সে হেসে জবাব দিল, আমি আপনার আদরের শ্যালিকা লুসিয়ানা।
আমার শ্যালিকা? বললেই হল আর কী? লুসিয়ানার দিকে তাকিয়ে গলা চড়িয়ে বলল অ্যান্টিফোলাস, আরো আমার বলে এখনও পর্যন্ত বিয়েই হয়নি!
ঠান্ডা মাথায় তাকে বোঝাতে লাগল। লুসিয়ানা, বেশ, মেনে নিলাম আপনার বিয়ে হয়নি। কিন্তু তার আগে দয়া করে একবার বাড়ি চলুন। এত বেলা পর্যন্ত সবাই না খেয়ে আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছে। রান্না খাবার-দাবারও পচে নষ্ট হবার জোগাড়। আপনিই বলুন না কেন এসব কি ঠিক হচ্ছে?
লুসিয়ানার প্রস্তাবে সায় দিয়ে বলল ড্রোমিও, কর্তা, তাই চলুন। ওরা যখন এত করে বলছেন তখন ওদের বাড়ি গিয়ে রান্না করা খাবারগুলো খেয়ে নেওয়া যাক।
রেগে গিয়ে ড্রোমিওর দিকে তাকিয়ে অ্যাস্টিফোলাস বলল, ও! তুইও ওদের দলে ভিড়েছিস!
মতো এমন একটা আকর্ষণ ছিল যা শুরুতেই আকৃষ্ট করেছে তাকে। অনেক চেষ্টা করেও সেই চুম্বকের আকর্ষণ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারছে না অ্যান্টিফোলাস।
বেশ! তবে চলো—বলে উঠে দাঁড়াল অ্যান্টিফোলাস। পরীক্ষণেই কী মনে করে আড্রিয়ানার
একটা শর্ত আছে। বাড়ি গিয়ে তুমি মুখ ফুটে কাউকে বলবে না যে আমি তোমার স্বামী। ও সব আদেখলাপনা আমার মোটেই পছন্দ নয় তা কিন্তু আগেই বলে দিচ্ছি।।
তাহলে কী করতে হবে? জানতে চাইল লুসিয়ানা।
তুমি চুপ কর। তোমার সাথে কথা বলছি না বলে এক ধমকে তাকে থামিয়ে দিল অ্যান্টিফোলাস! তারপর আড্রিয়ানার দিকে ফিরে বলল, সবার সামনে তুমি এমন ভাব দেখাবে যেন আমি তোমার কেউ নই। — কোনও সম্পর্ক নেই তোমার সাথে।
কানে কানে লুসিয়ানাকে বলল আড্রিয়ানা, বুঝলি, এই ভয়টাই আমি করেছিলাম। এ নিশ্চয়ই সেই সর্বনাশীর কাজ। ও চাইছে আমার কাছ থেকে স্বামীকে ছিনিয়ে নিতে।
আঃ দিদি! এখন মাথা গরম করিস না— বলে অ্যান্টিফোলাসের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, শুধু এইটুকুই আপনার শর্ত? ঠিক আছে, আমরা মেনে নিলাম আপনার শর্ত। এবার দয়া করে আমাদের সাথে বাড়ি চলুন।
যতটুকু রাগ তার মাথায় জন্মেছিল, বড়ো বা সিরাকিউজের অ্যান্টিফোলাস দেখল কখন তা যেন আপনা থেকেই উধাও হয়ে গেছে, তার পরিবর্তে স্বপ্নের একটা ঘোর তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। কিন্তু সে সব ভাবার সময় এখন নেই। বাধ্য হয়ে সে ড্রোমিওকে সাথে নিয়ে এগিয়ে চলল আড্রিয়ানা ও লুসিয়ানার পেছু পেছু। এই ড্রোমিও অবশ্য তারই মতো বড়ো বা সিরাকিউজের ড্রোমিও।
