ডিউলাওরিয়ার বলছেন কা-জান্-ফু হয়তো চিন্-কিয়াং-ফুর পরিবর্তে ইয়াংসি এবং গ্রাও ক্যানালের সন্ধিস্থলে অবস্থিত–এতে করে এ স্থানটি হবে খান্ পা এবং খান-বালিকের (পিকি) মাঝখানে। এ রকমের ভ্রান্ত স্থান নির্ধারণ ইব্নে বতুতার ক্ষেত্রে খুব বেশি দেখা যায় না-কিন্তু চিং-কিয়াং-ফু কদাচিং তার বিবরণের যোগ্য বলে মনে হয়। এ ফেরা মার্কোপলোর কে জানফুকে কা-জা-ফু বলে গ্রহণ করেছেন- এটা হচ্ছে চীনের পুরাতন রাজধানী–এখন। শে-সির উউ নদীর তীরে সি-আন্-ফু আরব ভৌগলিকগণ একে বলতেন খুসদান। এই সনাক্তকরণ এ কেরাস্ত্রে মতের মতোই একটি ব্যাপার যাতে তিনি বলেছেন যে ইব্নে বতুতা আদৌ চীন দেশ ভ্রমণ করেননি। এ কথা ধরে নেওয়া যথেষ্ট নিরাপদ যে মুসলিম সওদাগরগণ। ফিউচাওয়ের স্থানের কা-জা-ফু নাম ব্যবহার করেছেন (যেমন সাওয়ান-চাওর স্থানে জেতুনের মতন), অথবা ইব্নে বতুতা ওই একই ধ্বনির দুটি নাম এক জড়িয়ে ফেলেছেন।
২০। ঘুটা হচ্ছে দামাস্কাসের চারদিকে ঘোরান বৃক্ষ শোভিত প্রশস্ত প্রান্তরের নাম।
২১। চীনের আধুনিক নামচিত্রে এ নামের সম্পর্কিত কিছু অনুসন্ধান করা সময়ের অপব্যয় হবে-এর স্থান নির্ধারিত হতে পারে কেবল উল্লেখিত অন্য শহরগুলির উল্লেখ দ্বারা। এটা সম্পূর্ণ সব যে এ-কোনো স্থানের নাম নয় বরঞ্চ কোনো তুকী তাতার সেনাপতির নাম (বেআন কুৎলাঘ=“সৌভাগ্যবান বেআন”)-এটাই ইব্নে বতুতা ভুলক্রমে একটি শহরের নাম বলে গ্রহণ করেছিলেন।
২২। খ্রীষ্টান এবং মুসলিম উভয় পর্যটক দল কর্তৃক এ কথা স্বীকৃত যে, মার্কো পলো যাকে “কিনসের অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত নগর…সমস্ত তর্কের অতীত পৃথিবীর সুন্দরতম এবং মহান” বলে অভিহিত করেছেন সেটা বাস্তবিকই চৌদ্দ শতাব্দীতে পৃথিবীর বৃহত্তম নগর ছিল। এতে করে যে প্রশংসাবাদ জেগে উঠে সেটা পরিণত হয় আতিশয্যে, যেমন মার্কোপলো বলেছেন যে এর রয়েছে শত মাইল পরিসর, এতে রয়েছে বারো হাজার প্রস্তর নির্মিত সেতু এবং অধিকাংশ সেতু এতটা উঁচু যে তাদের তলা দিয়ে বৃহৎ নৌবহর চলে যেতে পারে। সুতরাং এতে আশ্চর্য হওয়ার। কিছু নেই যে ইব্নে বতুতার বৃত্তান্ত সম্বন্ধে ইউলের ভাষায় “এতে রয়েছে সন্দেহজনক উক্তি।” খাসা নামটি হচ্ছে আরবীর রূপান্তর (একজন আরবীয় মহিলা কবির নামের সঙ্গে সংযুক্ত আর কিসে ক্যানসে, ক্যাসে ইত্যাদি হচ্ছে চীনে কিং-সে রাজধানীর ইউরোপীয় রূপান্তর। হ্যাং চাও হচ্ছে ১১২৭ থেকে ১২৭৬ পর্যন্ত সাং রাজত্বের রাজধানী।
২৩। সিটাডেল বা দূর্গ শব্দের অনুদিত মানে হচ্ছে “শাসক বা গবর্ণর কর্তৃক অধিকৃত অভ্যন্তরিক নগর। শাসকের প্রাসাদ হ্যাং-চাওয়ের কেন্দ্রস্থলে ছিল না–বরঞ্চ এটা ছিল দক্ষিণ প্রান্তে।
