.
গৃহীত সিদ্ধান্ত, অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, ও প্রকল্প রিপোর্টের ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে ভিএসএসসির পরিচালক কর্তৃক আমাকে প্রদত্ত ক্ষমতা ও বাজেটে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্বাহী দায়িত্ব নিয়েছিলাম আমি মধ্যে। ড. ব্রহ্ম প্রকাশ বিশেষ ক্ষেত্রগুলো যেমন রকেট মোটর, ম্যাটারিয়াল ও ফেব্রিকেশন, কন্ট্রোল ও গাইডেন্স, ইলেকট্রনিক্স, এবং মিশন ও লঞ্চিং-এ আমাকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য চারটি প্রকল্প উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছিলেন। আমি প্রখ্যাত বিজ্ঞানীদের গাইডেন্সের ব্যাপারে আশ্বস্ত ছিলাম, যেমন ডিএস রানে, মুথুনায়াগাম, টিএস প্রহ্লাদ, এআর আচার্য, এসসি গুপ্ত এবং সিএল আম্বা রাও তাদের কয়েকজন।
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে-আমরা আপনার কাছে বাণী প্রেরণ করেছি। আপনাকে তাদের বিষয়ে জানানোর জন্য যারা আপনার আগে গত হয়েছে এবং সাবধান ন্যায়পরায়ণ মানুষেরা। এই সব চরম জ্ঞানী মানুষদের জ্ঞান ভাগ করে নিতে চাইতাম আমি। জ্যোতির ওপর জ্যোতি আল্লাহ তার জ্যোতিতে পথ দেখান যাকে তিনি ইচ্ছা করেন। সকল বস্তুর জ্ঞান আছে তার।
প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য আমরা তিনটে গ্রুপ তৈরি করলাম। একটা কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা গ্রুপ, একটা ইন্টিগ্রেশন ও উড্ডয়ন পরীক্ষা গ্রুপ এবং একটা সাবসিস্টেমস ডেভলপমেন্ট গ্রুপ। প্রথম গ্রুপের দায়িত্ব হলো এসএলভি ৩ এর সামগ্রিক নির্বাহী অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, সেই সঙ্গে প্রশাসন, পরিকল্পনা ও ক্রমোন্নয়ন, সাবসিস্টেম স্পেসিফিকেশন, ম্যাটারিয়াল, ফেব্রিকেশন, কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স এবং কন্ট্রোল। ইন্টিগ্রেশন ও উড্ডয়ন পরীক্ষা গ্রুপের দায়িত্ব হলো এসএলভি-৩ এর ফ্লাইট টেস্টিং ও ইন্টিগ্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধাদি সরবরাহ। তাদের আরও কাজ হলো মেকানিক্যাল ও অ্যারোডাইনামিক ইন্টারফেস সমস্যাসহ ভেহিকল বিশ্লেষণ। সাবসিস্টেমস ডেভলপমেন্ট গ্রুপকে দেওয়া হয়েছিল ভিএসএসসির বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া এবং এসব বিভাগের প্রতিভাবানদের মধ্যে একটা যৌক্রিয়া সৃষ্টির দ্বারা বিভিন্ন সাবসিস্টেম উন্নয়নে যাবতীয় প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের নিশ্চয়তা বিধান করা।
আমি এসএলভি-৩ এর জন্য ২৭৫ জন প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানী চেয়েছিলাম, কিন্তু পেলাম মাত্র ৫০ জনকে। যৌথ প্রচেষ্টা না চালানো হলে সমস্ত প্রকল্পটা অচল হয়েই পড়ে থাকত। কয়েকজন তরুণ প্রকৌশলী যেমন এমএসআর দেব, জি মাধবন নায়ার, এস শ্রীনিবাসন, ইউএস সিং, সুন্দররাজন, আবদুল মজিদ, বেদ প্রকাশ স্যান্ডলাস, নাম্বুদিরি, শশী কুমার ও শিবাথানু পিল্লাই নিজেদের নিয়ম তৈরি করে নিয়েছিল প্রকল্পের দল হিসাবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার জন্য। এতে করে তারা স্বতন্ত্র ফলাফল সৃষ্টি করতে পেরেছিল। তারা এক সঙ্গে তাদের সাফল্য সেলিব্রেট করত। কঠিন কাজের পর আবার নতুন উদ্যমে শুরু করতে এ ব্যাপারটা তাদের সাহায্য করত।
