১৪। মধ্যযুগীয় এবং আধুনিক যে সব গ্রন্থ আমি পড়েছি তাতে কোথাও বুলিয়ানা চোখে পড়েনি। আমার মনে হয় স্থানটি হচ্ছে নেবায়েল, একটি ছোটো বন্দর, তিউনিস্ থেকে তিরিশ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে। ইদ্রিসির মত অনুসারে সেখানে একটি দূর্গ ছিল।
১৫। পোতাশ্রয়ের বর্ণনা থেকে নিশ্চিতরূপে বোঝা যায় যে এটা সে সময়ে আরাগনের অধীন ছিল। ক্যাটালান জাহাজ সমূহের প্রাকৃতিক আশ্রয় স্থান। রিজা পর্টোল্যানে একে বর্ণনা করা হয়েছে “bon porto fato per forza of palangade রূপে। ইনে। বতুতা সে ভয় পেয়েছিলেন সেটা ব্যক্ত করা হয়েছে এর ডাকাত প্রকৃতির অধিবাসীদের ক্রিয়াকার্য। cento (Les faubourgs de Cagliari servaient de repaire aux forbans মাস ল্যাট্রি, ৪০৫)।
১৬। আল-ওবাদ গ্রামটিকে সিদি বু মাদিনে নামক তীর্থস্থানের নাম অনুসারে সাধারণতঃ সিদি বু মাদিন বলা হয়–টিলেমসেন থেকে এক মাইল দূরে অবস্থিত। মজিদটি নির্মিত হয়েছে। ১৩৩৯ খ্রীস্টাব্দে। আলজেরিয়ায় মুরিস স্থাপত্যের একটি সুন্দর নিদর্শন।
১৭। আজঘাঘা (লিও আফ্রিকানাসের অজাগান) ছিল এক বার্বার উপজাতি। এরা বাস করতো মেলিলা এবং মুলুয়া নদীর মাঝখানের উপকুলের নিকটবর্তী স্থলে।
১৮। উক্তিটি ভৌগলিক ওসারি সমর্থন করেছেন। তিনি বলছেন সোনার মিসূকালে। (=দিনারের সমান) রয়েছে ১২০ দিরহাম, ষাটটি পুরা দিরহামের সমান এবং তিনটি পুরা দিরহাম মিশর এবং সিরিয়ার একটি দিরহামের সমান। তিনি বছেন দিরহাম শব্দটি কোনো বিশেষত্ব ছাড়াই ব্যবহৃত হতো-এর অর্থ হচ্ছে “ক্ষুদ্র দিরহাম।” ম্যারিনিদের বৃহৎ সোনার দিরহামের ওজন ৮৭ গ্রেন, মূল্য ১৪:৫° ফ্রাঙ্ক; আমরাভিডের ক্ষুদ্র দিনারের ওজন ৬৫ গ্রেন, মূল্য ১০:৯৩ ফ্রাঙ্ক। ইব্নে বতুতা ভারতীয় সোনার মোহর তংঘার উল্লেখ করেছেন, এর ওজন ১৭৫ শ্রেন, মূল্য আড়াই মরক্কান ডিনার-বৃহৎ দিনার অপেক্ষা ছোট দিনারের ব্যাপারেই এটা অধিক প্রযোজ্য। ১২০ মূল্যের ক্ষুদ্র দিনার ম্যারিনিদের সোনার দিনারের তুলনায় ১২ সেন্টাইম মূল্যের। এর অর্থ যদি আমরাভিদ দিনার মনে করা হয়ে থাকে তবে এর মূল্য হবে ১০ সেটাইম। মিশরের নুক্ৰা বা দিরহামের উচ্চতম মূল্য ৭৫ সেন্টাইমের কাছাকাছি এবং সাধারণতঃ এর মূল্য ধরা হয় ৫০ এবং ৬০ সেন্টাইমের মাঝামাঝি (ইউলের ক্যাথে’ ৪র্থ খণ্ড, 08 ff.; antara, Le Maroc dans les premieres annees du xVle siecle (আলজার, ১৯০৬) ১০১-২; আল ‘ওমারি’ মাসালিক আল-আবসার অনুবাদ মেমবিন্স (প্যারিস ১৯২৭), ১ম খণ্ড, ১৭৩ দ্রষ্টব্য)।
১৯। বাক্যটি হচ্ছে পুনরায় সলেমনের পূর্ব স্মৃতি। ১ম পরিচ্ছেদ টীকা ২৮ দ্রষ্টব্য।
২০। আমি এটা নিচ্ছি মিশরের সাধারণ মুনুখিয়ার (Corchorus olitorius) সম্পর্কে।
