টাইটা রাজকার্যে মনোনিবেশ দিল। তারা উত্তর থেকে আসা সবশেষ খবর নিয়ে আলোচনা করছিল। সেখানে রাজা অ্যাপেপি আবার আবনাব দখল করে নিয়েছে যা কিনা তারা তিন বছর আগে দখল করেছিল। এ নিয়ে ঐ দুর্ভাগ্যের শহরটা আট বার হাত বদল হল সেই ফারাও ম্যামোস, ট্যানোস-এর পিতার রাজত্ব কাল হতে। যদি ফারাও ট্যামোস হিকস্দের তীর দ্বারা বধূ না হতেন তবে তার বলিষ্ঠ কৌশল এ দুর্বিণিত শক্তিকে সমূলে উৎখাত করে দিতো নিশ্চিত। তখন তাহলে এখন হিকস্ সৈন্যরা থেব আক্রমণের জন্যে প্রস্তুত না হয়ে তার পরিবর্তে শত্রু রাজধানী তাদের অ্যাভারিস অভিমুখে এগোত।
টাইটা লক্ষ্য করল কাউন্সিলের সদস্যরা প্রতিটি সমস্যার ক্ষেত্রে মত-বিরোধে জড়িয়ে পড়ছেন। তারা শেষ হারাটার কারণ খুঁজল, যা একটা বোকাও সহজে বুঝবে যে ফারাও-এর অকাল মৃত্যুই এর প্রধান কারণ। যিনি তার আর্মিকে কোন দিক নির্দেশনা না দিয়েই চলে গিয়েছিলেন। অ্যাপেপি তার মৃত্যুর এ সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে।
তাদের তর্ক শুনে টাইটা আগের চাইতে অনেক জোড়ালোভাবে অনুভব করল এই যুদ্ধটা মিশরের শরীরে চলমান ফোঁড়ার মতই হবে। ধৈর্যচুত্য হয়ে সে ধীরে উঠে দাঁড়াল এবং কাউন্সিল কক্ষ থেকে বের হয়ে এল। এখানে তার আর কিছু দেখার নেই কারণ এখনো তারা মৃত ফারাও ট্যামোস-এর পরিবর্তে উত্তরের সৈন্যদেরকে নেতৃত্ব কে দেবে তা নিয়ে তর্ক করছিল। এখন যেহেতু সে চলে গেছে, অ্যাপেপির সাথে যুদ্ধ করার মতো কেউ নেই–না আসমর, না টেরন বা না নাজা নিজে। হেঁটে চলতে চলতে টাইটা বিড়বিড় করল। আমাদের ভূমি ও সৈন্যরা দীর্ঘ ষাট বছরের যুদ্ধে রক্তে ঝড়ে সাদা হয়ে গেছে। আমাদের শক্তি বাড়াতে হবে এবং আমাদের মধ্য থেকে একজন মহান নেতার অভ্যুদয় ঘটাতে হবে। সে নেফারের কথা ভাবল। কিন্তু ছেলেটির সে দায়িত্ব গ্রহণ করতে কিছু বছর লেগে যাবে যা টাইটা জানে। আমন-রা-এর ধাঁধা থেকে তা সে জেনেছে, ভাগ্য তার জন্যে এমনটাই পরিকল্পনা করে রেখেছে।
আমাকে ঐ সময়টা পর্যন্ত তাকে জয়ী রাখতে হবে এবং যতক্ষণ না সে প্রস্তুত হয় ততোক্ষণ অব্দি তাকে নিরাপদে রাখতে হবে।
তারপর সে প্রসাদের মহিলাদের কোয়ার্টারে গেল। যেহেতু সে খোঁজা ছিল তাই সে যেতে পারত, অন্য পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। তিন দিন পূর্বে রাজ কুমারীরা জেনেছে সে তাদের বিয়ে হবে এবং টাইটার আরো আগে তাদের সাথে দেখা করা উচিত ছিল। তারা দ্বিধান্বিত ও হতাশ হয়ে আছে এবং তার সহানুভূতি ও সাহায্য তাদের প্রয়োজন হতে পারে।
সে আঙ্গিনায় প্রবেশ করতেই মেরিকারা তাকে প্রথম দেখল। একজন আইসিস যাজকি তাকে শিক্ষাদান করছিল এবং সে সেখান থেকে লাফ দিয়ে উঠে লম্বা লম্বা পা ফেলে দৌড়ে তার নিকট এল। দৌড়ানোর সময় কাঁধের ওপর তার চুলের গোছা দুলতে লাগল। সে তার কোমর দুহাতে পেচিয়ে ধরল এবং তার সব শক্তি দিয়ে জোরে চেপে ধরল। ওহ্, টাইটা, তুমি কোথায় ছিল? গত কয়দিন আমি তোমাকে অনেক খুঁজেছি।
তার দিকে চোখ তুলে তাকাতেই টাইটা বুঝল সে কাঁদছিল, কারণ তার চোখ লাল হয়ে আছে এবং চোখের চারপাশটা গাঢ় কাল। এখন সে আবার তা শুরু করল, ফোঁপাতে ফোঁপাতে সে কেঁপে উঠছিল। টাইটা তাকে কোলে তুলে নিল এবং জড়িয়ে ধরে রাখল যতোক্ষণ না সে একটু শান্ত হল। কি হয়েছে, আমার ছোট্ট বানর? কি সে যা তোমাকে এতো অসুখী করেছে?
