ডাকাতরা সমবেতভাবে জোর গলায় বলে উঠল, আমরা কথা দিচ্ছি। তোমার শর্ত মেনে নেব।
তাহলে আমার আর আপত্তি নেই তোমাদের সর্দার হতে, বলে ওঠে। ভ্যালেন্টাইন।
আট
যে কারণে ভ্যালেন্টাইনকে নির্বাসন দণ্ড দিয়েছেন। ডিউক, তাতে প্রোটিয়াসের চেয়েও বেশি। খুশি হয়েছেন স্যার থুরিও, কারণ তার সাথে মেয়ে সিলভিয়ার বিয়ে ঠিক করেছেন। ডিউক। যেহেতু পথের কীটা দূর হয়েছে তাই ডিউকও খুব খুশি। আসলে কিন্তু ব্যাপারটা দাঁড়িয়েছে অন্যরকম। মিলান থেকে ভ্যালেন্টাইন নির্বাসিত হবার পর থেকেই সিলভিয়ার বিষনজরে পড়েছেন স্যার থুরিও। তাকে দেখতে পেলেই রেগে আগুন হয়ে উঠছে সিলভিয়া। এরই মাঝে কয়েকবার মেরে দীত ভেঙে দেব বলে স্যার থুরিওর দিকে তেড়ে গিয়েছিল সিলভিয়া। তবে সময়মতো ডিউক এসে পড়ায় সে যাত্রা বেঁচে যান তিনি। সিলভিয়া ধরেই নিয়েছে স্যার থুরিওর চক্রান্তেই নির্বাসনে যেতে হয়েছে ভ্যালেন্টাইনকে। তাই স্যার থুরিও যখন তখন ডিউকের কানের কাছে প্যান প্যান করে বলছেন যে ভ্যালেন্টাইনের নির্বাসনে কোনও লাভই হয়নি তার। আগের মতোই তার সাথে খারাপ ব্যবহার করছে সিলভিয়া।
শুনে মুখ টিপে হেসে বললেন ডিউক, অত হতাশ হলে কী চলবে স্যার থুরিও! প্রেমিকের স্মৃতি অনেকটা বরফের পুতুলের মতো। আঁচ পেলেই গলে যায়। ধৈর্য ধরে একদিন চেষ্টা কর সিলভিয়ার মন জয় করার। তা হলেই দেখবে ভ্যালেন্টাইনের স্মৃতিটা উবে গেছে তার মন থেকে। ডিউক তার কথা শেষ করতেই সেখানে এসে হাজির প্রোটিয়াস। তাকে দেখে বললেন ডিউক, প্রোটিয়াস, এ তো বেশ মুশকিলের ব্যাপার হল। সিলভিয়া কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারছে না। ভ্যালেন্টাইনের নির্বাসনের ব্যাপারটা। মুখ কালো করে একা একা বসে দিনরাত শুধু চোখের জল ফেলে – স্যার থুরিওকে দেখতে পেলেই তেড়ে মারতে আসে, যা তা গালিগালাজ করে। কে জানে এভাবে চললে শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? বুঝলে প্রোটিয়াস, আমার একমাত্র ইচ্ছে যে তোমার বন্ধু ওই নচ্ছার, পাঁজি ভ্যালেন্টাইনকে ভুলে গিয়ে সিলভিয়া তার মনপ্রাণ সঁপে দিক স্যার থুরিওকে।
সব শুনে প্রোটিয়াস বলল, এ আর এমন কি কঠিন কাজ মহামান্য ডিউক? সুযোগ পেলেই সিলভিয়ার কনের কাছে বলতে হবে – ভ্যালেন্টাইন একটা ঠগ, জোচোর, মিথ্যেবাদী, কাপুরুষ। কানের কাছে সৰ্ব্বদা এমন শুনতে শুনতে ভ্যালেন্টাইন সম্পর্কে সত্যি সত্যিই সিলভিয়ার মনে গড়ে উঠবে সেরূপ একটি ধারণা।
প্রোটিয়াসের কথা শুনে বললেন ডিউক, তোমার সাথে আমি একমত। এ ব্যাপারে। কিন্তু যে ভ্যালেন্টাইনকে সিলভিয়া সত্যিই ভালোবাসে, তাকে গালিগালাজ দেওয়ার ব্যাপারটা কে সামলাবে? তুমি নিজে কি রাজি আছ একাজ করতে?
