গড় বার্ডটা পূর্বে উড়ে গেল! প্রধান পুরোহিত সজোরে বলল কথাটা। মন্দিরে সিঁড়িতে দাঁড়ানো সমাবেশের প্রতিটি সদস্য জানে এটা একটা অশুভ সংকেত।
নেফার শারীরিক ও মানসিকভাবে এতোটাই ক্লান্ত ছিল যে যখন সে পাখিটার উড়ে যাওয়া দেখল সে তার পায়ের উপর টলে উঠল। টাইটা পরে যাওয়ার পূর্বে তাকে ধরল ও অন্যত্র নিয়ে গেল।
মেমনন প্রাসাদে নেফারে শয়ন কক্ষে ফিরে টাইটা একটা তরল তৈরি করল এবং হাঁটুগেড়ে তার পাশে বসে নেফারকে তা এগিয়ে দিল। নেফার একটা বড় চুমুক দিয়ে কাপটা নামাল এবং জিজ্ঞেস করল, কেন আমার পিতা মাত্র একটা ছোট কফিন পেল যখন তুমি বলে থাকো আমার দাদাকে সাতটা ভারি স্বর্ণের শবাধার সহকারে সমাহিত করা হয়েছিল এবং তার শেষকৃত্যের বাহনটা নিতে বিশটা শক্তিশালী ষাঁড় লেগেছিল?
আমাদের ইতিহাসের সবচাইতে জাঁকজমক শেষকৃত্য হয়েছে তোমার দাদার। সে তার সাথে অনেক কিছু নিয়ে পরকালে যাত্রা করেছে, নেফার। টাইটা সম্মত হল। কিন্তু ঐ সাতটা কফিনে প্রায় ত্রিশ লাখ আঁটি স্বর্ণ নিয়েছিল এবং যা পুরো জাতিকে ভিখারী করে দিয়েছিল প্রায়।
নেফার চিন্তিত ভাবে কাপটার ভেতর তাকাল, তারপর শেষ কয়েক ফোঁটা পান করল। আমার পিতাও ঐরকম একটা শেষকৃত্য দাবি করে, কারণ তিনি একজন মহান ব্যক্তি ছিলেন।
তোমার দাদা পরকাল নিয়ে বেশি ভাবতেন। টাইটা ধৈর্য নিয়ে ব্যাখ্যা করল, আর তোমার পিতা তার নিচু ও মিশরের ভালো নিয়ে বেশি ভেবেছেন।
নেফার এ ব্যাপারে এক মুহূর্ত ভাবল, তারপর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ভেড়ার চামড়ার বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করল। তারপর সে আবার চোখ খুলল। আমি আমার পিতার জন্যে গর্বিত; সহজভাবে কথাটা বলল সে।
আশীর্বাদে টাইটা হাতটা তার কপালে রাখল এবং ফিসৃফিস্ করে বলল, এবং আমি জানি একদিন তোমাকে নিয়েও গর্ব করার মতো তোমার পিতার অনেক কারণ থাকবে।
*
তারা যে মিশরের দীর্ঘ ইতিহাসের সবচাইতে ভয়ংকর ও চরম সময়ে এসে পৌচেছে এ ব্যাপারে টাইটাকে সতর্ক করার জন্যে বাজপাখি নেফারটেম এর উড্ডয়নের অশুভ সংকেতের দরকার নেই। যখন টাইটা নেফারের শয়নকক্ষ ত্যাগ করল ও মরুভূমি দিয়ে যাত্রা করল, তার মনে হল যেন তারাগুলোর গতির থেমে গেল এবং অনাদি দেবতারা পিছু হটল ও তাদের সবচাইতে এই বিপদজনক সময়ে তাদের ত্যাগ করল। মহান হুরাস, আমাদের এখন আপনার দিক নির্দেশনা দরকার। আপনি এই তা-মেরি, মূল্যবান ভূমিটা আপনার নিজ হাতে ধারণ করেন। এটাকে আপনার আঙুলের ফাঁক দিয়ে পিছলে যেতে দিয়েন না এবং ক্রিস্টালের ন্যায় ছত্রভঙ্গ হতেও দিয়েন না। আমরা দুঃখের মধ্যে আছি তা হতে আপনি মুখ ফিরিয়ে নিয়েন না। আমাকে সাহায্য করুন, মহান বাজপাখি। আমাকে পথ দেখান। আপনার ইচ্ছেটা আমার কাছে স্পষ্ট করুন যাতে আমি আপনার ইচ্ছা অনুসরণ করতে পারি।
