কিন্তু সিলভিয়া স্যার থুরিওকে পছন্দ না করলেও তাতে কি তোমার কোনও সুবিধা হবে? জানতে চাইল প্রোটিয়াস, ডিউক তো তার মত বদলে তোমার সাথে মেয়ের বিয়ে দেবেন না!
আমি জানি তিনি তা দেবেন না, একটুও দমে না গিয়ে বলল ভ্যালেন্টাইন, বিয়ের ব্যাপারে আমি আর সিলভিয়া, উভয়েই স্থির করে ফেলেছি আমাদের মন।। আজ রাতেই আমরা এখান থেকে পালিয়ে গিয়ে অন্যত্র বিয়ে করব। বলেই ভ্যালেন্টাইন একটা দড়ির সিঁড়ি বের করে দেখাল প্রোটিয়াসকে।
কোন কাজে লাগবে এটা? জানতে চাইল প্রোটিয়াস।
এর জবাবে বলল ভ্যালেন্টাইন, আজি সন্ধের পর ডিউকের প্রাসাদের কোনও এক জানালায় এটা বেঁধে দেব। এ ব্যাপারে সিলভিয়াকে আগেই বলে দেব যাতে সে জানালাকে চিনে রাখে। তারপর রাত বাড়ার সাথে সাথে সবার নজর এড়িয়ে সিলভিয়া এই প্ৰাসাদ থেকে নেমে আসবে। বাইরে তৈরি থাকবে ঘোড়া। সিলভিয়া নেমে এলেই আমরা পালিয়ে যাব ঘোড়ায় চড়ে।
নিজের মনে প্রোটিয়াস বলল, বা! সব কিছুই দেখছি আমার স্বার্থসিদ্ধির পথে এগুচ্ছে। সে স্থির করল সিলভিয়াকে নিয়ে ভ্যালেন্টাইন মিলান ছেড়ে পালিয়ে যাবার পূর্বেই সে ডিউককে তাদের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দেবে। সব শুনে ডিউক হয়তো ভ্যালেন্টাইনকে কঠিন সাজা, এমনকি মৃত্যুদণ্ডও দিতে পারেন। ভ্যালেন্টাইনের অবর্তমানে সিলভিয়ার সাথে প্রেমের আর কোনও বাধা থাকবে না। তবে একটা বাধা তখনও থাকবে – তা হল স্যার থুরিও। কিন্তু তিনি তো একটা গবেট, মোটা বুদ্ধির লোক। তাছাড়া সিলভিয়াও তাকে দুচোখে দেখতে পারেনা। তাই স্যার থুরিওকে সরিয়ে দিতে তার বেশি সময় লাগবে না। আর দেরি না করে পথের কীটা ভ্যালেন্টাইনকে সরিয়ে দিতে সে দেখা করল ডিউকের সাথে।
পাঁচ
মুখ তুলে তাকিয়ে ডিউক বললেন, আসুন প্রোটিয়াস, এখানে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না তো?
না মহামান্য ডিউক, বলল প্রোটিয়াস, এই অসময়ে আপনাকে বিরক্ত করতে এসেছি একটা বিশেষ কারণে।
নিঃসংকোচে আপনি আপনার প্রয়োজনের কথা বলতে পারেন, বললেন ডিউক।
আমতা আমতা করে প্রোটিয়াস বলল, আজ্ঞে ভ্যালেন্টাইন আমার বাল্যবন্ধু। কিন্তু যে পরিকল্পনা সে করেছে তা আপনার পরিবারের ক্ষতি করতে পারে।
ব্যস্ত হয়ে ডিউক বললেন, তই নাকি? তাহলে খুলেই বলুন ভ্যালেন্টাইনের পরিকল্পনার কথাটা?
