৬২। আকাবাত আস্-সোয়ান, এখন আকাবাত আল্-হিজাজিয়া, হিজাজ রেলওয়ের একটি স্টেশন। প্রফেসার অললাইজ মিউজিলের ম্যাপে এ স্থানটি ২৯.৫০ উত্তরে, ৩৫.৪৮ পূর্বে অবস্থিত।
ধাত্-আল-হজ্জ, একটি স্টেশন ২৯.০৫ উত্তরে ৩৬.০৮ পূর্বে অবস্থিত।
মিউজিল কর্তৃক বান্দাকে (উত্তর হেজাজ, ৩২৯পৃঃ) যুক্ত করা হয়েছে আল-বাওয়া উপত্যাকার সঙ্গে-এটা ধাত্ আল-হজ্জ থেকে প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং আল্ হাজম স্টেশনের সন্নিকট ২৮.৪১ উত্তরে, ৩৬.১৪ পূর্বে অবস্থিত।
৬৩। আল-ওখেদিরের বিরাম স্থান (আল্-আজার) উঁচু ঢালু বেষ্টিত গভীর উপত্যকায় অবস্থিত-স্থানে স্থানে লাভার দ্বারা ঢাকা। ইব্নে বতুতা একে সঙ্গতভাবেই নরক উপত্যাকার সঙ্গে তুলনা করেছেন (মিউজিল,৩২৯)। আল-আখজার নামটি (ছোট সবুজ স্থান) স্পষ্টতঃ একটি ব্যঙ্গোক্তি–এটা ২৮.০৮ উত্তরে ৩৭.০১ পূর্বে অবস্থিত।
৬৪। অধার্মিক সামুদ জাতির কথা বার বার কোরাণে উল্লেখিত হয়েছে অবাধ্যতার জন্য এদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল। এটা সম্ভবতঃ উত্থাপিত হয়েছিল এ সব কবরের অস্তিত্ব থেকে যে গুলি ছিল সে সব প্রথম যুগের দক্ষিণ-আরবীয় ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের যারা ইয়েমেন এবং সিরিয়ার বাজারের মাঝখানের ধারে বাসস্থান স্থাপন করেছিল-পরে পুরাতন উত্তর আরবীয় সামুদ জাতির সঙ্গে এদের জড়িত করা হয়েছিল।
৬৫। আলহিজর (মাদাইন্ সালি) থেকে আল্-ইলার দুরত্ব প্রায় ১৮ ইংরেজি মাইল। আল-হিজর ২৬.৪৯উত্তরে, ৩৭.৫৬ পূর্বে, আল্-ইলা ২৬.৩৬ উত্তরে, ৩৮.০৪ পূর্বে অবস্থিত।
৬৬। ৬৩৩ খ্রীষ্টাব্দে বদর যুদ্ধ পৌত্তলিক মক্কাবাসিগণ পরাজিত হন স্বল্পসংখ্যক আরব সৈন্যের কাছে। এটাই নব-প্রবর্তিত মুসলিম ধর্মের প্রথম কৃতকার্যতা। এবং মোহাম্মদের (দঃ) কর্মজীবনের অন্যতম সন্ধিকাল।
৬৭। আরবীয় ভৌগলিক হামদানীর মতানুসারে (১৮৪-৫) জুফার স্টেশন ছিল রাওহা থেকে ১০৩ আরবী মাইল দূরে-মদিনা থেকে এটা ছিল দ্বিতীয় স্টেশন এবং নগর থেকে ৪৭ মাইল দূরে। আরবীয় পরিমাপ ১৯২১ মিটার, ইংরেজি মাইলে ১৬০৯।
খুলেজ হচ্ছে আরবীয় ভৌগলিক ইয়াকুতের বর্ণনা অনুসারে মক্কা এবং মদিনার মাঝখানে অবস্থিত একটি সুরক্ষিত স্থান-মনে হয় পুরানো স্টেশন কুদেদের স্থান দখল করেছে। স্থানটি জুফা থেকে ২৪ মাইল। এবং উস্ফান পরবর্তী স্টেশন থেকে ২৩ মাইল।
উস্ফান এবং মার্ (কিম্বা মার্ আজ্-জুহ্রান) এখনও রয়েছে। পরবর্তীটি উস্ফান থেকে ২৩ মাইল এবং মক্কা থেকে ১৩ মাইল।
৬৮। মক্কা এবং তীর্থযাত্রার যে বিবরণ মুলগ্রন্থে রয়েছে তা ইব্নে জুবেরের থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে গৃহীত–এবং বার্টন কর্তৃক তার মা এবং মদিনার তীর্থযাত্রার ব্যক্তিগত বিবরণে টীকাসহ পুরা ব্যাখা করা হয়েছে। এর উপরে, তীর্থযাত্রার বিবরণ সম্বন্ধে এত বেশী ইংরেজী রচনা রয়েছে যে তার এখানে বিস্তৃত বিবরণ দেওয়া অনাবশ্যক।
