৪৫। মূলগ্রন্থের কতকগুলি পৃষ্ঠা ব্যাপি সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে আলেপ্পোর বিষয়–প্রধানতঃ ইব্নে জুবিয়ার থেকে গদ্যাংশের উধৃতি রয়েছে এতে-এবং প্রসিদ্ধ কবিগণ কর্তৃক রচিত নগরের প্রশংসামূলক কবিতা থেকে সংক্ষিপ্ত সারাংশ।
৪৬। টিজিন অবস্থিত রয়েছে আলেপ্পোর ২৮ মাইল পশ্চিমে।
৪৭। ১২৬৮ খ্রীষ্টাব্দে ইউলের মার্কো পলোতে নগরের ধ্বংস বিবরণ সম্বলিত বুমাণ্ডের কাছে লিখিত তার পত্র দেখুন। (মার্কোপলো, ৩য় সংস্করণ কডিয়ার সম্পাদিত) ১, ২৪ টীকা।
৪৮। পেগ্রের দূর্গ। ক্রুসেডারগণ এটাকে বলতেন গ্যাষ্টন কিম্বা গ্যাষ্টিন। আলেকজাটো এবং এন্টিরকের মধ্যস্থিত বেলেন গিরিপথের ভেতর দিয়ে যে প্রবেশ পথ সেটাকে এখানে প্রতিরোধ করা হয়েছিল। ১১৮৮ খ্রীষ্টাব্দে সালাউদ্দীন এটা পুনরাধিকার করেছিলেন।
৪৯। ইউরোপে ঘাতক বলে সুপরিচিত। তারা ছিলেন শিয়া সম্প্রদায়ের ফাতেমি শাখার একটি উপ-শাখা সম্প্রদায়। এর প্রতিষ্ঠা একাদশ শতাব্দীতে।
৫০। প্রসিদ্ধ আওলিয়া ইব্রাহিম ইব্নে আহামের জন্ম বালুখে। ৭৮০ খ্রীষ্টাব্দে গ্রিকদের বিরুদ্ধে নৌ-অভিযানের কালে তার মৃত্যু হয়েছে বলে কথিত। তাঁর জীবন সম্বন্ধে খুব অল্প বিবরণই পাওয়া যায়। কেবল এ টুকুই জানা যায় যে সিরিয়া ছিল তার ধর্মীয় কাজের প্রধান কেন্দ্র। অতঃপর সূফি কাহিনীর বিভিন্ন কালচক্রে তিনি হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় আদর্শ–স্পষ্টতঃ এ সব কাহিনী নেওয়া হয়েছে বুদ্ধের প্রাচীন উপাখ্যান থেকে।
৫১। পয়গম্বর হজরত মোহাম্মদের জামাতা এবং চাচাতো ভাই, এবং শিয়াদের মতবাদের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
৫২। এখানে ইনে জুবের থেকে একটি সুদীর্ঘ ছন্দোবদ্ধ গদ্যের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। এ সব অংশে যে আলংকারিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে পাঠকগণ যাতে তা উপভোগ করতে পারেন সেজন্য প্রথম কতকগুলি বাক্যের এরূপ আক্ষরিক অনুবাদ দেওয়া যেতে পারেঃ ‘দামাকা হচ্ছে প্রাচ্যের বেহেশত; এবং তার উজ্জ্বল আলোকের উদয়-স্থান; ইস্লাম জগতের শিলমোহর, আমরা উপভোগ করেছি এর আতিথ্য আর এ হচ্ছে সমস্ত নগরীর দুহিন, আমরা তার ঘোমটা উন্মোচন করেছি। সে সজ্জিত হয়েছে সুমিষ্ট গন্ধযুক্ত উদ্ভিদের পুস্পরাশি দিয়ে–এবং দাঁড়িয়েছে সুশোভিত বাগিচার মাঝখানে, মনোহর স্থানের মধ্যে সে জুড়ে রয়েছে একটি সুউচ্চ স্থান এবং অতি অপূর্ব সাজে সজ্জিতা রয়েছে তার নব-বধুর আসনে।” সম্পাদক কর্তৃক ইব্নে বতুতার বিবরণ শুরু হওয়ার পূর্বে অন্যান্য অনেকগুলি উদ্ধৃতির অবতারণা করা হয়েছে।
