উঠানে গেল জুলু। নিজের অফিসে গেল ডেভিড। লণ্ঠন নেই। কিন্তু পিছনে পাঁচ ব্যাটারীর ফ্লাশ লাইট আছে। পকেটে ভরে নিল ডেভিড। হাত ভর্তি করে নিল শটগান শেল। এরপর তাড়াতাড়ি করে গান কেবিনেটে গিয়ে খুলে ফেলল তালা। পার্ডে শট গান হাতে নিয়েই দৌড়াতে দৌড়াতে লোড করতে লাগল।
গেইটের বাইরের রাস্তা ধরে হেঁচড়ে হেঁচড়ে এগিয়ে যাচ্ছে জুলু। কুকুরটার পেছনে ছুটল ডেভিড।
.
জোহান আক্কারস আর মানুষ রইল না। পশু হয়ে উঠল। শিকারের দৌড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে শিকারির সুলভ মনোভাব চাঙ্গা হয়ে উঠল। পেছনে দৌড়ে গিয়ে খুন করো। ক্ষত-বিক্ষত আহত শিকার নিয়ে খেলতে লাগল সে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইচ্ছে তাড়া করে বেড়াবে মেয়েটাকে তারপর নিজের খুশিমতো খুন করবে।
অবশেষে এলো এই মাহেন্দ্রক্ষণ শিকারের সমস্ত নিয়ম মেনে খেলছে সে প্রতিটি খেলার নির্দিষ্ট সময় আছে। বিদায় ঘণ্টা বাজার–আক্কারস বুঝতে পারল শেষ করার সময় এসেছে।
ছুটন্ত দেহের পিছনে চলে এলো সে। হাত বাড়িয়ে মুঠি দিয়ে কব্জিতে পেঁচিয়ে মাথা পেছনে টেনে ধরল। পাণ্ডুর গলা উন্মুক্ত হয়ে গেল ছুরি বসানোর জন্য।
কিন্তু সমান শক্তি আর হিংস্রতা নিয়ে আক্কারসের দিকে ফিরে তাকাল ডেবরা। এতটা আশা করেনি আক্কারস। ভেজা শক্ত শরীর নিয়ে তার উপর আক্রমণ করল ডেবরা। বাঁচার জন্য মরীয়া এখন সে।
প্রস্তুত ছিল না আক্কারস। ভারসাম্য হারিয়ে ফেলল। ডেবরাকে বুকের উপর নিয়ে পিছনে আছাড় খেল। ছুরি ফেলে দিল হাত থেকে। চোখ বাঁচাতে লণ্ঠন তুলে ধরল মুখের উপর। তীক্ষ্ণ নখ দিয়ে খোঁচা দিতে চাইছে ডেবরা। নাক আর গালে ঢুকে গেল নখ। বিড়ালের মতো আঁচড় কাটতে লাগল ডেবরা। এই মুহূর্তে ওকেও দেখতে পশুর মতোই মনে হচ্ছে।
হাত থেকে চুলের মুঠি ছেড়ে দিল আক্কারস। ডান হাতে চেপে ধরলো ডেবরাকে আঘাত করল। কাঠের কুঠারের মতো ভীষণ ভারী আর শক্ত সে আঘাত। এর একটি আঘাতেই নিস্তেজ হয়ে গেছে ল্যাব্রাডর জুলু। চোয়াল ভেঙ্গে গেছে কুকুরটার। ডেবরার মাথার উপর মারলো আক্কারস। এমন শব্দ হল মনে হল গাছের গুঁড়ির গায়ে কোদালের কোপ পড়ল। সব শক্তি শেষ হয়ে গেল মেয়েটার। হাঁটু ভেঙ্গে বসে পড়ল। সুস্থ হাতে ডেবরাকে ধরে রেখে অন্য হাতে একের পর এক তাকে মারতে লাগল আক্কারস। নির্দয় সেই মারের চোটে কালো রক্ত ছিটকে বের হল নাক থেকে। খুলির উপর উপযুপরী আঘাত করতে লাগল আক্কারস। ডেবরা একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়ার পরেও থামলো না সে। নিজের স্বাদ মিটিয়ে মারার পর উঠে দাঁড়াল। পড়ে রইল ডেবরা। হেঁটে গিয়ে লণ্ঠন হাতে তুলে নিল আক্কারস। চকচক করে উঠল ছুরির ফল। প্রাচীন একটি পদ্ধতি আছে যার মাধ্যমে এ শিকারযজ্ঞ শেষ করতে চায় আক্কারস।