নির্বাসিত হলেও একসময় ভ্যালেন্টাইন ছিল আমার প্রিয় বন্ধু, বলল প্রোটিয়াস, আর যাই হোক, বিবেকহীন না হলে তার সম্পর্কে এরূপ গালিগালাজ করা কারও পক্ষে সম্ভবপর নয়। সেই সাথে আপনি আদেশ দিলে আমার পক্ষে তা অমান্য করা অনুচিত। আর আপনি এও মনে রাখবেন মনে থেকে ভ্যালেন্টাইনের স্মৃতি মুছে গেলেও সিলভিয়া যে সত্যিই স্যার থুরিওকে ভালোবাসবেন, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।
এবার আগ বাড়িয়ে বললেন অতি উৎসাহী স্যার থুরিও, সেক্ষেত্রে আমি আপনাকে একটা বাস্তব ব্যবস্থা দেখাতে পারি। একই সাথে যদি আপনি ভ্যালেন্টাইনের নিন্দা আর আমার প্রশংসা করেন, যদি আপনি সুখ্যাতি করে বলেন যে আমার মতো প্রেমিক মিলানের ভেতরে-বাইরে কোথাও পাওয়া যাবে না, তাহলে কাজ হবার সম্ভাবনা আছে।
তোমার উপর আমার ভরসা আছে প্রোটিয়াস, বললেন ডিউক, ভ্যালেন্টাইন বলেছিল যে তোমার প্রেমিকা আছে- সে ক্ষেত্রে তুমি নিশ্চিন্তে কথা বলতে পার আমার মেয়ের সাথে। স্যার থুরিওকে গালিগালাজ না করে মানসিক দিক দিয়ে সিলভিয়া যাতে তাকে বিয়ে করতে তৈরি হয়। সে কথা বোঝাতে পার তাকে। আর তুমি এটা করতে পারলে স্যার থুরিও সহজেই সিলভিয়াকে আকৃষ্ট করতে পারবেন তার নিজের দিকে।
প্রোটিয়াস ডিউকে বললেন, আমি কথা দিচ্ছি, সাধ্যমতো চেষ্টা করব। স্থির করেছি আজ। রাতে একদল গাইয়ে -বাজিয়ে নিয়ে আপনার প্রাসাদে যাব। আপনার মেয়ে সিলভিয়া যে ঘরে থাকে, তার জানালার ঠিক নীচে বাগানে দাঁড়িয়ে তারা নাচ-গান করবে। আর ওই ফাকে আমি জোর গলায় প্রশংসা করে যাব স্যার থুরিওর। তবে আমি একলা হলে কিন্তু হবে না, স্যার থুরিওকে থাকতে হবে আমার সাথে। এই ওষুধে কাজ হয় কিনা তা দেখা যাক।
এদিকে সত্যি সত্যিই পুরুষের ছদ্মবেশে মিলানে এসে গেছে জুলিয়া, আশ্রয় নিয়েছে এক ভদ্রগোছের সরাইয়ে। সরাইয়ের খাতায় সে নিজের নাম লিখেছে সেবাস্টিয়ান। জুলিয়াকে দেখে আর তার কথা-বার্তা শুনে সরাইয়ের মালিক তাকে ভদ্র, সম্রাস্ত পরিবারের সন্তান ৰূলেই ধরে নিয়েছে। সরাইয়ের মালিক ভালো লোক। তার নতুন খদের সেবাস্টিয়ান মনমরা হয়ে দিনরাত ঘরে বসে আছে দেখে সে ধরে নিল হয়তো কোনও কারণে মনে আঘাত পেয়েছে। সিলভিয়ার মন ভালো করার জন্য ডিউকের প্রাসাদে প্রোটিয়াস যে নাচ-গানের আয়োজন করেছে, তার খবর জানতে পেরেছে সরাইয়ের মালিকও। সেদিন সকালে সেবাস্টিয়ান রূপী জুলিয়াকে সে বলল, আজি সন্ধেয় আমি আপনাকে নিয়ে যাব ডিউকের প্রাসাদে। ডিউকের মেয়ের মন ভালো করার জন্য সেখানে গান-বাজনার আয়োজন করেছেন তার প্রেমিক প্রোটিয়াস। সেখানে প্রেমিকার জানালার নিচে দাঁড়িয়ে গান গাইবেন প্রোটিয়াস। আপনি খুব আনন্দ পাবেন সেখানে গেলে।
