এখন এসএলভি-৩ প্রকল্পের কথায় ফিরে আসি, এর নকশা করার সময় ২৫০টি সাব-অ্যাসেম্বলি আর ৪৪টি বড়ো সাবসিস্টেম সম্পন্ন করা হয়েছিল।
জিনিসপত্রের তালিকায় গঠনকর উপাদানের পরিমাণ ১০ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সাত থেকে দশ বছর সময়কালের এই জটিল কর্মসূচির স্থিতিশীলভাবে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনের জন্য একটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কৌশল অত্যাবশক হয়ে পড়েছিল। তার দিক থেকে অধ্যাপক ধাওয়ান একটা পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছিলেন যে, ভিএসএসসি ও এসএইচএআর-এর সকল জনশক্তি ও তহবিল পরিচালিত হতে হবে আমাদের প্রতি। আর আমাদের দিক থেকে আমরা ব্যবস্থাপনার একটা মৌল ধরনের বিবর্ধন ঘটিয়েছিলাম যাতে করে তিন শয়েরও বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রডাক্টিভ ইন্টারফেসিং অর্জন করা যায়। লক্ষ্য ছিল যে, তাদের সঙ্গে আমাদের মিথস্ক্রিয়া অবশ্যই পৌঁছাতে হবে তাদের প্রযুক্তিগত ক্ষমতায়নে। তিনটে বিষয় আমি তুলে ধরেছিলাম আমার সহকর্মীদের কাছে ডিজাইন ক্যাপাবিলিটির গুরুত্ব, লক্ষ্য নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন এবং বাধাবিপত্তি প্রতিরোধ করার শক্তি। এখন, এসএলভি-৩ প্রকল্পের ব্যবস্থাপনার চিত্রটি তুলে ধরার আগে আমি এসএলভি-৩ সম্পর্কে কিছু বলতে চাই।
একটা লঞ্চ ভেহিকল সম্পর্কে গুরুত্বারোপমূলকভাবে কিছু বর্ণনা করা বাস্তবিক চিত্তাকর্ষক। প্রধান যান্ত্রিক কাঠামোটাকে মানবদেহ হিসাবে কল্পনা করা যেতে পারে, সহযোগী ইলেকট্রনিকসহ কন্ট্রোল ও গাইডেন্স সিস্টেম ধরা যেতে পারে মস্তিষ্ক। পেশীতন্ত্র গঠিত হয় প্রোপেল্যান্ট থেকে। কীভাবে এগুলো তৈরি করা হয়? উপাদান আর কলাকৌশল কীসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট?
একটা লঞ্চ ভেহিকল তৈরি করতে বিপুল সংখ্যক বিভিন্ন ধরনের উপাদান প্রয়োজন হয়। ধাতব ও অধাতব উভয় প্রকার, এর সঙ্গে যোগ হয় কম্পোজিট ও সিরামিক। ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন প্রকার স্টেইনলেস স্টিল, অ লুমিনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, টিটানিয়াম, কপার, বেরিলিয়াম, টাংস্টেন, ও মলিবডেনামের সঙ্কর ব্যবহৃত হয়। কমবাইনকৃত উপাদান হতে পারে ধাতব, জৈব অথবা অজৈব। আমরা বিপুল পরিমাণে গ্লাস ফাইবার, রিইনফোর্সড প্লস্টিক-এর যৌগ ব্যবহার করে থাকি এবং Keviar-এ প্রবেশের চতর উনাক্ত করে দিই, এ জিনিসটা হচ্ছে। পলিমাইড ও কার্বন-কার্বন যৌগ। সিরামিক হচ্ছে বিশেষ ধরনের আগুনে পোড়া মাটি যা ব্যবহার করা হয় মাইক্রোওয়েভ ট্রান্সপারেন্ট এনক্লোজারে। আমরা সিরামিক ব্যবহারের কথা বিবেচনা করেছিলাম, কিন্তু সে সময় প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে ও চিন্তা বাদ দিতে হয়েছিল।
