মহামান্য, যদি আরো কিছুক্ষণ সাঁতার কাটেন তবে নিজেকে আপনি যে কোন চলমান কুমিরকে সুন্দর একটা সকালের ভোজ হিসেবে উপহার দিবেন।
নেফার লাফ দিয়ে যেখানে মিনটাকা আছে সে স্থানে গেল। সে মিনটাকাকে এমন আলতোভাবে দাঁড় করালো যেন সে সবচাইতে নাজুক হারিয়ান কাঁচ দিয়ে সে তৈরি। আঠালো কাঁদায় ও নীলের পানিতে মেখে তার কাঁদা মাখা চুল একাকার, তার মুখ ও কাঁধের উপর তা ঝুলছে। তার সখীরা রাজকন্যাকে দূরে একটা পরিষ্কার, জলজ উদ্ভিদে ঘেরা পুকুরে নিয়ে গেল। যখন সে আবার দৃষ্টি গোচর হল তখন সে তার শরীর থেকে আঠালো কাদার শেষ চিহ্নটি পর্যন্ত ধুয়ে ফেলেছে।
সখীরা তার পোশাকে একটা পরিবর্তন এনেছে। তাই মিনটাকাকে পরিষ্কার শুকনো সিল্ক ও মুক্তায় কারুকার্য খচিত পোশাকে আরো দূতিময় দেখাচ্ছে। বাহুতে সে স্বর্ণের বাজু এবং গলায় আফরোজা ও রঙিন কাঁচের একটা নেকলেস পরিধান করেছে। যদিও তার চুল ভেজা কিন্তু তা আঁচড়ানো ও পরিপাটি করে সাজানো। নেফার তার সাথে দেখা করার জন্য তাড়াহুড়ো করল এবং তাকে বিশাল স্কিগেলিয়া গাছে প্রসারিত শাখা-প্রশাখার ছায়ার নিচে নিয়ে গেল, যেখানে নাস্তার আয়োজন করা হয়েছে। প্রথমে নতুন জুটি ইতস্তত বোধ করল ও লজ্জা পেল। এখনো তারা। সেই বিশেষ মুহূর্তের অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। কিন্তু শীঘ্রই তাদের স্বাভাবিক। উঁচু শক্তি তাদেরকে জোরালো করল এবং তারা ঠাট্টা ও আলাপচারিতায় যোগ দিল। যদিও তাদের চোখাচোখি হচ্ছিল এবং প্রায় প্রতিটি শব্দ তারা তৃতীয় জনের উদ্দেশ্যে উচ্চারণ করল।
মিনটাকা ধাঁধা পছন্দ করে এবং সে তাকে একটা বিনিময়ের দ্বন্দ্ব যুদ্ধে আহ্বান করল। সে হিকস্ ভাষায় তা বলতে লাগল যা নেফারের জন্য আরো কঠিন হয়ে দাঁড়ালো। আমার একটা চোখ ও একটা তীক্ষ্ণ নাক আছে। আমি আমার শিকারকে বারবার বিদ্ধ করি কিন্তু কোন রক্ত বের হয় না। আমি কে?
এটা তো খুবই সহজ, নেফার বিজেতার হাসি দিল। তুমি একটা সেলাইয়ের সঁচ। এবং মিনটাকা আত্মসমর্পণে হাত উপরে তুলল।
পুরস্কার দাও, দাসীরা চিৎকার করে উঠল। ফারাও ঠিক, পুরস্কার দাও।
একটা গান, নেফার দাবি করল। কিন্তু বানরেরটা নয়। একদিনের জন্য ওটা অনেক হয়েছে।
আমি আপনাকে নীলের গানটা শুনাবো। সে রাজি হল এবং যখন সে গানটা শেষ করল। নেফার আরো একটা শুনতে চাইল। শুধুমাত্র যদি আমাকে আপনি সাহায্য করেন তবেই, মহামান্য।
তার কণ্ঠ মোটাসোটা সাধারণ মানের। কিন্তু যখনই সে ভুল করছিল সে তার ভুল ঠিক করে দিল ও ফলে তার কণ্ঠ আগের চাইতে অনেক ভালো শুনাল।
নেফার তার বাও খেলার কোর্ট ও পাথর এনেছিল। টাইটা এটা তাকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে এবং সে দক্ষ হয়ে উঠেছে। গান গাইতে গাইতে যখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ল তখন মিনটাকাকে সে তা খেলার আমন্ত্রণ জানাল।
