৭। এখানে ইব্নে বতুতা পাথর কয়লার সঙ্গে পর্সেলিন কাদার একত্র জড়িয়ে ফেলেছেন। সম্ভবতঃ এটা ঘটেছে চীনের সেই প্রথার জন্য যাতে কয়লা চূর্ণ করে নিয়ে কাদার সঙ্গে মেশানো হয় মৌলিক জ্বালানী’ তৈরী করার জন্য (মার্কোপলল ১ম খণ্ড, ৪৪২-৩ দ্রষ্টব্য)।
৮। এ কথা সাধারণভাবে স্বীকৃত যে মধ্যযুগে মুসলিম এরং ক্রিশ্চান উভয় পর্যটকের নিকট যে শহরটি জেতুন নামে পরিচিত সেটা তি’ওয়ান চো-ফু (চুয়ান-চৌ-ফু, ২৪-৫৩ উত্তরে, ১১৮-৩৩ পূর্বে। এই পরিচয়ের পক্ষে যুক্তি এবং চ্যাং-চু-ফুর (এময়) দাবির বিচার দেখা যাবে মার্কোপলোর বিবরণে, ২য় খণ্ড, ২৩৭।
৯। মধ্যযুগীয় ইতালির জেটানির মারফত জেতুনি শব্দ থেকে স্যার্টিন এসেছে বলে ইউল কতকগুলি জোরালো যুক্তি খাড়া করেছেন, (ক্যাথে ৪, ১১৮)।
১০। সিজিলমাসা ছিল দক্ষিণ মরক্কোর অন্তর্গত তাকিলেস্টের নিকটবর্তী। নিচে ১৪। পরিচ্ছেদ, টিকা দ্রষ্টব্য।
১১। গ্রন্থের এ স্থানে দেওয়ান’ শব্দটি ‘পরিষদ’ বলে গ্রহণ না করে সেটা যে কোনো প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন) গ্রহণ করছি একটি প্রতিষ্ঠানরূপে যা উত্তর আফ্রিকায় এবং মিশরের সে সমস্ত বন্দর নামে পরিচিত যে সব বন্দর বিদেশী বাণিজ্যের জন্য মুক্ত-এর থেকে ইতালিয়ান দুগেন এবং ফ্রেঞ্চ দুয়ান শব্দের উৎপত্তি। এটা একই কালে গুরু-গৃহ, মালদাস, বাসাগৃহ এর বিদেশী বণিকগণের টাকার বাজার (এ কারণেই ইব্নে বতুতা এখানে বাসস্থান পেয়েছিলেন), এবং এর পরিচালক ছিলেন রাজ্যের অন্যতম কর্মচারী (মাসলট্রির Relations et Commerce de l Afique’ Septentrionale, ৩৩৫ ff. দ্রষ্টব্য)। কয়েক পংক্তি নিচে ইব্নে বতুতা ক্যান্টন সম্বন্ধে বলছেন যে দেওয়ান পরিচালকের আওয়াতার মধ্যে এটা অবস্থিত ছিল। সম্ভবতঃ এর মানে হচ্ছে এই যে সেখানকার বাণিজ্য ঘাঁটি তার সীমার মধ্যে ছিল।
১২। এ অংশটুকুর অর্থ সম্পূর্ণ পরিস্কার। কোরাণ অনুসারে আইনতঃ ভিক্ষা দিতে হবে “বাপ-মা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, দরিদ্র, এবং মুসাফিরদের। জেতুনের মুসলিম সম্প্রদায় এত সমৃদ্ধশালী ছিলেন যে এই ভিক্ষার যোগ্য পাঁচ শ্রেণীর মধ্যে সেখানে কেবল শেষটিই ছিল। ১৩। আরব এবং পার্শিয়ান লেখকগণ (মার্কোপলোর মতো) মোগলের মহান খান কে কান কিম্বা কা’আন্ বলে অভিহিত করতেন। ইউল যেমন বলেছেন, এটা সাধারণ তুর্কী খান পদবী খাকান থেকে একটা পৃথক পদবী নয়। (শিতরি, তুয়ো বাঙ্কোর অনুসন্ধান বিভাগের স্বারকলিপি, নম্বর ১, টকিও,১৯২৬,১৯-২৬ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)।
১৪। সিকালান হচ্ছে পার্শিয়ান চিন্ কালানের আরবী রূপান্তর সংস্কৃত মহাচীনের পরিবর্তে-আরবী নাম সিন আস-সিনের অর্থও তাই।
১৫। এখানে বিষয়টি ত্রুটিপূর্ণ–এটা ঘটেছে একটি শব্দ ভুল লেখার জন্য কিম্বা অন্য শব্দ বাদ পড়ার জন্য।
১৬। টিসোয়ান-চু থেকে ক্যান্ টন্ অভিমুখে নদী পথে ইব্নে বতুতার পথ নানা কারণে অনিশ্চিত। ইউল একটি পথের কথা বলছেন ফুচো থেকে মিনের দিকে এবং কানের উঁচু সীমা থেকে মিলিং গিরিপথ হয়ে পিকিয়াং অবধি। মনে হয় এটা এক ঘোরালো পর্যটন-অথচ মি এবং টাং নদী পথে সোজা পথ রয়েছে, অবশ্য যদি নদী দুটি নৌ-চলাচলের যোগ্য থাকতো।
