লর্ড নাজা ও ফারাও নেফার সেটি ধীর স্থিরভাবে সামনে কদম বাড়াল ও উঁচু সিংহাসনে বসল। আর দুই রাজকন্যা হেজারেট ও মেরিকারা ম্র ও ভদ্রভাবে তাদের অনুসরণ করল এবং নাজার সিংহাসনের পায়ের নিকট আসন নিল কারণ তারা তার বাগদত্তা। উভয় বালিকাকে এতোটাই প্রসাধন লাগানো হয়েছে যে তাদের চেহারা অভিব্যক্তিহীন হাথেরের মূর্তির ন্যায় লাগছে, যার ছায়ায় তারা এখন অসীন।
একই সময়ে মন্দিরের বিপরীত অংশ থেকে হিকস্দের রাজ পরিবার বেরিয়ে এল। অ্যাপেপি তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে। পুরোপুরি যুদ্ধের সাজে সজ্জিত সে। সে উঠানের উপর দিয়ে বালক ফারাও-এর দিকে তাকাল। তার ছেলেদের মধ্যে আটজন তাকে অনুসরণ করল, শুধু খিয়ান বাদে, যে তার সব ছোট ছেলে, কারণ সে এখনো নদীর উজানে এবং এ যাত্রার জন্য যথেষ্ট সুস্থ হয়নি। তাদের পিতার মতই রাজপুত্রেরা যুদ্ধ সাজে সজ্জিত।
একটা স্বার্থপর ঘৃণিত রক্তচোষা বদমাশ, টাইটা ভাবল যখন নেফারের সিংহাসনের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে সে তাদের দেখছিল।
তার মেয়েদের মধ্য থেকে মাত্র একজনকে সে তার সাথে এনেছে। পুরু কণ্টক ক্যাকটাসের মধ্যে মরুর গোলাপের মতই তার ভাইদের বিপরীতে মিনটাকার সৌন্দর্য জ্বলজ্বল করছিল। মিনটাকার তার বিপরীত ভিড়ের মধ্যে টাইটার লম্বা সরু অবয়ব ও রূপালী চুল চিনতে পারল এবং তার চেহারায় হাসি খেলে গেল। আর তা এতোটাই উজ্জ্বল যে মুহূর্তের জন্য মনে হল যেন সূর্যটা উঠানের উপর চাঁদোয়া ছড়িয়ে দিল। কোন মিশরীয় এর আগে তাকে দেখেনি এবং সারির মধ্যে একটা চাপা গুণগুণ ও বিড়বিড় শব্দ বয়ে গেল। তার জন্যে তারা প্রস্তুত ছিল না। একটা কথা প্রচলিত ছিল যে হিকত্স মেয়েরাও পুরুষের ন্যায় ভারি গড়নের এবং দ্বিগুণ কুৎসিত। ফারাও নেফার সেটি একটু সামনে ঝুঁকে এল এবং উপলক্ষ্যের গাম্ভীর্যতা সত্ত্বেও বোতল আকৃতির সাদা মুকুটের নিচে সে তার কানের লতি ধরে টান দিল, এটা তার একটা স্বভাব যা টাইটা বদলানোর অনেক চেষ্টা করেছে। এবং নেফার শুধু তখনই তা করে যখন সে কোন কিছুর প্রতি বেশি আকর্ষণ অনুভব করে কিংবা তার মনোযোগ যখন অন্য দিকে চলে যায় তখন। টাইটা দুই মাসের বেশি সময় ধরে নেফারকে দেখেনি। নাজা তাকে আলাদা করে রেখেছে। অ্যাপেপি প্রধান কার্যালয় থেকে তার ফেরার পর থেকে–তবুও বালকটির সাথে সে এতোই ঘনিষ্ঠ, এভোই একাত্ম ছিল যে এখনো খুব সহজেই সে তার ভাবনাগুলো ধরতে পারে। সে বুঝল নেফারের মধ্যে অনুপ্রেরণা ও উত্তেজনা জাগছে, আর তা ততটাই গভীর যেন সে এইমাত্র তার তীরের সীমানায় একটা গজলা হরিণ দেখল অথবা বশ না মানানো ঘোড়া শাবকের পিঠে চড়ল বা একটা বক একটা বাজ পাখির দিকে ছুঁড়ে মেরেছে এবং ওটার পতন দেখছে।