এসএলভি-৩ প্রকল্প দলের প্রতিটা সদস্য ছিল নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ। অতঃপর এটা স্বাভাবিক যে তারা প্রত্যেকেই নিজের স্বাতন্ত্রকে মর্যাদা দিত। ওই ধরনের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে কাজ বের করে নিতে দল নেতাকে নিষ্ক্রিয় ও সক্রিয় মনোভঙ্গির মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রাখতে হয়েছিল। সক্রিয় মনোভাব সদস্যদের কাজে অত্যন্ত নিয়মিত ভিত্তিতে কার্যকর আগ্রহ দেখায়। নিষিক্রয় মনোভাব দলের সদস্যদের প্রতি আস্থা দেখায় আর তাদের ভূমিকা নিতে স্বায়ত্তশাসনের প্রয়োজনকে স্বীকৃতি দেয়। নেতা যখন সক্রিয় মনোভাবকে অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে যায়, তখন তাকে দেখা হয় উদ্বিগ্ন ও হস্তক্ষেপকারি হিসাবে। যদি সে নিষিক্রয় মনোভাবের দিকে যায়, তাহলে তাকে দায়িত্বহীনতার দোষারোপ করা হয়। কিংবা বলা হয় অনাগ্রহী। আজ, এসএলভি-৩ দলের সদস্যরা পরিণত হয়ে উঠেছেন দেশের সবচেয়ে মর্যাদাশীল কয়েকটি কর্মসূচির নেতৃত্ব দিতে। এমএস আর দেব অগমেন্টেড স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (এএসএলভি) প্রকল্পের প্রধান, পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (পিএসএলভি) প্রকল্পের প্রধান মাধবন নায়ার এবং ডিআরডিও সদর দপ্তরে প্রধান নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করছেন স্যান্ডলাস ও শিবাথানু পিল্লাই। পাথরের মতো দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি আর ধারাবাহিক কঠোর কাজের ভেতর দিয়ে তারা উঠে এসেছেন আজকের অবস্থানে। এ দলটা বাস্তবিকই ছিল একটা ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিভাবানদের দল।
.
৭.
এসএলভি-৩ প্রকল্প পরিচালনার নেতৃত্ব গ্রহণ করে আমি নিজের সময়ের জরুরি ও দ্বন্দময় চাহিদার মুখোমুখি হলাম কমিটির কাজের জন্য, উপাদান সংগ্রহ, চিঠিপত্রের আদান-প্রদান, পর্যালোচনা, সারাংশ বিবৃতি, আর বিস্তৃত বিষয়ে জ্ঞাত থাকার প্রয়োজনীয়তার জন্য।
যেখানে আমি থাকতাম তার চারপাশে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত হাঁটাহাঁটির ভেতর দিয়ে আমার দিন শুরু হতো। মর্নিং ওয়াকের সময় সাধারণ একটা শিডিউল আমি প্রস্তুত করে নিতাম, আর ওই দিনেই শেষ করতে চাই এমন দুটো বা তিনটে বিষয়ের ওপর জোর দিতাম, অন্তত একটা বিষয় যা দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে।
অফিসে পৌঁছানোর পর আমার প্রথম কাজ হয় টেবিল পরিষ্কার করা। পরবর্তী দশ মিনিটের মধ্যে সমস্ত কাগজপত্র বাছাই করে দ্রুত সেগুলো বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে ফেলি। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার গুলো এক দিকে, একটু কম জরুরিগুলো আরেকদিকে, পেন্ডিং রাখার গুলো অন্য দিকে, আর সব আমাকে পড়তে হতো। এরপর সবচেয়ে জরুরি কাগজপত্রগুলো আমার সামনে রেখে বাকি আর সবগুলো চোখের সামনে থেকে সরিয়ে ফেলি।