জোহান আক্কারস হাতে তুলে নিল লণ্ঠন। এরপর এমন ভাবে রাখল যেন আলো পড়ে ডেবরার উপর। হাতে তুলে নিল ছুরি।
ডেবরার কাছে এগিয়ে গিয়ে পা দিয়ে গড়িয়ে দিল নিস্তেজ শরীরটাকে। ঘুরে গেল ডেবরা। মুখের উপর লেপ্টে গেল ভেজা চুলের রাশি।
হাঁটু গেটে তার পাশে বসল আক্কারস। ব্লাউজের সামনে ঢুকিয়ে দিল বজ্র কটিন হাত। একটানে খুলে ফেলল। লণ্ঠনের আলো ভেসে উঠল স্ফীত উদর সাদা পেটের মাঝে শিশু পুরোপুরি ভাবে প্রস্তুত পৃথিবীত আসার জন্য। কালো বিন্দুর মতো দেখা গেল নাভি।
খিকখিক করে হেসে হাত দিয়ে চেহারা থেকে মুছে ফেলল ঘাম আর বৃষ্টির ফোঁটা। এর ছুরি ধরা হাতে তৈরি হল। ঘুরিয়ে নিল ফলা। ইনটেস্টিন না কেটে পাঁজর পর্যন্ত নামিয়ে আনা ছুরির মাথা। একজন সার্জনের মতো দক্ষ হয়ে উঠেছে এ কাজে সে। এর আগে না হলেও দশ হাজার বার করেছে একই কাজ।
আলোর কিনারে ছায়া পড়ায় চোখ তুলে তাকাল আক্কারস। দেখতে পেল নিঃশব্দে এগিয়ে আসছে কালো একটা কুকুর। লণ্ঠনের আলোয় ধকধক করে জ্বলছে চোখ।
তাড়তাড়ি হাত দিয়ে গলায় হাত দিতেই লোমশ শরীর ঝাঁপ দিয়ে পড়ল তার উপর। একসাথে গড়াগড়ি খেতে লাগল জুলু আর আকারস। আহত চোয়ালে সুবিধা করতে পারছে না জুলু।
আবারো হাতের মুঠোয় ছুরির দিক পরিবর্তন করল। আক্কারস জুলুর পাজরে খোঁচা দিল। প্রথম বারেই পেয়ে গেল হৃৎপিণ্ড। একবার নড়ে উঠেই নিস্তেজ হয়ে গেল জুলু। ধাক্কা দিয়ে একপাশে ফেলে দিল জুলুকে আক্কারস। ছুরি বের করে হামাগুড়ি দিয়ে এগোল ডেবরার কাছে।
জুলু এসে পড়ায় আক্কারস মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। এই ফাঁকে পৌঁছে গেছে ডেভিড।
আক্কারসের দিকে দৌড় দিল সে। লণ্ঠনের আলোয় কাদার মতো রঙের চোখ জোড়া নিয়ে তাকাল আক্কারস। হাতে জুলুর রক্ত লেগে থাকা লম্বা ফলার ছুরি নিয়ে গর্জন করে উঠল। পায়ের উপর উঠে দাঁড়াতে লাগল। ঠিক পুরুষ বেবুনের মতো করে মাথা ঝাঁকাতে লাগল হিংস্র ভাবে।
ঠিক আক্কারসের মুখের উপর জোড়া ব্যারেলের শটগান ধরে ট্রিগার টেপে দিল ডেভিড। সলিড ভাবে উড়ে গিয়ে আঘাত করল শেল। কোন দিক না ছড়িয়ে সোজা ছিটকে বের হল থকথকে হলুদ পদার্থ। আক্কারসর পুরো মাথা পেছন দিকে হেলে গেল। পা জোড়া দিয়ে এলোমেলো ভাবে লাথি মারতে মারতে মাটিতে শুয়ে পড়ল আক্কারস। একপাশে শটগান ছুঁড়ে ফেলেই ডেবরার দিকে দৌড় দিল ডেভিড।
ডেবরার উপর উপুর হয়ে ফিসফিস করে উঠল, ‘মাই ডার্লিং, ওই মাই ডার্লিং, প্লিজ ক্ষমা করো। তোমাকে একা রেখে যাওয়া উচিৎ হয়নি আমার। আস্তে করে সাবধানে তুলে নিয়ে বুকের কাছে ধরল স্ত্রীকে। এরপর নিয়ে গেল ঘরে।
