যাও, তাড়াতাড়ি এবং ততোদিন তার সাথে অবস্থান করো যতোদিন তোমার দায়িত্ব শেষ না হয়। তারপর আমার কাছে ফিরে এসো, প্রিয় টাইটা। আমি তোমার অপেক্ষায় থাকবো। এবং তোমার পৌরুষত্বও তোমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তুমি আমারই পাশে থাকবে। হাতে হাত রেখে একমাত্র তুমিই হবে একজন যে আমার পাশে থাকবে সেদিন। আমায় নিরাশ করোনা, টাইটা।
কখনো না! টাইটা স্বপ্নের মধ্যেই চিৎকার করে ওঠে। জীবিত থাকতে আমি তোমাকে নিরাশ করেনি আর মরণে তো অবশ্যই না।
আমি জানি তুমি করবে না, লসট্রিস হাসল এবং তারপর তার অবয় মরুর সে রাতে হারিয়ে গেল। সে জেগে উঠে। তার চেহারা কান্নায় ভেজা ছিল। সে দ্রুত তার প্রয়োজনীয় জিনিসসমূহ গুছিয়ে নিল। তারপর গুহার প্রবেশ দ্বারে দাঁড়িয়ে তারা দেখে সে তার চলার রাস্তা ঠিক করে নিল। সহজাত কারণেই সে দেবীর উজ্জ্বল তারাটা খুঁজল। রানীর মৃত্যুর সতের তম দিনে, যে রাতে রানীর শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষ হল, ঐ তারাটা হঠাৎ করে আকাশে দেখা দেয়, বড় লাল তারাটা সেখানে উঠল যেখানে আগে কোন তারা ছিল না। টাইটা তারাটা খুঁজে অভিবাদন জানাল। তারপর পশ্চিম মরুভূমি দিয়ে চলা শুরু করে নীলের তীরে ফিরে চলল। সেখান থেকে থেব শহর, সুন্দর শতদ্বারের থেবস্-এ।
প্রায় চৌদ্দ বছর আগের ঘটনা এটা এবং এখন সে শুধু একটা নির্জন জায়গার সন্ধানে রয়েছে সেখানে সে তার সমস্ত কিছু একত্রিত করতে পারবে যাতে লসট্রিস যে দায়িত্ব তাকে দিয়েছে তা সে পালন করতে পারে। এখন শুধুমাত্র কিছুটা শক্তি সে রাজকুমারকে দিতে পারে। কেননা সে জানে চারদিক থেকে অনেক কালো শক্তি তাকে ঘিরে রয়েছে যে ব্যাপারে লসট্রিস তাকে সর্তক করেছিল।
এসো সে বালটিকে বলল, চলো নিচে যাই এবং তোমার গড বার্ডটা ধরি।
*
গালালা ছাড়ার তৃতীয় রাতে যখন মকর রাশির নক্ষত্রপুঞ্জ উত্তর আকাশের ঠিক মাথার উপর এল, ফারাও তার সৈন্যবাহিনী থামালেন। ঘোড়াগুলোকে পানি খাওয়ার নির্দেশ দিয়ে নিজেরা রোদে শুকানো মাংস, খেজুর ও ঠাণ্ডা রুটির একটি নিরস ভোজ সারলেন। তারপর পুনরায় চলার নির্দেশ দিলেন। বাদ্যযন্ত্র বাজছে না, কোন শব্দ নেই কারণ তারা এখন এমন জায়গা দিয়ে যাচ্ছেন যেখানে হিকদের আনাগোনা রয়েছে।