বাড়িতে এসে পাহারা দেবার দায়িত্ব দিয়ে বড়ো ড্রোমিওকে একতলার সদর দরজার সামনে দাঁড় করিয়ে, দিল আড্রিয়ানা। তাকে নির্দেশ দিল সে যেন কাউকে ভেতরে ঢুকতে না দেয়। আর কেউ অ্যান্টিফোলাসের সাথে দেখা করতে চাইলে যেন বলে, উনি এখন খাচ্ছেন, তাই তার সাথে দেখা হবে না। এরপর অ্যান্টিফোলাস আর লুসিয়ানাকে নিয়ে খাওয়া-দাওয়া সারতে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠল আড্রিয়ানা। সবার আগে ড্রোমিওকে ডেকে আড্রিয়ানা বলল, দ্যাখ। ড্রোমিও! আমরা এখন খেতে যাচ্ছি। দেখবি বাইরের লোক যেন ঘরে না ঢোকে। তাহলে কিন্তু তোর মাথা ফাটিয়ে দেব — এ কথা যেন মনে থাকে।
খেতে বসে ইচ্ছে করেই অ্যান্টিফোলাসের শর্ত ভাঙল আড্রিয়ানা। সবার সামনে বারবার স্বামী বলে ডেকে সে তাকে অস্থির করে তুলল। ওদিকে তার মতো একই ভুল করে বসল। আড্রিয়ানার পরিচারিকা নেল। কাজের মাঝে সময় পেলে এতদিন সে ছোটো ড্রোমিওর সাথে ফষ্টি-নষ্টি করত। তাকে বিয়ে করে ঘর-সংসার বাঁধিবে বলে কথাও দিয়েছিল সে। অ্যান্টিফোলাসের সাথে বড়ো ড্রোমিওকে দেখে সে ধরে নিল। এই তার পুরনো প্রেমিক। সে যেচে গিয়ে তাকে প্ৰেম-ভালোবাসার কথা শোনাতে লাগল। নেলের ভাব-সাব দেখে তার মনিবের মতো ড্রোমিও বেশ ঘাবড়ে গেল। বড়ো ড্রোমিও ধরে নিল মনিবের মতো সেও এক স্বপ্নের ঘোরের মাঝে রয়েছে। ততক্ষণে খাওয়া শেষ হয়েছে আড্রিয়ানা আর অ্যান্টিফোলাসের। খাবার ফাকে লুসিয়ানার সাথে বেশ জমিয়ে গল্প করেছে অ্যান্টিফোলাস। লুসিয়ানাকে তার খুব পছন্দ হয়েছে – তাকে নিয়ে রঙিন স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করেছে। কিন্তু লুসিয়ানার সাথে এই মেলামেশা মোটেও পছন্দ নয়। আড্রিয়ানার। লুসিয়ানা যে আদতে এফিসাসবাসী তার ছোটো ভাই ছোটো অ্যান্টিফোলাসের শ্যালিকা, সে কথা কিন্তু জানে না। অ্যান্টিফোলাস বা আড্রিয়ানা।
কিছুক্ষণ বাদে ছোটো ড্রোমিওকে সাথে নিয়ে বাড়ি ফিরে এল ছোটো অ্যান্টিফোলাস। তার ভীষণ অবাক লাগছে ছোটো ড্রোমিওর কথা শুনে। ছোটো ড্রোমিওর মূল বক্তব্য হল কিছুক্ষণ আগে সে তাকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসার কথা বলেছে। সাথে এও বলেছে যে তার স্ত্রী ও শ্যালিকা খাবার নিয়ে তার জন্য অপেক্ষা করে আছে। সে কথা শুনে অ্যান্টিফোলাস নাকি তাকে রাস্তার মাঝে বেধড়ক মারতে শুরু করে দেয়। আর মারতে মারতে আমি তো বিয়েই করিনি, বউ আর শ্যালিকা আবার কোথা থেকে এল এ জাতীয় কথাও বলেছে তাকে।
ড্রোমিওর মুখে এসব অভিযোগ শুনে রেগে উঠে বলেছিল ছোটো অ্যান্টিফোলাস, এই হতভাগা! আমি তোকে এসব কথা বলেছি? তুই আরও বলেছিস আমি তোকে মেরেছি, বলেছি আমার স্ত্রী নেই, আমি হোটেলে থাকব, খাব? আমি আবারও বলছি। এতসব কথা তোকে বলিনি আর মারধরও করিনি। তারপরেও যদি বলিস। আমি এসব করেছি, তাহলে বলব বেশ করেছি। তোর মতো বদমাশকে মেরে ফেলাই উচিত।
