যে কৃপাহীন ভাবে মেরিকারার দিকে এগিয়ে গেল।
না হেজারেট! মিনটাকা চিৎকার করল। তাকে ছেড়ে দাও।
চুপ কর বেশ্যা মাগী, এরপর তোর পালা।
না, হেজারেট! মেরিকারা তার কাছে অনুনয় করল।বোন তুমি এটা করতে পার না। তোমার কি মনে নেই। মেরিকারা থেমে গেল এবং তার চোখ বড় হয়ে গেল প্রচন্ড ধাক্কা ও ব্যথায়।
ওখানে! সে হেজারেট বলল, সে বলুমের প্রান্তটা তার তল পেটের গভীরে ঢুকিয়ে দিল।
ওখানে! সে আর্তনাদ করল, এবং ওখানে? প্রতিবার আরো গভীরে তা প্রবেশ করল যতোক্ষণ তা মেরিকারা পেটের ভিতরে এক হাত পর্যন্ত তা ঢুকে গেল এবং বেরিয়ে এল তা রক্তে ভিজে।
এবার মেয়ে দুটো তার উদ্দেশ্যে চিৎকার করল। থাম, ওহ, দয়া করে থাম? কিন্তু হেজারেট থামল না।
ওখানে এটা কি তোমাকে সন্তুষ্ট করেছে।
রক্তের বন্যায় মেরিকারা ভেসে যাচ্ছে কিন্তু হেজারেট সকল ওজন অস্ত্রটার উপর দিল এবং তা তার ভিতরে সম্পূর্ণ ঢুকিয়ে দিল। মেরিকারা তীক্ষ্ম চিৎকার দিল শেষবারের মত এবং নিস্তেজ হয়ে গেল তারপর। তার মাথাটা তার নগ্ন বুকের উপর ঝুঁকে পড়ল।
হেজারেট বল্লমটা তার চিকন মলিন দেহের ভেতর রেখে উঠে দাঁড়াল এবং দৌড়ে তার শূন্য তাঁবুতে গেল। সে তার রক্তে মাখা ও প্রস্রাবে ভেজা কাপড় বদলে অন্য পোশাক পড়ল ও স্যান্ডেল পড়ল।
আমি নাজাকে খুঁজতে যাচ্ছি, সে বলল যখন সে সকালের আলোতে চলে যেতে লাগল। মিনটাকা তখন খাঁচা থেকে তাকে ডেকে বলল, দয়া করে আমাকে মুক্ত করে দিয়ে যাও, হেজারেট। আমাকে তোমার বোনের পরিচর্যা করতে হবে। সে মারাত্মক আহত। আমাকে তার কাছে যেতে দাও।
তুমি বুঝতে পারছ না। বেপরোয়া ভাবে তার মাথা ঝাঁকাল হেজারেট।
আমাকে আমার স্বামীর কাছে যেতে হবে, মিশরের ফারাও। আমাকে তার দরকার। সে আমার জন্য খবর পাঠিয়েছে।
সে পশ্চিম দিকে চলতে শুরু করল, ইশমাইলিয়ার দিকে। মিনটাকা আরো এক বার তার চিৎকার শুনল,
আমার জন্য অপেক্ষা কর, নাজা! আমার প্রকৃত ভালোবাসা। আমি আসছি, আমার জন্যে অপেক্ষা…
*
মিনটাকা মুচড়িয়ে, টেনে হিঁচড়ে অনেক চেষ্টা করল কিন্তু চামড়ার ফালি ছিঁড়তে পারল না। তার হাত ও আঙুল থেকে গরম রক্ত ঝড়ে পড়ল। অনুভব করল তার হাত রক্তের অভাবে অসাড় হয়ে যাচ্ছে। যখন সে তার সংগ্রাম থেকে বিশ্রাম নিল তার চোখ মেরিকারা নিথর দেহটার দিকে গেল। সে তাকে ডেকে বলল, আমি তোমাকে ভালোবাসি আমার প্রিয়। ম্যারন তোমাকে ভালোবাসে। মরে যেও না। কিন্তু মেরিকারা চোখ সম্পূর্ণ খোলা এবং তার দৃষ্টি নিশ্চল।