২১। এখানে ইমামতের অর্থ হচ্ছে খিলাফত। ইব্নে বতুতা মনে করেন যে মরক্কোর শাসকগণ বিশেষভাবে আবু ইনান কর্তৃক খলিফা বা মুসলিমগণের নেতা পদবী গ্রহণ করায় পশ্চিম দেশের গৌরব বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কারণেই কয়েক ছত্র পিছে দেন সিংহাসনের পদবী আল্-মুতাওয়াকিল। এ পদবী সুলতান গ্রহণ করেছিলেন বাগদাদের খলিফাগণের অনুকরণে। সে সময়ে কোনো সর্বজনসম্মত খলিফা ছিলেন না। কায়রোর নামমাত্র খলিফাগণকে পশ্চিম অঞ্চলের কেউ স্বীকার করতেন না। বর্তমান কাল অবধি মরোক্কোর সুলতানগণ এই পদবী রক্ষা করে চলেছেন।
১৩. মায়ের কবর জেয়ারত
তেরো
এ মহান সম্রাটের দর্শন ও তার সময় দয়া-দাক্ষিণ্য লাভের সুযোগ গ্রহণ করে আমি মায়ের কবর জেয়ারতের জন্য রওয়ানা হলাম। আমার বাসস্থান তাজিয়ার শহরে পৌঁছে সেখান থেকে সাবটা (সেউটা) গিয়ে কয়েকমাস কাটালাম। সেখানে এক অসুখে পড়ে আমাকে তিন মাস ভুগতে হয়। খোদ পরে আমাকে সুস্থ করেন। পরে আমি জেহাদে এবং সীমান্ত রক্ষার কাজে যোগদান করবো বলে প্রস্তাব করি। কাজেই, আসিলার বাসিন্দাদের একটি ছোট জাহাজে উঠে সেউটা থেকে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আন্দালুসিয়ায় গিয়ে পৌঁছলাম (খোদা এদেশকে রক্ষা করুন)। দশমাস কাল জেবেল (জিব্রাল্টার) অবরোধ করে অত্যাচারী খৃষ্টান আদফুনা তখন মৃত্যু বরণ করেছেন। তার ইচ্ছা ছিল তখনও মুসলমানদের আন্দালুসিয়ায় যা-কিছু অবশিষ্ট আছে তার সবই তিনি গ্রাস করবেন। কিন্তু খোদা তাকে হিসাব-নিকাশের বাইরে নিয়ে গেলেন। তিনি ভয়াবহ প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণত্যাগ করলেন। যে আন্দালুসিয়া আমি দেখেছি তার প্রথম অংশ মাউন্ট অব কংকোয়েষ্ট (জিব্রালটার)। পাহাড়ের চারদিক পজে প্রদক্ষিণ করে আমি মরক্কোর ভূতপূর্ব সুলতান আবুল হাসানের কীর্তি এবং তাঁর সঞ্চিত যুদ্ধোপকরণ দেখতে লাগলাম, সে সঙ্গে দেখলাম আমাদের অধিনায়ক পরে যা-কিছু অর্জন করেছেন। খোদা তাকে শক্তিশালি করুন। আমি এদেশ রক্ষাকারীদের একজন হয়ে বাকী জীবন কাটাইতে চাই।
ইব্নে জুজায়ী বলেছেন, “মাউন্ট অব কঙ্কোয়েষ্ট ইসলামের একটি দূর্গ স্বরূপ। পৌত্তলিকদের গলায় এটি যেনো একটি হাড়ের মতো বিধে আছে। এখান থেকেই আরবদের দ্বারা বিখ্যাত স্পেন বিজয়ের আরম্ভ। মুসা ইনবে নুসাইর দ্বারা আজাদীপ্রাপ্ত তারিক ইব্নে জিয়াদ এখানেই অবতরণ করে ৭১১ হিজরীতে প্রণালী অতিক্রম করেন। তার নামানুসারেই এর নাম হয়েছে জেবেল তারিক (তারিকের পর্বত শৃঙ্গ)। এ জায়গাকে বিজয় শৃঙ্গ বা মাউন্ট অব কঙ্কোয়েষ্টও বলা হয়, কারণ বিজয় এখান থেকেই আরম্ভ হয়। তারিকের নির্মিত প্রাচীরের এবং তার সেনাদলের স্মৃতিচিহ্ন এখনও এখানে বিদ্যমান আছে তা আরবদের প্রাচীর বলে পরিচিত। আলজেসিরাস অবরোধের সময় আমি নিজেও তা দেখেছি।
