৯। উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার তখন প্রসিদ্ধ পবিত্রস্থান ছিল কায়রাওয়ান। আভ্যন্তরীণ গোলযোগের জন্য এ দলটি সেখানে যেতে পারেনি।
১০। আলেকজেন্দ্রিয়ার চারটি প্রবেশপথের নাম (পশ্চিম দ্বার, সমুদ্রদ্বার, সেটা দ্বার ও সবুজ দ্বার) সাম্প্রতিক কাল অবধি শহরের রাস্তার নাম হিসাবে বজায় ছিল। সম্ভবতঃ প্রাচ্যের একমাত্র শহর আলেকজেস্ক্রিয়া যেখানে ইব্নে বতুতার সম্মানার্থে তার নামে একটি রাস্তার নামকরণ হয়েছিল।
১১। ফারোস ও শহরের মধ্যবর্তী দূরত্ব তিন মাইল নির্ধারণ করে ইব্নে বতুতা অতিশয়োক্তি করেছেন, যদিও ইদ্রিসি বলেছেন স্থল পথে আলোকগৃহ তিন মাইল এবং সমুদ্রপথে এক মাইল দূরে অবস্থিত। আল-ফাল-কাশান্দি নামক পরবর্তী একজন লেখক এ দূরত্ব এক মাইল বলে বর্ণনা করেছেন।
১২। ’পমপিস পিলার’ লাল পাথরের একটি স্ত। রোমানদের সময় প্রাচীন মন্দিরের জায়গায় এটি স্থাপিত হয়েছিল।
১৩। পীর দরবেশদের মধ্যে প্রচলিত ভাষায় পীর ভাই।
১৪। শেখের প্রতি সৌজন্য প্রকাশের জন্য বাক্যটি ব্যবহৃত হয়েছে।
১৫। এক প্রকার সামুদ্রিক মাছ। এর থেকে ইটালিয়ান ক্যাভিয়ার (bottargo) পাওয়া যায়।
১৬। ইব্নে বতুতা এখানে ভুল করেছেন। ১২৪৯-৫০ খ্রীষ্টাব্দে সেন্ট লুইর ক্রুসেড় অভিযানের পর ইজিপসিয়ান গবর্ণমেন্ট এ শহরটি ধ্বংস করেন ফ্রাঙ্কদের পুনরাধিকার অভিযান প্রতিরোধ করার জন্য।
১৭। মূলগ্রহের অলংকারপূর্ণ বর্ণনা হচ্ছে রচনার প্রাঞ্জল পদ্ধতির একটি দৃষ্টান্ত (এখানে সেটা যথেষ্ট সংক্ষিপ্ত)। এ রচনা সুষম এবং ছন্দো বদ্ধ বাক্যে গঠিত হয়েছে। গ্রহের অধিকাংশ স্থলে এ রকম রচনা পরিদৃশ্যমান। সম্ভবতঃ এর উদ্দেশ্য হচ্ছে ভক্তি এবং বিস্ময়ের ভাব জ্ঞাপন করা। কিন্তু এ সব কেবল বাগাড়ম্বর নয়। ইটালিয়ান ফ্রেস্কোবাডি এই শেষ উক্তিটির সত্যতা প্রমাণ করেছেন। ১৩৮৪ খ্রীষ্টাব্দে কায়রো ভ্রমণ কালে তিনি মন্তব্য করেন যে বাসঘরের অভাবে রাত্রিকালে হাজার হাজার লোক নগরের বাইরে শুইত। ১৩৪৮ এবং ১৩৮১ খ্রিষ্টাব্দের দুটি মহামারীর ধ্বংসলীলাও এর অন্যতম কারণ।
১৮। আর-রাওদা,এখন এটা রোডা দ্বীপ। রোজার সুখ স্বাচ্ছন্দ্য-সচরাচর উল্লেখিত হয়েছে। এবং আরব্য উপন্যাসেও এর উল্লেখ দেখা যায়।
১৯। এই জাঁকজমকশালী হাসপাতালটির কেবল সম্মুখের দৃশ্য, প্রবেশ কক (মিনারসহ) এবং কতকগুলি খণ্ডাংশ অবশিষ্ট রয়েছে। এটা নির্মিত হয়েছিল ১২৭৯-৯০ খ্রীষ্টাব্দে সুলতান কালাউন কর্তৃক। সুলতানের সমাধি-স্তম্ভ মধ্যযুগের সারাসিন স্থপতিশিল্প এবং অলংকারের অন্যতম উৎকৃষ্ট মনুমেন্ট, বর্তমানে অংশতঃ সংস্কার করা হয়েছে। রাস্তার কিছুটা অংশে এখনো পুরানো নাম “দুই প্রসাদের মাঝখানে” বজায় রয়েছে। সম্ভবতঃ এ নামটি এসেছে দশম এবং একাদশ শতাব্দীতে এ অঞ্চলে নির্মিত ফাতেমি প্রাসাদরাজী থেকে।
