ডেবরা আর ডেভিড কাজ করছে একটা দল হিসেবে। অচিরেই নিজেদের ব্যবহার দিয়ে মুগ্ধ করে ফেলল বার্গকে। কনরাড নিজেও বেশ সহজ-সরল মানুষ। কথা বলতে বলতে আরো নরম হয়ে এলো সে। জুলুকে বেশ প্রশংসা করল সে। ল্যাব্রাডর নিয়ে কথাও শুরু হলো। থার্মস কফি বের করল ডেবরা। সবার জন্য মগ ভর্তি করে নিল ডেভিড।
‘ও স্যাম, তাই না? বার্গের রাইফেল নিয়ে বসে থাকা গেম রেঞ্জারকে দেখাল ডেভিড।
হ্যাঁ। সাবধানে উচ্চারণ করল বার্গ।
‘ও জাবুলানিতে কাজ করতো।
‘ও নিজের ইচ্ছেয় আমার কাছে এসেছে। ব্যাখ্যা করল বার্গ, যেন বিব্রতকর কিছু শুনতে না হয়।
‘ও আমাকে মনে করতে পারবে না। এখন যেমন দেখাচ্ছে তাতে তো নয়ই। কিন্তু ও রেঞ্জার হিসেবে ভালো। তাছাড়া ও না থাকায় দেখভালও হচ্ছে না ঠিক ভাবে। কাজের কথা বলার আগে ভূমিকা করল ডেভিড। আমাদেরকে ধ্বংস করেছে আপনার এই বেড়া। আস্তে করে লাথি কষালো ডেভিড মাটিতে।
‘কেন জানতে চাইছো?’ কফির মগ হাতে নিয়ে চারপাশে তাকাল বার্গ, হাত থেকে ছিটকে পড়ল কফি।
‘কেন করেছেন এমনটা?
কারণ আছে।
‘আমার বাবার সাথে বোর্ডে, একটা চুক্তি হয়েছিল। আগে সবসময় ভোলা থাকতে সীমান্ত। আমাদের জায়গাতে চারণভূমি আর পানি আছে, যা আপনার প্রয়োজন।
‘প্রয়াত মি, মরগ্যানের উপর শ্রদ্ধা রেখে বলছি’, ভারী কণ্ঠে বলে উঠল কনরাড বার্গ, ‘আমি কখনোই সীমান্ত খোলা রাখার পক্ষে ছিলাম না।’
‘কেন?
‘তোমার বাবা ছিল খেলোয়াড় মনোভাবের। এমন ভাবে শব্দটা মুখ থেকে ছিটকে বের করল বার্গ, যেন পচা মাংস ফেলল থু করে। যখনই আমার সিংহেরা এ লাইনের পাশ এসে তাকে জানার সুযোগ পেল তখনি একদল গাধা লেলিয়ে দিল তাদেরকে সরে যাবার জন্য।’
প্রতিবাদ করার জন্য মুখ খুলতে চাইলেও ধীরে ধীরে আবার বন্ধ করে ফেলল ডেভিড। অনুভব করল তার মুখের মাংস পেশীগুলো লজ্জিত ভাবে কুঁকড়ে গেল। সত্যি বলেছে কনরাড, মনে পড়ল গাধার কথা, বাসার পেছনে রোদে শুকাতে দেয়া নরম ভেজা সিংহের চামড়ার কথাও মনে পড়ল।
‘উনি অনধিকার চর্চা করেননি। আত্মপক্ষ সমর্থনে বলে উঠল ডেভিড। ‘আমার বাবার লাইসেন্স ছিল। ওগুলো আমাদের অংশে গুলি খেয়েছে।
না, তিনি পশু অপহরণকারী ছিলেন না। স্বীকার করল বার্গ। এ ব্যাপারে তিনি আরো চালাক ছিলেন। তিনি জানতেন যে আমি হয়তো রকেট পাঠাবো আর তিনিই হবেন চাঁদে পা রাখা প্রথম ব্যক্তি।
‘তো এই কারণে আপনি বেড়া দিয়েছেন?
না।’
‘তাহলে?