০২. মক্কা ত্যাগ
দুই
ইরাকের কাফেলার পরিচালকের সঙ্গে ১৭ই নভেম্বর আমি মক্কা ত্যাগ করি। তিনি নিজ ব্যয়ে বাগদাদ পর্যন্ত আমার জন্য একটি উটের পিঠের আসনের অর্ধাংশ ভাড়া করে দেন এবং পথে নিজে আমার দেখাশুনা করেন। বিদায়ের সময় কা’বা তাওয়াফ (দক্ষিণ) করার পরে আমরা মা’র এসে পৌঁছলাম। আমাদের সঙ্গে ইরাক, খোরাসান, ফারস ও অন্যান্য প্রাচ্যদেশের এত বিপুল সংখ্যক হাজী ছিলেন যে দেখে মনে হচ্ছিল যেন জমিনের উপর দিয়ে সমুদ্রের ঢেউ উঠেছে এমনি কালো মেঘের মত তারা ছুটে চলেছিলেন। লোকের ভিড় এতই বেশী ছিল যে এক মুহূর্তের জন্য কেউ তার কাফেলা ছেড়ে কোন দিকে সরে গেলে পুনরায় তার জায়গা চিনে নিবে এমন কোন উপায় ছিল না। এ-কাফেলার সঙ্গে দন্দ্ৰি হাজীদের মধ্যে বিতরণের জন্য উটের পিঠে পানি বোঝাই ছিল। তাছাড়া খয়রাতী খাদ্য ও রোগাক্রান্ত হাজীদের জন্য ঔষধপথ্যবাহী উটও সঙ্গে ছিল। কাফেলা যেখানে গিয়ে থেমেছে সেখানেই বড় বড় পিতলের কড়াইতে রান্না করা হয়েছে। দরিদ্র হাজীদের এবং যাদের সঙ্গে খাদ্যবস্তু ছিল না তাদের খাদ্য এখান থেকেই সরবরাহ করা হয়েছে। কিছু সংখ্যক অতিরিক্ত উটও আমাদের সঙ্গে ছিল। যারা চলতে অক্ষম তারা এসব উটে চড়ে অগ্রসর হচ্ছিল। ইরাকের সুলতান আবু সাঈদের বদানের জন্যই এসব ব্যবস্থা সম্ভবপর হয়েছিল। এ ছাড়া কাফেলার সঙ্গে কর্মব্যস্ত বাজারও ছিল। অনেক রকম দ্রব্যসম্ভার, খাদ্য, ফলমূল প্রভৃতি সবকিছুই সেখানে পাওয়া যেত। মশাল জ্বেলে দোকানদাররা কাফেলার সঙ্গে রাত্রে চলতে থাকে। তাদের মশালের আলোকে রাতের অন্ধকারও দিনের মত আলোময় হয়ে উঠে।
আমরা খুলায় ও বদর হয়ে মদিনায় ফিরে এলাম এবং পুনরায় হজরতের (সাঃ) রওজা মোবারক জেয়ারতের সৌভাগ্য লাভ করলাম। মদিনায় ছয়দিন কাটিয়ে তিন রাত্রি চলার উপযোগী পানি নিয়ে আমরা যাত্রী করলাম এবং ওয়াদিল-আরুসে পৌঁছে পুনরায় পানি সংগ্রহ করে নিলাম। এখানে মাটী খুঁড়ে পানের উপযোগী পানি পাওয়া। যায়। ওয়াদিল-আরুস ছেড়ে আমরা নাজদ-এর দেশে প্রবেশ করলাম। যতদূর দৃষ্টি যায়, এটি একটানা একটি সমতলভূমি। এখানকার নির্মল সুগন্ধি বাতাসে নিঃশ্বাস গ্রহণ করে আমরা তৃপ্ত হলাম। চার মঞ্জিল পথ চলবার পরে আমরা উসায়লা নামক একটি জায়গায় এসে থামলাম। এখানে পানি পাওয়া যায়। সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে এলাম। আন-নাকিরা। এখানেও পানি পাওয়া যায়। বিরাটাকার চৌবাচ্চার মত এখানে কয়েকটি পুকুরের চিহ্ন রয়েছে। তরপরে আমরা পৌঁছলাম আল্-ফারুরা। এখানে বৃষ্টির পানিতে
