তবে সে এসবের কিছুই তার চেহারায় প্রকাশ পেতে দিল না এবং গম্ভীর ভাবে মাথা নাড়াল। এদিকে নাজা দ্রুত বলে গেল, আমি নিশ্চিত যে আমরা হিকদের সাথে শান্তি চুক্তি করতে পারব এবং অ্যাপেপি ও আমরা মিলে রাজ্য পরিচালনা কাউন্সিল গড়ে তুলব। তখন আমাদের কাউন্সিলকে ঠিক করার জন্য আপনার সাহায্য দরকার হবে। সম্ভবত আবার তখন ধাঁধার অনুশীলন করে আপনার প্রভুদের ইচ্ছাটা জানাতে হতে পারে।
নাজা পরামর্শ দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রতারণার পরিকল্পনার কথাটা ব্যক্ত করল। বুশিরিসে কী ঘটেছে সে কী সন্দেহ করেছে? টাইটার অন্তত তা মনে হল না, তবে সে তৎক্ষণাৎ চিন্তাটা বাতিল করে দিল। অভিব্যক্তিটা শক্ত করে বলল, তবে যে কোন অবস্থাতেই ধাঁধার দোহাই দিয়ে কিছু করা বা আমন-রা প্রভুর নামে ভুল কিছুর ভাবার কিন্তু বড় ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
নাজা দ্রুত জবাব দিয়ে বলল, আমি ওরকম অসৎ কিছুর কথা বলছি না, কিন্তু ধাঁধার মাধ্যমে ইতোমধ্যে তো প্রভু আমাকে সমাধান দিয়েছেন।
টাইটা বিতৃষ্ণার একটা আওয়াজ করল। প্রথমে আমাদের ভাবতে হবে এই চুক্তি সম্ভব কিনা। অ্যাপেপি অবশ্যই বিশ্বাস করে তার সেনাবাহিনী শক্তিশালী এবং আমাদের সাথে সাক্ষাৎ দিতে অস্বীকার করতে পারে। আমরা শান্তির কথা বললেও সে যুদ্ধের কোন তিক্ত শেষের কথা ভাবতে পারে।
আমার মনে হয়না তা হবে। আমি আপনাকে অন্য পক্ষে থাকা আমাদের বন্ধুদের নাম দেবো। আপনি লুকিয়ে সাক্ষাৎ করবেন। টাইটা, হিকাও আপনাকে চেনে ও সম্মান করে এবং আমি আপনাকে একটি মাদুলি দেব যা প্রমাণ করবে যে আপনি আমার লোক। আমাদের পক্ষে আপনিই উত্তম মধ্যস্থতাকারী। তারা আপনার কথা শুনবে। টাইটা কিছুক্ষণ বিষয়টা নিয়ে ভাবল, অন্তত সে এই পরিস্থিতি থেকে প্রিন্স নেফার ও রাজকুমারীদের জন্যে কোন সুবিধা নিতে পারে কিনা। কিন্তু এই অবস্থায় সে কিছু খুঁজে পেল না। যাই ঘটুক নেফার এখন মৃত্যু বিপদে রয়েছে।
শুধুমাত্র একটা ব্যাপারে টাইটা নিশ্চিত হল যে যদি নেফারের বেঁচে থাকাটা নিশ্চিত করতে পারে তাহলে মিশর থেকে চলে যাওয়া সম্ভব হবে। অন্তত যতোক্ষণ নাজা ক্ষমতায় রয়েছে। ঐ রকম ভাবার কোন সুযোগ রয়েছে? নাজা তাকে শত্রুদের সাথে চুক্তি করতে পাঠাচ্ছে। সে কি নেফারকে সাথে নিতে তা ব্যবহার করতে পারে? মুহূর্তের মধ্যেই সে বুঝল সে পারবে না। বালক ফারাও-এর সাথে তার সাক্ষাৎটা এখনও নাজার ইচ্ছাধীন। তাকে কখনোই তারা একা থাকতে অনুমতি দেবে না। এমনকি কাউন্সিলের সময়ও তার কাছাকাছি বসার অনুমতি তার নেই অথবা সাধারণ কথা বলারও। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শুধুমাত্র যখন নেফারের গলা ব্যথা হয় তখনই তাকে নেফারের শয়নকক্ষে তার কাছাকাছি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তার শশ্রুষার জন্যে। কিন্তু নাজা ও আসমর দুজনেই সেখানে উপস্থিত ছিল। ব্যথার সময় নেফার ফিসফিস ছাড়া আর কোন শব্দ করতে পারেনি কিন্তু তার চোখ দুটো টাইটার উপর থেকে থেকে সরেনি এবং যখন আলাদা হওয়ার সময় হয় তখন সে টাইটার হাতটা ধরেছিল, তাও প্রায় দশদিন আগে।
