ভারত-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে দুদেশের অস্ত্রপ্রযুক্তির ডিজাইন, অগ্রগতি ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত তৈরী হল। এ প্রজেক্টের জন্য দুটো দল নির্ধারিত হওয়ায় আমি খুব খুশি হলাম। ২০০১ সালের ১২ জুন ব্রাহমোস চন্ডিপুর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমবারের মত উৎক্ষেপন করা হয়। ২০০২ সালের ২৮ এপ্রিল আরও উন্নত প্রক্রিয়ায় সফল পরীক্ষা হল ব্রাহমোসের। ড. ইয়েফ্রেমোভ ও আমি এই ভেবে খুব স্বস্তি ও আনন্দ পেলাম যে এই যৌথ উদ্যোগ সফল হওয়ায় ভারত ও রাশিয়া দুই দেশই বুঝতে পারে এই উন্নত প্রযুক্তির মিসাইল দুদেশের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করেছে এবং এটা বিশ্ববাজারে আধিপত্য বিস্তার করবে। আমার স্বপ্ন ছিল তথাকথিত উন্নত বিশ্বে বাজারজাতকরনের এমন ধরনেরই একটি অস্ত্রপ্রযুক্তি আবিষ্কার করা। ব্ৰাহমোস আমার সে স্বপ্ন সফল করলো। যদিও তার নির্মাণপ্রক্রিয়া থেকে আমি দূরে ছিলাম। ব্রাহমোস নির্মাণ করেছে আমার দল। এতেই আমার শান্তি।
অ্যান আনফিনিশড ড্রিম নামে ভার্গেস কিউরিয়েনের লেখা একটি বই পড়েছিলাম। এতে তিনি বলেছেন, একটি ঘটনার কারণে আমাকে দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী হতে হয়েছিল। একজন ব্রিটিশ দুগ্ধবিশেষজ্ঞ ভারতে উৎপাদিত দুধের সমালোচনা করে বলেছিলেন, ভারতে উৎপাদিত দুধের চেয়ে লন্ডনের ব্যাকটেরিয়া মিশ্রিত পানি অধিক স্বাস্থ্যসম্মত। তার ওই বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে কিউরিয়েন দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত করণে আত্মনিয়োগ করেন এবং দশকের পর দশক ধরে তার নিরলস গবেষণার ফলস্বরূপ আজ ভারত পৃথিবীর প্রথম শ্রেণীর দুগ্ধ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পরিচিত হয়েছে।
আনন্দ পরিদর্শনের সময় তার সংগে একটি দিন কাটানোর সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। তার প্রতিষ্ঠিত আমূল দুগ্ধ গবেষণাগার আমি ঘুরে ঘুরে দেখেছি। দুধ থেকে সেখানে মাখন, ঘি আর আইসক্রিম তৈরী হচ্ছে আর বিশ্ববাজারে তা ছড়িয়ে পড়ছে।
কথা প্রসংগে আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কিভাবে দেশের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। তিনি বললেন, আমাদের এমন সব কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে যা দেশের তরুণ ও কষকশ্রেণীর প্রত্যক্ষ উপকারে আসে। তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া আমরা কোনভাবেই সফল হতে পারব না। তাদের অংশগ্রহণ থাকলে আমরা কখনই ব্যর্থ হবো না।
বিজ্ঞানীদের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে হায়দ্রাবাদের ইন্দো-আমেরিকান ক্যান্সার সেন্টারে কর্মরত চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাকরলা সুব্বা রাওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ক্যান্সার কি আমাদের ওপর আরোপিত কোন চরম অভিশাপ?
