সাধারণত যে দশটা নিক্ষেপের মধ্যে ছয়টা লাগাতে পারত কিন্তু এখন অর্ধেকের বেশি ভুল হচ্ছে। তার হতাশা বাড়ল। সে যে পাখিগুলোকে নিচে নামিয়ে আনল তার বেশিরভাগ শুধু চমকে গেছে অথবা কুঁচকে গেছে এবং পানির নিচে ডুব দিয়ে এবং পুরো প্যাপিরাসের ঝোঁপের মধ্যে সাঁতরে গিয়ে, শিকড় ও কাণ্ডের নিচে থেকে তার দাস বালকগুলোকে এড়িয়ে গেল। অপর নৌকার উপর মৃত পাখির স্তূপে পাখির সংখ্যা করুণভাবে বাড়তে লাগল। বিপরীতে অন্য নৌকা হতে খুশি চিৎকার প্রায় অবিরামভাবে চলতে লাগল।
উন্মাদনায় নেফার তার বাঁকানো লাঠি বাদ দিল এবং ভারি যুদ্ধের ধনুক তুলে নিল, কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। তার ডান হাত প্রায় পুরোপুরি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ধুন টানাটা ছিল কষ্টের এবং সে দ্রুতগামী পাখির পিছনে ও ধীরগতির পাখির সামনে নিক্ষেপ করল। টাইটা তাকে ফাঁদের মধ্যে সবচেয়ে গভীরভাবে নাকানিচুবানি খেতে দেখল যা সে নিজেই নিজের জন্য পেতেছে। একটু উপহাস তার প্রকৃত কোন ক্ষতি করবে না। সে নিজে নিজে বলল।
কয়েকটা কথায় সে নেফারের ভুলটা শুধরে দিতে পারত: প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে টাইটা মান সম্মত কয়টা বই লিখেছিল, আল শুধু তা রথ চালনা ও কৌশলের উপরই নয় ধনুক বিদ্যার উপরও। আরো একবার বালকটির জন্য তার হৃদয় সহানুভূতিতে পূর্ণ হল এবং সে গোপনে হাসল যখন সে দেখল নেফার আবারো ভুল নিশানা করল এবং মিনটাকা একই ঝাঁক থেকে দুটি পাখি নামিয়ে আনল যখন তারা মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছিল।
যা হোক, তার রাজার প্রতি তার করুণা হল যখন মিনটাকার একজন দাস হ্রদ সাঁতরে এল ও নেফারের নৌকার পাশে ঝুলে রইল। মহান রাজকুমারী মিনটাকা আশা করছেন যে মহান ফারাও নিশ্চয়ই জেসমিন সুভাসিত দিন ও তারা ভরা রাতে নাইটিংগেলের গান উপভোগ করেছেন। যাইহোক তার নৌকা তার থলের ভারে প্রায় ডুবতে শুরু করেছে এবং তার ক্ষিধে পেয়েছে, যার অর্থ আজ এই পর্যন্ত থাকুক।
একটা অসময়ের বুদ্ধি বিলাস! টাইটা ভাবল, যেহেতু নেফার এই ধৃষ্টতায় ভয়ংকরভাবে ভ্রুকুটি করে তাকাল।
তুমি যেসব শিম্পাঞ্জি ও রাগী কুকুর প্রভুর পূজারী তাদের ধন্যবাদ দিতে পার দাস যে আমি একজন সকরুণ ব্যক্তি। নইলে আমি তোমার কুৎসিত মাথাটাকে কুচিকুচি করতাম এবং ঐ ঠাট্টার উত্তর হিসেবে তোমার মালকিনের কাছে তা ফেরত পাঠাতাম।
এখন টাইটা কোমলভাবে বিষয়টা হস্তক্ষেপ করল:
ফারাও তার অচিন্তার জন্য ক্ষমা প্রার্থী; কিন্তু সে খেলাটা এতো উপভোগ করছিল যে সময়ের কথা ভুলেই গিয়েছিল। দয়া করে তোমার মালকিনকে বলো আমরা খুব শীঘ্রই নাস্তার জন্যে যাব।
নেফার ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল কিন্তু তার ধনুক উঠিয়ে নিল এবং টাইটার সিদ্ধান্ত বাতিলের কোন প্রয়াস দেখাল না। দুটি ছোট নৌকা তীরের দিকে বেয়ে চলল কাছাকাছি হয়ে যাতে পাটাতনে রাখা হাঁসের স্তূপ সহজেই তুলনা করা যায়। কোন নৌকার লোকেরাই কোন কথা বলল না। কিন্তু সবাই আজ সকালের শিকারের ফলাফল সম্পর্কে সচেতন।