৫৩। এটা একটা সাধারণ প্রবাদ। এর উদ্দেশ্য এই দেখানো যে আরবদের দ্বারা দামাস্কা জয় করার সত্তর বছর অতিবাহিত হওয়ার আগে পর্যন্ত সে জন্ গিজা একটি মসজিদে পরিণত হয়নি। গির্জাটি ধ্বংস করা হয়নি, কেবল এর ক্রিশ্চান সাজসজ্জা বদল করে তাকে একটি মসৃজিদের যোগ্য করা হয়েছিল। ইব্নে বতুতা মসৃজিদটির যে বিস্তৃত বিবরণ দিয়ে যান সেটা তিনি দিয়েছেন তার সময়ে যে রূপ দেখেছিলেন সেইরূপে। এ মসজিদটি তৈমুরলংয়ের দামাস্ কাস্ দখলের সময় আগুনে নষ্ট হয়ে যায় ১৪০০ খৃষ্টাব্দে। তারপর একাধিকবারের বেশী পুণঃ নির্মিত হয়েছে। বর্তমান নির্মাণ কার্যটি মাত্র ১৮৯৩ খৃষ্টাব্দের এবং তিনটি সুন্দর মিনার ব্যতীত এর পূর্বের সৌন্দর্যের খুব স্বল্প নির্দশনই অবশিষ্ট রয়েছে।
৫৪। উন্মিয়া বংশের খেলাফতের প্রতিষ্ঠাতা। এ বংশের খলিফাগণ ৬৬০ থেকে ৭৪৯ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। আব্বাসিয়া বংশ কর্তৃক পরাজিত হয়। এরা রাজধানী স্থাপন করেন বাগবাদে। তাম্রকরদের বাজার এখনো একই অবস্থায় রয়েছে–কিন্তু বর্তমানে এটা দামাস্কাসের অন্যতম সুন্দর শিল্প কোনক্রমেই নয়।
৫৫। মূলতঃ এটা ছিল একটি যান্ত্রিক জল-ঘড়ি। ১১৮৪ খৃষ্টাব্দে জুবের যখন দামাসকাসে আসেন তখনো এটা কার্যকারী ছিল (লা ট্রেঞ্জের মুসলিম অধীনে প্যালেষ্টাইন, ২৫০ পৃষ্ঠা। দেখুন)। কিন্তু তারপর সেটা বেমেরামত পড়ে থাকে। সুরঙ্গ পথগুলি যদিও অনেক দিন হলো অদৃশ্য, তবু উৎসারিত নিৰ্কর (বাইজান্টাইন যুগের একটি নিদর্শন) এখনও বর্তমান রয়েছে।
৫৬। যেমন এটা গোড়া ধার্মিকদের মতের বিপরীত যে মানুষের কোনো কার্য কিংবা গুণের সঙ্গে আল্লার কোনো কাজের কিম্বা গুণের তুলনা হয় না। চারটি রক্ষণশীল গোঁড়া মতাবলম্বীদের মধ্যে হাম্বলি মত (উপক্রমণিকা, ২৩ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য) অন্য মতগুলির যুক্তিবাদী ব্যাখ্যা সমর্থন করে না।
৫৭। রেশমের পোশাক পরা মুসলিম শরীয়তের বিরোধী।
৫৮। ইব্নে তেমিয়া সম্বন্ধে। ১৩২৮ খৃষ্টাব্দে এর মৃত্যু হয়। ভূমিকা দ্রষ্টব্য। যথেষ্ট ভক্তির সঙ্গে তাঁর নাম স্মরণ করা হয়। কেননা তিনি ছিলেন ওহাবী আন্দোলনের অগ্রদূত এবং ইসলামের অন্য সব আধুনিক সংস্কার আন্দোলনের সমর্থক।
৫৯। মুসলিমদের রোজা সূর্যোদয়ের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। কিন্তু সারাদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ উপবাস-এমন কি পানি গ্রহণও নিষিদ্ধ।
৬০। এ বৈশিষ্ট্যের জন্যই সম্ভবতঃ দামাসকাসের ডাক নাম হচ্ছে আল-মাতবাক’ অর্থাৎ রান্না ঘর।
৬১। তার স্ত্রী অথবা অন্যতম স্ত্রীকে পিছে ফেলে রেখে–যার সম্বন্ধে নিচে উল্লেখ করেছেন এই স্ত্রীর গর্ভে তার একটি ছেলে হয়েছিল, কিন্তু সে শিশুকালেই মারা যায়।