১৭। এ মন্দিরটি স্থির নিশ্চয়রূপে সনাক্ত করা হয়নি। ইউল বলেছেন এটা হচ্ছে “বিজয় এবং শ্রদ্ধার মন্দির।”আধুনিক নগরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
১৮। গগ এবং ম্যাগগের প্রাচীর সম্বন্ধে কোরাণে বর্ণনা করা হয়েছে এবং আলেকজাণ্ডার দি গ্রেটকে বলা হয়েছে এর নির্মাতা। এ স্থানটি কোথায় তার নির্ধারণ আরবী ভৌগোলিকদের জন্য একটি সমস্যা। পৃথিবীর জনপদের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে এ স্থানটি রয়েছে বলে সাধারণের ধারণা এবং চীনের মহাপ্রাচীরের সঙ্গে এটাকে বিজড়িত করা হয়েছে। কিন্তু ইনে বতুতার হয়তো ধারণা ছিল না যে চীন সেই প্রাচীরের মধ্যে অবস্থিত এবং মনে হয় এলোমেলোভাবে তিনি প্রশ্নটি মীমাংসা করেছেন-সম্ভবতঃ মহাপ্রাচীর সম্বন্ধে কতকগুলি আকস্মিক কথা শুনবার পর।
মার্কোপলোও ফুকিন এবং কিয়ানসি কিম্বা চি-কিয়াং পর্বত অঞ্চলে একটি মানুষখেকো জাতির কথা বলেছেন (২য় খণ্ড ও ২২৬ এই শিমিটখেনার, জিটু ক্রিট দ্যর জে ফার আর্ডকুণ্ডেজ, বার্লিন, ১৯২৭, ৩৮৮ পৃঃ দ্রষ্টব্য)।
১৯। কান-জান-ফুর স্থান নির্ধারণ এখনও অনিশ্চিত। ইব্নে বতুতা কর্তৃক স্থানটি জেতুন এবং খাসার মাঝখানে নির্দিষ্ট করা যদি নির্ভুল হয়ে থাকে–তবে এর স্থান নির্ভর করবে সেই পথের উপরে তিনি যেটা অনুসরণ করেছিলেন। ইউল এটাকে কিয়াংসি প্রদেশ অন্তগর্ত ফু-হো তীরবর্তী কিয়েন-চ্যাং-ফুর সহিত এক বলে ধরেছেন এবং তার পরবর্তী স্টেশন বেওয়াম কুলুকে পো-ইয়াংসির সঙ্গে। এরূপ সনাক্তকরণের বিরুদ্ধে আপত্তি হচ্ছে এই যে (১) এতে করে অন্তর্গত করা হয় হ্যাংচাও পর্বত একটি ঘোরালো পর্যটন এবং তাতে করে হ্যাংচাওকেই সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়; (২) এবং এমন কোনো প্রমাণ নেই যে কিয়েনচ্যাং-ফুর ভিতর দিয়ে এত ঘন ঘন বাণিজ্য পথ রয়েছে (যেমন ইব্নে বতুতার পথ থেকে প্রদর্শিত হচ্ছে)।
যেহেতু হ্যাং-চাওতে পৌঁছতে ইব্নে বতুতার লেগেছিল ৩১দিন এবং উল্টো পথে মার্কোপলোর ২৭ দিন, সেজন্য এটা মনে করার যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে যে তারা মূলতঃ একই পথ অবলম্বন করেছিলেন। এক্ষেত্রে কা-জান্-ফুর জন্য স্বাভাবিক সনাক্তকরণ হচ্ছে ফুচাও। এর স্বপক্ষের হচ্ছে : (১) একজন নিজস্ব গবর্ণর এবং বৃহৎ সৈন্য-নিবাস সহ নগরের পরিসর (যেটা মার্কোপলের বিবরণের সঙ্গে বেশ মিলে যায়); (২) বন্দরে একটি বৃহৎ জাহাজের আগমন”, মার্কোপলো পরিস্কার রূপে বছেন যে “জেতুন থেকে জাহাজগুলি সেই নদী দিয়ে সোজা ফিউজু নগরে এসে পৌঁছে যে নদীর কথা আমি বলেছি–এবং এভাবেই ভারতের মুল্যবান পণ্যদ্রব্য এখানে এসে থাকে। ভারতের মূল্যবান পণ্যদ্রব্য এখানে এসে থাকে।” ফিউচা জেলাকে মার্কোপলো যে নাম দিয়েছেন যেমন চা বা কঞ্চা (নগরের আসল নাম হচ্ছে চিকিয়ান) তাতে করে হয়তো সেটা কান্-জান্-ফুতে রূপান্তরিত হয়ে থাকবে। অন্যদিকে ফিউচা থেকে জেতুন যাওয়ার পথ মার্কোপলো কেবল পাঁচদিন বলেছেন-এতে মনে হচ্ছে মিন্ নদীর আরো উজানে কোনো স্থানকে তিনি নির্দেশ করছেন (মিন নদীর নৌ-চলাচল সম্বন্ধে মার্কোপলো ২য় খণ্ড, ২৩৪ দ্রষ্টব্য)।