ছোট দুলকি পায়ে রথ সারি এগিয়ে চলল। যতোই তারা এগোচ্ছিল চার পাশের পরিবেশ ততোই বদলে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তারা ঐ বিপদ-সঙ্কুল স্থান থেকে বেরিয়ে এল এবং নদীর ধারে পাহাড়ের উপর এসে পৌঁছল। শূন্যে ঘন কালো বন-বনানী এবং দূরে চন্দ্রালোকের আলো-আঁধারির মাঝে মহান মাতা নীলের গতিপথ দেখা যাচ্ছিল। তারা আবনাব এর প্রশস্ত পথ পাড়ি দিয়েছে এসেছে এবং এখন নদীর ওপারে হিকস্সাইনদের প্রধান সৈন্যবাহিনীর নিকটবর্তী স্থানে অবস্থান করছে। যদিও অ্যাপেপির বিশাল সৈন্যবাহিনীর তুলনায় তারা নগণ্য তবুও তারা হচ্ছে ট্যামোসের সব চাইতে ভালো রথী যারা শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করতে পারে। তদুপরি, তারা একটি বিস্ময়কর জিনিস ধারণ করে আছে।
ফারাও যখন প্রথম এই যুদ্ধ পরিকল্পনাটা তাদের বললেন এবং জানালেন যে একাই তিনি এ অভিযান চালাবেন, তার যুদ্ধ বিষয়ক কাউন্সিলররা তখন ততোখানি জোড়ালোভাবে প্রতিবাদ করল যতোখানি শক্তি নিয়ে দেবতার বিরুদ্ধে কথা বলা যায়। এমন কি বৃদ্ধ ক্ৰাতাস যে ছিল সমগ্র মিশরীয় সৈন্যবাহিনীর মধ্যে সবচাইতে ভয়ঙ্কর ও দুর্ধর্ষ যোদ্ধা, সেও অবাক হয়ে গেল। সেথের দোহাই এবং তার শরীরের দুর্গন্ধের কসম, আমি আপনার নোংরা কাপড় পরিবর্তন করবো না, যাতে আমি সোজা আপনাকে অ্যাপেপির ভালোবাসার বাহুবন্ধনে পাঠাতে পারি। সেই একমাত্র লোক যে দেব-সম রাজাকে এভাবে কথা বলার সাহস করতে পারে। এই কাজে যোগ্য অন্য কাউকে পাঠান। যদি আপনার তা পছন্দ না হয় তবে সবকিছু আবার ঢেলে সাজান, কিন্তু জ্বিন ও পিশাচদের খাদ্য হতে অন্তত এই মরুভূমিতে হারিয়ে যাবেন না। আপনিই মিশর। যদি অ্যাপেপি আপনাকেই নিয়ে যায় তাহলে সে আমাদের সবাইকেও নিয়ে গেল।
সমস্ত সভাসদের মধ্যে একমাত্র নাজাই তাকে সমর্থন করল, কিন্তু নাজা সবসময়ই বাধ্য ও সঠিক ছিল। তারা এখন মরুভূমি পাড়ি দিয়েছে এবং শত্রুদের পিছনে। কাল সকাল নাগাদ এমন ভাবে তাদের তারা আঘাত হানবে যার ফলে অ্যাপেপির সৈন্যবাহিনী ছিন্ন-বিছিন্ন হয়ে যাবে। এবং আরো পাঁচটি সৈন্যদল ও এক হাজার রথ আসছে তাদের সাথে যোগ দিতে। ইতোমধ্যে সে বিজয়ের সুমধুর স্বাধ পেয়ে গেছে। পরবর্তী পূর্ণিমার পূর্বেই সে অ্যাপেপির অ্যাভারিস প্রাসাদে ভোজন করবে।
প্রায় দুই শতাব্দী যাবৎ মিশরের নিম্ন ও উচ্চ রাজ্য আলাদা হয়ে আছে। তখন থেকে হয় কোন জুলুমবাজ কিংবা কোন দখলবাজ উত্তরের অংশ শাসন করেছে। ট্যামোসের লক্ষ্য হচ্ছে হিকস্দের তাড়িয়ে দুরাজ্যকে আবারো একত্রিত করা। আর শুধুমাত্র তখনই সে ন্যায়সঙ্গত ভাবে দেবতাদের ইচ্ছায় দুই রাজ্যের হয়ে দ্বৈত-মুকুট পড়তে পারবে।
রাতের হাওয়া তার মুখে এসে ঝটকা দিল, গাল অবশ করার মতো যথেষ্ট ঠাণ্ডা, তার বর্শা বাহক নিজেকে রক্ষা করতে নিচু হয়ে ঢালের আড়াল নিল। আওয়াজ বলতে একমাত্র রথের চাকার ঘূর্ণন শব্দ আর বর্শাগুলো খাপের মধ্য থেকে ঝনঝন শব্দ তুলছিল। সাবধান! গর্ত! রথ সারির পেছনের দিক থেকে একটা সর্তক বাণী উচ্চারিত হল।
