সে উঠে দাঁড়াল এবং তার ভারি মাংসল বাহুটা উঠাল। ওটার নিচ দিয়ে উঁকি মেরে সে তার পিছনে বাঁধা ব্যান্ডেজ দেখার চেষ্টা করল যেমন করে একটি পোষা বৃদ্ধ মোরগ তার মাথা ডানার নিচে নিয়ে দেখে। আমার সময় হওয়ার আগেই আপনি দেখছি আমাকে মমি বানিয়ে দিয়েছেন। সে হাসল। কিন্তু বলতে হচ্ছে এটা একটা নিখুঁত কাজ। যান এবং আপনার রাজ প্রতিভূকে বলেন যে আমি তার
সুগন্ধির আরেক ঝলক সুবাস গ্রহণ করতে প্রস্তুত এবং আমি তার সাথে এক ঘন্টার মধ্যে আলোচনা সভায় সাক্ষাৎ করব।
*
টাইটার সফলতায় ও অ্যাপেপির সংবাদে নাজা শান্ত হল। টাইটার অবাধ্যতার জন্যে তার প্রতি তার যে ধারণা হয়েছিল তা মুছে গেল। আমি বৃদ্ধ বদমাস অ্যাপেপিকে এবার একেবারে নাগালে পেয়েছি। নাজা আত্মতৃপ্তি নিয়ে তাকিয়ে রইল। সে যা ধারণা করেছে তার চেয়ে বেশি ছাড় অ্যাপেপি দিতে যাচ্ছে, কারণ আমি খুব রাগ করেছিলাম যখন সে আলোচনা সভা ভেঙে দিল ও তার কক্ষে চলে গেল। তার এতো আনন্দ লাগছিল যে সে একবার বসল, একবার শুয়ে পড়ল। তারপর সে লাফ দিয়ে উঠল এবং পাথরের মেঝেতে পায়চারী করতে লাগল। তার অবস্থা কেমন, ম্যাগোস? আপনি কি তাকে এমন কিছু দিয়েছেন যা তার মনকে মেঘাচ্ছন্ন করে রাখবে?
আমি তার অন্ননালী দিয়ে ওষুধ পাঠিয়েছি যা একটা পুরুষ মহিষকে পর্যন্ত অচেতন করে দিতে পারে। টাইটা তাকে নিশ্চিত করল। তারপর নাজা তার প্রসাধনের নিকট গেল এবং সবুজ কাঁচের তৈরি শিশির মধ্য থেকে তার হাতে সুগন্ধি ঢালল ও তার ঘাড়ের পিছনে লাগাল। ঠিক আছে, আমি পুরো সুবিধা গ্রহণ করব। সে দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে কাঁধের উপর দিয়ে পিছনে তাকাল। আমার সাথে আসুন, সে আদেশ করল। অ্যাপেপির সাথে কাজ শেষ করার পূর্বে আমি আপনার শক্তি ব্যবহার করতে পারি।
অ্যাপেপিকে চুক্তিতে বাধা সহজ কাজ হল না যেমনটা নাজা আশা করেছিল। তার মাঝে তার ক্ষত কিংবা ওষুধের কোন খারাপ প্রভাব দেখা গেল না। সে এখনো জোরে কথা বলছে, চিৎকার করছে এবং শক্ত মুঠি দিয়ে টেবিলের উপর জোরে জোরে আঘাত করছে। পাহারাদার যখন মন্দিরের দেয়ালের উপর উঠে মধ্যরাতের ঘণ্টা বাজাল তারও অনেক পর পর্যন্ত আলোচনা চলল। নাজা যা প্রস্তাব করল তা তার কাছে যথেষ্ট মনে হল না এবং কোন আপোস হল না। শেষ পর্যন্ত টাইটাও তার আপোসহীনতায় বিরক্ত হয়ে গেল। নাজা সভা ভেঙ্গে দিল এবং উঠানে মোরগের ডাকের সময় বিছানায় গেল।