ভ্যালেন্টাইনের মুখেই আমি শুনেছি সে আপনার মেয়ে সিলভিয়াকে নিয়ে আজ রাতে পালিয়ে যাবার মতলব এটেছে, বলল প্রোটিয়াস, সন্ধ্যার পর চারিদিক যখন গাঢ় আঁধারে ঢেকে যাবে, ঠিক তখনই রাজপ্রাসাদের একটা জানালা থেকে দড়ির সিঁড়ি ঝুলিয়ে দেবে ভ্যালেন্টাইন। লেডি সিলভিয়া সেই সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমে আসবেন। তারপর এখান থেকে তিনি পালিয়ে যাবেন। ভ্যালেন্টাইনের সাথে। আর ওই দড়ির সিঁড়িটাকে তার আলখাল্লার ভেতরে লুকিয়ে রাখবে। ভ্যালেন্টাইন। আমি সত্যি কথা বলছি কিনা তা ওটা পেলেই আপনি বুঝতে পারবেন।
প্রোটিয়াসের মুখে সবকিছু শুনে কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলেন ডিউক তারপর কিছুক্ষণ বাদে বললেন, সময় মতো কথাটা আমায় জানিয়ে আপনি আমার কী উপকারই যে করলেন তা বলে বোঝাতে পারব না। আপনি বলুন, এর প্রতিদানে আপনি কী পুরস্কার চান? হে মহামান্য ডিউক, বলল প্রোটিয়াস, পুরস্কারের আশায় আমি আপনার কাছে আসিনি। আপনাকে যা বলেছি তা কর্তব্যের খাতিরে বাধ্য হয়েই বলতে হয়েছে। তবে আপনি যখন পুরস্কারের কথা বলছেন, তখন আপনার কাছে চাইবার একটিমাত্র জিনিসই আছে আমার।
ডিউক জানতে চাইলেন, সেটা কি?
হে মহামান্য ডিউক, বলল প্রোটিয়াস, যত অপরাধই সে করে থাকুক ভ্যালেন্টাইন আমার ছেলেবেলার বন্ধু। আপনার কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ, এ সব কথা যে আমি বলেছি তা যেন সে জানতে না পারে।
ডিউক বললেন, বেশ, আমি কথা দিচ্ছি ভ্যালেন্টাইনের পরিকল্পনার কথা আমি যে তোমার মুখ থেকে শুনেছি সেটা তার অজানা থেকে যাবে।
আপনি না বললেও আমিই যে এসব কথা বলেছি তা সে ঠিক জানতে পারবে, বলল প্রোটিয়াস, কারণ একমাত্র তিনজন অর্থাৎ ভ্যালেন্টাইন, আমি আর সিলভিয়াই জানি এ পরিকল্পনার কথা। ডিউক তাকে আশ্বাস দিয়ে বললেন, মিছিমিছিই। আপনি ভয় পাচ্ছেন প্রোটিয়াস। একবার হাতের মুঠোর মধ্যে ভ্যালেন্টাইনকে পেলে আমি তাকে বাধ্য করাব অপরাধ স্বীকার করতে। তাই সে আপনাকে কোনও মতেই সন্দেহ করতে পারবে না।
বিনীতভাবে প্রোটিয়াস বলল, এবার তাহলে আমি আসি?
আসুন আপনি বলে মুখ টিপে হাসলেন ডিউক, ভ্যালেন্টাইন আসবে সন্ধের পর। তার পূর্বেই তাকে হাতের মুঠোয় পাবার ব্যবস্থা আমায় করে রাখতে হবে। আর এও জেনে রাখুন প্রোটিয়াস, স্যার থুরিওর সাথে বিয়ে না হলে আমি সিলভিয়াকে আটকে রাখব দুর্গের ভেতর
ছয়
প্রোটিয়াস বিদায় নেবার পর ডিউক আর ইচ্ছে করেই অন্য কোথাও গেলেন না। হাতে নাতে ভ্যালেনটাইনকে ধরার জন্য এমন এক জায়গায় বসে রইলেন যেখান থেকে প্রাসাদের সামনের রাস্তাটুকু স্পষ্ট দেখা যায়। দেখতে দেখতে সন্ধ্যা নেমে এল। গাঢ় অন্ধকারে ছেয়ে গেল চারদিক। এভাবে কিছুক্ষণ সময় কাটাবার পর ডিউক দেখতে পেলেন খুব জোরে পা চালিয়ে প্রাসাদের ফটকের দিকে এগিয়ে আসছে ভ্যালেন্টাইন। তার পা ফেলার মধ্যে যে একটা চাপা অস্থিরতা রয়েছে সেটাও ডিউকের নজর এড়াল না। কাছাকাছি আসতেই তিনি লক্ষ করলেন যে ভ্যালেন্টাইনের পরনের ঢোলা আলখাল্লার একটা দিক কেমন যেন উচু হয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে কিছু একটা যেন ভেতর থেকে ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে। যে দড়ির কথা প্রোটিয়াস বলেছিল, ডিউক আঁচ করলেন সেটাই ওখানে গুজে রেখেছে ভ্যালেন্টাইন।