লর্ড নাজা আমাকে কোন গোপন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে এবং আমার ভয়ানক কিছু করবে। সে কিছু একটা বড় ও তীক্ষ্ণ জিনিস আমার ভেতরে রাখবে যা আমাকে ব্যথা দিবে ও আমার রক্ত বের হবে।
কে তোমাকে এটা বলেছে? টাইটা খুব কষ্টে তার রাগ নিয়ন্ত্রণ করল।
মাগারা ও সাক, মেরিকারা ফুঁপিয়ে বলল।
ওহ্, টাইটা, তুমি কি তাকে তা আমার সাথে করা থেকে বিরত করতে পারবে না? দয়া করে, ওহ, দয়া করে তা কর।
টাইটা বুঝল ঐ নুবিয়ান মেয়ে দুটোই তার এই ভয়ের জন্যে দায়ী। সাধারণত তাদের গল্পগুলো আফ্রিকার পিশাচ ও ভূতদের নিয়ে হয় কিন্তু এখন তারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে। মনে মনে টাইটা বেয়াদব মেয়ে দুটোকে উচিত শাস্তি দেয়ার কসম খেল এবং রাজ কন্যার ভয় দূর করার উদ্যোগী হল। এখন তাকে শান্ত করতে কৌশল ও স্নেহ দরকার, কারণ মেরিকারা ভীত ছিল। সে তাকে বাগানের একটা নির্জন কোনে নিয়ে গেল, বসাল এবং মেয়েটি তার কোলে গুটিসুটি মেয়ে রইল এবং মাথটা টাইটার বুকের সাথে সেটে রাখল।
তার ভয়টা অবশ্যই অমূলক। এমনকি বিয়ের পরও, এটা প্রকৃতির নিয়ম। নাজা মেরিকারাকে তার প্রথম ঋতুর পূর্বেই বিছানায় নেবে এবং তার এখনো বছর খানেক বাকি। শেষ পর্যন্ত সে তাকে শান্ত করতে সফল হল এবং তারপর রাজ ঘোড়াশালে তাকে সকালে জন্ম নেওয়া ঘোড়া শাবক দেখাতে নিয়ে গেল।
যখন সে আবার হাসছিল ও লাফালাফি করতে লাগল টাইটা তাকে তখন অন্দর মহলে ফিরিয়ে আনল এবং তাকে আনন্দ দিতে কিছু যাদু দেখাল। সে এক জগ নীলের পানিতে আঙুল ডুবিয়ে শরবত বানাল এবং এক সাথে তা তারা পান করল।
তারপর একটা পাথর সে বাতাসে ছুঁড়ে মারল যা একটা জীবন্ত ক্যানারি পাখিতে পরিণত হয়ে উড়ে গিয়ে একটা ডুমুর গাছের শীর্ষে গিয়ে বসল। গাছটায় বসে পাখিটা নাচল ও গান গাইল। টাইটা তাকে ছেড়ে দুই দাসী মাগারা ও সাককে খুঁজতে গেল। তাদের সে এমন ধমক দিল যে তারা ভয়ে কাঁপতে লাগল এবং করুণ সুরে দুঃখ করল। সে জানত মাগারা এই রকম অস্বস্তিকর ঘটনার লীডার তাই সে তার কান থেকে যাদু বলে একটা বিছু বের করে আনল ও তার মুখের এক ইঞ্চি নিচে রাখল যা তাকে এতো ভীত করল যে সে ভয়ে প্রসাব করে দিল।
