অগ্নি আমার স্বপ্নের প্রকল্প। এ জন্য এমন একজনকে দরকার ছিল যে কি না প্রকল্প চালানোয় মাঝে মধ্যে আমার অযাচিত হস্তক্ষেপ সহ্য করে নেবে। আরএন আগরওয়াল ছিলেন সঠিক মানুষ। উজ্জ্বল অ্যাকাডেমিক রেকর্ডসহ তিনি ছিলেন এমআইটির একজন প্রাক্তন ছাত্র। তীক্ষ্ণ পেশাদার বিচারবুদ্ধি দিয়ে ডিআরডিএলের অ্যারোনটিক্যাল টেস্ট ফ্যাসিলিটিজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে আকাশ ও নাগ সে সময় ভবিষ্যতের মিসাইল বলে বিবেচিত হয়েছিল; এগুলো তৈরির কর্মতৎপরতা আরও আধ-দশক পরে জোরাল হবে বলে আশা করা হতো তখন। তরুণ বয়সী প্রহ্লাদ ও এনআর আয়ারকে আমি নির্বাচন করলাম আকাশ ও নাগের জন্য। সুন্দরম ও মোহনের ডেপুটি হিসাবে নির্বাচন করলাম অপর দুই তরুণ ভিকে সরস্বৎ এবং একে কাপুরকে।
সেইসব দিনে ডিআরডিএলে কোনো ফোরাম ছিল না যেখানে সাধারণ জরুরি বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা যেত কিংবা সিদ্ধান্তের ওপর বিতর্ক করা যেত। অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে বিজ্ঞানীরা মূলত আবেগপ্রবণ মানুষ। একবার যদি তারা হোঁচট খায়, তাহলে তাদের টেনে নেওয়া খুবই কঠিন। বাধাবিপত্তি আর হতাশা সবসময়ই আছে এবং যে কোনো পেশায় পূর্বানুক্রমিক অংশ হিসাবে তা থাকবেই, এমনকি বিজ্ঞানজগতেও। যা হোক আমি চাইনি আমার বিজ্ঞানীদের কাউকে একা একা নিরাশার মুখোমুখি পড়তে হোক। আমি এও নিশ্চিত করতে চেয়েছি যে, তাদের মন্দ অবস্থায় কোনো লক্ষ্য যেন তাদের নির্ধারণ করতে না হয়। এ ধরনের বিষয়গুলো এড়ানোর জন্য একটা সায়েন্স কাউন্সিল গঠন করা, হলো-এক রকম পঞ্চায়েত যেখানে সবাই একত্রে বসে সাধারণ সিদ্ধান্তগুলো নেবে। সমস্ত বিজ্ঞানী প্রতি তিন মাসে একবার এক সঙ্গে বসবে।
কাউন্সিলের প্রথম বৈঠক ছিল ঘটনাবহুল। একজন সিনিয়র বিজ্ঞানী এমএন রাও সরাসরি একটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন: কীসের ভিত্তিতে আপনি নির্বাচিত করেছেন এই পঞ্চপান্ডবকে? পঞ্চপান্ডব বলতে তিনি বুঝিয়েছিলেন প্রকল্প পরিচালকদের কথা। বস্তুত আমি এমন একটি প্রশ্নই আশা করছিলাম। আমি তাকে বলতে চেয়েছিলাম যে, আমি আবিষ্কার করেছি এই পঞ্চপান্ডব বিয়ে করেছে ইতিবাচক চিন্তার দ্রৌপদীকে। কিন্তু তার বদলে রাওকে আমি অপেক্ষা করে দেখতে বললাম। আমি তাদের নির্বাচন করেছিলাম দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচির দায়িত্ব গ্রহণ করতে, যেখানে নতুন নতুন ঝড় উঠবে প্রতিদিন।
প্রতিটা আগামীকাল, আমি রাওকে বললাম, সুযোগ বয়ে আনবে এইসব উদ্যমী মানুষদের কাছে আগরওয়ালদের কাছে, প্রহ্লাদদের কাছে, আয়ারদের কাছে, সরস্বদের কাছে তাদের লক্ষ্যের স্পষ্ট চিত্রটা তারা দেখতে পাবে তাতে করে, আর অঙ্গীকারে তারা অটল হবে।
কিসে তৈরি হয় একজন উৎপাদশীল নেতা? আমার মতে, একজন উৎপাদনশীল নেতাকে অবশ্যই কর্তৃত্ব পরিচালনায় হতে হবে উপযুক্ত। তাকে অবশ্যই প্রতিনিয়ত তার প্রতিষ্ঠানে নতুন রক্ত সঞ্চালন করতে হবে। তাকে অবশ্যই সমস্যা আর নতুন ধারণার মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। তাকে অবশ্যই হতে হবে দলকে উদ্যমী করে তোলায় পারঙ্গম। যেখানে দরকার সেখানে প্রশংসা করতে হবে; প্রশংসা করতে হবে প্রকাশ্যে, কিন্তু সমালোচনা ব্যক্তিগতভাবে।
সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলোর একটা এল একজন তরুণ বিজ্ঞানীর কাছ থেকে এই প্রকল্পের ভাগ্য যদি ডেভিল প্রকল্পের দিকে যায়, তাহলে তা আপনি ঠেকাবেন কীভাবে? আইজিএমডিপির পেছনে যে দর্শন আছে আমি আর কাছে সেটা ব্যাখ্যা করলাম-এটা শুরু হবে ডিজাইনে আর শেষ হবে মোতায়েনে। একেবারে ডিজাইন স্তর থেকে ইউজার এজেন্সি ও প্রডাকশন সেন্টারগুলোর অংশগ্রহণ এতে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সফলভাবে মিসাইল সিস্টেম স্থাপন না করা পর্যন্ত পেছনে ফিরে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
.
