ওদিকে অন্ধকার ম্যান্টুয়ার জঙ্গলের কাছে পৌছানো মাত্ৰই সিলভিয়া আর এগালামুর- কে ঘিরে ধরল। ডাকাতেরা। এগলামুর ছুটে পালাতে দুজন ডাকাত পেছু নিল তার। আর বাকি সবাই সিলভিয়াকে সাথে নিয়ে রওনা দিল সর্দার ভ্যালেন্টাইনের গুহার দিকে। কিন্তু তারা সেখানে পৌঁছাবার আগেই প্রোটিয়াস এসে হাজির। সিলভিয়াকে সেই রক্ষা করল। ডাকাতদের হাত থেকে। সিলভিয়া প্রোটিয়াসকে ধন্যবাদ জানাতেই সে ধরে নিল এবার সে সত্যিই সক্ষম হয়েছে তার মন জয় করতে। সাথে সাথেই সে গদগদ হয়ে বনের মাঝেই প্ৰেম জানাতে লাগল সিলভিয়াকে। সে বলল, আমি ভাষায় ব্যক্ত করতে পারবন না সিলভিয়া যে মন থেকে আমি তোমায় কতটা ভালোবাসি। এবার তুমি রাজি হলেই আমাদের বিয়ে হতে পারে।
সেবাস্টিয়ানের ছদ্মবেশে তার নতুন সহচর জুলিয়া এসে দাঁড়িয়েছে প্রোটিয়াসের পাশে; সে বেজায় ঘাবড়ে গেল প্রোটিয়াসের ধরন-ধারণ দেখে। যদি সিলভিয়া বিয়ে করতে রাজি হয়। প্রোটিয়াসকে, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে তার। এ সময় গুহার ভেতর থেকে বের হয়ে এল ডাকাতদের সর্দার ভ্যালেন্টাইন। কিছুক্ষণ আগেই সে খবর পেয়েছে যে ডাকাতরা একটি মেয়েকে ধরেছে। খবরটা পেতেই সেই মেয়েটিকে ছেড়ে দেবার ব্যবস্থা করতে গুহার বাইরে এসেছে ভালেন্টাইন। এতদিন বাদে ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে পেয়ে জেগে উঠল প্রোটিয়াসের বিবেক। অনুতাপের সাথে ভ্যালেন্টাইনের দুহাত জড়িয়ে ধরে সে বলল, হে বন্ধ ভাল্লেন্টাইন, বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও তোমার সাথে যে বেইমানি করেছি তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী, আমায় ক্ষমা কর তুমি।
মনের দিক দিয়ে প্রোটিয়াসের চেয়েও অনেক উদার ভ্যালেন্টাইন। প্রোটিয়াসের কথা শুনে সে ক্ষমা করে দিল তার সব অপরাধ। সেই সাথে এও বলল, আমি ক্ষমা করলামু তোমায়। সেই সাথে প্রেমিক হিসেবে সিলভিয়ার উপর থেকে আমার এতদিনের দাবিও তুলে নিলাম। এবার সিলভিয়াকে বিয়ে করতে তোমার আর কোনও বাধা নেই।
সেবাস্টিয়ানবেশী জুলিয়া কিন্তু বেশ ঘাবড়ে গেল ভ্যালেন্টাইনের কথা শুনে। তার ভয় হল, হয়তো সিলভিয়া এবার সত্যিই বিয়ে করতে চাইবে প্রোটিয়াসকে, আর সেরূপ কিছু ঘটে গেলে ইহজীবনে তার সাথে প্রোটিয়াসের মিলন হবে না। এ সব ভাবতে ভাবতে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল মাটিতে। কিছুক্ষণ বাদেই জ্ঞান ফিরে এল। তার। ঠিক তখনই প্রোটিয়াসের চোখে পড়ল সেবাস্টিয়ানের হাতের আঙুলে জুলিয়ার দেওয়া আংটিটা। অবাক হয়ে বলল প্রোটিয়াস, আরে সেবাস্টিয়ান! এ আংটিটা কোথায় পেলে তুমি? এটা তো জুলিয়ার?