মহামান্য, মিনটাকা নেফারকে ডাকল, আমি অবশ্যই আপনাকে অন্যরকম একটা সকালের জন্য ধন্যবাদ দেব। আমার মনে নেই কবে নিজেকে নিজে এতো উপভোগ করেছি। তার কণ্ঠ সুরেলা এবং তার হাসি দেবদূত প্রতিম।
আপনি খুব দয়ালু ও ক্ষমাশীল। কোন হাসি না দিয়ে নেফার তা খারিজ করার একটা রাজকীয় ভাব দেখাল। আমি ভেবেছিলাম এটা বরং একটা খারাপ খেলা।
সে তার দিক থেকে অর্ধেক ঘুরল ও বিষণ্ণভাবে জলজ উদ্ভিদ ও পানির দিকে তাকিয়ে রইল। মিনটাকা এই শীতল আচরণে ন্যূনতম বিতৃষ্ণা দেখাল না, কিন্তু তার দাসী মেয়েগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল, চলো ফারাওকে আমরা দি মানকি ও দি ডানকি–এর কিছু লাইন শুনাই। তার একজন দাসী তাকে বীণা দিল এবং অনিয়তভাবে বাজাতে লাগল। তারপর বাচ্চাদের গানের প্রথম লাইটা গাইতে শুরু করল। দাসীরা কোরাসে যোগ দিল, যা কর্কশ জম্ভ ও অনিয়ন্ত্রিত হাস্য কণার যোগ করল।
নেফার অবাক বিস্ময়ে ঠোঁট মিলালো কিন্তু সে একটা শীতল ভাব গাম্ভীর্যতা ধারণ করল যেখান থেকে সে ফিরে আসতে পারল না। টাইটা দেখতে পেল সে আনন্দে যোগ দিতে চাইছে কিন্তু আরো একবার সে নিজেই নিজের ফাঁদে আটকে গেল।
প্রথম ভালোবাসা এ রকমই অশমিত আনন্দ। টাইটা নিদারুন নির্মমতার সাথে ভাবল এবং অন্য নৌকার মেয়েগুলোর আনন্দ দিতে সে তৎক্ষণাৎ বানর গাধাকে যা বলল তার একটা নতুন অর্থ রচনা করল যা পূর্বের অন্য যেকোন অর্থের চেয়ে হাস্যকর। তারা নতুন করে ডেকে উঠল ও আনন্দে হাততালি দিল।
নেফার নিজেকে আরো একা অনুভব করল ও অবচেতন ভাবে মুখটা গোমড়া করল। তীরে নামতে নামতেও তারা গান গাইছিল। তীরটা খাড়া হয়ে উঠে গেছে এবং নিচে কালো ও আঠালো কাদা। মাঝিরা হাঁটু পর্যন্ত পিচ্ছিল কাঁদায় লাফিয়ে নামল এবং দাসরা প্রথম নৌকাটা সোজা করে ধরল যেন রাজকন্যা ও তার বান্ধবীরা সহজে ফাঁকা স্থানটা পার হয়ে তীরের চূড়ার শক্ত মাটিতে আসতে পারে। তারা নিরাপদে তীরে নামতেই রাজ নৌকা এল ও দাসরা নেফারকে উঁচু তীরে মিনটাকার সাথে যোগ দিতে পার করে দেয়ার জন্য তৈরি হল। কিন্তু সে রাজকীয়ভাবে তাদের একপাশে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত করল। এক সকালের জন্য সে যথেষ্ট উপহাস ও ঠাট্টা সহ্য করেছে এবং সে তার বাকি সম্মান ঊর্ধ্ব নগ্ন ভেজা দাসদের উপর ঝুলে আরো নিচু করতে নারাজ। সে অজান্তেই আড় কাঠের উপর ভারসাম্য রক্ষা করল এবং সকলে তা সম্মান সহকারে দেখল কারণ সে একজন অতি চমৎকার অবয়ব। মিনটাকা তার আবেগ দেখাতে চায়নি। কিন্তু সে ভাবল সে হল তার দেখা সবচাইতে সুন্দর সৃষ্টি, স্লিম ও নরম এবং মসৃণ চুল সহকারে কিশোর দেহ যা মাত্র পৌরুষের শক্ত দেহ রেখা রূপ নিতে শুরু করেছে। এমনকি তার উদ্ধত, বিরূপ অভিব্যক্তিও তাকে বিমুগ্ধ করেছে।