আমার সাথে আপনাকে ধৈর্যশীল হতে হবে। কেননা আমি অনভিজ্ঞ। সে তাকে সতর্ক করল যখন সে বোর্ড সাজাচ্ছিল। বাও-একটা মিশরীয় খেলা এবং এবার সে আত্মবিশ্বাসের সাথে আশা করল যে তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে।
এটাকে ভয় পেয়ো না, নেফার তাকে উৎসাহ দিল। আমি তোমাকে শিখিয়ে দেবো।
টাইটা মুচকি হাসল কারণ সে এবং মিনটাকা যখন বুবাসতিতে তার ভাইকে চিকিৎসা করেছিল তখন কয়েক ঘণ্টা তারা দুজন রাজপ্রাসাদে তা খেলেছিল। আঠারো চালের মধ্যেই তার লাল গুটিগুলো পশ্চিমের দুর্গ দখল করে নেয় ও তার মধ্যের অংশকে তা হুমকি দিচ্ছিল।
আমি কি ঠিক কাজটি করেছি? সে মিষ্টি করে জিজ্ঞেস করল।
নদীর তীর থেকে আসা আওয়াজে নেফার রক্ষা পেল এবং একটা জাহাজ দেখার জন্য চোখ তুলল যা রাজ-প্রতিভূর পতাকাধারী ছিল এবং প্রণালি দিয়ে দ্রুত এগিয়ে আসছে। কি দুর্ভাগ্য, ঠিক যখন খেলাটা জমে উঠেছে, সে ক্ষিপ্র গতিতে বোর্ড গোছাতে শুরু করল।
আমরা কি তাদের থেকে লুকাতে পারি না? মিনটাকা জানতে চাইল কিন্তু নেফার মাথা নেড়ে না জানাল। তারা ইতোমধ্যে আমাদের দেখে ফেলেছে। সে এই দর্শনটা পুরো সকাল জুড়েই আশা করছিল। আগে অথবা পরে রাজপ্রতিভূ অবশ্যই এই অবৈধ প্রমোদ ভ্রমণ সম্পর্কে শুনবে ও আসমরকে তার অযাচিত দায়িত্ব নিতে পাঠাবে।
তারা তীরে যেখানে বসেছিল তার নিচে জাহাজটা ভিড়ল এবং আসমর লাফিয়ে তীরে নামল। সে দৌড়ে পিকনিক পার্টির নিকট এল। আপনার অনুপস্থিতে রাজপ্রতিভূ খুবই অসম্ভষ্ট। তিনি এই মুহূর্তে আপনাকে মন্দিরে ফিরে যেতে বলেছেন, যেখানে রাজ-বিষয়াদি আপনার অপেক্ষায় আছে।
এবং আমি, লর্ড আসমর, আপনার অশোভন ব্যবহারে অসন্তুষ্ট, নেফার তার নিচু মর্যাদা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করল। আমি কোন সহিস বা ঘরের দাস নই যে ঐভাবে আমাকে সম্বোধন করবেন এবং আপনি রাজকুমারী মিনটাকার প্রতি কোন সম্মান দেখাচ্ছেন না। কিন্তু কোন যুক্তি নেই যে সে একজন শিশুর মত বিবেচিত হচ্ছে।
সে এখনো এই অবস্থায় সুন্দর ও আন্তরিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করল এবং মিনটাকাকে তার সাথে নৌকায় ফিরে যেতে আমন্ত্রণ জানাল, যখন তার সখীরা অন্য তরীতে গেল। টাইটা কৌশলে জাহাজের অগ্রভাগে রয়ে গেল কারণ এটাই ছিল তাদের একান্তে কথা বলার একমাত্র সুযোগ। তার কাছ থেকে কি আশা করে তা সম্পূর্ণ নেফার জানত না তবুও সে চমকে উঠল যখন কোন সূক্ষ্মতম বিরক্তি ছাড়াই সে দুই পক্ষের শান্তি চুক্তির সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করল। শীঘ্রই সে তার রাজনৈতিক ধীশক্তি ও শক্তিশালী ধারণা দিয়ে তার মনে দাগ কাটল। শুধুমাত্র আমরা, নারীরা যদি এই বিশ্ব পরিচালনার অনুমতি পেতাম তবে প্রথমত এখানে কোন অসভ্য যুদ্ধ থাকত না। সে উপসংহার টানল কিন্তু নেফার বিনা প্রতিবাদে তা মেনে নিল না। মন্দিরে ফেরার সারাটা পথ তারা অবিরত তর্ক করল। নেফারের কাছে যাত্রাটা খুব সংক্ষিপ্ত মনে হল এবং যখন তারা ভূমিতে নামল সে তার হাত ধরে বলল, আমি আবার তোমাকে দেখতে চাই।