আপনি ঠিকই বলেছেন স্যার। এটা জুলিয়ারই আংটিং, বলে উঠল সেবাস্টিয়ানরূপী জুলিয়া, ংটিটা জুলিয়া নিজেই এখানে নিয়ে এসেছে।
প্রোটিয়াস অবাক হয়ে গেল তার কথা শুনে। এবার সে একদৃষ্টি কিছুক্ষণ চেয়ে রইল সেবাস্টিয়ানের মুখের দিকে। খুঁটিয়ে দেখার পর সে বুঝতে পারল তার প্রেমিকা জুলিয়াই তার সহচর সেবাস্টিয়ানরূপে এতদিন পর্যন্ত তার সাথে পাশে পাশে ঘুরে বেড়িয়েছে। প্রোটিয়াসের বুঝতে বাকি রইল না যে তার প্রতি প্রেমের প্রবল আকর্ষণেই জুলিয়া ছুটে এসেছে সুদূর ভেরোনা থেকে মিলানে। সব বুঝতে পেরে সে ফিরে পেল জুলিয়ার প্রতি তার হারানো প্রেম। সাথে সাথেই সে বলল ভ্যালেন্টাইনকে, সে তুমি যাই বল, লেডি সিলভিয়া কিন্তু তোমারই! আমার আর কোনও দাবি নেই তার উপর। আমি ফিরে পেয়েছি জুলিয়াকে। আমি সুখী হব বাকি জীবনটা তার সাথে কাটাতে পারলে। জুলিয়া আর সিলভিয়া, দুজনেই অনেক কষ্ট সয়েছে আমাদের জন্য। প্রোটিয়াসের কথা শেষ হতেই সেখানে হাজির মিলানের ডিউক আর তার সাথে স্যার থুরিও।
এগার
আমার বাগদত্তা সিলভিয়া, তারই সাথে ঠিক হয়েছে আমার বিয়ে, বলতে বলতে স্যার থুরিও এগিয়ে এলেন সিলভিয়ার দিকে।
রাগে চেঁচিয়ে উঠে বলল ভ্যালেন্টাইন, খবরদার থুরিও! এটা ম্যান্টুয়া, মিলান নয়, সে কথা মনে রেখ! আগেই বলে রাখছি তুমি কিন্তু বাঁচবে না। যদি বল সিলভিয়া তোমার বাগদত্তা। আমার ইশারামাত্র তোমার গর্দান নিয়ে নেবে। আমার অনুচরেরা। কেউ তোমায় বাঁচাতে পারবে না। ওদের হাত থেকে। আমার প্রণয়িনী সিলভিয়া, সে আমারই বাগদত্তা, তোমার কেউ নয়। যদি কোনও ভাবে তার আমর্যাদা কর, তার ফল কিন্তু ভালো হবে না। সে কথা মনে রেখ।
স্যার থুরিও একদম চুপসে গেলেন ভ্যালেন্টাইনের ধমক খেয়ে। ইতিমধ্যে ভ্যালেন্টাইনের অনুগত ডাকাতরা চারদিক দিয়ে ঘিরে ধরেছে তাকে! এক পলক তাদের দিকে তাকিয়ে পা পা করে পিছিয়ে এসে স্যার থুরিও দাঁড়ালেন ডিউকের পাশে।
আমার কোনও প্রয়োজন নেই। সিলভিয়ার মতো মেয়েকে, বললেন স্যার থুরিও, যে মেয়ের আমার প্রতি ছিটেফোটা টান নেই, খামোখা আমি কেন তার জন্য লড়তে যাব? বোকারাই শুধু বুক ফুলিয়ে এরূপ লড়াই করতে এগিয়ে যায়।
এবার তুমি থাম অপদাৰ্থ কাপুরুষ কোথাকার! থুরিওকে ধমকে দিয়ে বললেন ডিউক, আমি কখনই তোমার মতো অপােত্রর সাথে বিয়ে দেব না। আমার মেয়ের। তারপর ভ্যালেন্টাইনের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি জানি যে তুমি আইনভঙ্গকারী এক ডাকাত দলের অধিপতি, তবুও স্যার থুরিওকে তুমি যা বললে তা শোভা পায় শুধু প্ৰকৃত বীরের মুখে। আমি স্থির করেছি যে তুমিই সিলভিয়ার উপযুক্ত পাত্র। তাই তার সাথে বিয়ে দেব তোমার। এবার বলো, তুমি কি চাও?