বিপরীত লিঙ্গের উপস্থিতিতে তাকে এভাবে আর কখনো প্রভাবিত হতে টাইটা দেখেনি। নেফার সবসময় সব স্ত্রীলোকের প্রতি তাকায় এমনকি তার বোনদের প্রতিও আর তা একটা রাজকীয় ঘৃণা নিয়ে। যাইহোক, বছরেরও কম সময় হবে যখন সে তার বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেছে এবং বেশিরভাগ সময় সে টাইটার সাথে জঙ্গলে, গেবেল নাগারে অন্যদের থেকে আলাদা হয়েছিল সেখানে তার মনোযোগ এভাবে আকর্ষণ করার মত কিছু ছিল না যেভাবে মিনটাকা এখন করছে।
অল্প চেষ্টায় সে যা অর্জন করল তাতে টাইটা একটা আত্মতৃপ্তি অনুভব করল। এটা তার সব পরিকল্পনাকে জটিল করতে পারে ও বিপদ বাড়াবে অন্তত এখন তারা যে অবস্থায় আছে যদি নেফার হিকস্ মেয়েটির প্রতি গভীর অপছন্দ অনুভব করে। যদি দুজনের বিয়ে হয় তবে নেফার অ্যাপেপির জামাই হবে ও তার নিরাপত্তায় চলে আসবে। এমনকি নাজাও এরকম একজন শক্তিশালী ও ভয়ানক মানুষের বিরুদ্ধে যেতে থামবে। মিনটাকা অজান্তেই নেফারকে রাজ-প্রতিভূর ষড়যন্ত্র ও উচ্চাশা হতে রক্ষা করবে। আর এ একত্রিকরণের পিছনে টাইটার এটাই মনোকামনা।
অল্প সময়ের মধ্যে যখন তারা তার ভাইকে সেবা ও চিকিৎসা করেছে তখন টাইটা ও মিনটাকা একটা দৃঢ় বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছে। এখন টাইটা এমনভাবে মাথা নাড়ল ও তার হাসিটা ফিরিয়ে দিল যা অন্যরা বুঝল না। আর মিনটাকা তার দিক থেকে তখনই দৃষ্টি সরাল। তার বিপরীতে বসা মিশরের মহান স্ত্রীলোকদের প্রতি আকর্ষণ নিয়ে তাকাল। সে তাদের সম্পর্কে অনেক শুনেছে। কিন্তু এই প্রথম সে তাদের দেখল। দ্রুত সে হেজারেটকে চিনল। নিশ্চিত নারী সুলভ স্বভাব নিয়ে সে একজনকে চিনল যে তার মতই আকর্ষণীয় এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ শত্রু। হেজারেটও তার ব্যাপারে একইভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করল এবং তারা সংক্ষিপ্ত কিন্তু উদ্ধত ও সমান শত্রুতাপূর্ণ দৃষ্টি বিনিময় করল। তারপর মিনটাকা প্রভাবশালী অবয়ব লর্ড নাজার দিকে দৃষ্টি উঠাল এবং মুগ্ধতা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
সে ছিল এমন একজন দীপ্যমান ব্যক্তি, যে তার ভাই ও পিতার চেয়ে অনেক ভিন্ন। সে স্বর্ণ ও দামী পাথরে জ্বলছিল এবং তার লিনেন এমন খাঁটি যে চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে। এই দূর থেকেও সে তার সুগন্ধির সুবাস অনুভব করল যা তাদের আলাদা করেছে বন্য ফুলের ভূমির ন্যায়। তার চেহারাটা প্রসাধনীর এক মুখোশ। তার ত্বক উজ্জ্বল এবং সুরমা দিয়ে চোখ আঁকা ও বাড়ানো। তবুও সে তাকে কোন সাপের বা বিষাক্ত পোকার মারাত্মক সৌন্দর্য ভাবল। সে কেঁপে উঠল ও তার দৃষ্টি রাজ-প্রতিভূর পাশের সিংহাসনে বসা অবয়বের দিকে ফিরিয়ে নিল।
