েছে, এবং পর্যটকদের জন্য হোটো ছোটো দোকান রয়েছে।” নামটি দেওয়া হয়েছে ল্যাটিন কিম্বা গ্রীক থেকে এবং মূলতঃ সিরিয়া এবং উত্তর আফ্রিকার আরবগণ একে ব্যবহার করতেন, এর উৎপত্তি অজানা। এর উপর যে সব মত প্রকাশ করা হয়েছে তার মধ্যে এটাই সব যে এর অর্থ হচ্ছে শাসক কর্তৃক অনুমোদিত বা প্রদত্ত বাজারের দালান (মূলতঃ এসব দেশে সিজার কর্তৃক অনুমোদিত)। একটা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে এটাতে থাককে দেওয়া হয় কিন্তু এর সমতুল্য কোনো শব্দ বাইজেন্টাইন ইতিহাসে পাওয়া যায় না। বর্তমানে এটা শহরের প্রধান বাজারের ব্যাপারে ব্যবহৃত হয়। উত্তর আফ্রিকায় আমি শুনেছি এটা ব্যবহৃত হয় (টেলেমসেন) বিপণী। শ্ৰেণী শোভিত রাস্তার ব্যাপারে। বাজারের গেটের জন্য ব্যবস্থা এখনো আগের মতো সাধারণ। (ডজি, এস, ভি; লা ট্রে, পূর্ব খেলাফতের দেশ, পৃঃ ৮৯)।
৩০। সিজার স্পষ্টতঃ ভুল স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। সম্ভবতঃ মেরিডিন থেকে মণ্ডলের পথে এ স্থান ভ্রমণ করা হয়েছিল।
৩১। দারা হচ্ছে রোমান সাম্রাজ্যের দূর্গ” পারশ্য সীমান্তের বিপরীতে একটি কেল্লা রূপে তৈরী করেছিলেন জাষ্টিনিয়ান।
৩২। বাগদাদের সালাজুক শাসক মেরিডিন দূর্গ হস্তান্তর করেছিলেন দ্বিতীয় গাজীর নিকট ১১০৮ খ্রীষ্টাব্দে-ইনি ছিলেন ক্রুসেডারগণের বিরুদ্ধে অন্যতম দুঃসাহসী মুসলিম যোদ্ধা। (লেপুল)। এর বংশধরগণ মেরিডিনের অরতুকি বলে পরিচিত-তৈমুরঙের মৃত্যুর পর পর্যন্ত শহর এবং তার পরিপার্শ্বের অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন। এর দ্বাদশ বংশধরগণ আল্ মালিক আস্-সলিহ্ ১৩১২ থেকে ১৩৬৩ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। ৩৩। এ-অনুষ্ঠানটি হচ্ছে সাফা এবং মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে আগে পিছে দৌড়ানো-এটা করা হয় হাজেরার স্মৃতি উপলক্ষে। হাজেরা তার পুত্র ইসমাইলের জন্য পানির তালাসে এই দুই পাহাড়ের মাঝখানে ছুটাছুটি করেছিলেন। এটা সাধারণতঃ পায়ে হেঁটে পালন করা হলেও অনেক সময় গাধা কিম্বা উটের পিঠে সোয়ার হয়ে করা হয়। নজদের বর্তমান শাসক। সুলতান আবদুল আজিজ আল্-সাউদ এটা সম্পন্ন করেন মোটর গাড়ীতে চড়ে।
০৩. ইয়েমেন রওয়ানা
তিন
