যে ব্যক্তি একটা দলের নেতৃত্ব দেবার দায়িত্ব নিয়েছে সে নিজের কাজে সফল হতে পারে আপন অধিকারে যদি সে হয় যথেষ্ট পরিমাণে স্বাধীন, ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিগত স্বাধীনতা জোরদার করতে একজন মানুষ কি করতে পারে? এ ক্ষেত্রে আমি যে দুটো কৌশল ব্যবহার করি তা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে আমার অসুবিধে নেই। প্রথম কৌশল হচ্ছে, আপনার শিক্ষা ও দক্ষতা তৈরি করা। জ্ঞান হচ্ছে এক অধিগম্য সম্পদ, যা প্রায় সবসময়ই আমার কাজের ক্ষেত্রে হয়ে ওঠে গুরুতুপূর্ণ হাতিয়ার। যত বেশি হাল-নাগাদ জ্ঞান আপনি সঞ্চয় করতে পারবেন তত বেশি আপনি স্বাধীন হবেন। জ্ঞান কারো কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া যায় না। একজন নেতা তার দলকে পরিচালনার জন্য কেবল তখনই স্বাধীন হতে পারে যখন সে তার চারপাশে ঘটা সবকিছুর প্রতি নজর রাখে সঠিক সময়ে। নেতৃত্ব দেওয়া হচ্ছে, এক দিক থেকে, অবিরাম শিক্ষার মধ্যে জড়িত থাকা। অনেক দেশে পেশাদার লোকদের জন্য প্রতি সপ্তাহে কয়েক রাত কলেজে যাওয়াটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। সফল দলনেতা হতে হলে, কর্মদিবসের কানে তালা লাগান হৈ হট্টগোলের পর নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে নতুন একটা দিনের মুখোমুখি হওয়ার জন্য।
দ্বিতীয় কৌশল হচ্ছে, ব্যক্তিগত দায়িত্বের আকাঙ্ক্ষা জাগানো নিজের মধ্যে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সার্বভৌম উপায় হচ্ছে সেই শক্তিগুলোকে দৃঢ়প্রত্যয়ী করে। তোলা যেগুলো আপনাকে দৃঢ় প্রত্যয়ী করে তোলে। সক্রিয় হোন! দায়িত্বশীল হোন! আপনার বিশ্বাসের জন্য কাজ করুন। যদি না করেন, তাহলে তার অর্থ হবে আপনার। ভাগ্যকে আপনি অন্যদের কাছে সমর্পণ করছেন। প্রাচীন গ্রীস সম্পর্কে ঐতিহাসিক এডিথ হ্যাঁমিলটন লিখেছেন ও তাদের সবচেয়ে আকাঙ্খিত স্বাধীনতা যখন দায়িত্বশীলতা থেকে মুক্তি অর্জন, তখন এথেন্স স্বাধীন হবার জন্য অবরুদ্ধ এবং কদাপি স্বাধীন হবে না আর। সত্যটা হলো এই যে অনেক কাজ আছে যা আমরা ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকেই করতে পারি আমাদের স্বাধীনতার পরিধি বাড়ানোর জন্য। আমাদের পীড়ন করার হুমকি দেয় যে শক্তিগুলো, তার বিরুদ্ধে আমরা লড়তে পারি। যোগ্যতা আর অবস্থা যা ব্যক্তি স্বাধীনতা চালনা করে তার সাহায্যে নিজেদের আমরা শক্তিশালী করতে পারি। সে রকম করলে তার অর্থ দাঁড়ায়, আমরা একটা অধিক দৃঢ় সংগঠন সৃষ্টিতে সাহায্য করছি, যা অপরিমেয় লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ।