রেডিওলজির অ্যালবার্ট আইনস্টাইন সুব্বা রাও তার জবাবে হ্যাঁ এবং না দুটোই বললেন। হ্যাঁ একারণে যে জেনেটিকভাবেই আমাদের শরীরে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা ক্যান্সার আক্রান্ত হতে সহায়তা করে। আর না এজন্য যে আমরা ইতিমধ্যেই ক্যান্সার প্রতিরোধে সাংঘাতিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছি।
আমরা সাইকো নিউরো ইমিউনোলজি (পিএনআই) নতুন একটি গবেষণা ক্ষেত্র তৈরী করেছি। মস্তিষ্ক কিভাবে শরীরের ইমিউন বা রোগ প্রতিরোধক শক্তি উৎপাদন করে এ প্রোগ্রামের আওতায় তার গবেষণা চলছে। ক্যান্সার, এইডস, সিফিলিসর মত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসজনিত রোগ থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে এ গবেষণা নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সাইকো-নিউরো কার্ডিওলজি (পিএনসি) নামে আরেকটি গবেষণা চলছে যার মাধ্যমে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। কীভাবে মস্তিষ্ক রক্তচাপ সংশ্লিষ্ট সমস্যা তৈরী করে। রক্তকণিকা জমাট বেঁধে কীভাবে তা স্ট্রোকের পর্যায়ে নিয়ে যায়। এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
.
আমাদের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা তাদের নিরলস পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন জাতিকে মরণগ্রাসী রোগ থেকে মুক্তি দেবার জন্য।
৪. মহামানব ও দ্রষ্টাদের শিক্ষা
৪. মহামানব ও দ্রষ্টাদের শিক্ষা
For the society to prosper there are two important needs. They are : Prosperity through wealth generation and cherishing the value system of the people. The Combination of the two will make the nation truely strong and prosperous.
আমি সব সময় তরুণদের স্বপ্ন দেখতে বলি। আমি তাদের সে অছিয়ত করি এই বিশ্বাসে যে আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে সাফল্যজনক পরিস্থিতি সৃষ্টির সক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু তীব্র উন্মাদনাপূর্ণ আকাক্ষা সৃষ্টি করা।
শৈশবে আইনস্টাইন কম্পাসের কাঁটা দেখে অভিভূত হয়েছিলেন। তিনি অবাক হয়ে দেখলেন কম্পাসের কাঁটাটি তিনি যেদিকেই ঘোরান না কেন সে তার আপন জায়গায় চলে যাচ্ছে। গভীরভাবে তিনি কাঁটাটির অদৃশ্য শক্তির উৎস বোঝার চেষ্টা করলেন। তার মধ্যে প্রশ্ন এল, কম্পাসের এ শক্তি আসলে ঠিক কোন জায়গায়? এটা নিয়ন্ত্রণ করছে কে? এটা সব সময়ই কাজ করে কেন? এটা কী দিয়ে তৈরী? কম্পাস তার কাজ করবে না এমন কোনও জায়গা কি আছে? থাকলে সেটা কোথায়?
আমরা জানি এটা পৃথিবীর চৌম্বকীয় শক্তি যা ওই চুম্বক নির্মিত কম্পাসের কাটাটিকে উত্তর-দক্ষিণ মুখো করে রাখে, কারণ পৃথিবী উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর ম্যাগনেটিক ফিল্ড তাকে দুপাশ থেকে আকর্ষণ করে। কিন্তু এই কার্যকারণ বুঝতে পারাই কি আমাদের শেষ কথা?
মহামানব ও দ্রষ্টাদের শিক্ষা আমরা সহজেই এই ম্যাগনেটিক ফিল্ডের কার্যক্ষমতা দেখতে পাই কিন্তু এর সংগে আমাদের চিন্তাভাবনার সাদৃশ্য বুঝতে পারি না, যদিও আমাদের এই গ্রহের সর্বত্রই ম্যাগনেটিক ফিল্ডের অস্তিত্ব রয়েছে। যৌক্তিকভাবে আমাদের মধ্যেও রয়েছে এই ম্যাগনেটিক ফিল্ড বা চৌম্বকীয় ক্ষেত্র।
