ব্যঙ্গের হাসি হেসে বলল সিলভিয়া, বাঃ সার প্রোটিয়াস, প্রথমে আপনার বন্ধু তারপর প্রেমিক, কত সহজেই না। আপনি দুজনকে মৃত বলে চালিয়ে দিলেন; এরপর হয়তো আপনি বলবেন সিলভিয়াও মারা গেছে। আর এও জেনে রাখুন। স্যার প্রোটিয়াস, সত্যিই যদি ভ্যালেন্টাইন মারা গিয়ে থাকে, তাহলে তার প্রতি আমার প্রেম, ভালোবাসা- সবই আমি তার কবরে সমাধিস্থ করব?
তেমন পরিস্থিতি হলে তোমার সে প্ৰেম আমি ভ্যালেন্টাইনের কবর খুলে বের করে আন ব, বলল প্রোটিয়াস।
স্যার প্রোটিয়াস, আমার প্রেম খুবই পবিত্র, বলল সিলভিয়া, ভুলেও আপনি তা তুলে আনার চেষ্টা করবেন না। এই তো খানিক আগে বললেন যে আপনার প্রেমিক মারা গেছে। তাহলে কবর খুঁড়েই না হয় আপনার পুরোনো প্রেমটা বের করে আনবেন।
আক্ষেপ করে বলল প্রোটিয়াস, হায় প্ৰেয়সী! তুমি কি কখনও সদয় হবে না। আমার প্রতি? তাহলে তোমার একটা ছবিই দাও আমাকে। না হয় তোমার পরিবর্তে সেই ছবিকেই আমি ভালোবাসব।
জানালার আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা জুলিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলল। প্রোটিয়াসের কথা শুনে।
সিলভিয়া সত্যি সত্যিই ভারি মুশকিলে পড়েছে। একদিকে সে জানতে পেরেছে মিলান থেকে নির্বাসিত হয়ে তার প্রেমিক দিন কাটাচ্ছে ম্যান্টুয়ার জঙ্গলে, ভেতরে ভেতরে সে অস্থির হয়ে উঠেছে তার কাছে যাবার জন্য। অন্য দিকে স্যার থুরিওর সাথে বিয়ে দেবার জন্য তার বাবা যে ভাবে উঠে পড়ে লেগেছেন, তার জন্যও এক দুঃসহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে সে। সে স্থির করল। এ দুঃসহ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে একদিন সবার অজান্তে বাড়ি থেকে পালিয়ে সে চলে যাবে ম্যান্টুয়ার জঙ্গলে ভ্যালেন্টাইনের কাছে। কিন্তু ম্যান্টুয়া বহুদূরের পথ। তার মতো একজন যুবতির পক্ষে এতদূর পথ পাড়ি দেওয়ার ঝুকি প্রচুর। তাই সে গোপনে বাবার এক বৃদ্ধ কর্মচারী এগলামুরকে অনুরোধ করল যেন সে তাকে সেখানে পৌঁছে দেয়। সিলভিয়াকে খুবই স্নেহ করতেন এগলামুর। তাই তিনি এড়িয়ে যেতে পারলেন না সিলভিয়ার অনুরোধ। সন্ধের অন্ধকার গাঢ় হবার পর সিলভিয়া এগালামুরকে বললেন প্রাসাদ থেকে কিছুটা দূরে সাধু প্যাট্রিকের মঠে থাকতে — কিছুক্ষণ বাদে তিনি সেখানে এসে তার সাথে মিলিত হবেন। তারপর দুজনে বেরিয়ে পড়বেন। ম্যান্টুয়ার পথে।
দশ