এসএলভি উন্নয়নের সময় অধ্যাপক ধাওয়ান প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট সমস্ত দলের মধ্যে অগ্রগতি পর্যালোচনার পদ্ধতি চালু করেছিলেন। অধ্যাপক ধাওয়ান ছিলেন মিশন প্রাপ্ত একজন মানুষ। কাজ যাতে কোনো বাধাবিঘ্নের মধ্যে না পড়ে মসৃণভাবে এগিয়ে চলে তার জন্য কোথাও তিনি ফাঁক রাখেননি। ভিএসএসসিতে অধ্যাপক ধাওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রিভিউ মিটিংগুলো বড়ো ঘটনা হিসাবে বিবেচনা করা হতো। তিনি ছিলেন আইএসআরও জাহাজের এক সত্যিকারের কাপ্তান একজন কমান্ডার, নাবিক, হাউজকিপার, একের মধ্যে সবকিছু। তথাপি, যা করতেন তার চেয়ে বেশি জানার ভান করতেন না তিনি। তার বদলে যখন কোনো কিছু সন্দেহজনক মনে হতো তখন তিনি তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতেন। আমি তাকে স্মরণ করি এমন এক নেতা হিসাবে যার কাছে নেতৃত্ব ছিল একটা নৈতিক বাধ্যবাধকতা। কোনো ইস্যুতে একবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে তিনি সহজে আর মত বদলাতেন না। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে অনেক চিন্তাভাবনা করতেন।
অধ্যাপক ধাওয়ানের সঙ্গে প্রচুর সময় কাটানোর সুবিধা পেয়েছিলাম আমি। তিনি শ্রোতাকে বিমোহিত করে রাখতে পারতেন তার যুক্তিপূর্ণ ধীশক্তির কারণে, যার সাহায্যে তিনি যে কোনো বিষয় বিশ্লেষণ করতে পারতেন। শিক্ষার দিক থেকে তার প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির বহরটি ছিল একেবারে অগতানুগতিক গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানে বি. এসসি., ইংরেজি সাহিত্যে এম, এ., মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বি. ই., অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ এম, এস, এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (ক্যালটেক) থেকে অ্যারোনটিকস ও গণিতে পিএইচ. ডি.।
তার সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক ছিল অতিশয় উদ্দীপক আর তা আমাকে ও আমার দলের সদস্যদেরকে মানসিকভাবে বলিয়ান করে তুলত। তার মধ্যে আমি পূর্ণ আশাবাদ খুঁজে পেয়েছিলাম। যদিও নিজেকে সবসময় তিনি বিচার করতেন নির্দয়ভাবে, কখনও ক্ষমা করতেন না, কিন্তু অন্যদের কিছু ভুল হলে তাদের ওপর কঠোর হতেন না। অধ্যাপক ধাওয়ান স্পষ্ট করে তার বিচার ঘোষণা করতেন, তারপর অপরাধী পক্ষকে ক্ষমা করে দিতেন।
১৯৭৫ সালে, আইএসআরও পরিণত হলো সরকারি সংস্থায়। একটা আইএসআরও কাউন্সিল গঠিত হলো বিভিন্ন কর্মকেন্দ্রের পরিচালক ও ডিপার্টমেন্ট অব স্পেস (ডিওএস)-এর সিনিয়র অফিসারদের নিয়ে।
এই পরিবর্তনের ফলে টিএন সেশনের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ঘটল, তিনি ছিলেন ডিওএসের যুগ্মসচিব। তখনও পর্যন্ত আমলাদের ব্যাপারে আমার ছিল এক রকম রক্ষণবাদিতার মনোভাব। সুতরাং টিএন সেশনকে প্রথম যখন এসএলভি৩ এর ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের মিটিঙে অংশ নিতে দেখলাম তখন আমি খুব একটা স্বস্তি বোধ করিনি। কিন্তু শীঘ্রই তার ব্যাপারে আমার মনোভাবের পরিবর্তন ঘটল। তার কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও প্রচণ্ড বিশ্লেষণী সামর্থ্য দিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন বিজ্ঞানীদের মনে।
