এমনকি এই সময়েও বিস্মিত হয়ে গেল চোখ দেখে। এর অনেক পরেও চুপচাপ শুয়ে রইল যখন দু’জনে ডেবরা জানতে চাইল, কী হয়েছে ডেভিড? বলল আমাকে।
না, কিছু হয়নি ডার্লিং, কী হবে?
‘আমি জানি ডেভি। কিছু একটা হয়েছে পৃথিবীর ও মাথায় থাকলেও আমি ঠিক টের পাবো।’
হাসল ডেভিড। অপধারীর ভঙ্গিতে সরে এলো ডেবরার কাছ থেকে। সম্ভবত এটা তার কল্পনা, ছোট্ট একটু আলোর শিখা। চেষ্টা করল জোর করে মাথা থেকে সরিয়ে দিতে এই চিন্তা।
সন্ধ্যার ঠাণ্ডা নেমে এলে বঁড়শিগুলো গুছিয়ে নিলি ডেভিড। তারপর কার্পেট ভাজ করে পার্ক করা গাড়ির পাশে গিয়ে চড়ে বসল। বাড়ির উদ্দেশে গাড়ি ছোটাল। পথে যাবার সময় দক্ষিণ দিকের বেড়া চেক করে দেখল ডেভিড। এরপর নিঃশব্দে মিনিট বিশেক ড্রাইভ করার পর ডেভিডের হাত স্পর্শ করল ডেবরা।
যখন তুমি তৈরি হবে আমাকে জানাতে যে কী হয়েছে-আমি শুনবো। এরপর অনবরত বকবক করে চেষ্টা করল ডেভিডকে একই সাথে নিজের মনকেও অন্য দিকে ফিরিয়ে নিতে।
রাতের বেলা ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে গেল ডেভিড। ফিরে আসার পর অনেকক্ষণ বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইল ডেবরার ঘুমন্ত মুখের দিকে। ঠিক যখন সরে যেতে চাইল সে তখনই পুলের কাছে থেকে চিৎকার করে ডেকে উঠল একটা সিংহ। দুই মাইলের ব্যবধান সত্ত্বেও পরিষ্কার শোনা গেল স্পষ্ট সেই ডাক।
এই অজুহাতটুকুই দরকার ছিল ডেভিডের। নিজের বেডসাইড টেবিল থেকে পাঁচ ব্যাটারির ফ্ল্যাশ লাইট তুলে নিল হাতে। আলো ফেলল ডেবরার মুখের উপর। এত সুন্দর নিষ্পাপ মুখশ্রী ইচ্ছে হল ঝাঁপিয়ে পড়ে আদর করতে। এর বদলে ডাক দিল ডেবরাকে।
‘ডেবরা! চোখ খোল ডার্লিং। নড়েচড়ে চোখ খুললো ডেবরা। ফ্ল্যাশ লাইটের পুরো আলো ফেলল ওর চোখে ডেভিড। দেখা গেল আর কোন সন্দেহ নেই। সত্যিই নড়াচড়া করতে লাগল কালো রঙের পিউপিল।
কী হয়েছে ডেভিড? ঘুম জড়ানো স্বরে জানাতে চাইল ডেবরা। উত্তর দিতে গিয়ে খসখসে শোনাল ডেভিডের স্বর।
‘একটা সিংহ পুলের কাছে কনসার্ট করছে। ভেবেছে হয়তো তুমি পছন্দ করবে, ঘুমের মাঝে গান শুনতে চাইবে। মাথা ঘুরিয়ে নিল ডেবরা। মনে হল ফ্ল্যাশ লাইটের আলোয় অস্বস্তি লাগছে চোখে। কিন্তু সন্তুষ্টির স্বরে বলে উঠল, “ওহ, হ্যাঁ ভালোই লাগছে এ গর্জন। তোমার কী মনে হয় কোথা থেকে এসেছে এটা?