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ভেতর দিয়ে এসব উপাদান রূপান্তরিত হয় হার্ডওয়ারে। বস্তুত, সকল প্রকৌশল বিদ্যার মধ্যে, যেগুলো সরাসরি রকেট বিজ্ঞানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে সবচেয়ে স্বকীয় বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। একটা জটিল পদ্ধতির লিকুইড ইঞ্জিন হোক বা সামান্য একটা কবজা হোক, এর যে কোনোটি তৈরির জন্য দরকার হবে একজন সুদক্ষ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং নিখুঁত সব যন্ত্রপাতি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি যেমন অল্প মাত্রার সঙ্করযুক্ত মরিচারোধক ইস্পাতের জন্য ওয়েল্ডিং টেকনিক, ইলেকট্রফর্মিং টেকনিক, এবং অতি নিখুঁত প্রসেস টুলিং নিজেরাই তৈরি করব। আমরা আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি যেমন ২৫৪ লিটার ভার্টিক্যাল মিক্সার এবং খাজ কাটা যন্ত্র তৈরি করব যা দরকার হবে আমার তৃতীয় ও চতুর্থ স্টেজে। আমাদের অনেক সাবসিস্টেম ছিল অত্যন্ত বিশাল ও জটিল। তাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের ব্যাপার ছিল। কোনো দ্বিধা না করে প্রাইভেট সেক্টরের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমরা জোগাড়যন্ত্র করে নিয়েছিলাম এবং তাতে করে তৈরি হয়েছিল এমন একটা কন্ট্রাক্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান পরে যা সরকার পরিচালিত অসংখ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবসা সংগঠনের পক্ষে নীলনকশা হিসাবে গৃহীত হয়েছিল।
এসএলভির জীবন্ত হয়ে ওঠার কথা বলতে গেলে এর সেই অংশগুলোর কথা বলতে হবে যার সাহায্যে জীবন্ত হয়ে ওঠে। এতে ছিল জটিল বৈদ্যুতিক সার্কট্রি, এর ফলে যান্ত্রিক কাঠামো সচল হয়ে ওঠে। এই বিপুল তৎপরতা, সাদামাটা বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ থেকে শুরু করে গাইডেন্স ও কন্ট্রোল সিস্টেমের পাশাপাশি জটিল ইট্রুমেন্টেশন পর্যন্ত সবকিছু, অ্যারোস্পেস গবেষণায় সম্মিলিতভাবে Avionics নামে অভিহিত হয়ে থাকে। এভিওনিক সিস্টেমে উন্নয়ন। প্রচেষ্টা ভিএসএসসিতে আগেই প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল ডিজিটাল ইলেকট্রনিক, মাইক্রোওয়েভ রাডার ও ট্রান্সপোন্ডার এবং ইনার্শিয়াল উপাদান ও পদ্ধতিতে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে উড্ডয়নরত অবস্থায় এসএলভির কী অবস্থা দাঁড়ায় তা জানা। এসএলভির কারণে নতুন এক কর্মকুশলতা সৃষ্টি হয়েছিল ফিজিক্যাল প্যারামিটারের পরিমাপের জন্য বিভিন্ন প্রকার ট্রান্সডিউসার উন্নয়নের ক্ষেত্রে যেমন চাপ, ধাক্কা, কম্পন, তুরণ ইত্যাদি। ভেহিকলের ফিজিক্যাল প্যারামিটারকে বৈদ্যুতিক সংকেতে পরিবর্তিত করে ট্রান্সডিউসার। একটা অনবোর্ড টেলিমেট্টি সিস্টেম এসব সংকেত প্রক্রিয়া করে এবং রেডিও সংকেতের আকারে তা প্রেরণ করে ভূ-কেন্দ্রে। এই পদ্ধতি যদি ডিজাইন অনুযায়ী ঠিকমতো কাজ করে তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার বিশেষ কিছু থাকে না। কিন্তু কিছু যদি ভুল হয়ে যায়, তাহলে অপ্রত্যাশিত কোনো চলন থেকে থামাতে ভেহিকলকে অবশ্যই ধ্বংস করে ফেলতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রকেট ধ্বংস করে ফেলার জন্য একটা স্পেশাল কমান্ড সিস্টেম তৈরি করতে হয়েছিল, আর এসএলভির দরত ও অবস্থান ঠিক রাখতে তৈরি করতে হয়েছিল একটা ইন্টারফোরোমিটার সিস্টেম, রাডার সিস্টেমের একটা যুক্ত উপায় হিসাবে। এসএলভি প্রকল্পের জন্য দেশীয় পর্যায়ে সেকুয়েলার উৎপাদন করা হয়েছিল, এর সাহায্যে সময় বেধে দেওয়া হতো বিভিন্ন ঘটনাক্রমের যেমন ইগনিশন, স্টেজ সেপারেশন, ভেহিকল অ্যান্টিটিউড প্রোগ্রামার যা রকেট পরিচালনার তথ্য জমা করে রাখে এবং পূর্বনির্ধারিত পথে রকেটকে চালিয়ে নিয়ে যাবার জন্য অটো-পাইলট ইলেকট্রনিকস!