যে সময়ে দলগঠন প্রক্রিয়া ও কর্ম সংগঠন চলছিল, সেই সময়ে আমি লক্ষ করলাম, আইজিএমডিপির চাহিদা পূরণের মতো পর্যাপ্ত স্থান ডিআরডিএলে নেই। নিকটবর্তী স্থানে কিছু স্থাপনা গড়তে হবে। ডেভিল প্রকল্পের মিসাইল স্থাপনার জন্য প্রয়োজন হয়েছিল মাত্র ১২০ বর্গমিটার শেড। পাঁচটা মিসাইল যা খুব শীগগরিই এখানে পৌঁছাবে তা ইন্টিগ্রেট করার জায়গা কোথায়? এনভায়রনমেন্টাল টেস্ট ফ্যাসিলিটি এবং অ্যাভিওনিস ল্যাবরেটরি ছিল সমান ভাবেই গাদাগাদি করে ঠাশা আর দুর্বল যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত।
আমি নিকটবর্তী ইমারত কাঞ্চা এলাকা ঘুরে দেখলাম। কয়েক দশক আগে ডিআরডিএল এ জায়গায় ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল। ভূখন্ডটা একেবারে বন্ধ্যা হয়ে পড়ে ছিল কোনো গাছপালা নেই-আর দাক্ষিণাত্যের ভূপ্রকৃতির বড়ো বড়ো বোল্ডার দেখা যায় মাঝে মাঝে আমার মনে হয় যেন বিপুল পরিমাণ শক্তি আটকা পড়ে আছে এইসব পাথরের মধ্যে। মিসাইল প্রজেক্টের জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টিগ্রেশন ও চেক-আউট স্থাপনার জন্য এ জায়গাটিকেই আমি নির্বাচন করলাম। পরবর্তী তিন বছরের জন্য এটাই হয়ে উঠল আমার মিশন।
সকল অগ্রবর্তী সুযোগসুবিধাসহ একটা উচ্চতর প্রযুক্তি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব আমরা ছক করেছিলাম। একটা ইনার্শিয়াল ইন্সট্রুমেন্টেশন ল্যাবরেটরি, পূর্ণমাত্রার এনভায়রনমেন্টাল ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (ইএমআই/ইএমসি) টেস্ট স্থাপন, একটা কম্পোজিট উৎপাদন কেন্দ্র, এবং একটা স্টেট-অব-দ্য-আর্ট মিসাইল ইন্টিগ্রেশন ও চেকআউট সেন্টার ইত্যাদি থাকবে তাতে। যে কোনো দিক থেকে এটা ছিল বিশালতর কাজ। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দরকার ছিল আলাদা ধরনের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান আর আত্মপ্রত্যয়। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ইতোমধ্যেই স্থির করা হয়েছিল। এখন সেগুলোয় টেনে আনা দরকার ছিল বিভিন্ন সংস্থার লোকজনকে, যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে। এ কাজ করার সবচেয়ে যোগ্য লোক ছিল কে? এমভি সূর্যকান্ত রাওয়ের মধ্যে এর সমস্ত গুণ আমি দেখেছিলাম। তারপর যেহেতু বিপুলসংখ্যক সংস্থা আরসিআই, তৈরিতে কাজ করবে, তাই পৌরহিত্য বিষয়ক