যেতে যেতে সে প্রার্থনা করল, একে একে মরুর পাহাড়সমূহ পাড়ি দিল। তার দীর্ঘ লাঠির পাথরে ঠুকার আওয়াজ একটা হলুদ শিয়ালকে সতর্ক করে দিল এবং শিয়ালটি চাঁদের আলোয় আলোকিত পাথরের খাঁজের উপর দিয়ে ভোঁ দৌড় মারল। যখন সে নিশ্চিত হল কেউ তাকে অনুসরণ করছে না তখন সে ঘুরে নদীর সমান্তরালে চলল এবং গতি দ্রুত করল। হুরাস, তুমি ভালো করেই জান আমাদের হার জিতের সম্ভাবনা সমান সমান। ফারাও ট্যামোস শেষ এবং আমাদের নির্দেশনা দেওয়ার মতো আর কোন যোদ্ধা নেই। অ্যাপেপি ও তার হিকগণ দক্ষিণে এতোটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে তারা প্রায় অজেয়। তারা আমাদের বিরুদ্ধে জড়ো হচ্ছে এবং আমরা তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারব না। দুরাজ্যের দ্বৈত-মুকুট বিশ্বাসঘাতক পোকা দ্বারা পচন ধরছে এবং নতুন শোষককে তা টিকে থাকতে দেবে না। আমার চোখ খুলে দিন, মহান প্রভু এবং আমাকে পথ দেখান, যাতে আমরা দখলবাজ ডাকাত হিকস্ ও আমাদের রক্তের ধংসাত্মক বিষের বিরুদ্ধে জয় লাভ, করতে পারি।
দিনের বাকি সময় টাইটা পাথুরে পাহাড় ও নিরব স্থানগুলোতে ঘুরে বেড়াল, প্রার্থনা করল ও সামনের পথ অনুসন্ধান করল। পড়ন্ত বেলায় সে নদীর দিকে ফিরল এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছল। সে এখানে সরাসরি রাস্তায় আসতে পারত কিন্তু এতে অনেক লোক তাকে দেখে ফেলবে এবং এ সময়ে মরুতে তার একা থাকার প্রয়োজন ছিল।
গভীর আঁধারে বেশির ভাগ লোক যখন ঘুমিয়ে পড়ল তখন সে নদীর পাড় ধরে মন্দিরে দিকে অগ্রসর হল। ফটকের শূন্যে লুকানো জায়গায় একটা মশাল জ্বলছিল। এটা প্রভু বেস এর খোদাই করা মূর্তি যা প্রবেশ মুখে পাহারারত। মদ্যপান ও আনন্দ-উল্লাসের বিবৃত বামন প্রভু হল বেস। তার জিভটা তার বাঁকানো হাসি দেয়া ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে অলসভাবে ঝুলে আছে। মশালের কম্পিত আলোয় যখন টাইটা তার পাশ দিয়ে গেল তখন তাকে সে দাঁত বের করা একটা হাসি উপহার দিল।
মন্দিরের একজন সহায়ক পুরোহিত ম্যাগোসকে অভ্যর্থনা জানাল। সে তাকে মন্দিরের ভেতরস্থ পাথুরে কক্ষে নিয়ে গেল। সেখানে তার জন্যে এক ঘটি ছাগলের দুধ, রুটি ও মধু রাখা ছিল। তারা জানত এগুলোর প্রতি টাইটার দুর্বলতা প্রচন্ড এবং খেতে খুব পছন্দ করে।
ইতোমধ্যে তিনজন লোক আপনার আগমনের অপেক্ষায়, আমার লর্ড, তরুণ যাজক তাকে বলল।
বেসটেট কে সবার আগে আমার কাছে নিয়ে এসো, টাইটা নির্দেশ দিল।