টাইটা শুনেছে তাকে সরিয়ে নাজা নেফারের জন্যে অন্য শিক্ষক পছন্দ করেছে। ব্লু-গার্ড থেকে আসমর প্রশিক্ষক নিয়েছে যে তাকে ঘোড়ায় চড়া, রথ চালনা, তলোয়ার চালনা ও তীর ছুঁড়া শেখাবে। যদি নেফারকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং অকৃতকার্য হয়, তবে শুধু সে নাজার বিশ্বাসই হারাবে না নেফারকেও ভয়ংকর বিপদে ফেলবে।
না, এই কাজটা সে হিকদের রাজ্যে বসেও করতে পারে; শুধুমাত্র বালক ফারাও এর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আরো সতর্কতা অবলম্বন করে।
এটা আমার দায়িত্ব। এ দায়িত্ব প্রভুরাই আমার উপর দিয়েছেন যেন আপনাকে আমি যে কোন ভাবে সাহায্য করি। আমি এই কাজ করব। টাইটা বলল। হিকস্দের সীমানা দিয়ে যাওয়ার নিরাপদ রাস্তা কোনটি? আপনি বলেছেন তারা আমাকে ভালো করে চেনে এবং তারা আমাকে চিনতে পারবে।
নাজা প্রশ্নটা আগেই জানত। আপনাকে রথের পুরোনো রাস্তা বালিয়াড়ির ভিতর দিয়ে এবং ওয়াদির নিচ দিয়ে গেবেল ওয়াদুনের রাস্তাটা ব্যবহার করতে হবে। অপর দিকের আমার বন্ধুরা রাস্তার সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের উপর কড়া নজর রাখছে।
টাইটা মাথা নাড়ল। ঐ পথেই ফারাও ট্যামোস তার মৃত্যুর দেখা পেয়েছেন। আমি গালালার বাইরে কখনো যাইনি। বাকি পথ দেখানোর জন্যে আমার একজন পথ প্রদর্শক দরকার।
আমি আমার নিজের বর্শা বাহক ও ব্লু-গার্ডের এক সদস্যকে আপনাকে এর মধ্য পথ দেখিয়ে নেবার জন্য পাঠাব। নাজা ওয়াদা করল। তবে রাস্তাটা দীর্ঘ ও কঠিন। আপনাকে এখনই রওয়ানা হতে হবে। প্রতিদিন, প্রতিঘণ্টা সময়ক্ষেপণ তা আরো কঠিন করে দিতে পারে।
*
ভগ্ন শহর গালালা থেকে যাত্রা শুরু করে মাত্র চারবার বিরতি নিয়ে টাইটা সবটা পথ রথ চালিয়ে এল। তারা অর্ধদিনে পথটা অতিক্রম করল যা নাজা ও ট্যামোসের চাইতে কম সময়ে এবং তাদের প্রাণীদের অবস্থাও তাদেরগুলো থেকে ভালো ছিল।
তার পিছনে নয়টি যানের সৈন্যরা ম্যাগোসের সম্মানে বিনা বাক্যে তাতে সশ্রদ্ধ অনুসরণ করে যাচ্ছে। তাকে তারা অশ্বারোহী সেনাদলের পিতা রূপে গণ্য করে। কারণ সেই প্রথম মিশরে রথ তৈরি করে এবং তার জন্য সৈন্য বাহিনী গঠন করেছিল। হিকদের বিরুদ্ধে ফারাও ট্যামোসের বিজয়ের সংবাদটা রথ চালিয়ে থেবস্ থেকে এলিফানটাইন-এ তার নিয়ে যাওয়াটা এক বীরগাঁথা কাহিনী। এখন যখন তারা তাকে বালিয়াড়ির মধ্য দিয়ে অনুসরণ করছে এবং তারা বুঝছে লোক কথাগুলো আসলেই সত্য। বৃদ্ধ লোকটির প্রাণশক্তি প্রচুর এবং তার মনোযোগ কখনো এদিক ওদিক হয় না। তার কোমল কিন্তু শক্ত হাতে লাগাম ধরাটা কখনো ক্লান্ত হয় না এমনকি যখন সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সে ঘোড়াগুলো তাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চালায় তখনও। সে বাহিনীর সবাইকে মুগ্ধ করেছে রেখেছে এমনকি তার পাশে চলা নাজার বর্শা বাহককে পর্যন্ত।