কারণ চৌদ্দ বছর ধরে জাবুলানি একজন বেপরোয়া মালিকের হাতে আছে। যেখানে যাই ঘটুক না কেন তাতে আর কিছু যায় আসে না। বৃদ্ধ স্যাম এখানে-’ ট্রাকের ভেতরে থাকা গেম রেঞ্জারের দিকে দৃষ্টি ইশারা করল বার্গ, সাধ্যমতো করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারপরও এ জায়গা হয়ে উঠেছে অপহরণকারীদের স্বর্গ। যত সহজে তুমি উচ্চারণ করলে যে পানি আর চারণ ভূমি আমার উপকারে লেগেছে তত দ্রুত ট্রিগার টিপেছে শিকারিদের আঙুল। স্যাম যখন এ ব্যাপারে কিছু করতে চেয়েছে, ওকে বেধড়ক মারধোর খেতে হয়েছে। তারপরেও ওকে থামাতে না পেরে এক রাতে ওর কুড়েঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এর ফলে পুড়ে মারা গেছে ওর দুই সন্তান
ডেভিড অনুভব করল আগুনের শিখার তীব্রতা, স্মৃতি উসকে দিল যন্ত্রণা।
‘আমি জানতাম না। ব্যথিত স্বরে জানাল ডেভিড।
না, তুমি ব্যস্ত ছিলে অর্থ তৈরিতে বা তোমার নিজস্ব আনন্দ উদযাপনে। রেগে উঠল বার্গ। তো সবশেষে আমার কাছে এলো স্যাম আর ওকে একটা কাজ দিলাম আমি। এরপর এ বেড়া লাগালাম।
‘জাবুলানিতে আর কিছুই নেই। কয়েকটা কুদু, একটা দুটা ডুকার ব্যস এইই। আর সবাই চলে গেছে।
“ঠিক বলেছো।
‘আমি সবাইকে ফেরত চাই।’
‘কেন?’ জবাবদিহি চাওয়ার ভঙ্গিতে বলে উঠল বার্গ। যেন তোমার বাবার মতো খেলা করতে পারো? যেন তোমার বন্ধুদেরকে সপ্তাহান্তে ডেকে আমার সিংহগুলোকে মেরে ফেলতে পারো?’ বার্গ তাকাল ডেবরার দিকে। সাথে সাথে লাল চেহারা বদলে হয়ে উঠল ধূসর। আমি দুঃখিত মিসেস মরগ্যান। আমি এভাবে বলতে চাইনি।
‘ঠিক আছে মি. বার্গ। আমি বুঝতে পেরেছি আপনার কথা।
‘ধন্যবাদ, ম্যাম। এরপর আবারো হিংস্র ভাবে তাকাল ডেভিডের দিকে। মরগ্যান’স প্রাইভেট সাফারি সার্ভিস এটাই কী তোমার লক্ষ্য?
‘আমি জাবুলানিতে আর কোন গুলির শব্দ হতে দেব না।’ বলে উঠল ডেভিড।
‘আমার সন্দেহ আছে। সবাই একই কথা বলে। দেখা যাবে আবারো ওয়াটারলুর মতো যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হয়েছে এখানে।
না।’ বলে উঠল ডেভিড। এরকম হবে না।
‘তোমরা কসাইয়ের মাংস খাবে না পটের মাঝে যেটা থাকে। আবারো কাটা কাটা স্বরে প্রশ্ন করল বার্গ।
দেখুন, মি. বার্গ। যদি আপনি বেড়া সরিয়ে নিন, তাহলে আমি জাবুলানিকে ব্যক্তিগত প্রাকৃতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করব’
বার্গ হয়তো আরো কিছু বলতো। কিন্তু ডেভিডের কথা শুনে চুপ করে গেল। হাঁ হয়ে রইল সে। ধীরে ধীরে মুখ বন্ধ করে বলল, তুমি জানো এর মানে কী? অবশেষে প্রশ্ন করল কনরাড। তুমি পুরোপুরি ভাবে আমাদের আওতায় চলে আসবে। আইনজীবী দিয়ে কাগজ বানিয়ে তোমাকে বেঁধে ফেলবো আমরা কোন মালিক সুলভ লাইসেন্স থাকবে না, কোন সিংহ গুলি করবে পারবে না।’
‘হ্যাঁ, আমি জানি। আমি পড়েছি আইনগুলো। আরো কিছু আছে এখানে। আমি আরো তিনদিকে বেড়া বসাবো আর ব্যক্তিগত গেম রেঞ্জার বাহিনী তৈরি করব–আর এসবই হবে আমার খরচে!