পরদিন সকালে সত্যিই প্রোটিয়াস এসে হাজির ডিউকের প্রাসাদে, উদ্দেশ্য সিলভিয়ার ছবি নেওয়া। প্রাসাদে ঢোকার মুখে তিনি দাঁড়িয়ে পড়লেন অল্পবয়সি একটি ছেলেকে দেখে। ছেলেটির সুন্দর মুখ আর সরল চাওনি দেখে ছেলেটির প্রতি মায়া হল প্রোটিয়াসের। নাম জিজ্ঞেস করায় ছেলেটি বলল তার নাম সেবাস্টিয়ান। গ্রাম থেকে কাজের খোজে। সে এসেছে মিলানে। অল্প কদিন হল প্রোটিয়াসের কাজের লোকটা পালিয়ে গেছে। তাই সে ওকে বহাল করল সেই পদে। সুস্তির নিশ্বাস ফেলল। জুলিয়া, কারণ প্রোটিয়াস তাকে চিনতে পারেনি। ছেলেটি কাজের কিনা তা পরীক্ষা করতে তার আঙুল থেকে একটি আংটি খুলে ছেলেটিকে দিয়ে বলল প্রোটিয়াস, এবার মন দিয়ে শোনা। এই যে আংটিটা দেখছ এটা আমার প্রাক্তন প্রেমিক দিয়েছিল আমায়। এটা নিয়ে চলে যাও ডিউকের মেয়ে লেডি সিলভিয়ার কাছে। তাকে বলবে স্যার প্রোটিয়াস এটা দিয়েছেন। তাকে। আংটিটিা দেবার পর তার একটা ছবি চেয়ে নিয়ে আসবে।
জুলিয়ার জানা ছিল না যে কোনও পুরুষ তার প্রেমিকার সাথে এরূপ বেইমানি করতে পারে। প্রোটিয়াসের দেওয়া আংটিটা হাতে নিয়ে জুলিয়া মনে মনে বলল, আমার দেওয়া আংটিটা আমারই হাতে দিয়ে পাঠাচ্ছে আর একটি মেয়ের মন জয় করতে। কিছু না বলে সে আংটিটা নিয়ে এসে সিলভিয়াকে দিয়ে বলল, এই আংটিটিা আমার মনিব স্যার প্রোটিয়াসকে দিয়েছিল তার প্রাক্তন প্রেমিকা। এটা তিনি আপনার জন্য পাঠিয়েছেন। আপনার একটা ছবি চেয়েছেন তিনি।
প্রাক্তন প্রেমিকার আংটি? হেসে বলল সিলভিয়া, স্যার প্রোটিয়াসের কি লজ্জা-সরাম বলে কিছু নেই যে তার প্রেমিকার আংটি পাঠিয়েছেন আমার মন জয় করতে? ছিঃ! ছি:! স্যার প্রোটিয়াস। এবার মুখ তুলে বলল সিলভিয়া, এ আংটি আমি নিতে পারব না। এটা নিলে অসম্মান করা হবে স্যার প্রোটিয়াসের প্রেমিকাকে।
সেবাস্টিয়ানরূপী জুলিয়া বলল, আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি স্যার প্রোটিয়াসের প্রেমিকা জুলিয়ার হয়ে। কারণ একটি মেয়েই শুধু পারে অন্য মেয়ের সম্মান রক্ষা করতে।
সিলভিয়া জানতে চাইল, তুমি কি চেনো জুলিয়াকে?
নিশ্চয়ই চিনি, বলল জুলিয়া, যেমন সুন্দর তাকে দেখতে, তেমনি মধুর তার স্বভাব। সত্যিই এটা আশ্চর্যের বিষয়। এক সময় স্যার প্রোটিয়াস সত্যি সত্যিই ভালোবাসতেন জুলিয়াকে, গর্ববোধ করতেন তার জন্য। কিন্তু কে জানত জুলিয়ার ভাগ্য এত খারাপ হবে? এটুকু বলেই সে সিলভিয়ার কাছ থেকে চলে এল। এবার সে নিশ্চিত যে সিলভিয়া মোটেও ভালোবাসে না প্রোটিয়াসকে।
সে দিন রাতে প্ৰসাদ থেকে পালিয়ে সাধু প্যাট্রিকের মঠে হাজির হল সিলভিয়া। আগে থেকেই এগলামোর সেখানে অপেক্ষা করছিলেন তার জন্য। এবার সিলভিয়ার ইচ্ছানুযায়ী তিনি তার সাথে রওনা হলেন ম্যান্টুয়ার পথে। এদিকে সিলভিয়া যে এগালামুয়ের সাথে ম্যান্টুয়ায় রওনা হয়েছে সে খবর যথাসময়ে সাধু প্যাট্রিকের মুখ থেকে জানতে পারলেন ডিউক। রেগে মেগে তিনি প্রোটিয়াস আর স্যার থুরিওকে সাথে নিয়ে মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে চললেন ম্যান্টুয়ায়।
