প্রোটিয়াস প্রেমে পড়েছে এক সুন্দরী যুবতির—নাম জুলিয়া, তারা একে অপরকে গভীরভাবে ভালোবাসে। এদিকে প্রোটিয়াসের বন্ধু ভ্যালেন্টাইনের ধ্যান-ধারণা অন্যরকম। প্রেম, ভালোবাসা ও হৃদয়াবেগ সম্পর্কেতার মতামত আলাদা। সব সময় প্রোটিয়াসের মুখে জুলিয়ার প্রেমানিবেদনের কথা শুনে এক এক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে সে। এ নিয়ে মাঝে মাঝে প্রোটিয়াসকে ঠাট্টা-তামাশা করতেও ছাড়ে না সে।
ভ্যালেন্টাইন একদিন প্রোটিয়াসকে জানাল যে সে মিলানে যাচ্ছে। তাই বেশ কিছুদিন তাদের দু-জনের মধ্যে আর দেখা-শোনা হবে না। কথাটা শুনেই বেশ মুষড়ে পড়ে প্রোটিয়াস, বন্ধুকে অনুরোধ করে যেন সে তাকেও সাথে নিয়ে যায়।
বন্ধুর অনুরোধের উত্তরে ভ্যালেন্টাইন জানোল, সেটা কী করে সম্ভব। তুমি কি ভেবে দেখেছি আমার সাথে গেলে তোমার প্রেমিকার অবস্থা কী হবে? তোমার অদর্শনে বেচারি জুলিয়া তো দমবন্ধ হয়ে ছটফট করে মারা যাবে।
ভ্যালেন্টাইনের কথার জবাবে বলার মতো কিছু না পেয়ে চুপ করে রইল প্রোটিয়াস।
এবার প্রোটিয়াসকে খোঁচা দিয়ে বলল ভ্যালেন্টাইন, অল্প বয়সে যখন প্রেমে পড়েইছ, তখন বিয়ে করে ঘর-সংসার কর! তারপর সুন্দরী বউ আর একগাদা ছেলেপেলে নিয়ে জীবনের বাকি দিনগুলি কাটিয়ে দাও একঘেয়ে বৈচিত্র্যহীন ভাবে। তোমার মতো তরুণ প্রেমে হাবুডুবু না খেলে আমি নিশ্চয়ই নিয়ে যেতম তোমাকে। তবে এখন বলতে পারব না যে জুলিয়াকে ছেড়ে আমার সাথে মিলানে চল। আর তোমার পক্ষে সম্ভবও নয় তা। কাজেই আমাকে একাই যেতে হবে। তুমি একজন প্রেমিক। দিনরাত চুটিয়ে প্রেম চালিয়ে যাও জুলিয়ার সাথে। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি ক্ৰমাগত তোমার প্রেমের শ্ৰীবৃদ্ধি হোক।
তবে তাই হোক, বলল প্রোটিয়াস, তুমি তাহলে একাই যাও। মিলানে থাকাকালীন যদি কোনও দুর্লভ জিনিস তোমার চোখে পড়ে, তাহলে মনে করো আমার কথা। আর কোনও দুঃসময় ও সংকট পড়লে চেষ্টা করো আমায় খবর দেবার। কথা দিচ্ছি, দুঃসময়ে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব তোমায় সাহায্য করার।
নিশ্চয়ই প্রোটিয়াস, আমিও কথা দিচ্ছি। তেমন অবস্থায় পড়লে চেষ্টা করব তোমায় খবর দেবার, বলল ভ্যালেন্টাইন। যথারীতি প্রিয় বন্ধুকে আলিঙ্গন করে সে রওনা দিল মিলানের পথে।
দুই
ভ্যালেন্টাইন মিলানে রওনা দেবার কিছুক্ষণ বাদেই ছুটতে ছুটতে সেখানে এসে হাজির তার খাস চাকর স্পিডি। সে ভালোবাসত লুসেট্টা নামে একটি যুবতিকে, যে আবার ছিল প্রোটিয়াসের প্রেমিকা জুলিয়ার বাড়ির পরিচারিকা। শুধুমাত্র সেজন্যই স্পিডকে ভালোবাসত প্রোটিয়াস, কারণ তার হাত দিয়েই জুলিয়াকে প্রেমপত্র পাঠােত সে। সে প্রেমপত্র স্পিড় পাচার করে দিত। তার প্রেমিকা লুসেট্টার কাছে। আর লুসেট্টা যথারীতি তা পৌঁছে দিত তার মনিবানী জুলিয়ার হাতে। এভাবে দূতাগিরির মজুরি হিসেবে স্পিড প্রায়ই প্রোটিয়াসের পকেট খসিয়ে মোটা টাকা আদায় করে নিত।
কী ব্যাপার! তুই এত হস্তদন্ত হয়ে ছুটে আসছিস কেন? স্পিডকে জিজ্ঞেস করল প্রোটিয়াস।
এসেছি আমার মানিবের খোজে, বলল স্পিড, তার সাথে আপনার কি দেখা হয়েছে?