২৪। “চেইন অব্ হিষ্টোরিতে” বলা হয়েছে “আশী বছর বয়সে উপনীত হলে একজন ব্যক্তিগত করদান থেকে মুক্ত হয় এবং রাজকীয় কোষ থেকে ভাতা পেয়ে থাকে। এ সম্বন্ধে চীনেগণ বলেন “যৌবন কালে এ ব্যক্তি ট্যাকস দিয়েছেন এখন সে যখন বুড়ো হয়ে গিয়েছেন তখন তাকে আমরা ভাতা দেবো।” (কেরাও সুলেমান সওদাগরের Voyage du marchand Sulayman, ৬৩ পৃঃ)।
২৫। কার্টে মনে হয় ক্যারাটের সংক্ষিপ্ত শব্দ। একটি সাধারণ তুর্কী পদবী-কিন্তু যতদূর জানা যাচ্ছে কোনো চীনে গ্রন্থে এ নামের কোনো শাসকের নাম উল্লেখিত হয়নি। এটা সব যে। তুর্কী সৈন্যগণ তাদের সেনাপতিকে এ পদবী দিয়েছে গ্রন্থের এ অংশে ইব্নে বতুতা আরো অনেক শব্দ ব্যবহার করেছেন যেগুলি চীনে শব্দ নয়। বরঞ্চ তুর্কী কিম্বা পার্শিয়ান। এ ভাবে তিনি তার তুক-ফার্সি পদবী “রাজা” ব্যবহার করেছেন ম্রাটের নাম রূপে। নিচের ৩২ টীকা দ্রষ্টব্য।
২৬। তোয়া কিম্বা তুই হচ্ছে একটি তুর্কী শব্দ–এর অর্থ ভোজ কিম্বা উৎসব।
২৭। ইউল মন্তব্য করেছেন যে আনন্দপ্রদ ছন্দ ধ্বনিত হচ্ছে ঠিক এই পংতিটিতে
প্রভাত না হলে মোরা ফিরিব না ঘরে,
কিছুটা মুক্ত অনুবাদ দেওয়া হয়েছে এ ভাবেঃ
আবেসের আলোড়নে বিসর্জিত আমার হৃদয়,
বিক্ষুব্ধ সমুদ্র সম তরঙ্গ আঘাতে;
কিন্তু যবে হয়েছি নিমগ্ন পুনঃ উপসনা মাঝে
বিদূরিত হলো মোর সব দুঃখ তাপ।
কবিতার শেষ পংতিটি সঠিক ভাবে পড়া বা সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা হয় না।
২৮। মার্কোপলোও হ্রদে আনন্দ-বিহারের কথা বলেছেন–কিন্তু নকল যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেননি। (২য় খণ্ড, ২০৫)।
২৯। এ উক্তি সম্পর্কে ইউল যথার্থরূপে প্রতিবাদ করেছেন। তিনি বলেছেন, “এটা সত্যের এত বিপরীত যে লোকের মনে সন্দেহ উপস্থিত হতে পারে, ইব্নে বতুতা আদৌ হ্যাং-চাও ছাড়িয়ে আরো দূরে ভ্রমণ করেছেন কি না” (খ্যাথে ৪র্থ খণ্ড, ১৩৭)।
৩০। মোগলগণ পিকিংকে বলতেন “খান-বালিক” মানে খানের নগর, পশ্চিমী লেখকগণ বলেছেন ক্যাম্বা এবং ক্যাম্বলুক। খানিকু নাম ব্যাখ্যা করা হয়েছে একটি বিশেষণ রূপে, কানের নগর (এসিয়াটিক জার্নাল, মে, ১৯১৩, ৭০১ পৃঃ)
৩১। দুইয়ের পরিচ্ছেদ, টীকা ১২ দ্রষ্টব্য।
৩২। সম্ভবতঃ পারশিয়ান পান্দা বাজার বিকৃতি (টীকা ২৫ দ্রষ্টব্য)। রাজত্বকারী ম্রাট ছিলেন তগন তাইমুর (রাজত্বকাল ১৩৩৩-৭১)।
৩৩। কারাকুরাম হচ্ছে মোঙ্গলদের প্রথম রাজধানী, এর জায়গায় বর্তমানে অবস্থিত রয়েছে আরদেনি-সো, অ খন্ নদীর ডান তীরে উর্গা নদীর ২০০ মাইল পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং বাহির মোঙ্গালিয়ার অন্তর্গত কারাবল্গাসুনের ২০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে।