মিনটাকা একটা চাপা আওয়াজ শুনল তাবুর প্রবেশ দ্বারে এবং মাথা ঘুরিয়ে হেজারেটের দুজন দাসীকে দেখল। মিনটাকা তাদের ডেকে বলল, দয়া করে আমাকে মুক্ত করে দাও। তোমাদের স্বাধীনতা পাবে এবং আরো বড় পুরস্কার। কিন্তু তারা তার কথায় কান না দিয়ে ফিরে যাওয়ায় লোকের সাথে পূর্ব দিকে চলে গেল। তারপর মিনটাকা ফটকে আরো কয়েক জনের কণ্ঠ শুনল। প্রায় চিৎকার দিতে গিয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের পোশাক, দেহবয়াব ও কথা শুনে বুঝল তারা বদমাশ এবং সে তার মাথা ঝুলিয়ে রাখল এবং মৃত্যুর ভান করল। লোকগুলোর মেরিকারার সামনে থামল। একজন এতো বাজে মন্তব্য করল যে খুব কষ্টে নিজের মুখ বন্ধ রাখল মিনটাকা।
তারপর তারা তার খাঁচার সামনে এল এবং উঁকি মেরে দেখল। সে তখন পুরোপুরি স্থির হয়ে পড়ে রইল এবং দম আটকে রাখল। তারা তাকে মৃত ভেবে চলে গেল, যা পেল তাই নিয়ে।
রাতে মিনটাকার মাঝে মাঝে ঝিমুনি এল ক্লান্তি ও হতাশায়। যখনই সে তাকাত রূপালি আলোতে সে মেরিকারার মলিন দেহটা ছড়িয়ে পরে থাকতে দেখত এবং তার ভয়ংকর কষ্টের চক্র তখন আবার শুরু হতো।
তারপর সকাল এল ও সূর্য উঠল কিন্তু মরুর বুকে শুধু একটাই মরুময় আওয়াজ এবং মাঝে মাঝে তার গোঙানি। কিন্তু তাও ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে গেল যখন আরেকটা দিন পানি ছাড়া কাটল।
তারপর সে অন্য কিছু শুনল দূরে মরমর শব্দ যা নতুন ঝনঝনে পরিণত হল এবং সে জানত এটা দ্রুত গতির চাকার আওয়াজ কারণ সে খুরের আওয়াজ শুনতে পেল। তারপর লোকদের কণ্ঠের আওয়াজ জোরালো হল এবং অধিকতর জোরালো যততক্ষণ না সে এক জনকে চিনতে পারল। নেফার! সে তার নাম ধরে ডাকতে চাইল, কিন্তু তার কণ্ঠ শুকিয়ে একটা ফিসফিসানি বের হল শুধু।
তারপর ভয় ও হতাশায় চিৎকার শুনল এবং ধীরে ধীরে সে তার মাথা ঘুরালো এবং দেখল নেফার ঝড়ের বেগে ফটক দিয়ে প্রবেশ করছে, তার পিছনে কাছাকাছি ম্যারন ও টাইটা। নেফার তাকে তৎক্ষনাৎ দেখল এবং খাঁচার কাছে দৌড়ে এল। সে দরজার তালা ভেঙে ফেলল এবং চামরা ফালিগুলি কাটল। ঘা তার কবজিতে বাসা বাঁধছিল, আলতো করে সে তাকে ঐ খাঁচা থেকে বের করল এবং জড়িয়ে ধরল। সে কান্না করছিল যখন সে তাকে তাঁবুর মধ্যে নিয়ে যাচ্ছিল।
মেরিকারা! সে ফিসফিসিয়ে বলল, তার ফাটা ও ফোলা ঠোঁট দিয়ে। টাইটার তাকে দেখতে হবে কিন্তু আমার ভয় অনেক দেরি না হয়ে গেছে। মিনটাকা তার কাঁধের উপর দিয়ে পিছনে তাকালো এবং দেখল টাইটা ও ম্যারন মেরিকারাকে বাঁধন মুক্ত করছে এবং তার দেহ থেকে রক্ত জড়ানো অস্ত্রটা বের করল তারা। তার দেহের উপর লিলেনের একটা সাদা কাপড় জড়িয়ে দিল সবশেষে।