দেখা হয়েছিল বটে, তবে তা অনেকক্ষণ আগে, বলল প্রোটিয়াস, তখন তোর মনিব জাহাজ ঘাটার দিকে এগুলো। এতক্ষণ হয়তো তার জাহাজ ছেড়েও দিয়েছে বলেই আড়াচোখে স্পিডের দিকে তাকিয়ে বলল, এই! জুলিয়ার হাতে আমার চিঠিটা পৌঁছে দিয়েছিস তো?
আজ্ঞে, দিয়েছি, মুখটিপে হেসে স্পিড বলল, তিনি একটা চিঠি দিয়েছেন। আপনাকে দেবার জন্য। তবে কিছু মনে করবেন না কত্তা, আপনার প্রেমিকাটি বেজায় কিপটে, মোটেও জল গলে না। ওর হাত দিয়ে। এই চিঠিটা আপনাকে দেবার জন্য কোনও বিকশিশ উনি দিলেন না। আমাকে।
শোন! বকশিশ না দিলেও মন খারাপ করিস না, বলল প্ৰেটিয়াস। এবার দেখি জুলিয়ার চিঠিটা। চিঠিখানা স্পিড বের করতেই তা ছোঁ। মেরে কেড়ে নিল প্রোটিয়াস। তারপর পকেট থেকে এক পাউন্ডের মুদ্রা বের করে স্পিডের হাতে দিল সে। পকেটে সেটি গুজে নিয়ে প্রোটিয়াসকে বলল, দরাজ হাতে এরূপ বকশিশ দেন বলেই তো মুখ বুজে আপনার কাজ করে দিই। আপনার প্রেমিক যেমন ভুলেও এক আধলা উপূড় করেন না, তেমনি আমার মনে হয় দুহাত উজাড় করে বিয়ের পর তিনি আপনাকে পয়সা-কড়ি দেবেন না।
চুপ হতচ্ছাড়া। স্পিডকে ধমকাল প্রোটিয়াস। তারপর নিজের মনে বিড়বিড় করে বলতে লাগল, দেখছি। এবার থেকে জুলিয়ার হাতে চিঠি পৌঁছে দেবার দায়িত্ব অন্য কাউকে দিতে হবে।
তিন
বকশিশ হিসেবে এক পাউন্ড প্রোটিয়াসের কাছ থেকে আদায় করে এবং সেই সাথে তার ধমক খেয়ে পালাল স্পিড। বাড়ি ফেরার পূর্বে মাঝরাস্তায় সে দাঁড়িয়ে পড়ল জুলিয়ার বাড়ির সামনে। লুসেট্টাকে ডেকে কিছুক্ষণ তার সাথে হাসি-ঠাট্টা করে জুলিয়াকে লেখা প্রোটিয়াসের চিঠিটা তার হাতে দিয়ে বিদায় নিল। কিছুক্ষণ বাদে বাড়ির সামনের বাগানে পায়চারি করতে এল জুলিয়া। সে সময় লুসেট্টাও সুযোগ বুঝে! হাজির সেখানে। মনিবানীর সাথে যেতে যেতে সে নানা প্রকার রসালো বুলি আওড়াতে লাগলে যুবতি মেয়েদের প্রেমে পড়ার স্বপক্ষে।
যেতে যেতে ঘাড় না ফিরিয়েই বলল জুলিয়া, কী ব্যাপার বল তো লুসেট্টা! হঠাৎ আজ প্রেমে পড়ার জন্য আমায় জ্ঞান দিচ্ছিস কেন? আমার তো মনে হচ্ছে পুরুষের জন্য তুই ওকালতি করছিস।
