২৬। এটা উল্লেখযোগ্য যে আমাদের পর্যটক লাসরের মন্দিরগুলি সম্বন্ধে একটি কথাও উচ্চারণ করেননি যদিও আবুল হাজ্জাজের সমাধি (একজন প্রসিদ্ধ আওলিয়া, এখানে এন্তেকাল করেন ১২৪৪ খ্রীস্টাব্দে) প্রকৃতপক্ষে অবস্থিত আম্মানের মন্দিরের শরহদ্দের মধ্যে।
২৭। বারো, তেরো, এবং চৌদ্দ শতাব্দীতে আইধা ছিল ইয়েমেন এবং ভারতীয় বানিজ্যের শেষ বন্দর, এবং স্থানটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৪২২ খ্রীষ্টাব্দে মিশরীয় সুলতান। কর্তৃক ধ্বংস হলে ওর স্থান দখল করে প্রতিদ্বন্দ্বী বন্দর সুয়াকি। এর ধ্বংসাবশেষ সনাক্ত করা হয়েছে লোহিত সাগর উপকূলের একটি পানিশূন্য সমতল টিবিতে। এটা হ্যলেব থেকে ১২ মাইল উত্তরে ২২.২০ উত্তরে, ৩৬.৩২পূর্বে। (জিওগ্রাফিকাল জার্ণাল ৬৮ (১৯২৬) এ সি, ডব্লিও সুরে দেখিয়েছেন ২৩৫-৪০, পৃষ্ঠায় যেখানে দ্রাঘিমা দেওয়া হয়েছে ৩৬”৯৩২”। কিন্তু ম্যাপের সঙ্গে এর সঙ্গতি নেই)।
২৮। হুড্রবিজগন আরব ছিলেন, বেজাজ নন।
২৯। একটি পান্থনিবাস (ফানডাক, খান কিম্বা কারাওয়ানসারি) সাধারণতঃ একটি চৌকোণ প্রাচীর ঘেরা দালান, মাঝখানে প্রাঙ্গণ। মালপত্র এবং পশুগণের স্থান দেওয়া হয় নীচের। তলায় এবং মুসাফিরগণকে উপরের তলায়। উপরের তলার অভাবে সবাই থাকে একত্রে।
৩০। এখন সিনাই মিলিটারী রেলওয়ের একটি স্টেশন, উত্তর কান্টারা থেকে প্রায় তিরিশ মাইল পূর্বে।
৩১। জ্বিন (জেনি) ফেরেশতার অধস্তন, কিছুটা মানুষের ন্যায় সৃষ্টি, তৈরি আগুন দিয়ে এবং এদের রয়েছে অলৌকিক ক্ষমতা। কোরাণ অনুসারে তারা সুলেমানের অধীন ছিল। “তিনি যা চাইতেন তাই ওরা সৃষ্টি করতে তাঁর জন্য-সুউচ্চ প্রাসাদ, প্রতিমূর্তি, পুকুরের মতো থালা, এবং বৃহৎ রান্নার পাতিল।”
গ্রন্থের পরবর্তী একস্থানে ইব্নে বতুতা উল্লেখ করেছেন যে জ্বিনদের সাহায্যে সুলেমান পার্মিরা পর্বত গড়েছিলেন। (তুলনা করুন বাইবেলের ১ কিংবা ৯,১৮)।
৩২। হেবরনের মসজিদ হচ্ছে ক্রুসেডারগণের একটি গিঁজা। এটা নির্মিত হয়েছিল আরো অধিক পুরাতন ভিত্তির উপরে( সম্ভবতঃ রোমানদেরও পূর্বে। এর কতকগুলি পাথরের উল্লেখ রয়েছে ইব্নে বতুতার বর্ণনায়। গুহাটি এখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ধর্মপতি এবং তাদের স্ত্রীগণের স্মৃতি স্তম্ভগুলি এখনো ঘোট গির্জার প্রধান অংশের দুই ধারে অবস্থিত রয়েছে। জোসেফের অনুমিত সমাধি বাইরের অন্য একটি ছোট গির্জাতে রক্ষিত আছে। পয়গম্বর লুতের সমাধি কয়েক মাইল পূর্বে অবস্থিত।