ফ্ল্যাশ লাইট বন্ধ করে বিছানায় তার পাশে ফিরে গেল ডেভিড।
হতে পারে দক্ষিণ দিক থেকে এসেছে। আমি নিশ্চিত বেড়ার নিচ দিয়ে এত বড় একটা গর্ত করেছে যে তুমি ট্রাক ঢুকিয়ে দিতে পারবে।
ডেবরা কাছে এগিয়ে আসায় নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে চাইল ডেভিড। শুনতে লাগল সিংহের গর্জন। এরপর আস্তে আস্তে দূরে চলে গেল ডাকটা। কিন্তু এরপর আর ঘুমালো না ডেভিড। হাতের উপর ডেবরার মাথা নিয়ে জেগে রইল ভোর পর্যন্ত।
এরপর আরো এক সপ্তাহ কেটে যাবার পর সাহস করে চিঠি লিখতে বসল ডেভিডঃ
ডিয়ার ডা. ইদেলমান,
আমরা একমত হয়েছিলাম যে ডেবরার চোখ বা ওর স্বাস্থ্যের কোন পরিবর্তন হলেই আপনাক জানাবো।
সাম্প্রতিক সময়ে কিছু দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে যাওয়ায় মাথায় বারংবার ভারী জিনিসের আঘাত সহ্য করতে হয়েছে ওকে। এর ফলে প্রায় আড়াই দিন অচেতন অবস্থায় ও ছিল।
হাসপাতালে নিতে হয়েছিল খুলি ফেটে যাওয়ার ভয়ে। কিন্তু দশ দিন পর বাসায় নিয়ে আসতে পেরেছি। প্রায় দুই মাস আগে হয়েছে এ ঘটনা।
যাই হোক, এরপর থেকে আমি দেখছি যে আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে ওর চোখ। যেমনটা আপনি জানেন, আগে এমন হত না। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি ওর মাঝে। মাঝে মাঝেই প্রচণ্ড মাথা ব্যথার অভিযোগও করে সে।
আমি একের পর এক সূর্যের আলো আর টর্চের আলো দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে শক্তিশালী আলো ফেললে ওর চোখের পিউপিল সাড়া দেয়। যেমনটা হয় যে কোন স্বাভাবিক চোখে।
এখন মনে হচ্ছে যে আপনার প্রাথমিক পরীক্ষা আরো একবার করতে হবে। কিন্তু এর উপড়েই বেশি জোর দিব আমি–এই কাজে সাবধানে এগোতে হবে আমাদেরকে। আমি কোন মিথ্যে বা ভিত্তিহীন আশা জাগাতে চাই না।
এই ব্যাপারে যে কোন পরামর্শ পেলে আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকবো। আর অপেক্ষা করছি আপনার কাছ থেকে শোনার আশায়। ইতি
—ডেভিড মরগ্যান
.
ঠিকানা লিখে খামে ঢোকাল ডেভিড। কিন্তু পরের সপ্তাহে ও নেলস্প্রুটে থেকে বাজার করে ফেরার পর দেখা গেল এখনো তার চামড়ার জ্যাকেটের উপরের পকেটে রয়ে গেছে চিঠিটা।
নিরুত্তাপ শান্তভাবে কাটতে লাগল দিন। নতুন উপন্যাসের প্রথম খসড়া শেষ করলা ডেবরা। ববি ডুগান অনুরোধ করল যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় পাঁচটা শহরে বক্তৃতা দিতে যাবার জন্য। নিউইয়র্ক টাইমস-এর বেস্টেসেলার লিস্টে বত্রিশ সপ্তাহ পার করেছে আ প্লেস অব আওয়ার ওন। এজেন্ট জানিয়েছে ডেবরাকে পিস্তলের চেয়েও হট লাগছে বেশি।
এ ব্যাপারে ডেভিডের মন্তব্য হল যতটা তার মনে হয় যে এর চেয়ে বেশি হট ডেবরা। ডেভিডকে লম্পট বলে গাল দিল ডেবরা। আরো জানল কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না যে ওর মতো সাধাসিধা একটা মেয়ে কেমন করে জড়িয়ে গেল ডেভিডের সাথে। এরপর এজেন্টের কাছে চিঠি লিখে বক্তৃতার ট্যুর বাতিল করে দিল।