২০। প্রধান কারাফা অবস্থিত রয়েছে আধুনিক কায়রোর দক্ষিণে পুরাতন কায়রো এবং মিউকাটাম পাহাড় শ্রেণীর মাঝখানে। পরিসর এবং পরিদৃষ্টির দিক দিয়ে এটা দেখতে শহরের অনুরূপ-এটা হয়ে উঠেছে এখানে উল্লেখিত কবরের উপর নির্মিত অট্টালিকা, কক্ষ, এবং গৃহরাজীর অদ্ভুত রকমের মিশরীয় প্রথা বশতঃ।
২১। ১৪ই শাবানের (হিজরী বছরের অষ্টম সাল) পরের রাতে সমস্ত মসজিদে বিশেষ উপাসনা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এর ঐতিহ্যগত কারণ হচ্ছে এই যে “বেহেশতে যে লটু বৃক্ষ বা। ভাগ্য-বিটপী রয়েছে এবং যার পাতায় লেখা সমস্ত জীবিত ব্যক্তির নাম সে রাতে সে বৃক্ষের পাতাগুলি কেঁপে উঠে এবং পরবর্তী বছরে যে পাতায় যে ব্যক্তির পূর্ব নির্দিষ্ট মৃত্যু লেখা রয়েছে সেটা ম্লান হয়ে ঝড়ে পড়ে মাটিতে।” (মিচেল কপটিক্ বছর ১৬১৭ খ্রীস্টাব্দের জন্য মিশরীয় ক্যালেণ্ডার ১৯০০-১৯০১ খৃষ্ট-পরাব্দ)।
২২। আল-হোসাইন খলিফা আলীর কনিষ্ঠ পুত্র এবং পয়গম্বরের দৌহিত্র। হোসাইন তার অধিকাংশ পরিজন পরিবারসহ নিহত হয়েছিলেন ইরাকের অন্তগর্ত কারবালায়। এ ঘটনা। ঘটেছিল ৬৮১ খ্রীষ্টাব্দে যখন দামেস্কের উমিয়া বংশের খলিফার বিরুদ্ধে তিনি বিদ্রোহ পরিচালনা করেছিলেন। এ ভাবে পয়গম্বরের দৌহিত্রের মৃত্যুর উমিয়া বংশের বিরুদ্ধে বিরাগ উৎপন্ন করেছিল এবং অদ্যাবধি সুন্নী এবং শিয়া সম্প্রদায় উভয়ে ১০ মহরম তারিখে সেই মৃত্যুর বাৎসরিক অনুষ্ঠান উদযাপন করেন। সৈয়দানা হোসেনের মসৃজিদ( সুলতান হাসানের অধিকতর প্রসিদ্ধ কলেজ মসজিদ থেকে এটা ভিন্ন। কলেজ মসজিদ তখনও তৈরি হয়নি) একটি চিত্তাকর্ষক সৌধ। এটা নগরের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত।
২৩। “সুদানিজ নাইল” অর্থাৎ নাইজারের বিপরীত রূপে এরূপ বলা হয়।
২৪। এ বিভাগ অন্য আরব ভূগোলজ্ঞদের মধ্যে দেখা যায়। তৃতীয় শাখাঁটি খুব সম্ভব হয়। আইবিয়ার (থারমুটিয়াক) শাখা যা লেক বার এবং বাইরে সেবেনিটিকের মোহনার ভিতর। দিয়ে কিম্বা লেক সেনজালে প্রবাহিত টানাইটিক শাখা।
২৫। এ নাম দেওয়া হয়েছিল পুরাকালীন মিশরীয় মন্দিরগুলিকে। পিরামিডের ন্যায় এদের চারদিক ঘিরে রচিত হয়েছিল বহু কাল্পনিক কাহিনী। সাধারণের মতে এদের নির্মাতা বলে ‘প্রাচীন’ হাসিসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একে যুক্ত করা হয়েছিল এনকের সঙ্গে। পিরামিড ব্যতীত মিশরে ইব্নে বতুতার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল মনে হয় অন্য একটি পুরনো কীর্তি। সেটা আইখমিমের মন্দির।