৩৩। বিষয়টির উল্লেখ করা হয়েছে হজরত মোহাম্মদের (ছঃ) রহস্যময় “নিশিথ ভ্রমণ” কি উর্ধ্বে আরোহণ” (মেয়ারাজ) সম্বন্ধে। এই আরোহণে তিনি আল্লার দিদার লাভ করেন। যদিও সে সময়ে তিনি বাস করছিলেন মক্কায়, তথাপি প্রবাদ অনুসারে তিনি প্রথমে গমন করেন দূরতম জেরুজালেমের মসজিদে(আল্ মসজিদ আল-আ) এবং সেখান থেকে আরোহণ করেন স্বর্গীয় ঘোটকী বোরাখে।
৩৪। বর্তমান প্রাচীর শ্রেণী নির্মিত হয়েছিল অটোম্যান সুলতান সুলেমান “ঐশ্বর্যবান” কর্তৃক। (১৫২০-১৫৬৬)।
৩৫। “রাজকীয়” কিউবিটের মাপ হচ্ছে ২৬ ইঞ্চি।
৩৬। এই রেলিং নির্মাণ করেছিলেন ফ্রাঙ্কগণ ক্রুসেডারদের জেরুজালেম অধিকারের সময়।
৩৭। এই স্বর্গারোহণ মসজিদটি অলিভ পর্বতের পুরোভাগে অবস্থিত। সেটা জেহোশাফাত উপত্যাকার দূরতর অংশে, হিম উপত্যকায় (জেহেনা) নয়।
৩৮। এখানে মনে হয় জেরুজালেম এবং বেথলহেমের মধ্যে একটি গোলমাল ঘটে গেছে। বেথলহেমের নেটিভিটি গির্জার গহ্বরে রয়েছে মেঙ্গার এবং জন্মস্থানের মন্দির।
৩৯। আজালুন, এখন কালাত আর-রাবাদ, ঘোরের পূর্ব শৈল শিবার একটি প্রদর্শনীয় দুর্গ ছিল (জর্ডান উপত্যাকায়), জেরাসের ১২ মাইল উত্তর পশ্চিমে।
৪০। ইব্নে বতুতা সিরিয়ার বিন্নি তিনটি পর্যটন জড়িয়ে ফেলেছেন।
৪১। জাহালার নিকটবর্তী একটি গ্রাম। এখানে নুহ পয়গম্বরের সমাদি আছে বলে পূর্বে খ্যাত ছিল। চৌদ্দ শতাব্দীর মধ্যকাল পর্যন্ত এ স্থানে বাকার (কয়েলি-সিরিয়া) তলদেশ ঢাকা ছিল একটি হ্রদে বা জলাভূমিতে। একটা প্রবাদ ছিল যে হজরত নুহের কিস্তি জাহালার বিপরীত দিকে দক্ষিণ পূর্বে আন্জারে এসে থেমেছিল।
৪২। ত্রিপলি পূর্ণ উদ্ধার করছিলেন সুলতান কালাউন ১২৮৯ খ্রীস্টাব্দে।
৪৩। অনুরূপ গল্প প্রচলিত ছিল দফতরদার মোহাম্মদ সম্বন্ধে ১৮২১ খ্রীস্টাব্দে কর্দোফানে তুর্কি-মিশরীয় অভিযান কালে। একজন সৈনিকের বিরুদ্ধে একটি স্ত্রীলোক অভিযোগ করেছিল। সেনাপতি এই শর্তে সৈনিকের পেট কেটেছিলেন যে তার পাকস্থলী থেকে যদি দুধ না বের হয় তাহলে স্ত্রীলোকটিকেও কাটা হবে। (জার্ণাল অব দি আফ্রিকান সোসাইটি নম্বর ৯৮,জানুয়ারী ১৯২৬, ১৭০ পৃষ্ঠা)।
৪৪। “দশ” ছিলেন হজরত মোহাম্মদের (ছঃ) বিশিষ্ট সহচর বর্গের সদস্য এবং ধর্মপরায়ণ মুসলিমদের বিশেষ ভক্তিভাজন। অন্যদিকে শিয়াগণ এদের দেখতেন যেমন ক্রিশ্চানগণ দেখে থাকেন জুডা ইস্কারিকে। এদের বিশেষ বিদ্বেষ হচ্ছে হজরত ওমরের প্রতি। কেন না তিনি প্রথম এবং নিজেকে দ্বিতীয় খলিফা মনোনয়নের ব্যাপারে দায়ী ছিলেন। হজরত ওমরকে তারা আরো দোষী করেন যে তিনি হজরত আলীকে পয়গম্বরের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করেন(সমস্ত ঐতিহাসিক যুক্তির বিরুদ্ধে তারা এই উত্তরাধিকার ঘোষণা করে থাকেন)।