পরের দিন দুপুরে যখন তারা আবার সাক্ষাতে মিলিত হল তখন অ্যাপেপি আর কোন যুক্তি মানল না এবং যাও কিছু হল তা হল ঝঞ্জাটপূর্ণ মধ্যস্থতা। টাইটা তাকে শান্ত করার সর্বোত্তম চেষ্টা করল কিন্তু অ্যাপেপি খুব ধীরে নিজেকে সংযত করল। এভাবে তাই একমাত্র পঞ্চম দিনে অনুলেখকগণ চুক্তিপত্র লেখা শুরু করতে পারলেন। মাটির টেবিলের উপর রাজ হস্তাক্ষর ও হাইয়ারোগ্লিফিক অক্ষরে তারা তা লিপিবদ্ধ করল। মিশরীয় ও হিকস্ উভয় ভাষাতেই তা লিখা হল। গভীর রাত পর্যন্ত তারা কাজ করল।
এ সময় পর্যন্ত নাজা ফারাও নেফার সেটিকে গোপন কক্ষটি থেকে দূরে রাখল। তাকে সে তুচ্ছ কাজে ব্যস্ত রাখল; যেমন শিক্ষকের কাছে পড়া, অস্ত্র চালনা অনুশীলন করা, অ্যাম্বাসডরদের সাথে সাক্ষাৎ, ব্যবসায়ী ও যাজকদের সাথে প্রতিনিধিত্ব করা ও যাদের দয়া ও দানের প্রয়োজন তাদের সাক্ষাৎ দান প্রভৃতি। শেষদিকে নেফার এসব এক ঘেয়েমি কাজের এতোটাই প্রতিবাদ করল যে নাজা বাধ্য হয়ে তাকে অ্যাপেপির ছোট ছেলের সাথে বাজ ধরতে ও শিকারে পাঠাল। কিন্তু এসব এ তেমন জমল না এবং প্রথম দিন অনেকটা বিতৃষ্ণা নিয়ে শেষ হল। দ্বিতীয় দিনে টাইটার পরামর্শে রাজকুমারী মিনটাকা দুই দলের মধ্যে শান্তি স্থাপনকারী হিসেবে বাজ শিকারী দলে যোগ দিল। এমনকি তার বড় ভাইয়েরাও তাকে সম্মান দেখাল ও তার অনুগত থাকল। যেখানে অন্য সময় হলে তারা নিশ্চিত তাদের অস্ত্র বের করে মিশরীয় দলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। একইভাবে, মিনটাকা যখন তার শিকারী রথে তার পাশে চড়ছিল নেফারের যুদ্ধের প্রবণতাও দমিত রইল। সে তার অভদ্র ভাইদের আক্রমণাত্মক, দাম্ভিক ব্যবহারের কথা তাকে জানাল এবং তার বুদ্ধি ও বিদ্যা উপভোগ করল। তবে শারীরিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে কিছু বলল না। যখন তারা পলায়নরত হরিণ দলের পিছনে ছুটতে গিয়ে খারাপ রাস্তা লাফ দিয়ে পার হচ্ছিল তখন রথের বন্ধ ককপিটের মধ্যে তারা একজন আরেকজনের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ল। এসময় মিনটাকা তাকে আকড়ে ধরে নিজের ভারসাম্য রক্ষা করল।
প্রথম দিনের প্রমোদ ভ্রমণ শেষে নেফার মন্দিরে ফিরে টাইটাকে ডেকে পাঠাল। দিনের সব ঘটনা তাকে বলল কিন্তু তাকে খেয়ালী ও অমনোযোগী মনে হল। এমনকি যখন টাইটা তাকে তার প্রিয় বাজ শিকারের কথা জিজ্ঞেস করল তখনও নেফার কোন বিশেষ উৎসাহ দেখাল না। যতোক্ষণ না সে কল্পনার ঘোরে হঠাৎ বলে উঠল, এটা কি তোমাকে অবাক করে না টাইটা যে মেয়েরা কত নরম ও উষ্ণ হয়!
ষষ্ঠ দিনের সকালে অনুলেখকরা তাদের কাজ শেষ করল এবং পঞ্চাশটি চুক্তিপত্র চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করল। তখন নাজা মূল কাজে অংশ নিতে ফারাওকে ডেকে পাঠাল। একইভাবে অ্যাপেপির সব সন্তানেরা, মিনটাকাসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে।
